Loading..

ব্লগ

রিসেট

০৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২২ ০৭:৪৩ পূর্বাহ্ণ

সমাসের সংগা, প্রকারভেদ ও সংক্ষিপ্ত বিবরণ

সমাস: সমাস শব্দের অর্থ মিলন। অর্থ সম্বন্ধ আছে এমন একাধিক শব্দের মিলিত হয়ে একটি নতুন শব্দ তৈরির ব্যাকরণ সম্মত প্রক্রিয়াকেই বলা হয় সমাস। মূলত, সমাসে একটি বাক্যাংশ একটি শব্দে পরিণত হয়। সমাসের রীতি বাংলায় এসেছে সংস্কৃত ভাষা থেকে। বাক্যে শব্দের ব্যবহার কমানোর উদ্দেশ্যে সমাস ব্যবহার করা হয়।

সমাস নির্ণয়ের জন্য নিম্নোক্ত সংজ্ঞা জানা খুবই জরুরি। এগুলো হলো-

ব্যাসবাক্য: যে বাক্যাংশ থেকে সমাসের মাধ্যমে নতুন শব্দ তৈরি হয়, তাকে বলা হয় ব্যাসবাক্য। 

সমস্ত পদ: ব্যাসবাক্য থেকে সমাসের মাধ্যমে যে নতুন শব্দ তৈরি হয়, তাকে বলা হয় সমস্ত পদ।

সমস্যমান পদ: ব্যাসবাক্যের যে সব শব্দ সমস্ত পদে অন্তর্গত থাকে, সমস্ত পদের সেই সব শব্দকে সমস্যমান পদ বলে।

পূর্বপদ : সমস্ত পদের প্রথম অংশ/ শব্দকে পূর্বপদ বলে। অর্থাৎ, সমস্ত পদের প্রথম সমস্যমান পদই পূর্বপদ।

পরপদ/ উত্তরপদ: সমস্ত পদের শেষ অংশ/ শব্দকে পরপদ/ উত্তরপদ বলে। অর্থাৎ, সমস্ত পদের শেষ সমস্যমান পদই পরপদ।

যেমন, সিংহ চিহ্নিত আসন = সিংহাসন। এখানে ব্যাসবাক্য হলো- ‘সিংহ চিহ্নিত আসন’। আর সমস্ত পদ হলো ‘সিংহাসন’। সমস্যমান পদ হলো ‘সিংহ’ আর ‘আসন’। এদের মধ্যে ‘সিংহ’ পূর্বপদ, আর ‘আসন’ পরপদ।

আবার, আমিষের অভাব = নিরামিষ। এখানে, পূর্বপদ ‘নিঃ’ বা অভাব। আর পরপদ হলো ‘আমিষ’।

উলেলখ্য, একই সমস্ত পদ কয়েকভাবে ভেঙে কয়েকটি ব্যাসবাক্য তৈরি করা যেতে পারে। এক্ষেত্রে সঠিক ব্যাসবাক্যও কয়েকটি হতে পারে। সেক্ষেত্রে ব্যাসবাক্য অনুযায়ী সেটি কোন সমাস তা নির্ণয় করতে হবে। তবে খেয়াল রাখতে হবে, ব্যাসবাক্যের সঙ্গে সমস্ত পদের অর্থসঙ্গতি যেন ঠিক থাকে। যেমন, ‘বিপদে আপন্ন = বিপদাপন্ন’, এই সমাসটি এভাবে ভাঙলে তা ভুল হবে। এটা করতে হবে ‘বিপদকে আপন্ন = বিপদাপন্ন’।

প্রকারভেদ: সমাস প্রধানত ৬ প্রকার- দ্বন্দ্ব, কর্মধারয়, তৎপুরুষ, বহুব্রীহি, দ্বিগু ও অব্যয়ীভাব।

 তবে অনেকেই দ্বিগু সমাসকে কর্মধারয় সমাসের অন্তর্ভূক্ত করে থাকেন। আবার অনেকে কর্মধারয় সমাসকে তৎপুরুষ সমাসের অন্তর্ভূক্ত করে থাকেন। সমস্যমান পদের অর্থ প্রাধান্য বিবেচনা করে তারা এই মত দিয়ে থাকেন। সমস্যমান পদ বা পূর্বপদ-পরপদের অর্থ প্রাধান্য বিবেচনা করলে মূলত সমাস ৪ প্রকার- দ্বন্দ্ব, তৎপুরুষ, বহুব্রীহি ও অব্যয়ীভাব।

এছাড়াও কিছু অপ্রধান সমাসও রয়েছে। যেমন- প্রাদি, নিত্য, অলুক, প্রভৃতি।

 

অর্থ প্রাধান্যের ভিত্তিতে শ্রেণীবিভাগ :

 পূর্বপদের অর্থ প্রাধান্যপরপদের অর্থ প্রাধান্যসমাস
আছেআছেদ্বন্দ্ব
নেইআছেকর্মধারয়, তৎপুরুষ, দ্বিগু
আছেনেইঅব্যয়ীভাব
নেইনেইবহুব্রীহি

 

নিচে বিভিন্ন সমাসের বর্ণনা দেয়া হলো।

দ্বন্দ্ব সমাস

যে সমাসে পূর্বপদ ও পরপদ- উভয়েরই অর্থের প্রাধান্য থাকে, তাকে দ্বন্দ্ব সমাস বলে। এই সমাসে ব্যাসবাক্যে পূর্বপদ ও পরপদের সম্বন্ধ স্থাপনে ও, এবং, আর- এই তিনটি অব্যয় ব্যবহৃত হয়।

 যেমন- মা ও বাপ = মা-বাপ। এখানে পূর্বপদ ‘মা’ ও পরপদ ‘বাপ’। ব্যাসবাক্যে ‘মা’ ও ‘বাপ’ দুইজনকেই সমান প্রাধান্য দেয়া হয়েছে, এবং দুজনকেই বোঝানো হয়েছে। অর্থাৎ, পূর্বপদ ও পরপদ, উভয়েরই অর্থের প্রাধান্য রক্ষিত হয়েছে। তাই এটি দ্বন্দ্ব সমাস।

শব্দব্যাসবাক্যসমাসের নাম
জনমানবজন ও মানবদ্বন্দ্ব
অত্যাচার অবিচারঅত্যাচার ও অবিচারদ্বন্দ্ব
শ্বাস-প্রশ্বাসশ্বাস ও প্রশ্বাসদ্বন্দ্ব
খেয়াল-খুশিখেয়াল ও খুশিদ্বন্দ্ব
বিপ্লব-অভিযানবিপ্লব ও অভিযানদ্বন্দ্ব

 কর্মধারয় সমাস

কর্মধারয় সমাসে পরপদের অর্থ প্রাধান্য পায়। মূলত, এই সমাসে বিশেষণ বা বিশেষণ ভাবাপন্ন পদ পূর্বপদ ও বিশেষ্য বা বিশেষ্য ভাবাপন্ন পদ পরপদ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। আর ব্যাসবাক্যটিতে ঐ বিশেষ্য বা বিশেষ্য ভাবাপন্ন পদটি সম্পর্কে কিছু বলা হয়। অর্থাৎ পরপদের অর্থ প্রাধান্য পায়।

 যেমন- নীল যে পদ্ম = নীলপদ্ম। এখানে, পূর্বপদ ‘নীল’ বিশেষণ ও পরপদ ‘পদ্ম’ বিশেষ্য। ব্যাসবাক্যে ‘পদ্ম’ সম্পর্কে বলা হয়েছে পদ্মটি ‘নীল’ রঙের। অর্থাৎ, ‘পদ্ম’ বা পরপদের অর্থই এখানে প্রধান, পরপদ ছাড়া পূর্বপদের কোন প্রয়োজনীয়তা নেই। তাই এটি কর্মধারয় সমাস।

 কর্মধারয় সমাসের কয়েকটি বিশেষ নিয়ম-

  • দুইটি বিশেষণ একই বিশেষ্য বোঝালে সেটি কর্মধারয় সমাস হয়। যেমন, যে চালাক সেই চতুর = চালাক-চতুর। এখানে পরবর্তী বিশেষ্যটি অপেক্ষাকৃত বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে বলে এটি দ্বন্দ্ব সমাস হবে না।
  • দুইটি বিশেষ্য একই ব্যক্তি বা বস্তুকে বোঝালে সেটিও কর্মধারয় সমাস হয়। যেমন, যিনি জজ তিনি সাহেব = জজসাহেব। একই কারণে এটি দ্বন্দ্ব না কর্মধারয় হবে।
  • কার্যে পরপম্পরা বোঝাতে দুটি কৃদন্ত বিশেষণ বা ক্রিয়াবাচক বিশেষণ পদেও কর্মধারয় সমাস হয়। যেমন, আগে ধোয়া পরে মোছা = ধোয়ামোছা। এখানে ‘মোছা’ কাজটি বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
  • পূর্বপদে স্ত্রীবাচক বিশেষণ থাকলে তা পুরুষবাচক হয়ে যাবে। যেমন, সুন্দরী যে লতা = সুন্দরলতা
  • বিশেষণবাচক মহান বা মহৎ শব্দ পূর্বপদ হলে মহা হয়। মহৎ যে জ্ঞান = মহাজ্ঞান
  • পূর্বপদে ‘কু’ বিশেষণ থাকলে এবং পরপদের প্রথমে স্বরধ্বনি থাকলে ‘কু’, ‘কৎ’ হয়। যেমন, কু যে অর্থ = কদর্থ।
  • পরপদে ‘রাজা’ থাকলে ‘রাজ’ হয়। যেমন, মহান যে রাজা = মহারাজ।
  • বিশেষণ ও বিশেষ্য পদে কর্মধারয় সমাস হলে কখনো কখনো বিশেষ্য আগে এসে বিশেষণ পরে চলে যায়। যেমন, সিদ্ধ যে আলু = আলুসিদ্ধ।

 কর্মধারয় সমাস মূলত ৪ প্রকার-

মধ্যপদলোপী কর্মধারয়:  যে কর্মধারয় সমাসের ব্যাসবাক্যের মধ্যবর্তী পদগুলো লোপ পায়, তাকে মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস বলে। যেমন, ‘স্মৃতি রক্ষার্থে সৌধ = স্মৃতিসৌধ’। এখানে ব্যাসবাক্যের মধ্যবর্তী পদ ‘রক্ষার্থে’ লোপ পেয়েছে। পূর্বপদ ‘স্মৃতি’ এখানে বিশেষণ ভাব বোঝাচ্ছে। আর ‘সৌধ’ বিশেষ্য। এটিরই অর্থ প্রধান। সুতরাং এটি মধ্যপদলোপী কর্মধারয়।

 (উপমান ও উপমিত কর্মধারয় সমাস আলাদা করে চেনার আগে কতোগুলো সংজ্ঞা/ টার্মস জানা জরুরি। সেগুলো হলো- উপমান, উপমেয় ও সাধারণ ধর্ম। কোন ব্যক্তি বা বস্ত্তকে অন্য কোন ব্যক্তি বা বস্ত্তর সঙ্গে তুলনা করা হলে যাকে তুলনা করা হলো, তাকে বলা হয় উপমেয়। আর যার সঙ্গে তুলনা করা হয় তাকে বলে উপমান। আর উপমেয় আর উপমানের যে গুণটি নিয়ে তাদের তুলনা করা হয়, সেই গুণটিকে বলা হয় সাধারণ ধর্ম। যেমন, ‘অরুণের ন্যায় রাঙা প্রভাত’। এখানে ‘প্রভাত’কে ‘অরুণ’র মতো ‘রাঙা’ বলে তুলনা করা হয়েছে। সুতরাং, এখানে ‘প্রভাত’ উপমেয়। উপমান হলো ‘অরুণ’। আর প্রভাত আর অরুণের সাধারণ ধর্ম হলো ‘রাঙা’।)

 উপমান কর্মধারয় সমাস: সাধারণ ধর্মবাচক পদের সঙ্গে উপমান পদের যে সমাস হয়, তাকে উপমান কর্মধারয় সমাস বলে। অর্থাৎ, উপমান ও উপমেয় কর্মধারয়ের মধ্যে যেটিতে সাধারণ ধর্মবাচক পদ থাকবে, সেটিই উপমান কর্মধারয়। যেমন, তুষারের ন্যায় শুভ্র = তুষারশুভ্র। এখানে ‘তুষার’র সঙ্গে কোন ব্যক্তি বা বস্ত্তকে তুলনা করা হচ্ছে। অর্থাৎ এটি উপমান। আর সাধারণ ধর্ম হলো ‘শুভ্র’। উপমেয় এখানে নেই। সুতরাং, এটি উপমান কর্মধারয় সমাস।

 উপমিত কর্মধারয় সমাস: উপমেয় ও উপমান পদের যে সমাস হয়, তাকে উপমিত কর্মধারয় সমাস বলে। এই সমাসে সাধারণ ধর্ম উল্লেখ করা থাকে না। অর্থাৎ, উপমান ও উপমিত কর্মধারয়ের মধ্যে যেটিতে সাধারণ ধর্মবাচক পদ থাকবে না, সেটিই উপমিত কর্মধারয় সমাস। যেমন, ‘পুরুষ সিংহের ন্যায় = পুরুষসিংহ’। এখানে ‘পুরুষ’কে ‘সিংহ’র সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে। অর্থাৎ এখানে ‘পুরুষ’ উপমেয় আর ‘সিংহ’ উপমান। সাধারণ ধর্মের উল্লেখ নেই। সুতরাং, এটি উপমিত কর্মধারয় সমাস।

 রূপক কর্মধারয় সমাস: উপমান ও উপমেয় পদের মধ্যে অভিন্নতা কল্পনা করা হলে, তাকে রূপক কর্মধারয় সমাস বলে। এটির ব্যাসবাক্যে উপমেয় ও উপমান পদের মাঝে ‘রূপ’ শব্দটি অথবা ‘ই’ শব্দাংশটি ব্যবহৃত হয়। যেমন, ‘মন রূপ মাঝি = মনমাঝি’। এখানে ‘মন’ উপমেয় ও ‘মাঝি’ উপমান। কিন্তু এখানে তাদের কোন নির্দিষ্ট গুণের তুলনা করা হয়নি। মনকেই মাঝি হিসেবে কল্পনা করা হয়েছে।

শব্দব্যাসবাক্যসমাসের নাম
প্রাণভয়প্রাণ যাওয়ার ভয়মধ্যপদলোপী কর্মধারয়
ধর্মকার্যধর্মবিহিত কার্যমধ্যপদলোপী কর্মধারয়
নবযৌবননব যে যৌবনকর্মধারয়
গল্পপ্রেমিকগল্প প্রেমিক যেকর্মধারয়
জ্যোৎস্নারাতজ্যোৎস্না শোভিত রাতমধ্যপদলোপী কর্মধারয়
মন্দভাগ্যমন্দ যে ভাগ্যকর্মধারয়
রান্নাঘররান্না করা ঘরমধ্যপদলোপী কর্মধারয়
জীবনপ্রদীপজীবন রূপ প্রদীপরূপক কর্মধারয়
কচুকাটাকচুর মত কাটাউপমান কর্মধারয়
শ্রম-কিণাঙ্ক-কঠিনশ্রম-কিণাঙ্কের ন্যায় কঠিনউপমান কর্মধারয়
ধরণী-মেরীধরনী রূপ মেরীরূপক কর্মধারয়

 তৎপুরুষ সমাস

 যে সমাসে পূর্বপদের শেষের বিভক্তি লোপ পায়, এবং পরপদের অর্থ প্রাধান্য পায়, তাকে তৎপুরুষ সমাস বলে। পূর্বপদের যে বিভক্তি লোপ পায়, সেই বিভক্তি অনুযায়ী তৎপুরুষ সমাসের নামকরণ করা হয়। তবে মাঝে মাঝে পূর্বপদের বিভক্তি লোপ না পেয়ে অবিকৃত থেকে যায়। তখন সেটাকে বলা হয় অলুক তৎপুরুষ। (অলুক মানে লোপ না পাওয়া, অ-লোপ)।

 যেমন, দুঃখকে প্রাপ্ত = দুঃখপ্রাপ্ত। এখানে পূর্বপদ ‘দুঃখ’র সঙ্গে থাকা দ্বিতীয়া বিভক্তি ‘কে’ লোপ পেয়েছে। আবার পরপদ ‘প্রাপ্ত’র অর্থই এখানে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। দুঃখ প্রাপ্ত হয়েছে বলেই নতুন শব্দের প্রয়োজন হয়েছে, যার জন্য বাক্যাংশটিকে সমাস করে নতুন শব্দ বানানো হয়েছে। অর্থাৎ, এখানে পূর্বপদের শেষের বিভক্তি লোপ পেয়েছে, এবং পরপদের অর্থের প্রাধান্য রক্ষিত হয়েছে। তাই এটি তৎপুরুষ সমাস।

শব্দব্যাসবাক্যসমাসের নাম
অক্ষতনয় ক্ষতনঞ তৎপুরুষ
অঙ্গুলি সংকেতঅঙ্গুলি দ্বারা সংকেততৃতীয়া তৎপুরুষ
অতিথি সৎকারঅতিথির সৎকারষষ্ঠী তৎপুরুষ
অনতিবৃহৎনয় অতি বৃহৎনঞ তৎপুরুষ
অপর্যাপ্তনয় পর্যাপ্তনঞ তৎপুরুষ
অবিশ্বাস্যনয় বিশ্বাস্যনঞ তৎপুরুষ
আবর্জনা-ভরাআবর্জনা দ্বারা ভরাতৃতীয়া তৎপুরুষ
আম-কুড়ানোআমকে কুড়ানোদ্বিতীয়া তৎপুরুষ
উপলখণ্ডউপলের খণ্ডষষ্ঠী তৎপুরুষ
কণ্বতনয়াকণ্বের তনয়াষষ্ঠী তৎপুরুষ
কর্ণকুহরকর্ণের কুহরষষ্ঠী তৎপুরুষ
কার্যক্ষতিকার্যরে ক্ষতিষষ্ঠী তৎপুরুষ
কূপমণ্ডুককূপের মণ্ডুকষষ্ঠী তৎপুরুষ
কোটরস্থিতকোটরে স্থিতসপ্তমী তৎপুরুষ
ক্ষীণজীবীক্ষীণভাবে বাঁচে যেউপপদ তৎপুরুষ
গরল-পিয়ালাগরলের পিয়ালাষষ্ঠী তৎপুরুষ
গানের আসরগানের আসরঅলুক ষষ্ঠী তৎপুরুষ
গৃহকর্ত্রীগৃহের কর্ত্রীষষ্ঠী তৎপুরুষ
জরা-মৃত্যু-ভীষণাজরা-মৃত্যুতে ভীষণাসপ্তমী তৎপুরুষ
জলসেচনজলদ্বারা সেচনতৃতীয়া তৎপুরুষ
জীবন-আবেগজীবনের আবেগষষ্ঠী তৎপুরুষ
জীবনসঞ্চারজীবনের সঞ্চারষষ্ঠী তৎপুরুষ
তপস্বিকন্যাতপস্বীর কন্যাষষ্ঠী তৎপুরুষ
তপোবনতপের নিমিত্ত বনচতুর্থী তৎপুরুষ
তপোবনদর্শনতপোবনকে দর্শনদ্বিতীয়া তৎপুরুষ
দেশপলাতকদেশ থেকে পলাতকপঞ্চমী তৎপুরুষ
দেশভঙ্গদেশকে ভঙ্গদ্বিতীয়া তৎপুরুষ
ন্যায়সঙ্গতন্যায় দ্বারা সঙ্গততৃতীয়া তৎপুরুষ
পুত্রলাভপুত্রকে লাভদ্বিতীয়া তৎপুরুষ
পুষ্পসৌরভপুষ্পের সৌরভষষ্ঠী তৎপুরুষ
পৃষ্ঠপ্রদর্শনপৃষ্ঠকে প্রদর্শনদ্বিতীয়া তৎপুরুষ
প্রাণবধপ্রাণের বধষষ্ঠী তৎপুরুষ
বজ্রসমবজ্রের সমষষ্ঠী তৎপুরুষ
বন্য-শ্বাপদ-সঙ্কুলবন্য-শ্বাপদে সঙ্কুলসপ্তমী তৎপুরুষ
বাকবিতণ্ডাবাক দ্বারা বিতণ্ডাতৃতীয়া তৎপুরুষ
বিস্ময়াপন্নবিস্ময়কে আপন্নদ্বিতীয়া তৎপুরুষ
বেআইনিবে (নয়) আইনিনঞ তৎপুরুষ
বেগসংবরণবেগকে সংবরণদ্বিতীয়া তৎপুরুষ
ভারার্পণভারের অর্পণষষ্ঠী তৎপুরুষ
ভুজবলভুজের বলষষ্ঠী তৎপুরুষ
মনোহারিণীমন হরণ করে যে নারীউপপদ তৎপুরুষ
মরু-কবিমরুর কবিষষ্ঠী তৎপুরুষ
মুখভ্রষ্টমুখ থেকে ভ্রষ্টপঞ্চমী তৎপুরুষ
যৌবন-বেগযৌবনের বেগষষ্ঠী তৎপুরুষ
রথচালনরথকে চালনদ্বিতীয় তৎপুরুষ
রথারোহণরথে আরোহণসপ্তমী তৎপুরুষ
রান্নাঘররান্নার নিমিত্ত ঘরচতুর্থী তৎপুরুষ
শরনিক্ষেপশরকে নিক্ষেপদ্বিতীয় তৎপুরুষ
শরনিক্ষেপশরের নিক্ষেপষষ্ঠী তৎপুরুষ
সন্ধ্যাপ্রদীপসন্ধ্যার প্রদীপষষ্ঠী তৎপুরুষ
সমবেদনা-ভরাসমবেদনা দিয়ে ভরাতৃতীয়া তৎপুরুষ
সিন্ধু-নীরসিন্ধুর নীরষষ্ঠী তৎপুরুষ
সুখসময়সুখের সময়ষষ্ঠী তৎপুরুষ
সেচনকলসসেচনের নিমিত্ত কলসচতুর্থী তৎপুরুষ
স্বভাবসিদ্ধস্বভাব দ্বারা সিদ্ধতৃতীয়া তৎপুরুষ

 

বহুব্রীহি সমাস

 যে  সমাসে পূর্বপদ বা পরপদ কোনটিরই অর্থের প্রাধান্য রক্ষিত হয় না, বরং সমস্ত পদ তৃতীয় কোন শব্দকে বোঝায়, তাকে বহুব্রীহি সমাস বলে। যেমন, মহান আত্মা যার = মহাত্মা। এখানে পূর্বপদ ‘মহান’ (মহা) ও পরপদ ‘আত্মা’। কিন্তু সমস্ত পদ ‘মহাত্মা’ দ্বারা মহান বা আত্মা কোনটাকেই না বুঝিয়ে এমন একজনকে বোঝাচ্ছে, যিনি মহান, যার আত্মা বা হৃদয় মহৎ। আবার, মহাত্মা বলতে মহাত্মা গান্ধীকেও বোঝানো হয়ে থাকে। কিন্তু কোন অর্থেই পূর্বপদ বা পরপদকে বোঝানো হচ্ছে না। অর্থাৎ, পূর্বপদ বা পরপদ, কোনটারই অর্থ প্রাধান্য পাচ্ছে না। সুতরাং, এটি বহুব্রীহি সমাসের উদাহরণ।

 (উল্লেখ্য, বহুব্রীহি সমাস, বিশেষ করে কিছু ব্যধিকরণ বহুব্রীহি সমাস ও উপপদ তৎপুরুষ সমাসের সমস্ত পদ প্রায় একই ধরনের হয়। ফলে এদের সমস্ত পদ দেখে আলাদা করে চেনার তেমন কোন উপায় নেই। এগুলোর সমাস নির্ণয়ের ক্ষেত্রে তাই একই ব্যাসবাক্য ও সমাস নির্ণয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আর পরীক্ষায় মূলত এগুলো উপপদ তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ হিসেবেই আসে।)

শব্দব্যাসবাক্যসমাসের নাম
অল্পপ্রাণঅল্পপ্রাণ যারবহুব্রীহি
অনসূয়ানেই অসূয়া (ঈর্ষা) যারবহুব্রীহি
অনাশ্রিতনয় আশ্রিত যেবহুব্রীহি
মন্দভাগ্যমন্দ ভাগ্য যারবহুব্রীহি
উদ্ধত-শিরউদ্ধত শির যারবহুব্রীহি
গিরি-নিঃস্রাবগিরি হতে নিঃসৃত যাবহুব্রীহি
বেওয়ারিশবে (নেই) ওয়ারিশ যারনঞর্থক বহুব্রীহি

 

দ্বিগু সমাস

দ্বিগু সমাসের সঙ্গে কর্মধারয় সমাসের বেশ মিল রয়েছে। এজন্য একে অনেকেই কর্মধারয় সমাসের অন্তর্ভূক্ত করে থাকেন। দ্বিগু সমাসেও পরপদের অর্থই প্রধান। এবং এই সমাসেও বিশেষণ পদের সঙ্গে বিশেষ্য পদের সমাস হয়। তবে এখানে বিশেষণ পদটি সর্বদাই সংখ্যাবাচক হয়, এবং সমাস হয় সমাহার বা মিলন অর্থে।

 অর্থাৎ, সমাহার বা মিলন অর্থে সংখ্যাবাচক বিশেষণের সঙ্গে বিশেষ্য পদের যে সমাস হয়, এবং পরপদের অর্থই প্রাধান্য পায়, তাকে দ্বিগু সমাস বলে। যেমন, ‘অষ্ট ধাতুর সমাহার = অষ্টধাতু’। এখানে পূর্বপদ ‘অষ্ট’ একটি সংখ্যাবাচক বিশেষণ। আর পরপদ ‘ধাতু’ বিশেষ্য। অষ্ট ধাতুর মিলন বা সমাহার অর্থে সমাস হয়ে ‘অষ্টধাতু’ সমস্ত পদটি তৈরি হয়েছে যাতে ‘ধাতু’ সম্পর্কে বলা হয়েছে। অর্থাৎ, পরপদের অর্থ প্রধান হিসেবে দেখা দিয়েছে। সুতরাং, এটি দ্বিগু সমাস।

অব্যয়ীভাব সমাস

সমাসের পূর্বপদ হিসেবে যদি অব্যয় পদ ব্যবহৃত হয়, এবং সেই অব্যয়ের অর্থই প্রধান হয়, তবে সেই সমাসকে বলা হয় অব্যয়ীভাব সমাস। যেমন, ‘মরণ পর্যন্ত = আমরণ’। এখানে পূর্বপদ হিসেবে পর্যন্ত অর্থে ‘আ’ উপসর্গ ব্যবহৃত হয়েছে। আর পরপদ ‘মরণ’। কিন্তু এখানে সমস্ত পদটিকে নতুন অর্থ দিয়েছে ‘আ’ উপসর্গটি। অর্থাৎ, এখানে ‘আ’ উপসর্গ বা অব্যয় বা পূর্বপদের অর্থ প্রাধান্য পেয়েছে। তাই এটি অব্যয়ীভাব সমাস। (উপসর্গ এক ধরনের অব্যয়সূচক শব্দাংশ। উপসর্গ বচন বা লিঙ্গ ভেদে পরিবর্তিত হয় না কিংবা বাক্যের অন্য কোন পদের পরিবর্তনেও এর কোন পরিবর্তন হয় না। এরকম আরেকটি অব্যয়সূচক শব্দাংশ হলো অনুসর্গ।)

প্রাদি সমাস

প্র, প্রতি, অনু, পরি, ইত্যাদি অব্যয় বা উপসর্গের সঙ্গে কৃৎ প্রত্যয় সাধিত বিশেষ্য বা ক্রিয়াবাচক বিশেষ্যর সমাস হলে তাকে প্রাদি সমাস বলে। যেমন, প্র (প্রকৃষ্ট) যে বচন = প্রবচন। এখানে বচন সমস্যমান পদটি একটি বিশেষ্য, যার মূল (ধাতু)বচ ধাতু বা কৃৎ প্রত্যয়। ‘প্র’ অব্যয়ের সঙ্গে কৃৎ প্রত্যয় সাধিত বিশেষ্য ‘বচন’র সমাস হয়ে সমস্ত পদ ‘প্রবচন’ শব্দটি তৈরি হয়েছে। সুতরাং, এটি প্রাদি সমাস।

নিত্য সমাস

যে সমাসের সমস্ত পদই ব্যাসবাক্যের কাজ করে, আলাদা করে ব্যাসবাক্য তৈরি করতে হয় না, তাকে নিত্য সমাস বলে। যেমন, অন্য গ্রাম = গ্রামান্তর। এখানে ‘অন্য গ্রাম’ আর ‘গ্রামান্তর’, এই বাক্যাংশ ও শব্দটির মধ্যে তেমন বিশেষকোন পার্থক্য নেই। কেবল ‘অন্য’ পদের বদলে ‘অন্তর’ পদটি ব্যবহার করা হয়েছে। তাই এটি নিত্য সমাস।

(সংগৃহীত)  

মন্তব্য করুন