সহকারী শিক্ষক
২২ জানুয়ারি, ২০২২ ০২:০৫ পূর্বাহ্ণ
সহকারী শিক্ষক
বিজ্ঞান কি?
বিজ্ঞান হল পরীক্ষা নিরীক্ষা, পর্যবেক্ষণ ও পদ্ধতিগতভাবে পথ সুশৃঙ্খল ও সুসংবদ্ধ জ্ঞান এবং এই জ্ঞান অর্জনের প্রক্রিয়া ও পদ্ধতি। বিজ্ঞানে জ্ঞান, পদ্ধতি ও দৃষ্টিভঙ্গি সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ।
বিজ্ঞানকে সাধারণত দুটি প্রধান ভাগে ভাগ করা হয়। একটি হল ভৌত বিজ্ঞান এবং অপরটি জীববিজ্ঞান। ভৌত বিজ্ঞান : যাদের জীবন নেই, তাদের সম্পর্কিত বিজ্ঞান হল জড় বিজ্ঞান বা ভৌত বিজ্ঞান। ভৌত বিজ্ঞান ও জীববিজ্ঞানের অনেক শাখা আছে। ভৌত বিজ্ঞানের অনেক শাখার মধ্যে পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন, জ্যোতির্বিদ্যা, আবহবিদ্যা, ভূবিদ্যা ইত্যাদি প্রধান।
প্রাচীনকালে ভৌত বিজ্ঞানের বিকাশ-
আমরা বলেছি যে আধুনিক সভ্যতা বিজ্ঞানের ফসল। বিজ্ঞানের এই সমৃদ্ধির পেছনে রয়েছে বিজ্ঞানীদের অক্লান্ত পরিশ্রম, সৃজনশীল অবদান। বিজ্ঞানের কোনো জাতীয় বা রাজনৈতিক সীমা নেই। বিজ্ঞানের উন্নতি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ সকল জাতির সকল মানুষের জন্য। বিজ্ঞানের ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায় যে, প্রাচীন গ্রিক ও রোম সম্রাজ্যে বেলিসের (Thales থ্রিঃপূঃ ৬২৪-৫৬৯) মতো বিজ্ঞানী ছিলেন। তিনি সূর্য গ্রহণ সম্পর্কিত ভবিষ্যদ্বানীর জন্য বিখ্যাত। এছাড়া তিনি বলেছিলেন, বৃত্তের ব্যাস বৃত্তকে সমধিখণ্ডিত করে। তিনি লোডস্টোনের চৌম্বক ধর্ম সম্পর্কেও জানতেন। বিজ্ঞানের ইতিহাসে পিথাগোরাস (Pythagorus, ৫২৭-৪১৭) একটি স্মরণীয় নাম। তিনি বিজ্ঞান, ধর্ম, গণিত ও সংগীত, ভেষজ বিজ্ঞান । বিশ্বতত্ত্ব, শরীর, মন ও আত্মা সব কিছুকেই গাণিতিক সূত্রের সাহায্যে প্রকাশ করতে চেয়েছিলেন। তিনি আগুন, পানি, মাটি ও বায়ু এই চারটি মৌলের ধারণা দিয়েছিলেন। কম্পমান তারের ওপর তাঁর কাজ অধিক স্বায়ী অবদান রাখতে সক্ষম হয়েছিল। বর্তমানে বাদ্যযন্ত্র ও সংগীত বিষয়ক যে স্কেল রয়েছে তা তারের কম্পন বিষয়ক তাঁর অনুসন্ধানের আংশিক অবদান।
খ্রিস্টের জন্মের চারশ বছর আগে গ্রিক দার্শনিক ডেমোক্রিটাস (Democritus, খ্রি: পৃ: ৪৬০-৩৭০) ধারণা দেন যে পদার্থের অবিভাজ্য একক রয়েছে। তিনি একে নাম দেন পরমাণু। পরমাণু সম্পর্কে তাঁর এ ধারণা বর্তমান ধারণার চেয়ে সম্পূর্ণ আলাদা হলেও বেশ তাৎপর্যপূর্ণ।
প্রাচীন পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ঠ জ্যোতির্বিদ অ্যারিস্টার্কাস (Aristarchus, খ্রি: পূ: ৩১০-২৩০)। সুর্যই যে সৌর জগতের কেন্দ্র এবং পৃথিবী ও অন্যান্য গ্রহগুলো তার চার দিকে ঘুরে চলেছে একথা বলেছেন তিনিই প্রথম। অ্যারিস্টার্কাসের এই মৌলিক ও বৈপ্লবিক মতামত কিন্তু মোটেও সেকালের মানুষের পছন্দ হয়নি। কারণ বিশ্বে তখন প্লেটো (Plato, খ্রি: পৃ : ৪২৮–৩৪৮) ও অ্যারিস্টটলের (Aristotle খ্রিঃ পূঃ ৩৮৪-৩২২) মতবাদের প্রচণ্ড প্রতাপ। তাঁদের মতে সূর্য, গ্রহ ও নক্ষত্রগুলো নিশ্চল পৃথিবীকে কেন্দ্র করে ঘুরছে। বিভিন্ন বিষয়ে অ্যারিস্টটলের মতো অগাধ পাণ্ডিত্য তখনকার দিনে আর কারো ছিল না। ফলে তার ধারণাই রুমে সবার মনে স্থায়ী আসন গেড়ে বসে গেল। তখনকার দিনের পণ্ডিতরা বলতেন, অ্যারিস্টটল জ্ঞান বিজ্ঞানের সকল বিষয় নিয়েই চিন্তা করেছেন। অ্যারিস্টটলেই সব সমস্যার সমাধান পাওয়া যাবে। অ্যারিস্টটলে যা নেই তা নিয়ে মাথা ঘামানোরও প্রয়োজন নেই। অ্যারিস্টটলের মৃত্যুর বার বছর পরে জন্ম গ্রহণ করেও অ্যারিস্টার্কাস জনগণকে অ্যারিস্টটলের ধারণার জগতের বাইরে আনতে পারেননি।
বিখ্যাত গ্রিক গণিতবিদ আর্কিমিডিস (Archimedes, খ্রি: পূ: ২৮৭-২১২) লিভারের নীতি ও ভরলে নিমজ্জিত বস্তুর ওপর ক্রিয়াশীল ঊর্ধ্বমুখী বলের সূত্র আবিষ্কার করে ধাতুর তেজাগ নির্ণয় করতে সমর্থ হন। তিনি গোলীয় দর্পণের সাহায্যে সূর্যের রশ্মি কেন্দ্রীভূত করে আগুন ধরানোর কৌশলও জানতেন।
বিজ্ঞানের ঊষালগ্নের এ সকল আবিষ্কারের তাৎপর্য গভীর। কোনো বিষয়ের অগ্রগতি নির্ভর করে ঐ বিষয়ে অবিরত নতুন ধারণা ও নতুন আবিষ্কার বা নতুন উদ্ভাবনের ওপর।
৬
১২ মন্তব্য