Loading..

ব্লগ

রিসেট

০৯ ডিসেম্বর, ২০২১ ০১:৩৭ অপরাহ্ণ

হাসনাহেনা ফুলের যেমন সুগন্ধ ও সৌন্দর্য্য রয়েছে তেমনি রয়েছে এর কিছু গুণাগুণ ও উপকারিতা

বর্ষা শুরু হওয়ার সাথে সাথে সারা গাছে ফুলে ভরে উঠে। দূর থেকে এ ফুলের গন্ধ আরও বেশি মনকে রাঙিয়ে দেয়। রাতে হাসনাহেনা ফুল ফোটে। রাতের আকাশ আর বাইরের মন মাতানো বাতাসে যে চারদিকে ছড়ায় এ ফুলের মনোরঞ্জন গন্ধে।

হাসনাহেনা গাছটি অনেকটা ঝোপালো। ফুল ফুটার ৫/৬ দিন পর্যন্ত ফুল সতেজ থাকে। ফুলের মৌসুম শেষ হলে এ গাছের ডাল উপর থেকে গোল করে ছাটাই করে দিতে হয়।

এছাড়া হাসনাহেনা গাছের কিছু ভেষজ গুণ রয়েছে-গাছের পাতা থেতো করে দুধের সাথে গরম করে খেলে আমাশয় দূর হয়।

লোক মুখে শোনা যায় হাসনাহেনা গাছ যে বাড়িতে থাকে সে বাড়িতে সাপ আসে। এই কথাটার কোনো ভিত্তি নেই। সর্বোপরি সৌন্দর্য বর্ধন,সুগন্ধিময় একটি ফুলগাছ হাসনাহেনা।

হাসনাহেনা বা হাসনুহানা (বৈজ্ঞানিক নাম- Cestrum nocturnum) Solanaceae পরিবারভুক্ত একটি ফুল। ইংরেজিতে অনেকগুলি নাম। নামগুলি হল lady of the night, night-blooming jessamine, night-scented jessamine, night-scented cestrum অথবা poisonberry।এই ফুলটি ওয়েষ্ট ইন্ডিজের স্থানীয়, তবে দক্ষিণ এশিয়ার প্রাকৃতিক পরিবেশে এটি বেশ মানিয়ে নিয়েছে।

বর্ণনাঃ হাসনাহেনা সাদামাটা ফুল, তবু কিছুতেই এড়ানো যাবে না এমনই গন্ধের জোয়ার। যেখানেই ফুটুক, জানান সে দেবেই। ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রজাতি। লতানো ধরনের ঝোপাল গাছ। ডালের গায়ে অজস্র সাদা সাদা তিল থাকে, এদের নাম ল্যান্টিসেল। পাতা লম্বাটে, ১৪.৪ থেকে ৩-৪ সেমি, মসৃণ। বছরে কয়েকবার ফুল ফোটে। তবে গ্রীষ্ম ও বর্ষায় বেশি ফোটে। পাতার গোড়া বা ডালের ও আগায় ফুলের ছোট ছোট থোকা, সন্ধ্যায় ফোটে ও সুগন্ধ ছড়ায়। সাদাটে ফুল নলাকার, ২ সেমি লম্বা, ৫ পাপড়ি। ফল গোল, সাদা। কলমে চাষ। Cestrum diurnum বুনো প্রজাতি, ভারতে এবং বাংলাদেশেও জন্মায়। গাছ খাড়া, তেমন ঝোপাল বা লতান নয়। ফুলের গন্ধও কম, দিনের বেলা ফোঁটে।

হাসনাহেনা বাংলাদেশের একটি জনপ্রিয় ফুল। এটি একটি লতানো ঝোপাল ধরনের গাছ। হাসনা হেনা সাদামাটা ফুল, তবু কিছুতেই এড়ানো যাবে না। এমনই গন্ধের জোয়ার যেখানেই ফুটুক জানান সে দেবেই। ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রজাতি এরা। বছরে কয়েকবার ফুল ফোঁটে।

এই ফুলের যেমন সুগন্ধ ও সৌন্দর্য্য রয়েছে তেমনি রয়েছে এর কিছু গুণাগুণ ও উপকারিতা।

স্তন্যদাত্রী মায়েদের উপকারিঃ প্রথমে হাসনাহেনা পাতার রস করে নিতে হবে। এরপর এর সাথে নারকেলের দুধ ভালো করে মিশিয়ে কয়েকদিন সকালে সেবন করলে স্তন্যদাত্রী মায়েদের উপকার হয়।

জ্বর দূর করতেঃ প্রথমে হাসনাহেনার গাছের মূলের রস করে নিতে হবে। এরপর এটি নিয়মিত সেবন করলে জ্বর দ্রুত ভালো হয়ে থাকে।

ক্রিমি নিরাময়েঃ ক্রিমি রক্তাভ হলে হাসনাহেনা গাছের পাতার রস নিয়ে অল্প গরম করে সেবন করলে ক্রিমিতে উপকার পাওয়া যায়।

প্রসাব পরিষ্কার করতেঃ হাসনাহেনার পাতা থেঁতো করে এই রস খেলে প্রসাব পরিষ্কার হবে ও যন্ত্রণা থাকবে না।

আমাশয় নিরাময়েঃ হাসনাহেনার পাতা থেঁতো করে কাঁচা দুধের সাথে মিশিয়ে একটু উষ্ণ করে সেবন করলে রক্ত আমাশয়ে উপকার পাওয়া যায়।

মন্তব্য করুন

ব্লগ