Loading..

ব্লগ

রিসেট

২১ ডিসেম্বর, ২০২১ ১২:০২ অপরাহ্ণ

ফাতিমা বিনতে মুহাম্মদ ( সাঃ ) এর সংক্ষিপ্ত জীবনী

 

 ফাতিমা বিনতে মুহাম্মদ ( সাঃ ) এর  সংক্ষিপ্ত জীবনী

 

 

ফাতিমা বিনতে মুহাম্মদ (সাঃ) ছিলেন মহানবী হযরত মুহাম্মাদ (সাঃ) এর কন্যা।তিনি মুসলিম নর-নারীর কাছে অনুকরণীয় ব্যক্তিত্ব  হিসাবে সম্মানিত।মক্কায় কুরাইশদের দ্বারা তার পিতার উপর নিযার্তন ও দুর্দশার সময় ফাতিমা সবসময় তার পাশে ছিলেন। মদিনায় হিজরতের পর তিনি মুহাম্মাদের এর চাচাত ভাই আলি ইবন আবি তালিব এর সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। তাদের চারটি সন্তান হয়তার পিতা হযরত মুহাম্মাদের এর পরলোকগমনের কয়েক মাস পরেই তিনি পরলোকগমন করেন এবং মদিনার জান্নাতুল বাকিতে তাকে সমাধিস্থ করা হয়তবে তার কবরের প্রকৃত অচিহ্নিত রয়েছে ।

জন্ম

ফাতিমা ৬০৫ সালে মক্কায় খাদিজার গর্ভে জন্মগ্রহণ করেন। তার জন্মদিন সম্পর্কে নানা মতভেদ আছে, তবে সর্বাধিক গ্রহণযোগ্য মতে, তিনি প্রথম কুরআন অবতীর্ণ হওয়ার পাঁচ বছর পর কাবাঘর সংস্কারের সময় ৬০৫ খ্রিষ্টাব্দে জন্মগ্রহণ করেন। জয়নবরুকাইয়াহ এবং উম্মে কুলসুমের পর ফাতিমা মুহাম্মদের চতুর্থ কন্যা। খাদিজা তার অন্য সন্তানদের জন্য ধাত্রী রাখলেও ফাতিমাকে ধাত্রীর হাতে ছেড়ে না দিয়ে নিজের কাছে রেখে স্বীয় তত্ত্বাবধানে লালন-পালন করেন।

ইসলাম গ্রহণ

মুহাম্মাদের নবুয়ত লাভের পরপরই ফাতিমা তার মা খাদিজার ও অন্যান্য বোনদের সাথে ইসলাম গ্রহণ করেন। এবং ইসলামের প্রথম ভাগের নারীদের সাথে বাইয়াত লাভ করেন। আয়িশাইমাম আয যুরকানি তার শারহুল মাওয়াহিবত গ্রন্থে এই মতকে গ্রহণ করেছেন এবং বলেছেন, ফাতিমার চারিত্রিক গুণাবলী পরিস্ফুটনের ক্ষেত্রে খাদিজার স্পষ্ট অবদান রয়েছে।

শৈশবকাল

শৈশব থেকেই ফাতিমা তার পিতা মুহাম্মাদের ধর্ম সম্পর্কে বুঝতে পারতেন,তার পিতার কষ্ট দেখে তিনিও কষ্ট অনুভব করতেন। একদিন মসজিদে নববীতে সিজদা থাকা অবস্থায় কুরাইশ নেতাদের আদেশে উকবা ইবনে আবু মুয়াত মুহাম্মাদের পিঠে উটের পচা-গলা নাড়ী-ভুঁড়ি উঠিয়ে দিয়েছিলোফাতিমা এই ঘটনা শুনতে পেয়ে দ্রুত এসে তার পিতার পিঠ থেকে এসব পচা নাড়িভুরি নামিয়ে দেন ও পরিষ্কার করে দেন। এরপর ফাতিমা কুরাইশ নেতাদের সাথে ঝগড়া করেন। এই ঘটনা মুহাম্মাদের জন্য অনেক পীড়াদায়ক ছিল। কষ্টের ছিলো, তিনি কাফিরদের অভিশাপ দিয়েছিলেন। তৎপরতার ভূমিকার জন্য ফাতিমার প্রশংসা করেছিলেন।

কিশোর বয়সে ফাতিমা পিতার হাত ধরে কাবার প্রাঙ্গণে গিয়েছিলেন। এ সময় মুহাম্মাদকে একা পেয়ে হাজরে আসওয়াদের নিকটে তাকে ঘিরে ফেলে, এবং বিভিন্ন কটু কথা বলে মুহাম্মাদকে উত্তেজিত করতে থাকে। হেনস্থার এক পর্যায়ে আক্রমণ করে মুহামাদের দাড়ি ধরে টানাটানি করে করতে থাকে ও চাদর গলায় পেঁচিয়ে ফাঁস লাগাতে শুরু করে। এমনকি এক পর্যায়ে মুহাম্মাদের মাথায় আঘাত করে, যার ফলে মাথা কেটে রক্তস্নাত হয়ে যায়। এই ঘটনা দেখে ফাতিমা প্রচণ্ড ভয় পেয়ে যাযন। সেইদিন আবু বকরের সাহায্যে মুহাম্মাদ ও তার মেয়ে ফাতিমা শত্রুদের হাত থেকে মুক্তি পায়, এবং তারা ভীত সন্ত্রস্ত হয়ে বাড়ি ফিরে আসে।এইসব ঘটনা ছোট থেকেই ফাতিমার উপর ধর্মীয় প্রভাব ফেলে, যার ফলে ফাতিমা ছোটবেলা থেকেই পিতার প্রতি শ্রদ্ধাশীল ও আনুগত হয়ে বড় হয়েছিলেন।

 

আলীর সাথে বিবাহ

উসুদুল গাবা গ্রন্থে  তাবাকাত গ্রন্থে ইবনে সাদের বর্ণনা মতে আলী উমারের পরামর্শ পেয়ে, মুহাম্মাদের নিকট ফাতিমার বিবাহের প্রস্তাব নিয়ে যান। এরপর মুহাম্মাদ সন্তুষ্টচিত্তে ফাতিমা আর আলীর বিবাহ সম্পন্ন করেন। তবে ভিন্ন একটি বর্ণনা মতে আলী আনসারী সাহাবা বা তার এক দাসীর পরামর্শ পেয়ে মুহাম্মাদের নিকট গিয়েছিলো।

মুহাম্মাদ আলীর সাথে ফাতিমাকে বিবাহ দিতে রাজী হলেন এবং জিজ্ঞেস করলেন, তুমি দেনমোহর কি দিবে? আলী উত্তর দিলেন, আমার ঘরে কিছুই নেই আপনার দেওয়া একখানা বর্ম ছাড়া, যার মূল্য ৪ দিরহামও হবেনা।

এই বিবাহ সম্পন্ন করার সুবিধার্থে উসমান ইবনে আফফান বর্মটি ৪৭০ দিরহাম দিয়ে কিনে নেন। এই অর্থ মুহাম্মাদের হাতে দেয়া হয়, মুহাম্মাদ ৭০ দিরহাম বিবাহের আয়োজনে ব্যয় করেন ও ৪০০ দিরহাম ফাতিমা-আলীর বিবাহের দেনমোহর নির্ধারণ করেন। ফাতিমা অবশ্য আলীর দারিদ্র্য সম্পর্কে তার পিতার নিকট আপত্তি তুলেছিলেন। তখন মুহাম্মাদ তাকে বলেছিলেন,আলী দুনিয়াতে একজন নেতা এবং আখিরাতেও সে সত্যনিষ্ঠ ব্যক্তিদের একজন হবে। সাহাবীদের মধ্যে তার জ্ঞান বেশি, সে একজন বিচক্ষণ ব্যাক্তি। তাছাড়া সবার আগে সে ইসলাম গ্রহণ করেছে। এরপর আরবের প্রথা অনুযায়ী কনের পক্ষ থেকে মুহাম্মাদ ও বর পক্ষ থেকে আলী নিজে খুতবা দান করেন। তারপর উপস্থিত অতিথিদের মধ্যে খোরমা বিতরণ করা হয়

সংসার জীবন

২য় হিজরির বদর যুদ্ধের পর আলী তার স্ত্রীকে নেওয়ার জন্য একটি ঘর ভাড়া করেন। আলীর সেই ঘরে ছিল শুধুমাত্র একটি ভেড়ার চামড়ার বিছানা, সেটি বিছিয়ে তিনি রাতে ঘুমাতেন আবার দিনে সেটি দিয়ে মশকের কাজ করতেন। কোন চাকর-বাকরও ছিল না আসমা বিনতে উমাইস আলীর বাসর ঘর প্রত্যক্ষ করে বলেছিলেন, খেজুর গাছের ছাল ভর্তি বালিশ-বিছানা ছাড়া তাদের ঘরে আর কিছু ছিল না। তাদের আর্থিক অবস্থা এতই খারাপ ছিলো, আলী তার একটি বর্ম এক ইহুদীর নিকট বন্ধক রেখে কিছু যব ও খাদ্য আনেন। তবে আবদুল মুত্তালিবের পুত্র এই বিয়ে উপলক্ষে একটি বিশাল জাঁকজমকপূর্ণ ভোজ অনুষ্ঠান করেছিল। আল-ইসাবার বর্ণনা মতেহামযা দুটো বুড়ো উট যবাই করে আত্মীয়দের খাইয়েছিলেন।

দারিদ্র্য

ফাতিমার পরিবার ছিলো দারিদ্রতায় ভরাডুবি। কিন্তু ফাতিমার অনন্য বোনদের অবস্থা বেশ সচ্ছল ছিলো। জয়নবের বিয়ে হয়েছিলো আবুল আসের সঙ্গে, রুকাইয়া আর উম্মে কুলসুমকে বিয়ে করে ছিলো আবু লাহাবের পুত্রদ্বয়, পরবর্তীতে উসমান একে একে দুইবোনকেই বিয়ে করেন, এরা প্রত্যকে আরবের ধনী ব্যক্তি ছিল। কিন্তু অপরদিকে আলী ছিলেন আর্থিক দিক থেকে জরাজীর্ণ যুবক, সেও উচ্চ বংশের জ্ঞানী ব্যক্তি হয়ে থাকলেও অনেক ছোট বয়সে (১০ বছর বয়সে) ইসলাম গ্রহণ করার করে নিজেকে ইসলামে নিবেদিত করেন, এইজন্য ব্যক্তি জীবনে বেশি অর্থোপার্জন করতে পারেননি। এজন্য তার আর্থিক দুরাবস্থার কথা চিন্তা করে আলীর পুত্র হাসান  হোসাইনের লালন-পালনের ভার গ্রহণ করেন মুহাম্মাদ ও তার চাচা আব্বাসএভাবে আলী মুহাম্মাদের পরিবারের সাথে যুক্ত হোন।

ফাতিমা ১৮ বছরে স্বামী গৃহে গিয়ে দেখেন সেখানে খেজুর গাছের ছাল ভর্তি চামড়ার বালিশ ও বিছানা, এক জোড়া যাতাকল, দু‘টো মশক(পানি সংগ্রহের পাত্র), দু‘টো পানির ঘড় আর কিছু আতর-সুগন্ধি ছাড়া আর কিছুই নেই। আলীর গৃহে কোন দাস-দাসী না থাকার কারণে ফাতিমা সব ধরনের কাজ একাই করতেন। ইতিহাসবিদগণ বলেছেন, যাতাকল ঘুরাতে ঘুরাতে তার হাতে কড়া পড়ে যায়, মশক ভর্তি পানি টানতে টানতে তার কোমরে দাগ হয়ে যায়। আলী তার মা ফাতিমা বিনতে আসাদ সবসময় ঘরের কাজে ফাতিমাকে সাহায্য করতেন।

এই সময় ফাতিমার পিতা মুহাম্মাদ এক যুদ্ধ থেকে বিজয়ী বেশে প্রচুর যুদ্ধলব্ধ সম্পদ ও যুদ্ধবন্দীসহ মদিনায় ফিরেন। তাই, আলী ও ফাতিমা মুহাম্মাদের নিকট গিয়ে ফাতিমাকে ঘরের কাজে সাহায্য করার জন্য একজন দাস চাইলেন। কিন্তু মুহাম্মাদ সাথে সাথে দাস দিতে অস্বীকৃতি দিয়ে জানালেন,

এরপর ঐদিন সন্ধ্যায় মুহাম্মাদ আলী বাড়ি গিয়ে একটি দোয়া শিখিয়ে দিয়ে আসেন, যেই দোয়া একটি দাসের থেকেও উত্তম। দোয়াটি হলঃ প্রতি নামাজের পর ১০ বার সুবহানাল্লাহ, ১০ বার আলহামদুলিল্লাহ্‌, ১০ আল্লাহু আকবর এবং রাতে ঘুমানোর পূর্বে ৩৩ বার সুবহানাল্লাহ, ৩৩ বার আলহামদুলিল্লাহ্‌, ৩৩ আল্লাহু আকবর। আলী বলেছেন, এই দোয়া জানার পরে আমি জীবনে কোনদিন বাদ দিইনি, এমনকি সিফফিনের রাতেও না।এরপরে আরো একদিন অভাবে পরে ফাতিমা মুহাম্মাদের দ্বারস্থ হয়েছিলো কিছু চাইবার জন্য, সেইদিনও মুহাম্মাদ ফাতিমাকে ৫টি উত্তম দোয়া শিখিয়ে দিয়েছিলো।

হাসান-হোসাইনের জন্ম

৩য় হিজরিতে আলীর প্রথম সন্তান হাসান জন্মগ্রহণ করলো। সংবাদ পেয়ে মুহাম্মাদ ছুটে এসে সদ্যপ্রসূত সন্তানকে দু‘হাতে তুলে তার কানে আযান দিলেন, এবং দৌহিত্র হাসানের মাথা মুড়িয়ে তার চুলের সমপরিমাণ ওজনের রূপা গরীব-মিসকীনদের মধ্যে দান করে দিলেন। হাসানের বয়স এক বছরের কিছু বেশি হতে না হতেই ৪র্থ হিজরির শা‘বান মাসে ফাতিমা হোসাইনের জন্ম দিলেন।

মক্কা বিজয় অভিযানে ফাতিমা

১০ হাজার মুসলমান সঙ্গীসহ মুহাম্মাদ ফাতিমা সহ ৮ম হিজরিতে মদিনা থেকে মক্কার দিকে যাত্রা করলেন। ৮ বছর পূর্বে তিনি একদিন বড় বোন উম্মে কুলসুমের সঙ্গে মক্কা ছেড়েছিলেন, আজ আবার মক্কায় ফিরছেন। তাদের কাফেলা মক্কা পথে "মাররুজ জাহরান" নামক স্থানে শিবির স্থাপন করলো। সন্ধ্যা নামতেই মক্কার পৌত্তলিক বাহিনীর নেতা আবু ‍সুফিয়ান ইবন হারব এসে উপস্থিত হলেন। মক্কাবাসীদের ব্যাপারে মুহাম্মাদের সিদ্ধান্ত জানার জন্য সারা রাত অপেক্ষা করে ভোরে তিনি ইসলাম গ্রহণ করলেন। তারপর মক্কায় গিয়ে সবাইকে ইসলাম কবুল করতে বললেন।

মুহাম্মাদ যিতুওয়া নামক বাহনের পিঠে চড়ে সেনাবাহিনীকে বিভিন্ন ভাগে বিভক্ত করে সাদ ইবনে উবাদা কে পতাকাবাহী নিযুক্ত করলেন।এরপর মক্কা বিজয়ের দিন মুহাম্মাদ আযাখির পথ ধরে মক্কায় প্রবেশ করে উম্মুল মু‘মিনীন খাদিজার কবরের নিকটে তাঁবু স্থাপন করলেন, সঙ্গে কন্যা ফাতিমাও ছিলেন। ফাতিমা যেদিন মদিনায় হিজরত করছিলেন, সেইদিন আল হুওয়ায়রিস ইবনে মুনকিয নামক এক ব্যক্তি তার বাহনের পিঠ থেকে ফেলে দিয়ে জীবন বিপন্ন করে ফেলেছিল। মুহাম্মাদ মক্কায় প্রবেশ করে আলীকে নির্দেশ দেন এই ব্যক্তিকে হত্যার হত্যা করার জন্য।

ফাতিমা ও তার পিতা মুহাম্মাদ এইদিন মক্কার সমস্ত পুরাতন স্মৃতি স্মরণ করে আবেগ প্রবণ হয়ে পরে। মুহাম্মাদ ও তার কন্যা ফাতিমা সহ গোটা পরিবার মক্কাতে ১৯ দিন মতান্তরে ২ মাস অবস্থান করেন। এই সময়ে ফাতিমা তার আম্মা খাদিজার কবরও যিয়ারাত করেন।৮ম হিজরির পরে হিজরিতে সনে মুহাম্মাদের তৃতীয় কন্যা উম্মে কুলসুম ইনতিকাল করেন, ১০ম হিজরিতে মুহাম্মাদের স্ত্রী মারিয়া আল কিবতিয়ার গর্ভজাত সন্তান ইবরাহিমও মৃত্যুবরণ করেন। এখন সন্তানদের মধ্যে একমাত্র ফাতিমা ছাড়া আর কেউ জীবিত থাকলোনা।জিহাদের ময়দানে

জিহাদের ময়দানে ফাতিমা উজ্জ্বল ভূমিকা রেখেছেন। উহুদ যুদ্ধে তার পিতা মুহাম্মাদের দেহে ও মুখে আঘাত প্রাপ্ত হয়ে রক্ত ঝরছিলো, তখন ফাতিমা খেজুরের চাটাই আগুনে পুড়িয়ে তার ছাই ক্ষতস্থানে লাগিয়ে দিয়েছিলো। সাহাবা সাহল ইবন সা‘দ বর্ণনা করেছেন,

মুহাম্মাদ উহুদের যুদ্ধে আহত হলেন, সামনের দাঁত ভেঙ্গে গেল, মাথায় তরবারি ভাঙ্গা হলো, ফাতিমা রক্ত ধুতে লাগলেন, আর আলী ঢালে করে পানি এনে ঢালতে লাগলেন। ফাতিমা যখন দেখলেন, যতই পানি ঢালা হচ্ছে ততই রক্ত বেশি বের হচ্ছে, তখন তিনি একটি চাটাই উঠিয়ে আগুনে পুড়িয়ে ছাই করে ক্ষতস্থানে লাগালেন, তখন রক্তপড়া বন্ধ হয়।

উহুদের যুদ্ধে ফাতিমার দাদা হামযা শহীদ হন, ফাতিমা সবসময় তার দাদার জন্য দোয়া করতেন। ফাতিমা খন্দক ও খায়বার অভিযানে অংশগ্রহণ করেন। খায়বার বিজয়ের পর সেখান থেকে উৎপাদিত গম থেকে ফাতিমার জন্য জন্য ৮৫ ওয়াসক নির্ধারণ করে দেন। মক্কা বিজয়েও তিনি মুহাম্মাদের সফরসঙ্গী হন। মুতা অভিযানে তার চাচা জাফর ইবনে আবি তালিব শহীদ হোন।

ফাতিমার শ্রেষ্ঠত্বের কারণ

সকল ঐতিহাসিকগণ গবেষণা করে ফাতিমার মর্যাদা শ্রেষ্ঠত্বের কিছু কারণ খুজে বের করেছে। এসমস্ত কারণে ফাতিমাকে নারীদের অনুকরণীয় ভাবা হয়পৃথিবীর সমস্ত অগ্রগামী ৪ নারীদের মধ্যে অন্যতম ভাবা হয়  

·        ফাতিমার পিতা ছিলেন মানব জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান আল্লাহ্‌র রাসুল মুহাম্মাদ।

·        তার মা ছিলেন জান্নাতের নারীদের নেত্রী, সর্বপ্রথম ইসলাম গ্রহণকারী উম্মুল মু’মিনীন খাদিজা বিনতে খুওয়ায়লিদ।

·        তার স্বামী ছিলেন দুনিয়া ও আখিরাতের নেতা আমীরুল মু’মিনীন আলী ইবনে আবু তালিব

আল্লাহর প্রিয় পাত্রী

ফাতিমা নিঃসন্দেহে আল্লাহ্‌র প্রিয় পাত্রী ছিলেন, আল্লাহ্‌ সবসময় তার খাবারে বরকত দিয়েছেন, মুহাম্মাদের একদিন দোয়ার পরে তিনি এরপরে তেমন ক্ষুধার্ত থাকেননি।একদিন এক প্রতিবেশিনীর অল্প পরিমাণ খাবার মুহাম্মাদ সহ পরিবারের সবাই খেয়ে শেষ করতে পারেননি। আল্লাহ্‌ ঐ খাবারে খুব বরকত দান করেছিলেন।

 

মৃত্যুবরণ ও জানাজার নামাজ

মুহাম্মাদের ইন্তিকালের ৮ মাস, মতান্তরে ৭০ দিন পর ফাতিমার মৃত্যু হয়। অনেকে মুহাম্মাদের ইন্তিকালের ২ মাস অথবা ৪ মাস পরে ইন্তিকালের কথাও বলেছেন। মুহাম্মাদের মৃত্যুর পর তার পরিবারের মাঝে ফাতিমাই সর্বপ্রথম ইন্তিকাল করেন, মুহাম্মাদের ভবিষৎবাণী সত্য হয়। ফাতিমার জন্ম যদি নবুয়তের ৫ বছর পূর্বে ধরা হয়, তাহলে মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিলো ২৯ বছর।সুন্নি গবেষক ও অধিকাংশের এই মত সমর্থন করেছেন। মৃত্যুর পূর্বে ফাতিমা তেমন শয্যাশায়ী বা বড় কোন রোগাক্রান্ত হননি।

আল-ওয়াকিদী বলেছেন, ১১ হিজরির ৩ রমাদান ফাতিমা ইনতিকাল করেন। স্বামী আলী ও আসমা বিনত উমাইস তাকে গোসলের কাজ সম্পন্ন করেন কিন্তু বর্ণনায় আবু বকর ও আলীর নাম এসেছে। ফাতিমার দাদা আব্বাস তার জানাযার নামায পড়ান। তবে কেও কেও জানাজার নামাজ পড়ানোর ব্যপারে আবু বকর ও আলীর নাম উল্লেখ করেছেন। আলীফাদল  আব্বাস কবরে নেমে দাফন কাজ সম্পন্ন করেন। তার জানাযায় খুব কম মানুষ অংশগ্রহণের সুযোগ পায়, কারণ, রাতে ইনতিকাল হয় এবং ফাতিমার অসিয়ত অনুযায়ী রাতেই তাকে দাফন করেন। এবং মৃত্যুর পর ফাতিমার পর্দা রক্ষার জন্যআসমা বিনতে উমাইসের বুদ্ধিতে লাশের বাহনকে খেজুরের ডালের সাথে পর্দা লাগিয়ে নতুন একটি পদ্ধতি উদ্ভব করা হয়। এই পদ্ধতি মদিনায় সর্বপ্রথম দেখা যায়।

মন্তব্য করুন

ব্লগ