Loading..

ব্লগ

রিসেট

১৯ জানুয়ারি, ২০২২ ০১:৪০ অপরাহ্ণ

বাংলাদেশে মোবাইল দিয়ে অনলাইনে টাকা ইনকাম করার সেরা ৮টি উপায়।

বর্তমানে তথ্য প্রযুক্তির যুগে, মানুষ সকালে ঘুম থেকে ওঠা শুরু করে রাত পর্যন্ত প্রযুক্তির উপর নির্ভরশীল। মানুষের অনলাইনে প্রযুক্তির নির্ভরতা অনেককেই ইন্টারনেটের মাধ্যমে টাকা আয় করার পথ সুগম করেছেআপনার যদি ইন্টারনেট,একটি স্মাটফোন, অনলাইনের উপর মোটামুটি জ্ঞান থাকে তাহলে আপনি অনলাইন থেকে ভালো পরিমাণের ইনকাম করতে পারবেন। বর্তমানে লাখ লাখ মানুষ অনলাইনের ইনকাম এর উপর নির্ভরশীল। আপনি চাইলেই ইন্টারনেটের মাধ্যমে অনলাইনে বিভিন্ন বিষয়ের উপর জ্ঞান অর্জন করে আপনিও হতে পারেন একজন সফল ফ্রিল্যান্সার। 



আপনি কি অনলাইনে ঘরে বসে টাকা ইনকাম করতে চান? যদি উত্তর হ্যাঁ হয় তাহলে আজকের আর্টিকেলটি শুধুমাত্র আপনার জন্য। 



আজকে আমি আলোচনা করব কিভাবে ঘরে বসে অনলাইনের মাধ্যমে হিউজ পরিমান টাকা ইনকাম করা যায়। আজ থেকে ১০ বছর আগে অনেকেই ভাবতেই পারত না যে অনলাইনে টাকা ইনকাম করা যায়। কিন্তু বর্তমানে অনলাইন এমন একটি প্ল্যাটফর্ম আমাদের সামনে দাঁড়  করে দিয়েছে যে আপনি আপনার মেধা,শ্রম,ধৈর্য্য যদি সঠিকভাবে ব্যবহার করতে পারেন তাহলে আপনার দ্বারা প্রতিমাসে ৫০ হাজার টাকা থেকে ২০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত বা তারো বেশি টাকা ইনকাম করতে পারবেন। আপনি শুনে অবাক হবেন, আজকাল অনেকেই বিভিন্ন বড় বড় প্রতিষ্ঠানে চাকরি ছেড়ে দিয়ে শুধুমাত্র অনলাইনে সময় দিয়ে তারা আজ শুধুমাত্র যে নিজে স্বাবলম্বী হচ্ছে তা না পাশাপাশি পরিবারের সকলের ভরণপোষণের দায়িত্বও  নিচ্ছেন। বর্তমানে অনলাইনের শত শত সেক্টর রয়েছে, যেখানে আপনি আপনার দক্ষতা দিয়ে যেকোনো ধরনের কাজ করতে পারবেন। অনলাইনের এই প্লাটফর্ম আপনাকে কোন ধরনের টাকা ইনভেস্ট না করেই শুধুমাত্র মেধা ও শ্রম দিয়ে টাকা ইনকাম করার সুযোগ তৈরি করে দিচ্ছে।তার জন্য আপনার প্রয়োজন একটি অ্যান্ড্রয়েড ফোন অথবা ল্যাপটপ ইন্টারনেট সংযোগ, আর কাজ করার মানসিকতা



আজ অনলাইন থেকে আয় করার সেরা ৮ টি উপায় নিয়ে আলোচনা করব



বর্তমান সময়ে  কিভাবে অনলাইন থেকে  আয় করা যায় এই নিয়ে ঘাটাঘাটি সবার মধ্যে লক্ষ্য করা যায়। অনলাইনে আয় করার অনেকগুলো উপায় বা মাধ্যম রয়েছে কিন্তু তারমধ্যে কিছু ভালো কিছু মন্দ রয়েছে

আমি যে বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করব তার মধ্যে থেকে যে কোন একটি বিষয় নিয়ে যদি আপনি কাজ করেন তাহলে সফলতা আসবে হান্ডেট পার্সেন্ট ইনশাআল্লাহ



১ ব্লগিং(blogging)করে আয়:

ব্লগিং করে আয় করার পেশাটা যদিও পুরাতন কিন্তু এটি অনেক কার্যকরী একটি পদ্ধতি। ব্লগিং করে আপনি প্রতিমাসে বেশ ভালো একটা ইনকাম করতে পারবেন। যদি আপনার লেখালেখির অভ্যাস টা ভালো থাকে। পদ্ধতি অনেকটা ডিজিটাল/অনলাইন নিউজ পেপার এর মতন। আপনি যে বিষয়ের উপর দক্ষ বা ভাল জানেন সে বিষয়ে আপনি লেখালেখি করবেন অনলাইনে। আপনি যে বিষয়ে লিখবেন সেই বিষয়ের উপর কেউ যদি গুগলে বা আপনার নিজস্ব কোন ওয়েবসাইটে কেউ সার্চ করে তাহলে আপনার লেখাটা তারা পড়তে পারবে। বর্তমানে আমি যে লেখাটা লিখেছি এটাও এক ধরনের ব্লগ।সুতরাং আপনি বুঝতে পারছেন আপনার যে বিষয়ে দক্ষতা রয়েছে সে বিষয়ে আপনি লেখালেখি করবেন অনলাইনে। তবে অবশ্যই ব্লগে আসতে হলে আপনাকেও লেখালেখি করতে হবে এবং লেখাটা অবশ্যই তথ্য নির্ভর হতে হবে। তাহলেই আপনি ভালো ট্রাফিক বা ভিজিটর পাবেন। আপনি যে বিষয়ে উপর সবচেয়ে বেশি পারদর্শী সেই  নিস(niche) নিয়ে কাজ করতে পারেন। নিস (niche) মূলত নির্দিষ্ট কিছু বিভাগকে বুঝানো হয়েছে যেমন স্বাস্থ্য, টেকনিকেল, আইন, রান্না, খেলাধুলা  টেকনোলজি, কারো জীবনী, ভ্রমণ, মিউজিক, ইতিহাস, বিজ্ঞান ইত্যাদি। অর্থাৎ ধরুন আপনি বিজ্ঞান বিষয়ক একটি লেখা যেমন কোন কোন খাবার খেলে মানুষ মোটা হয়ে যায় এবং কোন কোন খাবার মোটা মানুষের এড়িয়ে চলা উচিত এই বিষয়ে বিস্তারিত কিছু লিখলেন। তো হয়ে গেল আপনার একটি ব্লগ। এখন বিষয় হল আপনি কোথায় লেখালেখি করবেন। এক্ষেত্রে সবচেয়ে ভালো হয় যদি আপনি একটি ব্লগ সাইট বানিয়ে নিতে পারেন। ব্লগ সাইট তৈরি করা খুব সহজ একটি কাজ। আপনি যদি নাও পারেন ইউটিউবে অনেক ভিডিও রয়েছে ব্লগ সাইট তৈরি করার জন্য। সেখান থেকে দেখেও আপনি তৈরি করতে পারবেন। তবে ফ্রি সাইট গুলো থেকে মানুষ একটু কম বিশ্বাস করে। তাই আমার পরামর্শ থাকবে সুন্দর একটি নাম দিয়ে একটি ডোমেইন ও হোস্টিং কিনে নিয়ে একটি ওয়েবসাইট তৈরি করে ফেলবেন। তারপর আপনি লেখালেখি শুরু করবেন আপনার নিসের উপর। দেখবেন অল্প কিছুদিনের মধ্যেই ভালো ফল পাবেন। আর মাস তিনেকের মধ্যেই আপনি আপনার সাইটকে গুগোল অ্যাডসেন্সে আবেদন করতে পারবেন। আপনি আপনার সাইটে মোবাইল বা কম্পিউটার দিয়ে লেখালেখি করতে পারবেন। আপনি যদি ওয়েবসাইট বানাতে নাও পারেন আপনার লেখার দক্ষতা ভালো থাকে তাহলে অন্যের সাইটেও টাকার বিনিময়ে আপনি লেখালেখি করতে পারবেন। বিভিন্ন ওয়েবসাইট রয়েছে যারা পর্যাপ্ত সময় দিতে পারে না কিন্তু তারা বিভিন্ন ব্লগারের কাছ থেকে তাদের লেখা সংগ্রহ করে তাদের সাইটে পাবলিস্ট করে সেখানেও আপনি আপনার লেখা দিতে পারবেন। এবং লেখা দিয়ে আপনি টাকা ইনকাম করতে পারবেন



২। ফ্রিল্যান্সিং (Freelancing)করে আয়: বাংলাদেশের বেকারত্বের হার কমাতে অনলাইনে রোজগারের যে সকল পদ্ধতি রয়েছে তার মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয় এবং দেশকে রিপ্রেজেন্ট করার মাধ্যম হচ্ছে ফ্রিল্যান্সিং। অনেক দেশ আছে যে যারা জানতোই না যে বাংলাদেশে নামে একটি দেশ আছে কিন্তু আজ দক্ষ ফ্রিল্যান্সারদের কাজের দক্ষতার মাধ্যমে বাংলাদেশের সোনাম অর্জিত হচ্ছে। বর্তমানে ফ্রিল্যান্সাররা প্রতিমাসে মিলিয়ন মিলিয়ন ডলার  রেমিট্যান্স এনে দিচ্ছে বাংলাদেশকে। ফ্রিল্যান্সিং বলতে মূলত আপনি যে বিষয়ে দক্ষ সেই  কাজটি নির্দিষ্ট পারিশ্রমিকের বিনিময়ে করা দেওয়াকে বুঝায়। আপনি এই কাজটি  ঘরে বসেই অনলাইনে করে দিতে পারবেন এবং যারা এ কাজটি আপনার দ্বারা করাবে তারা বিভিন্ন দেশের হতে পারে। বর্তমানে বিভিন্ন জনপ্রিয় মধ্যস্থতাকারী অনলাইনে বিভিন্ন মার্কেটপ্লেস রয়েছে যেমন ফাইবার, আপওয়ার্ক ফ্রিল্যান্সার. কম। এ সকল মার্কেটপ্লেসে আপনি একটি একাউন্ট করে আপনি যে বিষয়ে দক্ষ সেই বিষয়ে কাজ করতে পারবে। যাই হোক এসব জানার আগে আপনাকে নির্দিষ্ট বিষয়ের উপর দক্ষতা অর্জন করতে হবে সেটা হতে পারে গ্রাফিক ডিজাইন, ওয়েব ডিজাইন, ডিজিটাল মার্কেটিং, লোগো ডিজাইন, কনটেন্ট রাইটিং,ভিডিও এডিটিং  ইত্যাদি। এই সকল কাজের মধ্যে আপনি যেকোনো একটি বিষয়ের উপর দক্ষতা অর্জন করলেই টাকা ইনকাম করতে পারবেন। যখন ফ্রিল্যান্সিং সাইটে একাউন্ট করবেন তখন খেয়াল রাখতে হবে এই ফ্রিল্যান্সিং সাইটের পেমেন্ট করে  কিভাবে, সিস্টেম ঠিক আছে কিনা।কারণ অনেক সাইট রয়েছে যারা কাজ করায় কিন্তু পেমেন্ট ঠিকমতো করে না সে দিকে একটু খেয়াল রাখতে হবে



৩।ইউটিউবিং করে আয়: বর্তমান সময়ে সোশ্যাল মিডিয়ার অনেক বড় অনলাইন প্লাটফর্ম হচ্ছে ইউটিউব। আপনি যদি ভিডিও এডিটিং এ ভালো পারদর্শী হন তাহলে আপনি ইউটিউবে ভিডিও আপলোড করেও আয় করতে পারবেন। বাংলাদেশের অনেক বড় বড় ইউটিউবার রয়েছেন যারা সরকারি চাকরি পিছনে না ঘুরে ইউটিউব থেকে আয় করছেন লাখ লাখ টাকা। আপনি যদি ইউটিউবে একটা চ্যানেল খুলেন এবং সেখানে যদি আপনি আপনার  কনটেন্ট বা ভিডিও আপলোড করেন এবং সেই ভিডিও থেকেই মূলত আপনার ইনকাম হবে। আর এই জন্য আপনার খুব বেশি টাকা খরচ করতে হবে না আপনি মোবাইল দিয়েও করতে পারবেন অথবা ক্যামেরা দিয়েও করতে পারবেন। আপনি যদি বিগেইনার হন তাহলে আমি সাজেস্ট করব যে আপনি মোবাইল দিয়ে শুরু করেন।কাইনমাস্টার ভিডিও সফটওয়্যার দ্বারা আপনি খুব সুন্দর ভাবে ভিডিও এডিটিং করতে পারবেন। আর কোনো কারণে যদি আপনার একটি ভিডিও ভাইরাল হয়ে যায় তাহলে আর আপনাকে পিছনে ফিরে তাকাতে হবে না। তবে ছোট্ট একটা কথা বলে রাখি সেটা হল আপনি যদি ভালো ভিডিও আপলোড করতে চান তাহলে আপনাকে ভিডিও এডিটিং ভাল করে জানতে হবে। কারন ভিডিও কন্টেন্ট  যদি সবার কাছে গ্রহণযোগ্য বা আকর্ষণীয় না হয় তাহলে কেউ দেখবে না। ইউটিউবের জন্য ভিডিও কনটেন্ট এবং থাম্বলাইন খুবই গুরুত্বপূর্ণ। যদি আপনার  চ্যানেলে ১০০০ সাবস্ক্রাইবার এবং ৪০০০ ঘন্টা ওয়াচ টাইম হয়ে যায় তাহলে মনিটাইজেশন এর জন্য অ্যাপ্লিকেশন করতে পারেন। মনিটাইজেশন অন হলে আপনার ইনকাম শুরু হবে। আপনার ভিডিওতে এড আসবে। তবে আপনাকে অবশ্যই ধৈর্য ধরতে হবে। ভিউ আসছে না, সাবস্ক্রাইব হচ্ছে না এসব নিয়ে চিন্তা করার দরকার নেই। আপনি শুধু ভাল মানের কনটেন্ট তৈরি করুন দেখবেন এক সময় আপনি সফল হবেন



৪।ভিডিও দেখে অনলাইনে ইনকাম: ভিডিও দেখে অনলাইনে ইনকাম করার বিষয়টি অনেকেই জানেনা। কিন্তু আসলেই সত্যি, অনেক ইউটিউবার রয়েছেন যারা তাদের  ভিডিওতে ওয়াচ টাইম বাড়ানোর জন্য বা ভিউয়ার্স বাড়ানোর জন্য পেমেন্ট এর মাধ্যমে ভিডিও দেখার জন্য বিজ্ঞাপন দেয়। অনেক ওয়েবসাইট রয়েছে যেখানে তারা তাদের ভিডিওতে ভিউ বাড়ানোর জন্য পেমেন্ট করে থাকে। তবে মনে রাখবেন ভিডিও দেখার সাইটগুলোতে অনেক ভুয়া সাইড ও রয়েছে যারা আপনাকে বলবে ভিডিও দেখার জন্য এবং পেমেন্ট করবে বলবে কিন্তু পরবর্তীতে আর পেমেন্ট করছে না তাই এ বিষয়ে আপনাকে সাবধানতা অবলম্বন করে কোন কোন সাইটের পেমেন্ট সিস্টেম ভালো তা দেখে নিতে হবে না হলে আপনাকে ঠকতে হতে পারে। একটা বিষয় বলে রাখি যে সকল সাইটে ভিডিও দেখার জন্য অতিরিক্ত পেমেন্টের কথা বলে বা বিশেষ বিশেষ বিজ্ঞাপন দেয়, তখন সেগুলো একটু ভালো করে দেখে নিবেন আর যখন আপনার কাছে বিশ্বস্ত মনে হবে তখনই সেই ভিডিও গুলো দেখবেন না হয় বাদ দিবেন



৫।ওয়েবসাইট (Website)বানিয়ে আয়: আপনি হয়তো জানেন কি না, একটা ওয়েবসাইটের দাম লাখ লাখ টাকা বা তার চেয়েও বেশি।আপনি যদি একজন ওয়েব ডেভেলপার হয়ে থাকেন তাহলে বানিয়ে নিতে পারেন একটি ভাল মানের ওয়েবসাইট। এবং আপনি যদি সেখানে ভালো কনটেন্ট লিখতে পারেন এবং ভালো ট্রাফিক আনতে পারেন তাহলে আপনি ওয়েবসাইটটি ভালো দামে বিক্রি করতে পারবে। বর্তমানে একটি ওয়েবসাইট বানানো ফেসবুক অ্যাকাউন্ট খোলার মতোই সহজ। তবে সেরকম করলে হবেনা। আপনাকে ওয়েবসাইটটি কে সুন্দর ভাবে ডিজাইন এবং কাস্টমাইজেশন করে ভালো ভালো কনটেন্ট আপলোড করতে হবে যেন  হিউজ পরিমান ট্রাফিক আসে। আর আপনি যদি ওয়েবসাইটটিত গুগল এডসেন্স এপ্রুভ হয়  তাহলে আরো ভালো দামে বিক্রি করতে পারব ‌



৬। ড্রপশিপিং(Dropshipping)করে আয়: ড্রপশিপিং হচ্ছে  অনলাইন থেকে আয় করা আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম।এখান থেকে আপনি খুব সহজেই ভালো টাকা ইনকাম করতে পারবেন। আসলে অনেকেই ড্রপশিপিং সম্পর্কে ভাল ধারণা নেই। একটি উদাহরণ দিয়ে ড্রপশিপিং সম্পর্কে বোঝানোর চেষ্টা করি। ধরুন  আপনার এলাকায় একটি পণ্য ১০০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে কিন্তু আপনি খোঁজ নিয়ে জানলেন যে সেটি বড় বড় শপিং মল শহরে এটা ২০০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এখন আপনি সেই পন্য ১০০০ টাকা দিয়ে কিনে আপনি আপনার পেইজ বা ওয়েবসাইটে বিক্রি করতে পারেন। অনেক সময় দেখা যায় একজন প্রান্তিক কৃষক তার আলু ১০  টাকা কেজি বিক্রি করছে কিন্তু এই আলু শহরে গিয়ে ৫০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। । এক্ষেত্রে আপনি নিজে একটি ই-কমার্স সাইট খুলে এই ব্যবসা শুরু করতে পারেন। আপনি আপনার এলাকা থেকে যে পন্যটি ১০০০ টাকায় ক্রয় করলেন সেটি আপনার ওয়েবসাইটে ১৫০০ থেকে ২০০০ টাকায় বিক্রি করতে পারেন।এখন এই পন্য বিক্রি করে আপনি  ৫০০ থেকে ১০০০ টাকা পর্যন্ত লাভ করতে পারেন। আর এটাই হচ্ছে মূলত ড্রপশিপিং বিজনেস। আপনি সরাসরি বিভিন্ন কোম্পানি বা ডিলারের কাছ থেকে পণ্য কিনে আপনি আপনার ওয়েবসাইটে আপলোড করে তা বিক্রি করতে পারেন। বর্তমানে অনেক জনপ্রিয় ই-কমার্স সাইট রয়েছে যেমন অ্যামাজন, আলিবাবা, দারাজ,বাংলাদেশের ইভ্যালিসহ অনেক নামিদামি অনলাইন ই-কমার্স সাইট রয়েছে।যার মাধ্যমে আপনি লাখ লাখ টাকা ইনকাম করতে পারবেন।তবে আপনাকে এই ব্যবসাটা খুব সতর্কতাঃ সাথে করতে হবে। আপনার সাইটকে বিশ্বস্ত হতে হবে না হলে কেউ আপনার ই-কমার্স  সাইট থেকে পন্য কিনবে না তাই সাবধান



৭।অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং (Affiliate Marketing) করে আয়: বর্তমান সময়ে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং অনলাইন একটি জনপ্রিয় মাধ্যম হয়ে উঠেছে যার মাধ্যমে অনেকেই অনেক ভালো ইনকাম করছেন।এই মার্কেটিং এর জন্য আপনাকে কোন ইনভেস্ট করতে হচ্ছে না শুধুমাত্র আপনি এই বিষয়ে একটু ভালো ধারণা বা জ্ঞান থাকলেই আপনি খুব ভালোভাবে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করতে পারবেন। বাংলাদেশেও অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং এর জনপ্রিয়তা দিন দিন বাড়ছে এবং একসময় এই অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং হবে অনলাইনে ইনকামের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। এটি অনলাইন ইনকামের একটি সহজ মাধ্যম কিন্তু অনেকের মধ্যে এই বিষয়ে উপর ধারণা বা জ্ঞান না থাকার কারণে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করতে পারছেন না। এ বিষয়ে আমি একটু বিস্তারিত জানানোর চেষ্টা করছি। এখন বিশ্বে অনেক বড় বড় ই-কমার্স সাইট রয়েছে। এদের মধ্যে অনেক ই-কমার্স সাইট সারা বিশ্বেই পণ্য ডেলিভারি দিয়ে থাকেন। সকল ই-কমার্স সাইটে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং নামে একটি সেকশন রয়েছে। আপনাকে যেটা করতে হবে সেটি হল প্রথমে আপনাকে  তাদের সাইটে একটি একাউন্ট করে নিতে হবে। আর অ্যাকাউন্ট খুলে আপনি তাদের মেম্বার হয়ে যেতে পারবেন। তারপর আপনাকে একটি গ্রুপ তৈরি করে নিতে হবে আপনার বন্ধু আর  শুভাকাঙ্ক্ষীদের নিয়ে। এছাড়াও আপনার সকল সোশ্যাল মিডিয়াতে একাউন্ট থাকতে হবে যত বেশি আপনি সোশ্যাল মিডিয়ায় কানেক্টিভ  থাকবেন তত বেশি আপনার অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং থেকে আয় করার সুযোগ বেশি ভালো থাকবে। তো আপনাকে প্রথমে ই-কমার্স সাইট থেকে যে পন্যটি আপনি অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করতে চান সেই পণ্যটির ছবিসহ বিস্তারিত লিংকটি কপি করে আপনি আপনার সোশ্যাল মিডিয়া বিভিন্ন গ্রুপ পেজ  শেয়ার করতে হবে। আপনার যদি  ইউটিউব চ্যানেল থাকে সেখানেও এই লিংকটি শেয়ার করতে পারেন  যদি কোন আপনার বন্ধু অথবা যে কেউ এই লিঙ্কে ক্লিক করে পণ্যটি ক্রয় করেন তাহলে আপনি ওই পণ্য বিক্রয়ের একটি কমিশন আপনার একাউন্টে যোগ হবে। এভাবে আপনার লিঙ্ক থেকে যত বেশি পণ্যটি বিক্রয় হবে তত বেশি কমিশন আপনি পাবেন। আর এটাই হচ্ছে মূলত অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং আশা করি আমি বিষয়টি বোঝাতে পেরেছি



৮।সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন ( SEO) স্পেশালিস্ট: ইন্টারনেট জগতে গুগলে সার্চ দেন না এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া কঠিন। গুগলে  কোন একটি বিষয় লিখে সার্চ দিলে যে রেজাল্টগুলো প্রথমেই সামনে আসে তা এমনি এমনি আসেনি।তার জন্য এসইও এর প্রয়োজন পরেছে।  সার্চ ইন্জিনে যার কন্টেন্ট  যত বেশি সামনে থাকবে    তার তত বেশি ভিজিটর আসবে আর  ভালো ইনকামও হবে। গুগলে রেঙ্ক ভালো হলে আপনার ওয়েবসাইটে ভিজিটর বা ট্রাফিক বেশি পাবেন। বর্তমানে এসইওর চাহিদা গগনচুম্বী। আপনি যদি আপনার সাইটে এসইও ভালোভাবে করতে না পারেন তাহলে গুগলের রেঙ্ক করবে না। আর  আপনার সাইটে ভিজিটর না আসলে আপনার ইনকাম বন্ধ। তাই আপনি যদি এসইও এক্সপার্ট হিসেবে অনলাইনে যুক্ত হতে পারেন তাহলে আপনি লাখ লাখ টাকা ইনকাম করতে পারবেন। আর এসইও তো একটু টেকনিক্যাল বিষয় তাই আপনাকে শিখতে একটু সময় লাগতে পারে। আর আপনি যদি ভালোভাবে এসইও করতে পারেন তাহলে আপনাকে আর ঠেকায় কে। আর আপনার যদি আপনার কাজের ভালো দুই-একটা রিভিউ পান তাহলে দেখবেন বিশ্বের বিভিন্ন নামিদামি কোম্পানির আপনার পিছনে ঘুরঘুর করছে আপনাকে দিয়ে এসইও করানোর জন্য।  এসইও (SEO) জানার জন্য প্রাতিষ্ঠানিক কোন শিক্ষা প্রয়োজন নেই আপনি যদি একটু ধৈর্য সহকারে SEOভালোভাবে করতে পারেন তাহলে আপনার ভবিষ্যৎ খুবই ভালো



পরিশেষে অনলাইন হচ্ছে বর্তমানে টাকা ইনকাম করার একটি শ্রেষ্ঠ মাধ্যম। এখানে আপনার মেধা, যোগ্যতাকে কাজে লাগিয়ে আপনি আপনার  লক্ষে পৌঁছতে পারবেন। এসকল দক্ষতা অর্জন করার জন্য কারো না কারো একটু সাহায্য দরকার।করো একটু সাহায্য পেলেই আপনি উপরে উঠে যাবে। তবে আমার পরামর্শ থাকবে আপনি যে কোন একটা বিষয়ের উপর দক্ষতা অর্জন করুন এবং ওই বিষয়টা নিয়ে কাজ করুন। তাহলে আপনার সফলতা অর্জনের পথ সহজ হবে। আর যদি আপনি সবগুলো সেক্টরে কাজ করতে চান তাহলে কোন কিছুই হবে না। বিদেশি বায়াররা সব সময় চায় এক্সপার্ট ব্যক্তিদের দিয়ে কাজ করাতে। আপনি আগে ঠিক করবেন আপনি কোন বিষয়ের উপর আগ্রহ বেশি এবং কোন বিষয়ে সবচেয়ে বেশি ভালো পারবেন।সেই বিষয়টা নিয়ে কাজ করবেন। সারাদিন সোশ্যাল মিডিয়ায় চ্যাটিং এ সময় না দিয়ে ল্যাপটপ/ কম্পিউটারে কাজের উপর দক্ষতা বাড়ান।আপনি যদি ১ বছর ভালোভাবে সময় দেন দেখবেন সফলতা আপনার হাতে। কেউ ঠেকাতে পারবেনা আপনার সাফল্য



আজ এ পর্যন্তই। আমি আপনাদের সফলতা কামনা করছি। যদি আমার এই লেখাটি আপনাদের কিছুটা হলেও ভালো লাগে তাহলে অবশ্যই কমেন্ট বক্সে জানাবেন আর পরামর্শ থাকলে ও জানাবেন। আর যদি সম্ভব হয় শেয়ার করে অন্যকে দেখার সুযোগ করে দেবেন


শিক্ষক পরিচিতি

আমিনুল হক

সহকারি শিক্ষক

বায়রাউড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়

নেত্রকোনা সদর, নেত্রকোনা

মোবাইল ০১৭২১ ৫৪৭৯১২

 

মন্তব্য করুন

ব্লগ