Loading..

ব্লগ

রিসেট

২৯ ডিসেম্বর, ২০২১ ০২:৪৫ অপরাহ্ণ

জাপান সম্পর্কে কিছু অজানা তথ্য

জাপানের জনসংখ্যা

জাপানের জনসংখ্যা ২০১৫ আনুমানিক ১২৬,৯১৯,৬৫৯ জন। জাপানের সংবিধান অনুযায়ী সেখানে সব ধর্মের মানুষ বসবাস করতে পারে। জাপানে প্রায় ৫১.৮২ শতাংশ সিন্টো, ৩৪.৯ শতাংশ বৌদ্ধ এবং ২.৩ শতাংশ খ্রীষ্টান ধর্মের মানুষ বসবাস করে। জাপানের প্রধান ভাষা হলো জাপানীজ। জাপানীজ ভাষায় বিভিন্ন ধরণের অক্ষর দেখা যায়। 

জাপানকে কেন প্রযুক্তিবিদ্যার দেশ বলা হয়?

জাপানকে প্রযুক্তিবিদ্যার দেশও বলা হয়। কারণ জাপান প্রযুক্তিবিদ্যাতে অন্য দেশ গুলির থেকে অনেক এগিয়ে। ১৯৪৫ সালে জাপানের দুইটি শহর হিরোশিমা এবং নাগাসাকিতে পরমাণু হামলা হয়েছিল। তখন সেখানকার মানুষের খুবই ক্ষতি হয়েছিল।  তারপরেও তারা নিজেদের পরিশ্রমে এতো তাড়াতাড়ি উন্নতির ছোঁয়া পেয়েগেছে। পৃথিবীর বিখ্যাত কিছু ইলেকট্রনিক এবং গাড়ির কোম্পানি যেমন সনি, প্যানাসনিক, নিশান, টয়োটা, হোন্ডা ইত্যাদি জাপানের তৈরি করা। জাপানের তৈরি করা ইলেক্ট্রনিকে প্রচুর পরিমানে সোনা এবং রুপো  ব্যবহার করা হয়। জাপানে বাবহার করা বেশিরভাগ ফোন ওয়াটার প্রুফ হয়।  জাপান খুব তাড়াতাড়ি সুপার কম্পিউটার তৈরি করার পরিকল্পনা করছে। জাপানের ট্রেন পৃথিবী বিখ্যাত। জাপানের ট্রেন গুলি পৃথিবীর সবচেয়ে দ্রুত গতির ট্রেন। সেখানকার ট্রেনগুলি সময় মতো চলে সবসময়। জাপানের সবচেয়ে দ্রুতগতির ট্রেন শিনকানসেন সারা পৃথিবীতে বুলেট ট্রেন হিসাবে পরিচিত। এই ট্রেন গুলি প্রতি ঘন্টায় প্রায় ২৪০ কিমি থেকে ৩০০ কিমি বেগে চলে। শিঞ্জুকু রেলওয়ে স্টেশন পৃথিবীর ব্যস্ততম রেলওয়ে স্টেশন। সেখানে প্রত্যেক দিন প্রায়  ২০ লক্ষ মানুষ যাতায়াত করে। এই দেশের সবচেয়ে বড়ো এয়ারপোর্ট হানেডা, এশিয়া মহাদেশের দ্বিতীয় ব্যস্ততম এয়ারপোর্ট। 

জাপানের পর্যটন শিল্পও অনেক উন্নত। প্রতি বছর অনেক পর্যটক জাপানে বেড়াতে যান। টোকিও স্কাই ট্রি পৃথিবীর সবচেয়ে লম্বা টাওয়ার।  জাপানের রাজধানী টোকিও শহরটি খুবই সুন্দর একটি শহর। সেখানকার বড়ো বড়ো বিল্ডিং গুলি, সেখানকার শিল্প নিদর্শন গুলি পর্যটকদের বিশেষ ভাবে আকৃষ্ট করে।  জাপানের মানুষরা অনেক ক্রিয়েটিভ হয়ে থাকে। পৃথিবীর সবচেয়ে বেশি অ্যানিমেশন ডিসাইন জাপানে তৈরি হয়।

জাপানের অর্থনীতি

জাপান একটি শিল্পোন্নত দেশ যার বাজারভিত্তিক অর্থনীতি বিশ্বের ২য় বৃহত্তম অর্থনীতি। এর আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের সাথে সম্পর্কিত অর্থনৈতিক খাতগুলি অত্যন্ত দক্ষ ও প্রতিযোগিতাশীল। তবে সুরক্ষিত খাত যেমন কৃষি, বিতরণ এবং বিভিন্ন পরিষেবায় উৎপাদনশীলতা তুলনামূলকভাবে কম।

শিল্পনেতা, কারিগর, সুশিক্ষিত ও পরিশ্রমী কর্মী বাহিনী, উচ্চ মাত্রায় সঞ্চয়ের প্রবণতা, উচ্চ বিনিয়োগ হার, শিল্প ও বৈদেশিক বাণিজ্য উন্নয়নের জন্য সরকারের জোরালো সমর্থন এ সব কিছু মিলে জাপান একতি পরিণত শিল্পোন্নত অর্থনীতি।

জাপানের বিখ্যাত খাবার গুলো কি কি?

জাপানে কিছু লোকপ্রিয় খাবার আছে। জাপানের মানুষ কাঁচা ঘোড়ার মাংস খায় যাকে বাসিসি বলে। ভাতের সাথে চিনি, লবন দিয়ে মেখেও খাওয়া হয় যাকে সুসি বলা হয় এবং তার সাথে কাঁচা মাছ কেটে কেটে পরিবেশন করা হয়। আমেরিকার পর সবচেয়ে বেশি ম্যাকডোনাল্ড এর রেস্টুরেন্ট জাপানে আছে। জাপানের মানুষরা সামুদ্রিক খাবার খুবই পছন্দ করেন। তারা প্রতিবছর প্রায় ১৭ মিলিয়ন টন সামুদ্রিক খাবার আমদানি করে থাকে। 

জাপানকে সূর্যোদয়ের দেশ বলার কারণ কী?

জাপান সূর্যোদয়ের দেশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। শাব্দিক অর্থে নিপ্পন (জাপান) সূর্যোদয়ের দেশ হলেও প্রকৃতপক্ষে জাপান কিন্তু সূর্যোদয়ের দেশ নয়। প্রশান্ত ও ভারত মহাসাগরের বুকে অনেক ছোট ছোট দ্বীপদেশ আছে যারা সূর্য উদয়ের প্রথম প্রভাত উপভোগ করে। তাঁদের মধ্যে প্রশান্ত মহাসাগরের রিপাবলিক অফ কিরিবাতি নামের একটি ছোট্ট দ্বীপদেশ সূর্য উদয়ের প্রথম সাক্ষী। তাহলে প্রশ্ন হল কেন জাপানকে সূর্যোদয়ের দেশ বলা হয়। ধারনা করা হয়, ইউরোপীয় উপনিবেশের সময় থেকে জাপানকে সবচেয়ে পূর্বের দেশ হিসেবে বিবেচনা করা হত। তাছাড়া যেহেতু জাপানী ভাষায় চীনা ভাষার উপস্থিতি অত্যান্ত শক্তিশালী। সেহেতু নিপ্পন শাব্দিক অর্থ সূর্যের উৎপত্তির বিশ্লেষণে ইউরোপীয়রা জাপানকে সূর্যোদয়ের দেশ হিসেবে প্রচার করে ফেলে। সম্ভবত ইউরোপীয়রা জাপানকে সবচেয়ে পূর্বের দেশ হিসেবে বিবেচনা করেই সুর্যদয়ের দেশ বলে প্রচার করে ফেলে। সেই প্রচারের ধারাবাহিকতায়ই আজও জাপান সূর্যোদয়ের দেশ হিসেবে পরিচিত। ভারত ও প্রশান্ত মহাসাগরে কিরিবাতির মত এমন অনেক দ্বীপদেশ আছে (ফিজি, কুক আইল্যান্ড, টোঙ্গা, সামোয়া, নাওরু, টোকেলাউ, টোভেলু ইত্যাদি) যা কিছুকাল আগেও কেউ ধারনা করেনি। ১৬৪০ খ্রিষ্টাব্দে একদল ওলন্দাজ নাবিক সর্বপ্রথম অস্ট্রেলিয়ার সমুদ্রসীমা প্রদক্ষিণ করে। তখন থেকে অস্ট্রেলিয়াকে সবচেয়ে পূর্বের দেশ হিসেবে বিবেচনা করা হত। তারও প্রায় ১৩০ বছর পর ক্যাপ্টেন জেমস কুক ১৭৭০ খ্রিষ্টাব্দে অস্ট্রেলিয়া আবিষ্কার করেন। নঅস্ট্রেলিয়া আবিষ্কার হওয়ার অনেক পরে ধীরে ধীরে ছোট ছোট অনেক দ্বীপদেশ (১৮শতাব্দির গোঁড়ায় এবং উনিশ শতাব্দীর প্রথমে) আবিষ্কৃত হয়েছে। অনেক অনেক বছর পর আবিষ্কৃত এইসব দ্বীপদেশগুলো সম্পর্কে আমরা বিভিন্ন তথ্য জানতে পারছি। যেমন নিউজিল্যান্ডের পিট আইল্যান্ড ভারত মহাসাগরের একেবারে পশ্চিম গোলার্ধে এন্টারটিকার কাছাকাছি অবস্থিত। তাই এই দ্বীপটিও জাপানের চেয়েও চার ঘণ্টা আগে সূর্যোদয় হয়। আর দ্যা রিপাবলিক অফ কিরিবাতি প্রশান্ত মহাসাগরের সবচেয়ে পুর্বের দেশ হওয়াতে সেখানেই সূর্য প্রথম উদিত হয়। যেহেতু জাপানে প্রথম সূর্যোদয় হয় না। সেহেতু জাপানকে সূর্যোদয়ের দেশ বলাটা অসংগতিপূর্ণ। প্রশান্ত মহাসাগরে সবচেয়ে পুর্বে অবস্থিত এই দ্বীপদেশটি (রিপাবলিক অফ কিরিবাতি) প্রকৃত সূর্যোদয়ের দেশ।

 

মন্তব্য করুন