সহকারী প্রধান শিক্ষক
২২ জানুয়ারি, ২০২২ ০৪:৪৫ অপরাহ্ণ
সহকারী প্রধান শিক্ষক
আদা একটি উদ্ভিদ যা মূলত মসলা এবং ভেষজ ঔষুধ হিসাবে ব্যবহৃত হয়। মসলা জাতীয় ফসলের মধ্যে আদা অন্যতম। এদের রাইজোম সুগন্ধী ও ঝাঁঝালো স্বাদ। এর ভিতরের রং ফিকে হলুদ। গাছটি ২ থেকে ৩ ফুট উচু হতে দেখা যায়। এর পাতাগুলি সুন্দর ভাবে সাজানো থাকে। আদা খাদ্য, পানীয়, আচার, ঔষুধ এবং পারফিউমে ব্যবহৃত হয় এই আদা। আদা এশিয়া থেকে ইউরোপে রপ্তানি করা প্রথম মসলা গুলির মধ্যে একটি। প্রাচীন গ্রীক এবং রোমানরা এটি বেশি ব্যবহার করত। আদা সর্দি নিরাময় করে এছেড়া আদাতে আদা খাওয়ায় বিভিন্ন ধরণের উপকারিতা ও অপকারিতা রয়েছে। এই আদাতে অপকারিতা থেকে উপকারিতার পরিমান বেশি।
আদা খাওয়ার উপকারিতঃ- কথায় বলে ‘আদা সকল রোগ নিরাময়ে দাদা। যার অর্থ আমাদের শরীরে সব রোগ নিরাময়ের জন্য আদা যথেষ্ট ভূমিকা রাখতে সক্ষম। আদায় রয়েছে পটাশিয়াম, আয়রণ, ম্যাগনেশিয়াম, ক্যালশিয়াম, ফসফরাস, সোডিয়াম, জিংক, ম্যাঙ্গানিজ, ভিটামিন এ, বি৬, ই ও সি এবং অ্যান্টি–ব্যাকটেরিয়াল এজেন্ট ও অ্যান্টি–ইনফ্লামেটরি এজেন্ট বিদ্যমান। যার কারণে সব বয়সী মানুষ আদা খেতে পারেন, বিশেষ করে শিশুদের জন্য আদা,মধু,ওপানি সুস্থ দেহ ও সতেজ মনের জন্য খুবই কার্যকর।
হার্টের জন্য আদাঃ রক্তের অনুচক্রিকা এবং হৃদযন্ত্রের কার্যক্রম ঠিক রাখতে এটা খুবই কার্যকরী।
ডায়াবেটিসের জন্য আদাঃ ডায়াবেটিস জনিত কিডনির জটিলতা দূর করে কাঁচাআদা।
জ্বর জ্বর, বমি বমি ভাবর জন্য আদাঃ এক চা–চামচ আদার রস গরম পানিতে মিশিয়ে চায়ের মতো করে ছয় থেকে সাতবার খেলে জ্বর জ্বর ভাব ও বমি বমি ভাব কেটে যাবে।
কাশি কমায়, কফর জন্য আদাঃ প্রতিদিন দুবেলা এক চা–চামচ করে আদার রস, লেবুর রস ও মধু এক কাপ গরম পানিতে মিশিয়ে চায়ের মতো করে খেলে কাশি কমে, কফ দূর হয়।
ঠান্ডার জন্য আদাঃ ঠান্ডা লাগা প্রতিরোধে আদার ভূমিকা অপরিসীম। আদার রস একটু গরম করে সমপরিমান মধুর সাথে মিশিয়ে দিনে কয়েকবার খেলে ঠান্ডা লাগা সেরে যায়।
আদা খেলে বিভিন্ন রোগের মুক্তি মেলে সে গোগ গুলি হলো;-
| নং | রোগের নাম |
| ০১ | আমাশয় জনিত রোগ |
| ০২ | হাঁপানি ও ফুসফুসে সংক্রমণ রোগ |
| -৩ | পেটফাঁপা রোধ করে |
| ০৪ | পেটব্যথা রোগ |
| ০৫ | ক্যালসিয়াম জনিত রোগ |
| ০৬ | জ্বর জ্বর, বমি বমি ভাব করে |
| ০৭ | গলা ব্যথা করে |
| ০৮ | মাথাব্যথা করে |
| ০৯ | উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে করে |
| ১০ | কাশি কমায়, কফ দূর করে |
আদা খাওয়ার অপকারিতাঃ- আপনি উপর থেকে আদা খাওয়ার উপকারিতা সম্পর্কে জানলেন এখন জানবেন আদা খাওয়ার অপকারিতা সম্পর্কে; কিছু লোকের আদা সেবন করলে অ্যালার্জি বেড়ে যায় সারা শরীরে চুলকানি হয়। তাদের আদা খাওয়া বন্ধ করা উচিৎ। এবং দ্রুত ডাক্তারের সাথে যোগাযোগ করা উচিৎ। আদা চা ৫ কাপের বেশি পান করলে মাথাব্যথা মাইগ্রেন, অনিদ্রার মতো সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে। সুতরাং এক পর্যাপ্ত পরিমাণে পান করা উচিৎ।উচ্চ রক্তচাপের ঔষুধ সেবনকারীদের বিশেষজ্ঞের যত্নে আদা গ্রহণ করা উচিত। এছাড়া বেশি আদা খেলে পেটে ব্যথা, ডায়রিয়ার সমস্যা হতে পারে। অতএব, যে কোনও কিছু পর্যাপ্ত পরিমাণে খাওয়া উচিত শরীরের ক্ষতি হয়।
আদা শরীরে রক্ত সঞ্চালন বাড়াতে সাহায্য করে। স্থূলতা বা ডায়াবেটিসের সমস্যায় আদা খুবই উপকারী। আদা হিমোফিলিয়ার উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। হিমোফিলিয়া একটি বংশগত ব্যাধি। হিমোফিলিয়ার ওষুধের সঙ্গে আদা খেলে ওষুধের প্রভাবে হস্তক্ষেপ হতে পারে।
হাইপারটেনসন বা ডায়াবেটিসের ঔষুধ খেলে আদা খাওয়া এড়িয়ে চলাই ভাল। আদা রক্তকে পাতলা করে রক্তচাপ কমিয়ে দেয়। তাই সাধারণভাবে আদা খাওয়া উপকারী হলেও অ্যান্টি-কোয়াগুলান্ট, বিটা-ব্লকারস বা ইনসুলিনের মতো ওষুধের প্রভাব কমিয়ে দিতে পারে আদা।
১০০ গ্রাম আদার উপাদানঃ- ১০০ গ্রাম আদায় আছে ৮০ ক্যালরি শক্তি, স্নেহ পদার্থ ০.৮ গ্রাম, সমৃক্ত চর্বি ০.২ গ্রাম, পলি স্যাচুরেটেড চর্বি ০.২ গ্রাম, মনো আনস্যাচুরেটেড চবি, সোডিয়াম ১৩ মিলিগ্রাম, পটাশিয়াম ৪১৫ মিলিগ্রাম, কার্বোহাইড্রেট ১৮ গ্রাম, আঁশ ২ গ্রাম, সুগার ১.৭ গ্রাম, প্রোটিন ১.৮ গ্রাম, ভিটামিন সি ৮%, ভিটমিন বি ৬.১০%, ক্যালসিয়াম ১%, আয়রন ৩%, ম্যাগনেসিয়াম ১০%, এছাড়া আদায় কোনো কোলেস্টেরল নেই।
আদা খেলে যা হয়ঃ
৭০
১৪৪ মন্তব্য