Loading..

ব্লগ

রিসেট

১০ ডিসেম্বর, ২০২১ ০৬:৪৬ অপরাহ্ণ

বিচারদিনে নিজ নিজ পিতার নামে ডাকা হবে।

কিয়ামতে বিচারের দিন সকলকে পিতার নামে ডাকা হবেঃ

কিয়ামতের ময়দানে বিচারের দিন আল্লাহ রাব্বুল আলামীন সবাইকে তার পিতার নামেই ডাকবেন।

অর্থাৎ 'কিয়ামতের দিন সব মানুষকে তাদের নিজেদের এবং পিতার নামে ডাকা হবে'। 

রাসুল (সাঃ) বলেছেনঃ 

"আল্লাহ যখন পূর্বেকার ও পরেকার সকল মানুষকে কিয়ামতের দিন সমবেত করবেন, তখন প্রত্যেক (প্রতিশ্রুতি ভংগকারী) প্রতারকের জন্য একটি করে পতাকা উড্ডয়ন করা হবে। আর বলা হবেঃ 

"এ হল অমুকের (লোকের) পুত্র অমুকের (লোকের) প্রতারনা।" 

***মুসলিমঃ ১৭৩৫; ইবনে হিব্বান, বায়হাকী।

উল্লেখ্য যে, কিয়ামতে বিচারের দিন মায়ের নাম ধরে ডাকার হাদিস সহিহ নয়। 

***বানি, সিলসিলাহ যঈফাহঃ ৪৩৩।

সুতরাং সঠিক হল এই যে, কিয়ামতে বিচারের দিন প্রত্যেক আদম সন্তানকে তার পিতার নাম জুড়েই ডাকা হবে।

রাসুল (সাঃ) আরও বলেছেনঃ 

"কিয়ামতে তোমাদেরকে তোমাদের ও তোমাদের পিতার/বাপের নাম ধরে ডাকা হবে।" 

***আবু দাউদ।

মহানবী (সাঃ) আরও বলেছেনঃ 

"কিয়ামতে প্রত্যেক (প্রতিশ্রুতি ভংগকারী) প্রতারকের জন্য একটি করে পতাকা উড্ডয়ন করা হবে; আর বলা হবেঃ 

'এ হল অমুকের পুত্র অমুকের প্রতারনা'।" 

***বুখারীঃ ৬১৭৭; মুসলিমঃ ৪৬২৯।

তবে, কুরআনুল কারীমে আল্লাহ রাব্বূল আলামীন ইশা (আঃ)-কে "ইশা ইবনে মারিয়াম" বলে সম্বোধন করেছেন। 

কারন, ইশা (আঃ) আল্লাহ'র বিশেষ রহমতে ও হুকুমে পিতা ছাড়াই জন্ম লাভ করেছিলেন।

টীকাঃ

হাদিসে 'ফুলান' (পুং-বাচক) বলা হয়েছে, 'ফুলানাহ' (স্ত্রী-বাচক) বলা হয়নি। 

============================================

হযরত সাঈদ ইবনে যুবায়ের হযরত ইবনে আব্বাস (রা:)-কে বলতে শুনেছেন যে, রাসূল (সা:) বলেছেন: 

‘যে কেউ নিজেকে বাবার নাম ছাড়া অন্য নামে ডাকবে তার উপর আল্লাহ, ফিরিশতা ও সমগ্র মানুষের লা‘নত বর্ষিত হবে।’ [মুসনাদে আহমাদ]; ইমাম বুখারীও (রহ:) এই হাদীসটি হযরত সা‘দ (রা:) সূত্রে সংগ্রহ করেছেন।

হযরত সা‘দ ও হযরত আবু বাকরা (রা:) হতে বর্ণিত, তাঁরা প্রত্যেকে বলেছেন: 

আমার দু’ কান শুনেছে এবং আমার অন্তর মুহাম্মদ (সা:)-এর এ কথা সংরক্ষণ করেছে যে, মহানবী (সা:) বলেছেন: 

‘যে ব্যক্তি জেনেশুনে নিজেকে নিজের পিতা ছাড়া অন্যের সাথে সংযুক্ত করে তার জন্য জান্নাত হারাম হয়ে যাবে।’ [ইবনে মাজাহ] 

আবার হযরত আব্দুল্লাহ ইবন আমর (রা:) থেকে বর্ণিত, তিনি মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা:) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি (সা:) বলেছেন: 

'যে কেউ নিজের বাবা ব্যতীত অন্যের পরিচয়ে পরিচয় দেয় সে জান্নাতের গন্ধও পাবে না, যদিও জান্নাতের সুঘ্রাণ সত্তর বছর হাঁটার রাস্তার দূরত্ব থেকেও পাওয়া যাবে।' [মুসনাদে আহমাদ]

এমন অনেক হাদীস রয়েছে যেখানে মহানবী (সা:) নারীদেরকে তাদের পিতার নামে ডেকেছেন। যখন পবিত্র কুরআনের আয়াত ‘আপনি আপনার নিকটতম আত্মীয়দের সতর্ক করে দিন’ [আল-কুরআন; সূরা আশ-শো'আরা: ২৬:২১৪) নাজিল হয়, তখন মহানবী (সা:) তাঁর আত্মীয়দের প্রত্যেককে ডেকে ডেকে বলেছিলেন: 'হে অমুকের ছেলে অমুক! আমি পরকালে তোমার কোন উপকার করতে পারব না। হে অমুকের মেয়ে অমুক! আমি কিয়ামতের দিন তোমার কোন কাজে আসব না। 

[আল-কাশফুল মুবদি]

উল্লেখ্য যে, নারীরা তাদের নামের পিছনে স্বামীর নাম সংযোজন করে যার কোন ভিত্তি ইসলামে নেই। নবী (সা:)-এর পত্নীগণ তাদের পিতার নামেই পরিচিত ছিলেন। ইসলামী শরীআহর কোথাও স্বামীর নাম যুক্ত করে নারীদের নাম রাখার অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যায় না। 

কিয়ামতে বিচারের দিন সকলকে পিতার নামে ডাকা হবে; আদম (আ:), মা হাওয়া এবং ঈশা ইবনে মারইয়াম (আ:) ব্যতীত। 

মহান আল্লাহ অধিক ভালো জানেন।

•••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••

নারীদের নাম রাখুন পিতার নামে- স্বামীর নামে নয়:

===================================

অধিকাংশ নারীই তাদের নামের শেষে স্বামীর নাম যুক্ত করে থাকে। যে সকল নারীরা নিজেদের নামের শেষে স্বামীর নাম যুক্ত করে পরিচয় দিয়ে থাকেন তাদের উদ্দেশ্যেই এই পোষ্ট। 

কুরআন এবং সুন্নাহর আলোকে স্বামীর নাম যুক্ত করে নারীদের পরিচয় দেওয়ার কোন বিধান পাওয়া যায় না। 

অতএব, নারীদের প্রতি অনুরোধ, আপনার স্বামীর নাম বাদ দিয়ে পিতার নামে আপনাদের পরিচয় দিন। আমাদের অজ্ঞতার কারনেই আমরা এমন সমস্যার সম্মুখীন হয়েছি। তৎকালীন জাহলিয়াতের যুগে আরব দেশেও স্বামীর নামে কেউ কাউকে পরিচয় দেয়নি। তারা পিতার নামেই নিজেদের পরিচয় দিয়েছি। 

এবার আসুন দলিল অনুসারে বিষয়টি সম্পর্কে আমরা জেনে নেইঃ 

কিয়ামতের ময়দানে বিচারের দিন আল্লাহ রাব্বুল আলামীন সবাইকে তার পিতার নামেই ডাকবেন।

অর্থাৎ 'কিয়ামতের দিন সব মানুষকে তাদের নিজেদের এবং পিতার নামে ডাকা হবে'। 

রাসুল (সাঃ) বলেছেনঃ 

"আল্লাহ যখন পূর্বেকার ও পরেকার সকল মানুষকে কিয়ামতের দিন সমবেত করবেন, তখন প্রত্যেক (প্রতিশ্রুতি ভংগকারী) প্রতারকের জন্য একটি করে পতাকা উড্ডয়ন করা হবে। আর বলা হবেঃ 

"এ হল অমুকের (লোকের) পুত্র অমুকের (লোকের) প্রতারনা।" 

***মুসলিমঃ ১৭৩৫; ইবনে হিব্বান, বায়হাকী।

উল্লেখ্য যে, কিয়ামতে বিচারের দিন মায়ের নাম ধরে ডাকার হাদিস সহিহ নয়। 

***বানি, সিলসিলাহ যঈফাহঃ ৪৩৩।

সুতরাং সঠিক হল এই যে, কিয়ামতে বিচারের দিন প্রত্যেক আদম সন্তানকে তার পিতার নাম জুড়েই ডাকা হবে।

রাসুল (সাঃ) আরও বলেছেনঃ 

"কিয়ামতে তোমাদেরকে তোমাদের ও তোমাদের পিতার/বাপের নাম ধরে ডাকা হবে।" 

***আবু দাউদ।

মহানবী (সাঃ) আরও বলেছেনঃ 

"কিয়ামতে প্রত্যেক (প্রতিশ্রুতি ভংগকারী) প্রতারকের জন্য একটি করে পতাকা উড্ডয়ন করা হবে; আর বলা হবেঃ 

'এ হল অমুকের পুত্র অমুকের প্রতারনা'।" 

***বুখারীঃ ৬১৭৭; মুসলিমঃ ৪৬২৯।

তবে, কুরআনুল কারীমে আল্লাহ রাব্বূল আলামীন ইশা (আঃ)-কে "ইশা ইবনে মারিয়াম" বলে সম্বোধন করেছেন। 

কারন, ইশা (আঃ) আল্লাহ'র বিশেষ কুদরতে পিতা ছাড়াই জন্ম লাভ করেছিলেন।

মহান আল্লাহ বলেছেনঃ 

"তোমরা তাদেরকে তাদের বাবার নামে ডাক।" 

***সুরা আহযাব; আয়াতঃ ৩৩:৫। 

এই আয়াতটিতে পালক পুত্রদেরকে তাদের প্রকৃত পিতার নামে ডাকার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। 

মেয়েরাও তাদের পিতার পরিচয়ে পরিচিত হবেন স্বামীর পরিচয়ে নন। এখানে পালক পুত্রকে প্রকৃত পিতার নামে ডাকার নির্দেশ প্রমাণ করে যে, স্ত্রীদেরকেও তাদের পিতার নামে ডাকতে হবে।

হযরত সাঈদ ইবনে যুবায়ের হযরত ইবনে আব্বাস (রাদিঃ)-কে বলতে শুনেছেন যে, 

রাসূল (সাঃ) বলেছেনঃ 

‘যে কেউ নিজেকে তার পিতার/বাবার নাম ছাড়া অন্য নামে ডাকবে তার উপর আল্লাহ, ফিরিশতা ও সমগ্র মানুষের লা‘নত বর্ষিত হবে।’ 

***মুসনাদে আহমাদ; ইমাম বুখারীও (রঃ) এই হাদীসটি হযরত সা‘দ (রাদিঃ) সূত্রে বর্ণনা করেছেন।

হযরত সা‘দ ও হযরত আবু বাকরা (রাদিঃ) হতে বর্ণিত, তাঁরা প্রত্যেকে বলেছেনঃ 

আমার দু’ কান শুনেছে এবং আমার অন্তর মুহাম্মদ (সাঃ)-এর এ কথা সংরক্ষণ করেছে যে, মহানবী (সাঃ) বলেছেনঃ 

‘যে ব্যক্তি জেনে-শুনে নিজেকে নিজের পিতা ছাড়া অন্যের সাথে সংযুক্ত করে তার জন্য জান্নাত হারাম হয়ে যাবে।’ 

***ইবনে মাজাহ। 

আবার হযরত আব্দুল্লাহ ইবন আমর (রাদিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি (সাঃ) বলেছেনঃ 

'যে কেউ নিজের বাবা ব্যতীত অন্যের পরিচয়ে পরিচয় দেয় সে জান্নাতের গন্ধও পাবে না, যদিও জান্নাতের সুঘ্রাণ সত্তর বছর হাঁটার রাস্তার দূরত্ব থেকেও পাওয়া যাবে।' 

***মুসনাদে আহমাদ। 

এমন অনেক হাদীস রয়েছে যেখানে মহানবী (সাঃ) নারীদেরকে তাদের পিতার নামে ডেকেছেন। যখন পবিত্র কুরআনের আয়াত ‘আপনি আপনার নিকটতম আত্মীয়দের সতর্ক করে দিন’ (সুরা আশ-শোআরা; আয়াতঃ ২৬:২১৪) নাজিল হয়, তখন মহানবী (সাঃ) তাঁর আত্মীয়দের প্রত্যেককে ডেকে ডেকে বলেছিলেনঃ 

হে অমুকের ছেলে অমুক! আমি পরকালে তোমার কোন উপকার করতে পারব না। 

হে অমুকের মেয়ে অমুক! আমি কিয়ামতের দিন তোমার কোন কাজে আসব না।

***আল-কাশফুল মুবদি। 

যে সকল কারণে নারীদের পিতার/বাবার নামে পরিচিত হওয়া উচিত তা হলোঃ 

১) স্বামী ও স্ত্রীর মাঝে কোন রক্ত সম্পর্ক থাকে না; কিন্তু বাবা-মেয়ের রক্ত সম্পর্ক চিরদিনের। 

২) স্বামী-স্ত্রী একে অপরের সাথে মনোমালিন্য হলে তাদের মধ্যে বিচ্ছেদ ঘটতে পারে তখন এই নাম থাকে না। 

৩) স্বামী মারা গেলে স্ত্রী অন্য পুরুষকে বিয়ে করতে পারে, তখন এই নামের কী দশা হবে তা সহজেই অনুমেয়। 

৪) স্বামী তো বিয়ের পর নিজের নাম পরিবর্তন করে না, তাহলে নারী কেন করবে? এটা কি নারী অধিকারের লংঘন নয়?

টীকাঃ

হাদিসে 'ফুলান' (পুং-বাচক) বলা হয়েছে, 'ফুলানাহ' (স্ত্রী-বাচক) বলা হয়নি।

*********************************

উল্লেখ্য যে,

আদম (আঃ), মা হাওয়া এবং ঈশা (আঃ)-এর পিতা নেই। 

কুরআনে ঈশা (আঃ)-কে মহান আল্লাহ ঈশা ইবনে মারইয়াম বলে সম্বোধন করেছেন।

মন্তব্য করুন