সহকারী প্রধান শিক্ষক
১৯ ডিসেম্বর, ২০২১ ১০:৫৯ পূর্বাহ্ণ
সহকারী প্রধান শিক্ষক
বাংলাদেশের জন্মদিন কবে? একদল বলে ২৬ মার্চ, আরেকদল বলে ১৬ ডিসেম্বর।
বাংলাদেশের জন্ম ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ। চূড়ান্ত বিজয় আমরা ১৬ ডিসেম্বর পেয়েছি মানে এই নয় যে রাষ্ট্রের উদ্ভবও ঘটেছে সেদিন। শেখ মুজিব (২৬), হান্নান (২৬) ও জিয়া (২৭) এই তিনজনের ঘোষণায় পরবর্তীতে ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল গঠন করা হয়েছিল মুজিবনগর সরকার। একটি দেশের জন্ম না হলে যা কখনই সম্ভব ছিল না।
একটি দেশের শাসনতন্ত্রের মূল ভিত্তি তার সংবিধান। সংবিধানের প্রস্তাবনায় স্পষ্টভাবে লেখা আছে,
“আমরা, বাংলাদেশের জনগণ, ১৯৭১ খ্রীস্টাব্দের মার্চ মাসের ২৬ তারিখে স্বাধীনতা ঘোষণা করিয়া [জাতীয় মুক্তির জন্য ঐতিহাসিক সংগ্রামের] মাধ্যমে স্বাধীন ও সার্বভৌম গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠিত করিয়াছি”। এরপর নিশ্চয়ই আর সন্দেহের অবকাশ থাকে না যে, ১৬ ডিসেম্বর না, ২৬ মার্চই বাংলাদেশের জন্মদিন।
আমাদের সংবিধান আরও অনেক পরে লেখা হলেও এই প্রোক্লেমেশন অফ ইন্ডিপেন্ডেন্সকেই স্বাধীনতার মূল দলিল বলা হয়েছে এবং সেই কারণেই সাংবিধানিকভাবে বাংলাদেশের জন্ম ২৬ মার্চ।
বাংলদেশকে যদি ১৬ ডিসেম্বর থেকে স্বাধীন রাষ্ট্র বিবেচনা করা হয় তবে অনেকগুলো সমস্যার উদ্ভব হবে। মুজিবনগর সরকার তাহলে অবৈধ হয়ে যাবে কারণ রাষ্ট্র না থাকলে সেখানে সরকারের অস্তিত্ব থাকে না। তাজউদ্দীনও দেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী থাকেন না তাহলে আর। বাতিল হয়ে যাবে মুজিবনগর সরকারের সমস্ত অর্ডিন্যান্স, চুক্তি, বাহিনী।
১৬ ডিসেম্বরে বাংলাদেশের যাত্রা শুরু না ধরার আরেকটি কারণ হচ্ছে এই তারিখের আরও দুই সপ্তাহে আগে থেকে বেশ কয়েকটি দেশ বাংলাদেশকে স্বাধীন রাষ্ট্রের স্বীকৃতি প্রদান করে।
এছাড়াও পাক আর্মিকে হানাদার বাহিনী, দখলদার বাহিনী ইত্যাদি বলার পেছনেও রয়েছে কারণ। সাংবিধানিকভাবে ২৬ মার্চ থেকেই বাংলাদেশ স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র বলেই পাক আর্মিকে দখলদার বলা হয়ে থাকে।
অর্থাৎ আমাদের দেশ স্বাধীন হয়েছিল ২৬ মার্চ। মাঝের ৯ মাস স্বাধীন বাংলাদেশের অধিকাংশ অঞ্চল দখল করে রেখেছিল পাকিস্তানী আর্মির দল। যার জন্য আমাদের করতে হয়েছিল মুক্তিযুদ্ধ। ৯ মাস যুদ্ধের পর আমরা পেয়েছি একটি সার্বভৌম রাষ্ট্র।
৫৩
৯১ মন্তব্য