Loading..

ব্লগ

রিসেট

২৩ জানুয়ারি, ২০২২ ০৫:১৩ অপরাহ্ণ

আসুন ফেইসবুকিং ভদ্রতা শিখি কাজে শাগতে পারে আপনার ও



♦ফেসবুকে "এড ফ্রেন্ড" অপশন দিয়ে বন্ধুত্বের অনুরোধ পাঠানো হয়। অপরপক্ষ "একসেপ্ট ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট" দিয়ে আপনাকে বন্ধু তালিকায় এড করে নিল মানে এই নয় যে উনি আপনার বাল্য কালের কোলাকুলি করা দোস্ত হয়ে গেল আর আপনি যেভাবে খুশি তাকে ইনবক্সে ভাব প্রকাশ করবেন। 

♦প্রথম পরিচয়ে অপরিচিত কাউকে "আপনি" সম্বোধন করা আপনার শিক্ষার মানসম্মত প্রকাশ। মুখোমুখি কাউকে ক্ষেত্রবিশেষে "তুমি" বলা গেলেও ফেসবুকে অপরিচিত কাউকে "তুমি" ডাকার কোন সুযোগ নেই। যাকে আপনি ফ্রেন্ড ভেবে, গদগদ হয়ে নক করছেন "হি, কেমন আছ?" তিনি উচ্চ পদমর্যাদা সম্পন্ন কেউ হতে পারেন যাকে তুমি দূরে থাক "অতি আপনি" করে বললেও তাকে উপযুক্ত সম্মান দিতে ঘাটতি হচ্ছে বলে মনে হয়।

♦কেউ আপনার ব্যক্তি জীবনে পরিচিত হলেও ইনবক্সে তাকে নক করার সময় মাথায় রাখুন তার সাথে আপনার সম্পর্কের আন্তরিকতা এবং তার নিকট আপনার অবস্থান কেমন।

♦ফেসবুকে এড ফ্রেন্ড ছড়া "এড স্যার, এড ম্যাডাম, এড চাচা, এড সিনিয়র" ইত্যাতি টাইপ অপশন নেই মানে এই নয় যে আপনার শিক্ষককে, গুরুজনদের কিংবা আপনার জুনিয়রদের সাথে "বুকে আয় দোস্ত" টাইপ ভাব প্রকাশ করবেন।

♦আপনার ব্যক্তিগত ছবি আপনার সম্পত্তি। তাছাড়া আপনার ছবি দেখলে সবাই মনের অস্থিরতা ভুলে স্বস্তির শ্বাস ছাড়বে এমন নয়। গালিও দিতে পারে এবং দেয়। তাই নিজের ছবি অন্যকে চোখ বুজে ট্যগ করা বন্ধ করুন। নিজের সম্মান বজায় রাখুন এবং অন্যকে বিরক্ত করা থেকে বিরত থাকুন। আপনি যার প্রিয় সে আপনার চাঁদমুখ দেখার জন্য আপনাকে গুগলে সার্চ দিয়ে খুঁজবে।

♦ কারো সাথে প্রথম চ্যাট নক করার আগে তার প্রোফাইলটা এক নজর দেখে নিন,তার সম্পর্কে ধারণা নিন। তারপর ঠিক করুন কিভাবে তার সাথে কথা বলা যায়।  হুট করে তিড়িংবিড়িং টাইপ নক করা অনুচিত। এতে অপরপক্ষের কাছে আপনার ব্যক্তিত্ব নিয়ে প্রশ্ন জাগে।

♦ফেইসবুকে কেউ যখন বসে তখন সে আপনার মতই তার প্রোফাইল চেক করে, চ্যাট করে কিংবা নোটিফিকেশন দেখে। কাউকে ইনবক্সে "হি, কি কর" প্রশ্ন করা অবান্তর এবং উত্তর দাতার নিকট বিরক্তিকর। তাই এই প্রশ্ন এড়িয়ে যান।

♦বন্ধু রিকোয়েস্ট একসেপ্ট করা মাত্রই তার ইনবক্সে "ক্ষুধার্ত কুকুরের সামনে একটুকরা মাংস" প্রদর্শন পরিবেশ সৃষ্টি করবেন না। রয়ে সয়ে বন্ধুত্বের স্থায়িত্ব করুন অন্যথায় ডাস্টবিনে (ব্লক) ঠাঁই পাবেন, পেয়েছেনও হয়তো।

♦কারো কিছুতে কমেন্ট করার আগে ভাষাগত শালীনতা বজায় রাখুন। অন্যকে অশালীন প্রকাশ করতে গিয়ে নিজেই অশ্লীল হয়ে গেলে তার আর আপনার মাঝে পার্থক্য কি? তৃতীয় ব্যক্তির চোখে পোস্টকারি ও কমেন্টকারি দুজনই "ধুর" " ছি ছি"।

? অন্যের লিখা কপি পেস্ট করার আগে অবশ্যই কার্টেসি মেইনটেইন করবেন, একান্তেই যদি প্রকৃত লেখক/লেখিকার নাম না জানেন সে ক্ষেত্রে সংগৃহীত লিখে দেয়া আপনার উপর ফরজ। ফেসবুক জগতে অন্যের লিখা নিজের নামে পোস্ট করা হারাম।


আপনার ব্যক্তিত্ব কেমন ফেসবুকে তা আপনার কমেন্টস, ইনবক্স করার ধরণ ও আপনার প্রোফাইল দিয়ে প্রকাশিত হয়। "মুখে মধু অন্তরে বিষ হলে" অর্থাৎ বাহ্যিক প্রোফাইল ও লিখার ধরণ সাবলীল রেখে ব্যক্তিজীবনে অশ্লীল হলে আপনি উত্তম পর্যায়ের "ভার্চুয়াল চিটার"। নিজেকে সৎ, সুন্দর, সম্মানি ও ভদ্র ভাবে গড়ে তুলুন। অপরকে আপনার বিরক্তি থেকে মুক্তি দিন।


হ্যপি ফেসবুকিং

সংগৃহীত

মন্তব্য করুন