সহকারী অধ্যাপক
০৮ জানুয়ারি, ২০২২ ০৮:০৫ পূর্বাহ্ণ
সহকারী অধ্যাপক
ইসলামের প্রথম শহীদ হযরত সুমাইয়া (রাঃ) এর জীবনী
ইসলামের ইতিহাসে সর্বপ্রথম শাহাদাত বরণ করে অমর হয়ে আছেন সুমাইয়া বিনতে খায়্যাত (রা.)। উম্মে আম্মার নামেই তিনি সবার কাছে পরিচিত। ইসলামের প্রাথমিক অবস্থায় যারা ইসলাম গ্রহণ করেছেন তাদের অন্যতম ছিলেন সুমাইয়া (রা.) ও তার পরিবার। অসহায় ও দারিদ্র্যপীড়িত হওয়ায় কুরাইশ নেতাদের কঠিন শাস্তির সম্মুখীন হন তারা। তবে নির্যাতন-নিপীড়নের কঠিন মুহূর্তেও সুমাইয়া (রা.) ইমান ত্যাগ করেননি। পুনরায় শিরকের পথে ফিরে যাননি এক মুহূর্তের জন্যও। আত্মত্যাগের মহিমায় উজ্জীবিত হয়ে ইসলামের জন্য সঁপে দিয়েছেন নিজের প্রাণ। নবুওতের ষষ্ঠ বছর তিনি নশ^র ধরণী ছেড়ে পাড়ি জমান জান্নাতের চিরস্থায়ী ঠিকানায়। প্রথমাবস্থায় সুমাইয়া (রা.) ছিলেন আবু হুজাইফা বিন মুগিরা মাখজুমির একজন দাসী। আর তার স্বামী ইয়াসির বিন আমের হারিয়ে যাওয়া এক ভাইয়ের সন্ধানে এসেছিলেন মক্কায়। ভাইকে না পেলেও মক্কায় তিনি স্থায়ী নিবাস গড়ে তোলেন এবং আবু হুজাইফাহর মিত্র হিসেবে বসবাস করতে শুরু করেন। ইয়াসিরের সঙ্গে সুমাইয়ার বিয়ে হয়। তাদের সন্তান আম্মার জন্মগ্রহণ করলে সুমাইয়াকে দাসত্ব থেকে মুক্ত করে মনিব আবু হুজাইফা। রাসুল (সা.) নবুওয়াত লাভের পর ছোট্ট এ পরিবারের সবাই ইসলাম গ্রহণ করেন। ফলে তাদের ওপর নেমে আসে মক্কার কুরাইশ নেতাদের নানা রকম জুলুম-নির্যাতন। ঐতিহাসিক মুজাহিদ বর্ণনা করেন, ইসলামের সূচনালগ্নে মক্কায় যারা নিজেদের ইসলাম গ্রহণ করার কথা প্রকাশ করেছিলেন, সুমাইয়া ছিলেন তাদের মধ্যে সপ্তম ব্যক্তি। তারা ছিলেন, মহানবী মুহাম্মাদ (সা.), আবু বকর (রা.), বেলাল (রা.), সুহাইব (রা.), খাব্বাব (রা.), আম্মার (রা.) ও সুমাইয়া (রা.)। প্রিয়নবী (সা.) ও আবু বকর (রা.)-কে তাদের গোত্রের লোকেরা বিভিন্ন কাজকর্মে বাধা দিতে শুরু করে। কিন্তু বাকিদের ওপর শুরু হয় কঠিন শাস্তি ও নির্যাতন। যত রকম শাস্তি হতে পারে সবই তাদের ওপর প্রয়োগ করা হয়। অবশেষে তাদের সবাইকে লোহার বর্ম পরিয়ে সূর্যের উত্তপ্ত তাপের নিচে রাখা হয়। (আল বিদায়াহ ওয়ান নিহায়াহ, পৃষ্ঠা: ৪৭০)। ঐতিহাসিক ইবনে ইসহাক বর্ণনা করেন, মুগিরার বংশের লোকেরা এসে সুমাইয়া ও তার পরিবারের ওপর নির্যাতন অব্যাহত রাখে। সুমাইয়া (রা.) ঘৃণার সঙ্গে কাফের হওয়ার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন। এদিকে ইসলামের ওপর দৃঢ়ভাবে অবিচল থাকায় আবু জাহেল প্রবলভাবে ক্রোধান্বিত হয়। তাই দৌড়ে এসে বৃদ্ধা সুমাইয়ার বুকে বর্শা নিক্ষেপ করে হত্যা করে। সুমাইয়া (রা.) ছিলেন একজন অসহায় বৃদ্ধা নারী। এমন অসহায় নারীকে হত্যা করায় রাসুল (সা.)-এর অন্তর অত্যন্ত ভারাক্রান্ত হয়। ইয়াসিরের পরিবারকে যখন মক্কার উত্তপ্ত বালিরাশির ওপর রেখে নির্যাতন করা হচ্ছে তখন রাসুল (সা.) তাদের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় বলতে থাকেন, ‘হে ইয়াসের পরিবার, তোমরা ধৈর্য ধারণ করো। কারণ জান্নাত হলো তোমাদের প্রতিশ্রুত স্থান।’ (সিরাতে ইবনে হিশাম, পৃষ্ঠা: ১২০) এদিকে ইয়াসির (রা.) ও আম্মার (রা.) কঠিন নির্যাতন সইতে না পেরে মুখে কুফুরির প্রতি সম্মতি প্রকাশ করেন এবং অন্তরে ইমানের কথা গোপন রাখেন। তাদের এ অপারগতা গ্রহণ করে মহান আল্লাহ আয়াত অবতীর্ণ করেন, ‘আর যারা ইমান আনার পর আবার আল্লাহকে অস্বীকার করে (তাদের জন্য আছে কঠিন শাস্তি), তবে যারা বাধ্য হয় এবং ইমানের প্রতি তার অন্তর প্রশান্ত থাকে (তাদের কোনো সমস্যা নেই)।’ (সুরা নাহল, আয়াত : ১০৬) আবু জাহেলের নাম মূলত ছিল আমর বিন হিশাম বিন মুগিরা। প্রবল বুদ্ধিমত্তা ও মেধার কারণে আবুল হিকাম বা প্রজ্ঞাবান ছিল তার উপনাম। কিন্তু সুমাইয়া (রা.)-কে নির্মমভাবে হত্যার পর রাসুল (সা.) তার নাম রাখেন আবু জাহল বা মূর্খ। পরে আবু জাহল ইসলামের প্রথম যুদ্ধে বদর প্রান্তে দুই কিশোর সাহাবি মুয়াজ ও মুয়াওয়াজের হাতে নিহত হয়। তখন রাসুল (সা.) আবু জাহেলের মৃতদেহ দেখে আম্মার (রা.)-কে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘আজ আল্লাহতায়ালা তোমার মায়ের ঘাতককে হত্যা করেছেন।’ (আল ইসাবাহ, পৃষ্ঠা: ৭১৩)
৫৩
৯১ মন্তব্য