Loading..

ব্লগ

রিসেট

১০ নভেম্বর, ২০২১ ০৯:৩২ অপরাহ্ণ

ধর্মীয় গ্রন্থে অশ্বত্থ গাছ।। মোহাম্মদ হারুনুর রশিদ

 অশ্বত্থ বা অশথ গাছের বৈজ্ঞানিক নাম Ficus Religiosa। এটি এক প্রকার ডুমুর জাতীয় বৃক্ষ যার আদি নিবাস বাংলাদেশ, নেপাল, ভারত, মায়ানমার, পাকিস্তান, শ্রীলংকা, দক্ষিণ পশ্চিম চীন এবং ইন্দোচীন।  এটিকে বোধিবৃক্ষও বলা হয়ে থাকে। অশ্বত্থ এমন এক গাছ যা ২৪ ঘণ্টাই অক্সিজেন দেয়।  আশপাশে একটু খোঁজ করলেই এই গাছ চোখে পড়ে।


আয়ুর্বেদ শাস্ত্রমতে বেশ কিছু ওষুধ তৈরিতে অশ্বত্থের পাতা ব্যবহার করা হয়। শাস্ত্রমতে, কয়েক ধরনের হৃদরোগে অশ্বত্থের পাতা, ফল, ফুল, ছাল ও শেকড় বেশ কাজে দেয়।


 হযরত উমামা( রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ  করেন, যে ব্যক্তি কসম করে, কোনো মুসলমানের  সম্পদ আত্মসাৎ  করে, আল্লাহ  তাআলা তার জন্য জাহান্নাম  ওয়াজিব  করে দেন এবং  জান্নাত  হারাম করেন। এক ব্যক্তি বললেন,  ইয়া রাসুলুল্লাহ! যদি সামান্য  কোনো জিনিস  হয়?  তিনি (রাসুল) বললেন,  পিপুল (অশ্বত্থ) গাছের  একটি সামান্য ডাল হোকনা কেন। সহিহ মুসলিমঃ১৯৬



গৌতম বুদ্ধ যে বৃক্ষটির নিচে বোধিলাভ  করেন, সে বৃক্ষটির বংশধরদের বোধিবৃক্ষ  বলে।  বোধি শব্দের অর্থ জ্ঞান। অর্থাৎ বৌদ্ধ   যে গাছের  নিচে  সাধনা করে বিশেষ  জ্ঞানলাভ করেন সে অশ্বত্থ গাছটিই বোধিবৃক্ষ।  যে গাছটি ভারতের বিহারে  বুদ্ধগয়ায় অবস্থিত।


ভগবত গীতায়, শ্রীকৃষ্ণ বলেছেন, আমি গাছের মধ্যে পিপুল (অশ্বত্থ) ,  ঋষিদের মধ্যে  নারদ, গান্ধার দের মধ্যে চিত্রবথ এবং সিদ্ধপুরুষদের মধ্যে  কপিল।

হিন্দু  সন্ন্যাসীরা এখনও পবিত্র  অশ্বত্থ গাছের নিচে ধ্যান করেন। অশ্বত্থ গাছের চারপাশে প্রদক্ষিণ করেন। সাধারণত  "বৃক্ষ রাজা'য় নমঃ " বলতে বলতে  গাছের চারপাশে  সাতবার  প্রদক্ষিণ করেন। যার অর্থ গাছের  রাজাকে নমস্কার।  বিশেষ ২৭ টি গাছের  মধ্যে  অশ্বত্থ গাছ পুষ্যা নক্ষত্রের  প্রতিনিধিত্ব করে।


মন্তব্য করুন