সহকারী অধ্যাপক
১০ ফেব্রুয়ারি, ২০২২ ০৪:১৬ অপরাহ্ণ
সহকারী অধ্যাপক
বায়েজিদ বোস্তামী (রহঃ) এর সংক্ষিপ্ত জীবনীঃ
বায়েজিদ বোস্তামি (রহঃ) একজন বিখ্যাত ইরানী সূফী সাধক । সুলতান-উল-আরেফিন নামেও পরিচিত। তার জন্ম ইরানের বোস্তাম শহরে।
Top of Form
বোস্তামী নামের অর্থ - যিনি বোস্তাম শহরের বাসিন্দা। হযরত বায়েজিদের দাদা একজন পার্সী ধর্মাবলম্বী ছিলেন, যিনি পরবর্তীতে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন। তার দাদার তিন ছেলে ছিল, তারা হলেন - আদম, তায়ফুর এবং আলী। তারা সকলেই কঠোর তপস্বী ছিলেন। তায়ফুর এর ছেলে হলেন বায়েজিদ। তার শৈশব সম্পর্কে খুব বেশি কিছু জানা যায় না, তবে বেশি ভাগ সময়ই তিনি নিজ বাড়ির নিভৃতে অথবা মসজিদে কাটিয়েছেন। নিভৃতচারী হওয়া সত্ত্বেও সূফী জগৎ থেকে তিনি কখনোই আলাদা থাকেননি। সূফীবাদের আলোচনা করার জন্য তিনি লোকজনকে নিজের বাড়িতে আমন্ত্রণ করতেন। বায়োজিদ কঠোর তপস্যা করতেন এবং সৃষ্টির্কতার সান্নিধ্য লাভের আশায় দুনিয়ার সকল আনন্দ-ফুর্তি থেকে নিজেকে দূরে রাখতেন। অবশেষে এটি বায়েজিদকে আত্মবিলয়- এর অবস্থায় নিয়ে যায়; সূফীবাদের মতে, শুধুমাত্র এ অবস্থাতেই একজন মানুষ সৃষ্টিকর্তার নৈকট্যলাভের কাছাকাছি পর্যায়ে নিয়ে যায়। কিন্তু সুফিবাদ নিয়ে আলেম গণ সন্তুষ্টি প্রকাশ করে না, কারণ দ্বীনের মধ্যে নতুন সৃষ্ট, তার ভাবশিষ্য মানসুর হাল্লায, যিনি নিজেকে আনাল হক দাবি করেছিলেন।
মাতৃভক্তি
বায়েজিদ বোস্তামী সম্পর্ক একটি প্রচলিত কাহিনী রয়েছে যে একদিন বায়েজিদ বোস্তামীর মা অসুস্থ ছিলেন। এক রাতে মা বায়োজিদ বোস্তামীকে পানি পান করবার জন্য পানি আনতে বলেন। বায়োজিদ ঘরে পানি না পেয়ে অন্ধকার রাতে নদী থেকে পানি নিয়ে আসেন। এসে দেখলেন মা ঘুমিয়ে আছেন। তিনি ভাবলেন মাকে জাগালে মায়ের ঘুম ভেঙ্গে যাবে,তাই তিনি পানি হাতে দাঁড়িয়ে থাকলেন। সকালে মায়ের ঘুম ভাঙার পর দেখলেন তার ছেলে পানি হাতে নিয়ে দাড়িয়ে আছে। তিনি অবাক হলেন,খুশি হলেন। মা প্রাণ ভরে ছেলের জন্য দুয়া করেন। আল্লাহ মায়ের দুয়া কবুল করলেন। পরে পৃথিবী খ্যাত ওলি বায়োজিদ বোস্তামি নামে পরিচিত হলেন। এটি ইসলামের নৈতিক মূল্যবোধের একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।
বায়েজিদ বোস্তামী (রহঃ) এর মাজার
বাংলাদেশের
চট্টগ্রামের নাসিরাবাদ সেনানিবাসের নিকটবর্তী একটি দরগাহ "বায়েজিদ
বোস্তামির মাজার" হিসেবে প্রসিদ্ধ। কিন্তু বায়োজিদ বোস্তামি নামের কোন
ঐতিহাসিক ব্যক্তিত্ব কখনো বাংলাদেশে এসেছে, এমন ইতিহাস নেই।
চট্টগ্রামে তার নামে পরিচিত মাজারটি হচ্ছে একটি প্রতিকৃতি বা অনুকৃতি মাত্র। তবে
অনেক মানুষ বিশ্বাস করেন যে, বায়োজিদ বোস্তামি বাংলাদেশে
আগমন করেছিলেন। খ্রিষ্টীয় অষ্টম শতাব্দীর দিকে আরব বনিকরা চট্টগ্রাম উপকূলে আসা
যাওয়া করত। সুতরাং নবম শতাব্দীতে বায়েজিদ বোস্তামির চট্টগ্রামে আগমন অসম্ভব কিছু
নয়। কিন্তু এটি একটি ধারণা মাত্র। এর
স্বপক্ষে এখন পর্যন্ত কোন সুস্পষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায় নি
।
বায়েজিদ
বোস্তামীর (রহঃ) উল্লেখযোগ্য উপদেশ হলো
১. একবার তার কাছে প্রশ্ন
করা হলো, মানুষ আত্মশুদ্ধির চূড়ান্ত অবস্থায় কখন পৌঁছাতে
পারে? তিনি জবাব দিলেন, যখন
মানুষ সৃষ্টিজগত থেকে পৃথক হয়ে নির্জনে নিজের দোষত্রুটির কথা চিন্তা-ভাবনা করে তা
থেকে নিজেকে শুধরে নেয়। তিনি আরও বলেন, এর দ্বারা আল্লাহর
নৈকট্যও হাসিল হয়।
২. বায়েজিদ বোস্তামিকে
লোকেরা জিজ্ঞেস করল, হুজুর! নামাজের খাঁটি ও আসল পরিচয় কি?
তিনি জাবাব দিলেন, যার দ্বারা দীদারে
ইলাহী হতে পারে, সেটাই প্রকৃত নামাজ। তবে তা খুব কঠিন কাজ,
কিন্তু মানুষের সাধ্যাতীত নয়।
৩. আমি ভেবে দেখলাম যে,
আমার শাস্তি পাওয়ার মূল হেতু কোন বস্তু? দেখা গেল গাফলতি (আলস্য) ছাড়া আর কিছু নয়। পরে তিনি বললেন, মানুষের সামান্য গাফলতি দোজখের আগুনের কারণ হবে। অতএব সাবধান হও।
৪. বায়েজিদ বোস্তামী বেশি
বেশি আল্লাহর জিকিরে মগ্ন থাকতেন। তার পরও
বলতেন, ওহে মাবুদ! সারা জীবন আমি আপনার নাম স্মরণ করেছি
একান্ত উদাসীনভাবে। আমি এক চরম অকৃতজ্ঞ। জানিনা, আপনার
সাথে আমি সাক্ষাতের যোগ্য বলে বিবেচিত হবো কি না। তিনি মানুষকে বেশি বেশি জিকিরের
প্রতি তাগাদা দিতেন।
৫৩
৯১ মন্তব্য