Loading..

ব্লগ

রিসেট

০৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২২ ০১:০৯ অপরাহ্ণ

ব্যাপন, অভিস্রবণ ও প্রস্বেদন প্রক্রিয়া এবং উদ্ভিদ জীবনে এর প্রয়োজনীয়তা

ব্যাপন, অভিস্রবণ এবং প্রস্বেদন

ব্যাপন:

সব পদার্থই কতগুলো ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অণু দিয়ে তৈরি। এই অণুগুলি সবসময় গতিশীল বা চলমান অবস্থায় থাকে। তরল ও গ্যাসের ক্ষেত্রে অণুগুলির চলন খুব দ্রুত এবং বেশি ঘনত্বের স্থান থেকে কম ঘনত্বের দিকে অণুগুলি ছড়িয়ে পড়তে থাকে। অণুগুলির এরূপ চলন প্রক্রিয়াকে বলে ব্যাপন
কোনো মাধ্যমে কঠিন, তরল ও গ্যাসীয় পদার্থের স্বতঃস্ফুর্ত ও সমভাবে পরিব্যাপ্ত হওয়ার প্রক্রিয়াকে ব্যাপন বলে
ব্যাপন চাপ:
ব্যাপনকারী পদার্থের অণু-পরমাণুগুলির গতিশক্তির প্রভাবে এক প্রকার চাপ সৃষ্টি হয় যার প্রভাবে অধিক ঘনত্বযুক্ত স্থান থেকে কম ঘনত্ব যুক্ত স্থানে অণুগুলি ছড়িয়ে পড়ে। এ প্রকার চাপকে ব্যাপন চাপ বলে।
কোনো পদার্থের অণুর ব্যাপন ততক্ষণ চলতে থাকে যতক্ষণ না উক্ত পদার্থের অণুগুলির ঘনত্ব সর্বত্র সমান হয়।অণুগুলির ঘনত্ব সমান হওয়া মাত্রই পদার্থের ব্যাপন বন্ধ হয়ে যায়।
ঘরে সেন্ট বা আতর ছড়ালে বা ধুপ জ্বাোলে সমস্ত ঘরে তার সুবাস ছড়িয়ে পড়ে। এটি ব্যাপনের কারনে ঘটে।

ব্যাপনের গুরুত্ব:
জীবের সব রকম শারীরবৃত্তীয় কাজে ব্যাপন প্রক্রিয়ার ঘটে।
যেমন:
উদ্ভিদ সালোকসংশ্লেষণের সময় বাতাসের কার্বন ডাইঅক্সাইড গ্রহণ করে এবং অক্সিজেন ত্যাগ করে। এই কাজ ব্যাপন দ্বারা সম্ভব হয়।
জীবকোষে শ্বাস গ্রহনের সময় গ্লুকোজ জারনের জন্য অক্সিজেন ব্যবহৃত হয়। ব্যাপন ক্রিয়া দ্বারা কোষে অক্সিজেন প্রবেশ করে এবং কার্বন ডাইঅক্সাইড বের হয়ে যায়।
উদ্ভিদ দেহে শোষিত পানি বাষ্পাকারে প্রস্বেদনের মাধ্যমে দেহ থেকে ব্যাপন প্রক্রিয়ায় বের করে দেয়।
প্রাণীদের শ্বাস গ্রহনের সময় অক্সিজেন ও কার্বন ডাইঅক্সাইডের আদান-প্রদান ও রক্ত থেকে খাদ্য, অক্সিজেন প্রভৃতির লসিকায় বহন ও লসিকা থেকে কোষে পরিবহন করা ব্যাপন দ্বারা সম্পন্ন হয়।

অভিস্রবণ প্রক্রিয়াটি বোঝার জন্য আমাদের যে বিষয়ে ধারণা দরকার:

দ্রবণ: দ্রাব ও দ্রাবকের মিশ্রণের ফলে যা উৎপন্ন হয়। যেমন- চিনি (দ্রাব) ও পানি (দ্রাবক) মিশিয়ে সরবত ( দ্রবণ ) তৈরি হয়।
দ্রাব: দ্রাবকে যা দ্রবীভূত হয়। যেমন -চিনি, লবণ ইত্যাদি
দ্রাবক : দ্রাব যাতে দ্রবীভূত হয়। যেমন – পানি।
অভেদ্যপর্দা: যে পর্দা দিয়ে দ্রাবক ও দ্রাব উভয় প্রকার পদার্থের অণুগুলো চলাচল করতে পারে না তাকে অভেদ্য পর্দা বলে। যেমন- পলিথিন, কিউটিনযুক্ত কোষপ্রাচীর।
ভেদ্য পর্দা: যে পর্দা দিয়ে দ্রবণ, দ্রাব ও দ্রাবকের মিশ্রণের ফলে যা উৎপন্ন হয়। যেমন- চিনি (দ্রাব) ও পানি (দ্রাবক) মিশিয়ে সরবত ( দ্রবণ ) তৈরি হয়।
অর্ধভেদ্য পর্দা : যে পর্দা দিয়ে কেবল দ্রবণের দ্রাবক অণু (উদ্ভিদের ক্ষেত্রে পানি) চলাচল করতে পারে কিন্তু দ্রাব অণু চলাচল করতে পারে না তাকে অর্ধভেদ্য পর্দা বলে। যেমন-কোষ পর্দা, ডিমের খোসার ভিতরের পর্দা, মাছের পটকার পর্দা ইত্যাদি।
অভিস্রবণ:
একই দ্রাবক (পানি) বিশিষ্ট দুটি ভিন্ন ঘনত্বের দ্রবণ একটি অর্ধভেদ্য পর্দা দ্বারা পৃথক থাকলে যে ভৌত প্রক্রিয়ায় দ্রাবক (পানি) কম ঘনত্বের (অধিক পানি ) দ্রবণ থেকে অধিক ঘনত্বের (কম পানি) দ্রবণের দিকে ব্যাপিত হয় তাকে অভিস্রবণ বা অসমোসিস বলে।
দুটো ভিন্ন ঘনত্বের দ্রবণ একটি অর্ধভেদ্য পর্দা দিয়ে পাশাপাশি আলাদা করে রাখলে পর্দা ভেদ করে কম ঘন দ্রবণ থেকে অধিক ঘন দ্রবণের দিকে দ্রাবক অণু প্রবেশ করার প্রক্রিয়াকে অভিস্রবণ বলে
অভিস্রবণ কেবলমাত্র তরলের ক্ষেত্রে ঘটে এবং একটি অর্ধভেদ্য পর্দা অভিস্রবণের সময় দুটি তরলকে পৃথক করে রাখে।
কিসমিসের ভিতরের পানি শুকিয়ে যাওয়ার ফলে কিসমিসগুলো কুচকে গেছে। কিসমিস খেতে মিষ্টি লাগে কারণ কিসমিসের ভিতরে পানির অণুর ঘনত্ব খুবই কম এবং চিনির অণুর ঘনত্ব খুবই বেশি। এখন কিসমিসগুলো পানিতে রাখলে, নিয়ম অনুসারে চিনির (দ্রাব) অণু পানির (দ্রাবক) দিকে এবং পানির অণু চিনির দিকে ধাবিত হবে। কিন্তু কিসমিসের ক্ষেত্রে তা ঘটছে না, কিসমিসটি শুধু পানি শোষণ করে ফুলে উঠছে। কারণ কিসমিসের ভিতরে চিনির একটি গাঢ় দ্রবণ একটি পর্দা দ্বারা পানি থেকে পৃথক হয়ে আছে। ফলে শুধু পানির অণু কিসমিসের অভ্যন্তরে ব্যাপন প্রক্রিয়ায় প্রবেশ করেছে, কিন্তু চিনির অণু এই রকম পর্দা ভেদ করে বাইরে আসতে পারছে না। এ ধরনের পর্দাকে অর্ধভেদ্য পর্দা বলে।
অভিস্রবণের গুরুত্ব
বিভিন্ন প্রয়োজনীয় লবণ উদ্ভিদদেহে দ্রবীভূত অবস্থায় জীবকোষে প্রবেশ করে। জীবকোষের কোষাবরণ বা প্লাজমা পর্দা অর্ধভেদ্য পর্দা হিসেবে কাজ করে। প্লাজমা পর্দা দিয়ে অভিস্রবণ প্রক্রিয়ায় পানিতে দ্রবিভূত বিভিন্ন খনিজ লবণ কোষের মধ্যে প্রবেশ করে বা বাইরে আসে।
পানি ও পানিতে দ্রবীভূত খনিজ লবণকে একত্রে কোষ রস বা সংক্ষেপে রস বলে। সুতরাং কোষের মধ্যে বিভিন্ন জৈব-রাসায়নিক প্রক্রিয়াগুলিকে সচল রাখার জন্য অভিস্রবণের ভূমিকা খুব গুরুত্বপূর্ণ।
এ প্রক্রিয়ার দ্বারা :
উদ্ভিদ এককোষী মূলরোম দিয়ে মাটি থেকে পানি ও পানিতে দ্রবীভূত খনিজ লবণ শোষণ করতে পারে।
কোষের রসস্ফীতি ঘটে এবং কাণ্ড ও পাতাকে সতেজ এবং খাড়া রাখতে সাহায্য করে।
ফুলের পাঁপড়ি বন্ধ বা খুলতে পারে।
প্রাণীর অন্ত্রে খাদ্য শোষিত হতে পারে।

প্রস্বেদন

প্রস্বেদন বা বাষ্পমোচন উদ্ভিদের একটি বিশেষ শারীর বৃত্তীয় প্রক্রিয়া।
উদ্ভিদের বিভিন্ন শারীরবৃত্তীয় কাজের জন্য পানি অপরিহার্য। তাই উদ্ভিদ মূলরোমের সাহায্যে মাটি থেকে প্রচুর পরিমাণ পানি শোষণ করে। শোষিত পানির কিছু অংশ উদ্ভিদ তার বিভিন্ন বিপাকীয় কাজে ব্যবহার করে এবং বাকি অংশ বাষ্পাকারে বায়ুমন্ডলে পরিত্যাগ করে।
উদ্ভিদ দেহ থেকে পাতার মাধ্যমে বাষ্পাকারে বায়ুমন্ডলে পানি  পরিত্যাগ করে,এই প্রক্রিয়াকে প্রস্বেদন বা বাষ্পমোচন বলে।
প্রস্বেদন প্রধানত পত্ররন্ধ্রের মাধ্যমে হয়, এছাড়া কান্ড ও পাতার কিউটিক্‌ল এবং কান্ডের ত্বকে অবস্থিত লেন্টিসেল নামক এক বিশেষ ধরনের অঙ্গের মাধ্যমেও অল্প পরিমাণ প্রস্বেদন হয়।
সাধারণ অণুবীক্ষণ যন্ত্রের সাহায্যে পত্ররন্ধ্র এবং খালি চোখে কান্ডের লেন্টিসেল সহজে দেখা যায়।
প্রস্বেদনের পরীক্ষা
প্রয়োজনীয় উপকরণ:
টবে লাগানো গাছ, টেবিল, পানি, পলিথিন, সুতা ও ভেসলিন।
পদ্ধতি:
দুটি টবে লাগানো গাছ টেবিলের উপর রেখে গাছের গোড়ায় পরিমাণ মতো পানি দাও। একটি গাছকে পাতাযুক্ত রেখে পলিথিনের মোড়ক দিয়ে ঢেকে দিয়ে গাছের গোড়ায় পলিথিনটি সুতা দিয়ে বেঁধে ঐ স্থানে ভেসলিনের প্রলেপ দিতে হবে যাতে বাইরের থেকে বাতাস বা পানি না যেতে পারে। অপর গাছটির পাতাগুলো ছিঁড়ে ফেলে একইভাবে প্রথম গাছটির মতো পলিথিন মোড়ক দিয়ে ঢেকে ফেল। গাছ দুটিকে সূর্যের আলোতে রাখ।
পর্যবেক্ষণ :
কিছুক্ষণ পর দেখবে পাতাযুক্ত গাছের টবে পলিথিনের ভিতরে বিন্দু বিন্দু পানি জমেছে কিন্তু পাতাবিহীন গাছের টবে পলিথিনের ভিতরে পানি জমেনি। পাতাযুক্ত গাছের টবে পলিথিনের ভিতরে কেন বিন্দু বিন্দু পানি জমেছে এবং পাতাবিহীন টবে পলিথিনে কেন পানি বিন্দু জমেনি? এ পরীক্ষা থেকে তুমি কী প্রমাণ করলে? তোমার এ পর্যবেক্ষণ থেকে তুমি কী সিদ্ধান্তে উপনীত হবে?
স্থানের ভিত্তিতে প্রস্বেদন তিন প্রকার যথা-
১) পত্ররন্ধ্রীয় প্রস্বেদন,
২) ত্বকীয় বা কিউটিকুলার প্রস্বেদন এবং
৩) লেন্টিকুলার প্রস্বেদন।
প্রস্বেদনের গুরুত্ব:
উদ্ভিদ জীবনে প্রস্বেদন একটি অনিবার্য প্রক্রিয়া। প্রস্বেদনের ফলে উদ্ভিদ দেহ থেকে প্রচুর পানি বাষ্পাকারে বেরিয়ে যায়। এতে উদ্ভিদের মৃত্যুও হতে পারে। তাই আপাতদৃষ্টিতে উদ্ভিদের জীবনে প্রস্বেদনকে ক্ষতিকর প্রক্রিয়া বলেই মনে হয়। এজন্য প্রস্বেদনকে বলা হয় উদ্ভিদের জন্য এটি একটি ‘Necessary evil’. কিন্তু তবুও প্রস্বেদন উদ্ভিদ জীবনে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, প্রস্বেদনের ফলে উদ্ভিদ তার দেহ থেকে পানিকে বের করে অতিরিক্ত পানির চাপ থেকে মুক্ত করে। প্রস্বেদনের ফলে কোষ রসের ঘনত্ব বৃদ্ধি পায়। কোষ রসের ঘনত্ব বৃদ্ধি অন্ত:অভিস্রবণের সহায়ক হয়ে উদ্ভিদকে পানি ও খনিজ লবণ শোষণে সাহায্য করে। উদ্ভিদ দেহকে ঠান্ডা রাখে এবং পাতার আর্দ্রতা বজায় রাখে। প্রস্বেদনের ফলে খাদ্য তৈরির জন্য পাতায় অবিরাম পানি সরবরাহ সম্ভব হয়। পাতায় প্রস্বেদনের ফলে জাইলেম বাহিকায় পানির যে টান সৃষ্টি হয় তা মূলরোম কর্তৃক পানি শোষণে উদ্ভিদের শীর্ষে পরিবহনে সাহায্য করে।
উদ্ভিদের প্রস্বেদন প্রক্রিয়া সালোকসংশ্লেষন ও শ্বসনের মতো পরিবেশে তেমন কোনো প্রভাব রাখে না। তবে পানিচক্রে বাষ্পীভবনে অর্থাৎ ভূপৃষ্ঠের পানি জলীয়বাষ্প হিসেবে বায়ুমন্ডলে প্রেরণ করতে স্থলজ উদ্ভিদের প্রস্বেদন প্রক্রিয়া ভূমিকা রাখে। প্রস্বেদনের ফলে প্রচুর পানি বাষ্পাকারে বায়ুমন্ডলে পৌছায়।
প্রাণীজ ও খনিজ লবণের পরিবহন
আমরা জেনেছি যে উদ্ভিদ মূলের মূলরোমের সাহায্যে পানি ও খনিজ লবণ মাটি থেকে শোষণ করে। এই পানি ও খনিজ লবণের দ্রবণকে কান্ড এবং শাখা-প্রশাখার মধ্য দিয়ে পাতায় পৌছানো দরকার। কারণ পাতাই প্রধানত এগুলোকে সালোকসংশ্লেষন প্রক্রিয়ায় খাদ্য তৈরির রসদ হিসেবে ব্যবহার করে। আবার পাতায় তৈরি খাদ্য উদ্ভিদ তার দেহের বিভিন্ন অংশে যথা- কান্ড ও শাখা-প্রশাখায় পাঠিয়ে দেয়। উদ্ভিদের মূলরোম দ্বারা শোষিত পানি ও খনিজ লবণ মূল থেকে পাতায় পৌছানো এবং পাতায় তৈরি খাদ্যবস্ত্ত সারা দেহে ছড়িয়ে পড়াকে পরিবহন বলে। শোষণের মতো পরিবহন পদ্ধতিটিও উদ্ভিদের অতি গুরুত্বপূর্ণ। উদ্ভিদের পরিবহন টিস্যু – জাইলেম ও ফ্লোয়েম টিস্যুর মাধ্যমে উদ্ভিদে পরিবহন ঘটে। জাইলেমের মাধ্যমে মূল দ্বারা শোষিত পানি পাতায় যায় এবং ফ্লোয়েম দ্বারা পাতায় উৎপন্ন তরল খাদ্য সারা দেহে পরিবাহিত হয়। সুতরাং জাইলেম ও ফ্লোয়েম হলো উদ্ভিদের পরিবহনের পথ। উদ্ভিদের পরিবহন প্রক্রিয়াটি নিম্নলিখিতভাবে সম্পন্ন হয়-
উদ্ভিদের মূলরোম দিয়ে পানি অভিস্রবণ প্রক্রিয়ায় এবং পানিতে দ্রবীভূত খনিজ লবণ নিষ্ক্রিয় ও সক্রিয় শোষণ পদ্ধতিতে শোষিত হয়ে জাইলেম টিস্যুতে পৌছায়। জাইলেমের মাধ্যমে উদ্ভিদ দেহে রসের উর্ধ্বমুখী পরিবহন হয়। ফ্লোয়েমের মাধ্যমে পাতায় তৈরি খাদ্য রসের নিম্নমুখী পরিবহন হয়।
উদ্ভিদের সংবহন বা পরিবহন বলতে প্রধানত উর্ধ্বমুখী পরিবহন এবং নিম্নমুখী পরিবহনকে বোঝায়।
মাটি থেকে মূলরোমের দ্বারা শোষিত পানি ও খনিজ লবণের দ্রবণ (রস) যে জাইলেম বাহিকার মধ্য দিয়ে পাতায় পৌছায় তা একটি পরীক্ষার মাধ্যমে প্রমাণ করা যায়। এ জন্য প্রয়োজন পেপেরোমিয়া উদ্ভিদ।
এ গাছের কান্ড ও মধ্য শিরা স্বচ্ছ।
মাটি থেকে মূলরোমের দ্বারা শোষিত পানি ও খনিজ লবণের দ্রবণ (রস) যে জাইলেম বাহিকার মধ্য দিয়ে পাতায় পৌছায় তা একটি পরীক্ষার মাধ্যমে প্রমাণ করা যায়। এ জন্য প্রয়োজন পেপেরোমিয়া উদ্ভিদ।
এ গাছের কান্ড ও মধ্য শিরা স্বচ্ছ।
পানি পরিবহনের পরীক্ষা,
প্রয়োজনীয় উপকরণ:
দোপাটি অথবা পেপারোমিয়া উদ্ভিদ, বোতল, তুলা, লাল রঙ, পানি
পদ্ধতি :
একটি নরম কান্ডের দোপাটি অথবা পেপারোমিয়া উদ্ভিদ মাটি থেকে মূল সহ তুলে তার মূলগুলো পানিতে ভালো করে ধুয়ে নিতে হবে। এখন একটি বোতলে পানি নিয়ে তাতে কয়েক ফোঁটা লাল রং মিশাতে হবে। এবার গাছের মূলসহ অংশটি রঙ্গিন পানিতে ডুবিয়ে রাখতে হবে।
কয়েক ঘণ্টা পরে দেখা যাবে যে কান্ড  এবং পাতার শিরাগুলো লাল রঙ ধারণ করেছে। গাছটি বোতল থেকে তুলে কান্ডের প্রস্থচ্ছেদ বা লম্বচ্ছেদ করে অণুবীণ যন্ত্রে দেখ এবং তা লিপিবদ্ধ কর। তোমার পর্যবেক্ষণ থেকে তুমি কী সিদ্ধান্তে উপনীত হলে এবং এতে কী প্রমাণ হলো।
তোমার পর্যবেক্ষণকৃত তথ্যগুলো খাতায় লিপিবদ্ধ করে তোমার পাঠ্যবই ও শ্রেণি শিক্ষকের সহায়তা নিয়ে একট প্রতিবেদন তৈরি কর।

@@@ ব্যাপন, অভিস্রবণ ও প্রস্বেদন সম্পর্কিত সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর
১। স্থলজ উদ্ভিদে প্রস্বেদন ঘটে কি দিয়ে?
উত্তর: পাতা দিয়ে।
২। কোষ পর্দা ধরনের কি ধরনেরপর্দা?
উত্তর: কোষ পর্দা এক ধরনের অর্ধভেদ্য পর্দা।
৩। উদ্ভিদের দেহাভ্যন্তর থেকে পাতার মাধ্যমে পানি নির্গমন প্রক্রিয়াকে কি বলে?
উত্তর: প্রস্বেদন বলে।
৪। ব্যাপন অর্থ কি?
উত্তর: ব্যাপন অর্থ হলো সর্বত্র ছড়িয়ে পড়া বা সর্বত্র ব্যাপ্ত হওয়া।
৫। উদ্ভিদ কোন প্রক্রিয়ায় পানি ও খনিজ লবণ শোষণ করে?
উত্তর: অভিস্রবণ প্রক্রিয়ায়।
৬। ভেদ্য পর্দার একটি উদাহরণ?
উত্তর: কোষপ্রাচীর।
৭। পেপারোমিয়া কিসের নাম?
উত্তর: পেপারোমিয়া একটি গাছের নাম।
৮। পানিতে ডুবানো ফুলে যাওয়া কিসমিস মধুতে রাখলে কি ঘটে?
উত্তর: অভিস্রবণ।
৯। বেলি ফুলের গন্ধ ছড়িয়ে পড়ে কোন প্রক্রিয়ায়?
উত্তর: ব্যাপন প্রক্রিয়ায়।
১০। কোন পর্দা দিয়ে দ্রব ও দ্রাবক উভয়ই চলাচল করতে পারে?
উত্তর: কোষপ্রাচীর।
১১। শাপলা ফুল ফুটতে কোন প্রক্রিয়া সাহায্য করে?
উত্তর: অভিস্রবণ।
১২। পাতার আর্দ্রতা বজায় রাখে কোনটি?
উত্তর: প্রস্বেদন।
১৩। উদ্ভিদ দেহে শোষিত পানি বাষ্পাকারে প্রস্বেদনের মাধ্যমে দেহ থেকে কোন প্রক্রিয়ায় বের করে দেয়?
উত্তর: ব্যাপন প্রক্রিয়ায়।
১৪। দ্রাব ও দ্রাবকের মিশ্রণের ফলে কি উৎপন্ন হয়?
উত্তর: দ্রবণ।
১৫। প্রস্বেদনের অপর নাম কি?
উত্তর: বাষ্পমোচন।
১৬। চিনির গাঢ় দ্রবণে কিসমিস ডুবিয়ে রাখলে কি হবে?
উত্তর: অন্তঃঅভিস্র্রবণ।
১৭। প্রস্বেদন প্রধানত কোনটির মাধ্যমে হয়?
উত্তর: পত্ররন্ধ্র।
১৮। ডিমের খোসার ভেতরের পর্দার মধ্যদিয়ে কোনটি চলাচল করতে পারে?
উত্তর: দ্রাবক।
১৯। কোন টিস্যুর মাধ্যমে পাতায় উৎপন্ন খাদ্য উদ্ভিদের বিভিন্ন অংশে পৌঁছায়?
উত্তর: ফ্লোয়েম টিস্যু।
২০। তাপমাত্রা বাড়লে সাধারণত ব্যাপন হার বাড়ে না কমে?
উত্তর: বাড়ে।
২১। উদ্ভিদ কোন প্রক্রিয়ায় মূলরোমের সাহায্যে মাটি হতে পানি শোষণ করে?
উত্তর: অভিস্রবণ।
২২। কোন প্রক্রিয়াটিকে প্রয়োজনীয় উপদ্রব বলা হয়?
উত্তর: প্রস্বেদন।
২৩। নিমজ্জিত উদ্ভিদরা কোন অংশ দিয়ে পানি শোষণ করে?
উত্তর: সারাদেহ।
২৪। উদ্ভিদের মূলরোম দ্বারা শোষিত পানি পাতায় পরিবাহিত হয় কোন টিস্যুর মাধ্যমে?
উত্তর: জাইলেম।
২৫। পানি পরিবহন পরীক্ষার জন্য কোন উদ্ভিদ ব্যবহার করা উত্তম?
উত্তর: পেপেরোমিয়া।
২৬। উদ্ভিদের কোন অঙ্গে সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় খাদ্য প্রস্তুত হয়?
উত্তর: পাতা।
২৭। প্রস্বেদন প্রক্রিয়াকে কি নামে অভিহিত করা হয়?
উত্তর: প্রয়োজনীয় শত্রু/Necessary evil.
২৮। উদ্ভিদের মূলরোম দ্বারা শোষিত পানি কি কাজে ব্যবহৃত হয়?
উত্তর: বিপাক।
২৯। উদ্ভিদ কোন অঙ্গের মাধ্যমে প্রস্বেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে?
উত্তর: পাতা।
৩০ কোন প্রক্রিয়ার প্রভাবে শীতকালে গাছের সবুজ পাতা ঝরে যায়?
উত্তর: প্রস্বেদন।
৩১। জীবকোষের কোষ পর্দা কোন প্রক্রিয়ায় খনিজ লবন শোষণ করে?
উত্তর: অভিস্রবণ।
৩২। পানি ও পানিতে দ্রবীভূত খনিজ লবণকে একত্রে কি বলা হয়?
উত্তর: কোষরস।
৩৩। স্থলজ উদ্ভিদ কি দ্বারা মাটি থেকে পানি ও খনিজ লবন শোষন করে?
উত্তর: এককোষী মূলরোম দ্বারা।
৩৪। স্থলজ উদ্ভিদের মূলরোম অভিস্রবণ প্রক্রিয়ায় কি শোষণ করে?
উত্তর: কৈশিক পানি।
৩৫। কলয়েডধর্মী পদার্থসমূহ মূলত কোন প্রকৃতির?
উত্তর: পানিগ্রাহী।
৩৬।. উদ্ভিদ মাটির রস থেকে খনিজ লবণকে কয়ভাগে শোষণ করে?
উত্তর: ২ ভাগে।
৩৭।. পদার্থের অণুসমূহ সর্বদা কি অবস্থায় থাকে?
উত্তর: গতিশীল।
৩৮। উদ্ভিদ সালোকসংশ্লেষণের সময় কি গ্রহণ করে?
উত্তর: কার্বন ডাইঅক্সাইড।
৩৯। জীবকোষে শ্বসনকালে কোনটির জারণ ঘটে?
উত্তর: গ্লুকোজ।
৪০। জীবকোষে শ্বসনকালে অক্সিজেনের প্রবেশ কোন ক্রিয়ার ফলে ঘটে থাকে?
উত্তর: ব্যাপন।
৪১। প্রাণীর অন্ত্রে খাদ্য শোষিত হয় কোন প্রকিয়ায়?
উত্তর: অভিস্রবণ।
৪২। কোষে অক্মিজেন প্রবেশের প্রক্রিয়ার নাম কি?
উত্তর: ব্যাপন।
৪৩। মাছের পটকার পর্দা কোন ধরনের পর্দা?
উত্তর: অর্ধভেদ্য পর্দা।
৪৪। কোন প্রক্রিয়ায় অর্ধভেদ্য পর্দা প্রয়োজন?
উত্তর: অভিস্রবণ।
৪৫। অভেদ্য পর্দা কী?
উত্তর : যে পর্দা দিয়ে দ্রাবক ও দ্রাব উভয় প্রকার পদার্থের অণুগুলো চলাচল করতে পারে না তাকে অভেদ্য পর্দা বলে।
৪৬। বৈষম্যভেদ্য বা অর্ধভেদ্য পর্দা কী?
উত্তর : যে পর্দা দিয়ে দ্রাবক অণু চলাচল করতে পারে; কিন্তু দ্রাব অণু চলাচল করতে পারে না তাকে অর্ধভেদ্য পর্দা বলে।
৪৭। ভেদ্য পর্দা কী?
উত্তর : যে পর্দা দিয়ে দ্রাবক ও দ্রাব উভয়েরই অণু সহজে চলাচল করতে পারে তাকে ভেদ্য পর্দা বলে।
৪৮। ব্যাপন কাকে বলে?
উত্তর : যে প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কোনো দ্রব্যের অণু বেশি ঘনত্বের এলাকা থেকে কম ঘনত্বের এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে তাকে ব্যাপন প্রক্রিয়া বলে।
৪৯। ব্যাপন চাপ কাকে বলে?
উত্তর : ব্যাপনকারী পদার্থের অণু-পরমাণুগুলোর গতিশক্তির প্রভাবে অধিক ঘনত্বের স্থান থেকে কম ঘনত্বযুক্ত স্থানে অণুগুলো ছড়িয়ে পড়ায় যে চাপ সৃষ্টি হয় তাকে ব্যাপন চাপ বলে।
৫০। প্রস্বেদন কাকে বলে?
উত্তর : উদ্ভিদের দেহাভ্যন্তর থেকে পাতার মাধ্যমে বাষ্পাকারে পানি নির্গমনের প্রক্রিয়াকে প্রস্বেদন বলে।
৫১। অভিস্রবণ কী?
উত্তর : একই দ্রাবকবিশিষ্ট দুটি ভিন্ন ঘনত্বের দ্রবণ একটি অর্ধভেদ্য পর্দা দ্বারা পৃথক থাকলে যে ভৌত প্রক্রিয়ায় দ্রাবক কম ঘনত্বের দ্রবণ থেকে অধিক ঘনত্বের দ্রবণের দিকে প্রবাহিত হয় তাকে অভিস্রবণ বা অসমোসিস বলে।
৫২। প্রজনন কাকে বলে?
উত্তর : যে জটিল প্রক্রিয়ায় জীব তার প্রতিরূপ বা বংশধর সৃষ্টি করে তাকে প্রজনন বলে।
৫৩। দ্রবণ কাকে বলে?
উত্তর : যদি দুই বা ততোধিক পদার্থের এমন মিশ্রণ যেখানে পদার্থগুলো নিজ নিজ আণবিক ধর্ম বজায় রেখে একসঙ্গে মিশে একটি সমসত্ত্ব মিশ্রণ তৈরি করে, তাহলে ওই মিশ্রণকে দ্রবণ বলে।
৫৪। দ্রাবক কাকে বলে?
উত্তর : দ্রাব যাতে দ্রবীভূত হয় তাকে দ্রাবক বলে।
৫৫। দ্রাব কাকে বলে?
উত্তর : দ্রাবককে যা দ্রবীভূত করে তাকে দ্রাব বলে।
৫৬। কৈশিক পানি কী?
উত্তর : মাটির সূক্ষ্ম কণার ফাঁকে বাষ্পাকারে লেগে থাকা পানিকে কৈশিক পানি বলে।
৫৭। লেন্টিসেল কী?
উত্তর : কাষ্ঠল উদ্ভিদের বাকলের গায়ে লেন্স আকৃতির অথবা ডিম্বাকার ক্ষত চিহ্নসদৃশ স্থানগুলোকে লেন্টিসেল বলা হয়।
৫৮। উদ্ভিদের পরিবহন কী?
উত্তর : উদ্ভিদের পরিবহন বলতে প্রধানত ঊর্ধ্বমুখী বা নিম্নমুখী পরিবহনকে বোঝায়।
৫৯। রস উত্তোলন কাকে বলে?
উত্তর : যে প্রক্রিয়ায় রস উদ্ভিদের শোষণ অঞ্চল থেকে পাতা ও অন্যান্য অংশে উত্থিত হয় তাকে রস উত্তোলন বলে।
৬০। রসস্ফীতি চাপ কাকে বলে?
উত্তর : অন্ত অভিস্রবণ প্রক্রিয়ায় কোষাভ্যন্তরে পানি প্রবেশের ফলে কোষ স্ফীত হয়। কোষের এই স্ফীত অবস্থাকে রসস্ফীতি বলে।
৬১। পত্ররন্ধ্র কাকে বলে?
উত্তর : পাতা, কচি কাণ্ড, ফুলের বৃতি, পাপড়ি ইত্যাদি অঙ্গের বহিঃত্বকে দুটি রক্ষীকোষ দিয়ে পরিবেষ্টিত রন্ধ্রকে পত্ররন্ধ্র বলে।
৬২। জাইলেম কী?
উত্তর : জাইলেম হলো উদ্ভিদের পরিবহন টিস্যু।
৬৩। ইমবাইবিশন কাকে বলে?
উত্তর : কলয়েডধর্মী বিভিন্ন পদার্থ যে প্রক্রিয়ায় নানা ধরনের তরল পদার্থ শোষণ করে তাকে ইমবাইবিশন বলে।
৬৪। কিউটিকুলার প্রস্বেদন কাকে বলে?
উত্তর : কিউটিকুলের সাহায্যে যে প্রস্বেদন হয় তাকে কিউটিকুলার প্রস্বেদন বলে।
৬৫।অভিস্রবণ-এর গুরুত্ব কী?
জীবজীবনে অভিস্রবণ একটি অনিবার্য প্রক্রিয়া। এর গুরুত্ব অনেক।
জীবকোষের কোষাবরণ বা প্লাজমা পর্দা অর্ধভেদ্য পর্দা হিসেবে কাজ করে। প্লাজমা পর্দা দিয়ে অভিস্রবণ প্রক্রিয়া মাটিস্হ পানি মূলরোমের মধ্যে প্রকাশ করে বা বাইরে আসে। কোষস্থিত পানি খনিজ লবণকে দ্রবীভূত করে কোষরসে পরিণত হয়। সুতরাং কোষের মধ্য দিয়ে বিভিন্ন জৈব-রাসায়নিক প্রক্রিয়াগুলোকে সচল রাখার জন্য অভিস্রবণের ভুমিকা খুব গুরুত্বপূর্ণ। এ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে উদ্ভিদ কোষের রসস্ফীতি ঘটে। কাণ্ড ও পাতাকে সতেজ এবং খাড়া রাখতে সাহায্য করে। ফুলের পাপড়ি বন্ধ বা খুলতে পারে। তা ছাড়া প্রাণীর অন্ত্রে খাদ্য শোষিত হতে পারে।
৬৬।প্রস্বেদনের এর গুরুত্ব লিখ।
উদ্ভিদ জীবনে প্রস্বেদন একটি অনিবার্য প্রক্রিয়া।
এর গুরুত্ব নিন্মরূপ :
১. প্রস্বেদনের ফলে উদ্ভিদ তার দেহ থেকে পানি বের করে অতিরিক্ত পানির চাপ থেকে মুক্ত করে।
২. প্রস্বেদনের ফলে কোষ রসের ঘনত্ব বৃদ্ধি পায়। কোষ রসের ঘনত্ব বৃদ্ধি অন্তঃঅভিস্রবণ সহায়ক হয়ে উদ্ভিদকে পানি ও খনিজ লবণ শোষণে সাহায্য করে।
৩. প্রস্বেদন প্রক্রিয়া উদ্ভিদ দেহকে ঠাণ্ডা রাখে এবং পাতার আর্দ্রতা বজায় রাখে।
৪. প্রস্বেদনের ফলে খাদ্য তৈরির জন্য অবিরাম পানি সরবরাহ সম্ভব হয়।
৫. পাতায় প্রস্বেদনের ফলে জাইলেম বাহিকার পানির যে টান সৃষ্টি হয় তা মূলরোম কর্তৃক পানি শোষণে উদ্ভিদের শীর্ষে পরিবহনে সাহায্য করে।
৬. পানিচক্রে বাষ্পীভবনে প্রস্বেদন ভূমিকা রাখে।
৭. প্রস্বেদনের ফলে প্রচুর পানি বাষ্পাকারে বায়ুমণ্ডলে পৌঁছায়।

(সংগৃহীত)
মন্তব্য করুন