সহকারী শিক্ষক
০৫ ডিসেম্বর, ২০২১ ১১:২০ পূর্বাহ্ণ
সহকারী শিক্ষক
শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়ার কারণ এবং প্রতিকার
বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষায় ছেলেমেয়ের অন্তর্ভুক্তির বৃদ্ধি এবং সমতা সৃষ্টির মাধ্যমে উল্লেখযোগ্য সফলতা অর্জন করেছে। সফলতার দিকগুলো হল, সব শিশুর প্রাথমিকে ভর্তি হওয়া, শ্রেণিকক্ষে লৈঙ্গিক সমতা প্রতিষ্ঠা এবং অতি উচ্চহারে শিক্ষার্থীদের প্রাথমিক শেষ করা। কিন্তু প্রাথমিক স্তরে শিশুদের জন্য সবচেয়ে বড় সমস্যা হল, শিক্ষার মান। নিম্নমানের কারণে শিশুরা উপযুক্ত শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হয় এবং একপর্যায়ে ঝরে পড়ে। যোগ্যতাসম্পন্ন শিক্ষকের অভাব, অপর্যাপ্ত অবকাঠামো, অপুষ্টি ও খাদ্য নিরাপত্তাহীনতা এসবই শিক্ষা গ্রহণে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। অনেক বিদ্যালয়ে ধারণক্ষমতার চেয়ে ছাত্র-ছাত্রীর সংখ্যা অনেক বেশি হওয়ায় শতকরা প্রায় ৮০ ভাগ বিদ্যালয় দিনে দুই শিফট চালায়। শিক্ষকদের কার্যক্রম তত্ত্বাবধান, তাদের ওপর নজর রাখা এবং জবাবদিহির ঘাটতি বিদ্যালয়ের সক্ষমতা কমিয়ে দেয়। প্রাথমিকে ভর্তির হার ৯৮ শতাংশ হলেও মাত্র ৬৭ শতাংশ বা তারচেয়ে কম শিক্ষার্থী মাধ্যমিকের যোগ্যতা অর্জন করে আর উচ্চ শিক্ষায় পৌঁছায় মাত্র ২২ শতাংশ শিক্ষার্থী।
২০১৩ সালের ন্যাশনাল স্টুডেন্ট অ্যাসেসমেন্ট অনুসারে। পঞ্চম শ্রেণি পড়–য়া প্রতি ৪ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে মাত্র একজন গণিত ও বাংলায় উপযুক্ত দক্ষতা অর্জন করেছে। ২০১১ সালে প্রাথমিক শেষ করা প্রতি ২ জন ছেলে শিক্ষার্থীর মধ্যে একজনেরও কম এবং প্রতি ৩ জন মেয়ের মধ্যে একজনেরও কম কার্যত লেখাপড়া শিখেছে।
ইউনিসেফের পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে প্রাথমিক স্তরে ঝরে পড়ার প্রবণতা সবচেয়ে বেশি চতুর্থ শ্রেণিতে , যে শ্রেণিটি প্রকৃতপক্ষে প্রাথমিক সমাপনী প্রস্তুতি পর্ব। যে শিশুরা শিক্ষায় দুর্বল তাদের জন্য প্রয়োজন বাড়তি সহযোগিতা। আর্থিক ও সামাজিক দিক থেকে পিছিয়ে থাকা পরিবারের শিশুদের লেখাপড়া চালিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় সমস্যাগুলোর মধ্যে রয়েছে শিক্ষা গ্রহণে দুর্বলতা। সে কারণেই প্রাথমিক ও মাধ্যমিক উভয় পর্যায় থেকেই ঝরে পড়ছে শিক্ষার্থীরা। প্রাথমিক শিক্ষা অবৈতনিক হলেও বিভিন্ন খাত দেখিয়ে অভিভাবকদের কাছ থেকে অর্থ আদায় করা হয়। আর্থিক ও সামাজিকভাবে বঞ্চিত পরিবারের অভিভাবকরা অনেক ক্ষেত্রে তা দিতে অপারগ হয়।
ফলে শিক্ষার্থীরা চাপের মুখে পড়ে। এসব বন্ধ করা অত্যাবশ্যক। সবচেয়ে খারাপ অবস্থায় থাকা উপজেলাগুলোতে ৪৫ শতাংশ শিশুই স্কুলের বাইরে রয়েছে। কর্মজীবী শিশু, প্রতিবন্ধী শিশু এবং দুর্যোগ কবলিত প্রত্যন্ত এলাকার শিশুরা প্রায়ই শিক্ষার অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়। শিশুদের স্কুল থেকে ঝরে পড়ার পেছনে প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের পাশাপাশি ক্ষতিকর রীতিনীতিরও ভূমিকা রয়েছে। প্রতি ৫ জন শিশুর মধ্যে অন্তত একজন শিক্ষার বাইরে চলে যায় মূলত বাল্যবিয়ে ও শিশুশ্রমের কারণে।
শহরের ছেলেমেয়েদের স্কুলে ভর্তির হার বেশি হলেও লেখাপড়ার বাইরে থাকা ৬ থেকে ১০ বছর বয়সী শিশুর সংখ্যা ঢাকা সিটি করপোরেশনের মধ্যেই খুব বেশি। এটাই বাংলাদেশের রাজধানীতে শিশুশ্রমের উপস্থিতির প্রমাণ দেয়। তাছাড়া নিরাপত্তার ঘাটতি এবং পাবলিক প্লেসে যৌন হয়রানি ও যৌন নিপীড়নের ব্যাপকতার কারণেও মেয়েরা স্কুল থেকে ঝরে পড়ে।
নানা সংকটে প্রাথমিক শিক্ষাকে কাক্সিক্ষত পর্যায়ে উন্নীত করা কঠিন হয়ে
উঠেছে। কেবল পরীক্ষানির্ভর প্রাথমিক শিক্ষা উদ্বেগের একটা কারণ। এছাড়া
রয়েছে প্রাথমিক শিক্ষা প্রশাসনের অনিয়ম ও গাফিলতি। নেই কোনো কার্যকর
মনিটরিং। দক্ষ ও যোগ্য শিক্ষকের রয়েছে মারাত্মক অভাব। তার ওপর রয়েছে
প্রাথমিক শিক্ষা প্রশাসনের মনিটরিংয়ের নামে দুর্নীতি ও শিক্ষক হয়রানি।
তাছাড়া প্রথমিক স্তর পেরোনো অনেক শিক্ষার্থী ঝরে পড়ছে শিক্ষার ব্যয় বৃদ্ধির
কারণে। সাম্প্রতিক এক সমীক্ষায় দেখা গেছে মাধ্যমিক পর্যায়ে ৪১ ভাগ মেয়ে
শিক্ষার্থী এবং ৩৩ ভাগ ছেলে শিক্ষার্থী ঝরে পড়ছে। শিশুদের নিয়ে কাজ করা ৬টি
আন্তর্জাতিক সংস্থা রাজধানীতে শিশু অধিকার বিষয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ
করে। এসব প্রতিবেদনে বলা হয়, স্কুল থেকে ঝরে পড়া এই শিশুরাই সবচেয়ে বেশি
অধিকার বঞ্চিত হয়।
শিশুদের ঝরে পড়ার পেছনে নানা কারণ রয়েছে। তবে এর
মধ্যে আর্থিক কারণই সবচেয়ে বড়। সেভ দ্য চিলড্রেনের কর্মকর্তা রাশেদা আক্তার
বলেন, অনেক বাবা-মা থাকে যারা ভাবে, স্কুলে দিয়ে কী হবে, তারচেয়ে কাজ করে
কিছু উপার্জন করুক।
আর এ চিন্তা থেকেই বাচ্চাদের স্কুলে দেয় না তারা। অনেক সময় শিশুরা বোঝে না, মাধ্যমিক পড়াশোনা শেষে তারা কী করবে। তাদের সামনে আর কোনো লক্ষ্য থাকে না। তাই পড়াশোনার আগ্রহ হারিয়ে ফেলে। মেয়ে শিশুদের বেলায়, স্কুলে যাওয়া-আসার পথে হয়রানির শিকার হওয়ার ঘটনা ঝরে পড়াকে ত্বরান্বিত করে। বাবা-মায়েরা মেয়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গিয়ে তাকে বাল্যবিয়ে দিয়ে থাকেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। ঝরে পড়া এসব শিশু বয়সে কিশোর হওয়ায় সে সময় তাদের মানসিক ও শারীরিক পরিবর্তন আসে। নির্দিষ্ট কোনো গাইডলাইন না থাকায় বিভিন্ন ধরনের অপরাধের সঙ্গে জড়িয়ে পরে তারা। যার বড় উদাহরণ, সম্প্রতি রাজধানীসহ সারা দেশে বেড়ে ওঠা কিশোর গ্যাং। সমাধান হিসেবে সংশ্লিষ্টরা বলেন, স্কুলে ঝরে পড়া ঠেকাতে কারিগরি শিক্ষার ব্যবস্থা করতে হবে। সবার জন্য উচ্চ শিক্ষার প্রয়োজন নেই। একটা নির্দিষ্ট পর্যায় পর্যন্ত পড়াশোনা করে তারা যাতে কাজে ঢুকে যেতে পারে তা নিশ্চিত করতে হবে। মেয়ে শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাবা-মায়ের পাশাপাশি স্কুলের শিক্ষক, স্থানীয় বাসিন্দাসহ সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। সর্বোপরি বাবা-মাকে বুঝতে হবে, ছেলে আর মেয়ে শিশুদের মধ্যে পার্থক্য করার কিছু নেই।
সরকার মাসিক ১০০ টাকা উপবৃত্তি দিয়ে অতি দরিদ্র শিক্ষার্থীদের স্কুলে ধরে রাখার চেষ্টা করছে। কিন্তু এ উপবৃত্তি দিয়ে অতি দরিদ্র শিক্ষার্থীদের স্কুলে ধরে রাখা অসম্ভব। বর্তমানে গ্রামের স্কুলগুলোতে ছেলে শিক্ষার্থীর চেয়ে মেয়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যাধিক্য লক্ষ করা যায়। এর প্রকৃত কারণ খুঁজে বের করা প্রয়োজন। ছেলেসন্তানের জন্মহার কি কমে যাচ্ছে নাকি অভাবের তাড়নায় ছেলে শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন শিশুশ্রমে নিযুক্ত হচ্ছে। আমাদের ভাবতে হবে। ক্ষুৎপিপাসায় কাতর শিশুদের স্কুলে ধরে রাখার কল্পনা আকাশকুসুম কল্পনা ছাড়া কিছুই নয়।
এজন্য ধনী-দরিদ্র নির্বিশেষে সবাইকে ঢালাওভাবে উপবৃত্তি না দিয়ে বিদ্যালয়ভিত্তিক তালিকা করে অতি দরিদ্র শিক্ষার্থীদের চাহিদামাফিক বৃত্তির ব্যবস্থা করা একান্ত আবশ্যক। এতে করে অবস্থার পরিবর্তন ঘটতে পারে। সরকারের উচিত এ ব্যাপারে যথাযথ পদক্ষেপ নিয়ে শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়া বন্ধ করা। সন্দেহ নেই, পড়াশোনা শেষ হওয়ার পূর্বেই বিশাল সংখ্যক শিক্ষার্থীর ঝরে পড়া ডিজিটাল বাংলাদেশ গঠনের পথে বড় বাধা। আমাদের রাজনৈতিক নেতারা ও শিক্ষা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা সত্যটি যত তাড়াতাড়ি উপলব্ধি করতে পারবেন ততই মঙ্গল।
*** বর্তমান জরীপ অনুযায়ী প্রাথমিক স্তরে শতভাগ শিশু ভর্তি হয় কিন্তু মাধ্যমিক স্তরে ভর্তি হওয়ার আগেই কিছু সংখ্যক ঝরে যায় আবার মাধ্যমিক স্তরে অধ্যয়নকালীন অনেকেই ঝরে যায় ফলে উচ্চ মাধ্যমিক স্তরে অনেকেই পদার্পণ করতে পারে না। শিক্ষার্থী ঝরে পড়া রোধ কল্পে সরকার নানাবিধ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে, সে সাথে ইউনিসেফ সম্প্রতি একাজে সহযোগিতার হাত বাড়িয়েছে কিন্তু তারপরও আশানুরুপ ফল পাওয়া যাচ্ছেনা।
শিক্ষার্থী ঝরে পড়ার পিছনে রয়েছে নানাবিধ কারণ। পারিবারিক অস্বচ্ছলতা, অভিভাবকের অসচেতনতা, শিক্ষা শেষে হতাশা, বাল্য বিবাহ প্রভৃতি। সরকারি জরীপ যাই বলুক না কেন এখনো এদেশের উল্লেখযোগ্য্য সংখ্যক পরিবার দারিদ্র্য সীমার নিচে বাস করছে। খোঁজ নিলে দেখা যাবে অনেক দরিদ্র্য পরিবারে বাবা মারা গেছে কিংবা অসুস্থ্য হয়ে পড়ে আছে। আবার অনেক পরিবারে বাবা মাকে ডিফোর্স দিয়েছে। এমতাবস্থায় এধরণের পরিবারের শিশু সন্তানগুলি মায়ের উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে কিন্তু মায়েরও অর্থ উপার্জনের কোন পথ নেই।
বাধ্য হয়ে মা ঝি-এর কাজ করেন কিংবা ছোট-খাটো ব্যবসার সাথে জড়িয়ে পড়েন আবার অনেকে মাঠে দিন মজুরীর কাজও করেন। সরকার থেকে এসব পরিবার যতটুকু সহযোগিতা পান তা নিত্যান্তই অপ্রতুল বিধায় বাধ্য হয়েই মা সন্তানদেরকেও লেখা-পড়া থেকে বিচ্ছিন্ন করে কাজে লাগিয়ে দেন। শিক্ষার্থী ঝরে পড়ার অন্যতম একটি কারণ অভিভাবকের অসচেতনতা। অনেক অভিবাবক আছেন যারা ইচ্ছে করলেই সন্তানদেরকে শিক্ষিত করে তুলতে পারেন কিন্তু শিক্ষা সম্পর্কে নিজের অজ্ঞতার কারণে শিক্ষা তাদের কাছে মূল্যহীন। তারা ভাবেন লেখা-পড়া শিখে কি হবে তার চেয়ে সন্তানদের কাজে লাগিয়ে দিলে আর্থিক উন্নতি হবে।
শিক্ষা শেষে হতাশা অর্থাৎ কর্মের অভাব অনেকের মনেই মারাত্মক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। আমাদের দেশে কর্মের যথেষ্ট অভাব রয়েছে। অনেক পরিবারের সন্তানেরা শিক্ষা অর্জন করে কর্মের অভাবে হতাশাগ্রস্থ। যে পরিমাণ কর্মক্ষেত্র রয়েছে তাতে খুব সামান্য সংখ্যক শিক্ষিত বেকারের কর্ম সংস্থান হয়। বাদবাকী একটি বড় অংশ হতাশাগ্রস্থ হয়ে অনেকেই অপরাধমূলক কর্মকান্ডের সাথে জড়িত হচ্ছে। কারিগরি শিক্ষা ব্যবস্থার অপ্রতুলতা কিংবা নামকাওয়াস্তে কারিগরি শিক্ষা বেকারত্ব হ্রাসে তেমন কোন ভূমিকা রাখতে পারছেনা। এসব বিষয় বিবেচনা করে অনেক পরিবার সন্তানদের শিক্ষা থেকে বিচ্ছিন্ন করে বিভিন্ন কাজে লাগিয়ে দিয়ে অর্থনৈতিক উন্নতিও করছেন। বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, অনেক শিক্ষার্থী শিক্ষা শেষে চাকুরীও পাচ্ছে না আবার পারিবারিক কাজেও লজ্জা পাচ্ছে। এহেন পরিস্থিতি থেকে রক্ষা পেতেই মূলতঃ অনেক অভিভাবক সন্তানদের আগে থেকেই পারিবারিক কাজের সাথে জড়িয়ে ফেলছেন।
নারী শিক্ষার্থী ঝরে পড়ার পিছনে উপরোল্লিখিত কারণগুলি ছাড়াও একটি বড় কারণ হচ্ছে বাল্যবিবাহ। সরকার বাল্যবিবাহরোধে আইন করলেও তা পুরোপুরি বাস্তবায়িত হচ্ছেনা। আর বাল্যবিবাহের পিছনে রয়েছে অনেকগুলি কারণ যা আইন করে বন্ধ করা সম্ভব নয় বলে আমি মনে করি। দরিদ্র্য পরিবারে একজন মেয়ে যে কত বড় যন্ত্রণার তা ভুক্তভোগীরাই জানেন। প্রথমতঃ ইভটিজিং মেয়েদের ক্ষেত্রে একটি বিরাট সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ইভটিজিং-এর বিরুদ্ধে কঠোর আইন থাকা সত্বেও এ ব্যাধি যেন কোনক্রমেই কমছে না। আর মেয়েটি যদি দরিদ্র্য পরিবারের হয় তাহলে তো কোন কথাই নেই। ধনীর ঘরের ছেলেরা প্রস্তাব দেয় প্রেমের তারপর যা হবার তাই হয়।
মাধ্যমিক স্তরের মেয়েরা সাধারণতঃ এ ভুলটি বেশি করে থাকে। যন্ত্রণা পোহাতে হয় অসহায় পিতা-মাতাকে। দ্বিতীয়তঃ যৌতুকের মত ঘৃণ্য বিষয়টি আইন থাকা সত্বেও ৯৯ ভাগই চলমান রয়েছে। একজন গরীব পিতা মেয়ের যৌতুক মেটানোর জন্য স্বর্বশান্ত হয়ে যান। উপরন্তু মেয়ের বয়স ১৪-১৫ বছর হলে বর পক্ষের মেয়েটির জন্য বেশ চাহিদা থাকে কিন্তু উক্ত মেয়েটির বয়স যখন বাড়তে থাকে তখন চাহিদাও কমতে থাকে। এক সময় দেখা যায়, মেয়ে ইন্টারমিডিয়েট কিংবা ডিগ্রি পাশ করেছে কিন্তু বর খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। চাকুরী না হলে শিক্ষিত মেয়ের চাহিদা থাকে না। যদিওবা ২/১ টি বর কোন মতে পাওয়া যায় তারা অশিক্ষিত কিংবা স্বল্প শিক্ষিত হওয়ায় স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বড় ধরণের বৈষম্য সৃষ্টি হয় দাম্পত্য জীবনকে অসুখী করে তোলে। অবস্থাপন্ন শিক্ষিত চাকুরীজীবি বা বেকাররা গরীব শিক্ষিত মেয়েটির দিকে ফিরেও তাকায় না।
বর্তমানে দেশে এধরণের গরীব ঘরের শিক্ষিত মেয়ের অভাব নেই যাদের বিয়ে দিতে পিতা-মাতাকে গলদঘর্ম হতে হচ্ছে না। একারণেই অনেক গরীব পিতা-মাতা অল্প বয়সেই মেয়ের বিয়ে দিতে বাধ্য হচ্ছেন। গরীবের পাশাপাশি অনেক অবস্থাপন্ন মানুষও কম বয়সে মেয়ের বিয়ে দিচ্ছেন। অনেকে বখাটেদের ভয়ে আবার অনেকে ভাল বর পেলে মেয়ের বয়সের বিষয়টি বিবেচনায় রাখেন না।
মূলতঃ উপরোক্ত কারণেই শিক্ষার্থীরা ঝরে পড়ছে। সরকার প্রাথমিক স্তরে খাদ্য দিচ্ছেন, উপবৃত্তি, বই দিচ্ছেন, মাধ্যমিক স্তরে খাদ্য না দিলেও বই, উপবৃত্তি দিচ্ছেন কিন্তু তারপরও সুফল পাওয়া যাচ্ছে না। সরকার যদি সত্যিই ঝরে পড়া রোধ করতে চান তাহলে গরীব, অসহায় পরিবারগুলোকে চিহ্নিত করে তাদেরকে আর্থিক সহযোগিতা দিতে হবে। সর্বোপরি শিক্ষা শেষে তাদের কর্মের ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।
ইভটিজিং তথা বখাটেদের উৎপাত থেকে তাদের নিরাপত্তার ব্যবস্থা করতে হবে। ইউনিসেফ ঝরে পড়া রোধ কল্পে কিছু সংখ্যক প্রতিষ্ঠানে সরকারের সহযোগিতায় পাইলট প্রোগ্রাম হাতে নিয়েছে। চলতি বছর নির্ধারিত প্রতিষ্ঠানগুলির স্যানিটেশন, শ্রেণি কক্ষের উন্নয়নের জন্য ৫০ হাজার করে টাকা দিয়েছে কিন্তু এভাবে তো ঝরে পড়া রোধ হবে না।
যারা ঝরে যাচ্ছে তাদেরকে ভাল শ্রেণিকক্ষ, ভাল শৌচাগার কিংবা দুপুরে ভাল খাওয়ালেই যে তারা প্রতিষ্ঠানমুখী হবে তা তো নয়। ইউনিসেফ কর্তৃপক্ষ যদি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমেই হোক আর স্থানীয় প্রশাসনের মাধ্যমেই হোক সম্ভাব্য ঝরে পড়া শিক্ষার্থীর পরিবারকে আর্থিক এবং সামাজিক নিরাপত্তাদানের ব্যবস্থা করে তাহলে ঝরে পড়া রোধ অনেকাংশেই সম্ভব। ( সংগৃহীত)
৫৩
৯১ মন্তব্য