সিনিয়র শিক্ষক
১১ ডিসেম্বর, ২০২১ ০৩:০৯ অপরাহ্ণ
সিনিয়র শিক্ষক
টগর ঝোপঝাড়বিশিষ্ট চিরহরিৎ গাছ। আগে টগরের উদ্ভিদতাত্ত্বিক নাম ছিল Ervatamia coronaria stapf.। এখন বৈজ্ঞানিক নাম Tabernaemontana divaricata (L.) Br., যা Apocynaceae পরিবারের অন্তর্ভুক্ত। এটি গর্ভশীর্ষ পুষ্প৷ এটি এশিয়া, আফ্রিকা, অস্ট্রেলিয়া, উত্তর আমেরিকা, দক্ষিণ আমেরিকা এবং সমুদ্রিক দ্বীপপুঞ্জগুলিতে দেখতে পাওয়া যায়।
বিভিন্ন নামঃ বাংলাদেশের সিলেটে একে দুধফুল বলে ডাকা হয়। এছাড়া এর অন্যান্য প্রচলিত নাম কাঠ মালতী, কাঠমল্লিকা। বাগান ছাড়াও এই গাছটিকে বনে জঙ্গলে জন্মাতে দেখা যায় বলে অনেকে একে ‘‘জংলী টগর’’ বলে। এর দ্বিপদী বৈজ্ঞানিক নাম Tabernaemontana divaricata। বাংলাদেশে এর অন্য নাম জনপ্রিয় নাম কাঠমল্লিকা। কাঠমল্লিকা ফুলের আরো অনেক সুন্দর সুন্দর নাম আছে, যথা: চাঁদনী, কড়ি। কাণ্ডে দুধের মতো রস থাকায় একে কোন কোন এলাকায় দুধফুল নামেও আখ্যায়িত করা হয়। এর মূল সৌন্দর্য্য হলো বিশুদ্ধ সাদা বর্ণের ফুল।তাই একে সাদা ফুল নামেও ডাকা হয়।
শীত ছাড়া প্রায় সারা বছরই ফুল হয়।যদিও উদ্ভিদটি বসন্তে পূর্ণ প্রস্ফুটিত হয় কিন্তু ফুলগুলো সারা বছরই কমবেশি পাওয়া যায়। ফুলটির একটি স্নিগ্ধ সুবাস আছে। এই ফুলের নানা প্রকারভেদ রয়েছে, যেমন- ফুল সিঙ্গল হতে পারে, আধা ডাবল হতে পারে, আবার ডাবল (Flore Pleno= double-flowered) হতে পারে। সিঙ্গল ফুলে দলনলের আগায় পাপড়ি ৫টি থাকে (অন্যগুলোতে বেশি থাকে)। নার্সারীতে ছোট ছোট পাতাযুক্ত একটি চীনা প্রজাতি দেখা যায়।66 টিরও বেশি অ্যালকালয়েড এই গুল্মে পাওয়া যায় - যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি হল ক্যাথারানথাইন, করোনারিডিন, ড্রেগামাইন, আইবোগামাইন, ট্যাবারসিনিন, ভোকাঙ্গাইন, ভোয়াকামাইন এবং ভোক্রিস্টিন।এই গাছের ডালপালা এবং শিকড়গুলিতে শক্তিশালী অ্যাসিটিলকোলিনস্টেয়ারেস ইনহিবিটরসের উপস্থিতি রয়েছে। একটি স্টেম এক্সট্রাক্ট থেকে বিচ্ছিন্ন 3'-R/S-hydroxyvoacamine AChE- এর বিরুদ্ধে অপ্রতিদ্বন্দ্বী প্রতিরোধক হিসেবে কাজ করে,যার I
প্রকারভেদঃ টগর দুই রকম- থোকা টগর ও একক টগর। বাংলাদেশ ও ভারতে এই দুই রকমের টগর পাওয়া যায়। একটি টগরের একক পাপড়ি, অন্যটির গুচ্ছ পাপড়ি। এদেরকে "বড় টগর" ও "ছোট টগর" বলা হয়।
বিবরণঃ ঝাঁকড়া মাথার জন্য টগর গাছ সুন্দর। ডালগুলোও সোজা ওঠে না, বহু শাখা-প্রশাখা নিয়ে ঝোঁপের মতো বাগানের শোভা বাড়ায়। সুন্দর করে ছেঁটে দিলে চমৎকার ঘন ঝোঁপ হয়। কলম করে চারা করা যায়, আবার বর্ষাকালে ডাল পুতলেও হয়। টগর সমতল ভূমির গাছ। পর্বতের প্রত্যন্ত অঞ্চলেও দেখা যায়। বাংলাদেশের বনে-বাদাড়ে টগর এমনিতেই জন্মে। টগরের কাণ্ডের ছাল ধূসর। গাছের পাতা বা ডাল ছিঁড়লে সাদা দুধের মতো কষ ঝরে বলে একে "ক্ষীরী বৃক্ষ" বলা যায়। পাতা ৪-৫ ইঞ্চি পর্যন্ত লম্বা ও এক দেড় ইঞ্চি চওড়া হয়। পাতার আগা ক্রমশ সরু। ফুল দুধ-সাদা। সারা বছর ফুল ফোটে। থোকা টগরের সুন্দর মৃদু গন্ধ হয় কিন্তু একক টগরের গন্ধ নেই। ফুল থেকে ফলও হয়। তার মধ্যে ৩ থেকে ৬ত টি বীজ হয়। বড় টগরের বোঁটা মোটা এবং একক ফুল হয়। পাতাও একটু বড়।
বিস্তৃতিঃ সারা পৃথিবীতে এই গণের ৪০ টি প্রজাতি আছে। এর মধ্যে বাংলাদেশ ও ভারতে ৪টি প্রজাতি পাওয়া যায়। দক্ষিণ আমেরিকা থেকে এই গাছ ভারত উপমহাদেশে এসেছে।
ঔষধি গুণঃ টগরের মূল ও শেকড় ওষুধে ব্যবহৃত হয়। শেকড় তেতো ও কটু স্বাদের। এতে কৃমি ও চুলকানি দূর হয়। ঘামাচিতে টগরের কাঠ ঘষে প্রতিদিন চন্দনের মতো গায়ে মাখলে উপকার হয়। অনেকে টগরের কাঁচা ডাল চিবিয়ে দাঁতের অসুখ সারায়।
৭১
১৪৫ মন্তব্য