ব্লাকবোর্ড ছাড়া শ্রেণিকক্ষ আমরা চিন্তাও করতে পারি না। কালো এক টুকরা কাঠ হলেও শ্রেণিতে শিক্ষজের পিছনে থাকতে হবে। সেই প্রাথমিক থেকে শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত সকল শ্রেণিকক্ষেই ব্লাকবোর্ড গুরুত্ব অনস্বীকার্য । শ্রেণিকক্ষে অন্য যে কোন আসবাব পত্র বা উপকরণ না থাকলেও মেনে নেয়া যায় কিন্তু ব্লাকবোর্ড ছাড়া শ্রেণিকক্ষ কল্পনা করা যায় না। আমাদের এই উপ মহাদেশে ব্লাকবোর্ড বলা হলেও অন্যান্য দেশে চক বোর্ড নামে পরিচিত।তবে কালো কেউই থাকতে চায় না, সবাই যেমন স্নো-পাউডার লাগিয়ে ফর্সা হতে চায় তেমনি ব্লাকবোর্ড অনেক আগ থেকেই পদোন্নতি নিয়ে হোয়াইট বোর্ড,ব্লুবোর্ড ইত্যাদি নামে রুপের পরিবর্তন হয়েছে। শুধু তাহাই নয়, আগে কাঠ থেকে এর জন্মলাভ হলেও প্লাই,হার্ডবোর্ড,সিমেন্ট,গ্রাউন্ডগ্লাশ,এসবেস্টস,স্লেট,প্লাস্টিক ইত্যাদি বিভিন্ন বিভিন্ন দ্রব্য হতে জন্মলাভ করায় কাঠ অভিমান করে শুধু ফ্রেমের মধ্যে নিজেকে গুটিয়ে নিয়েছে। আর ডিজিটাল বোর্ডের অনুপ্রবেশ ইতোমধ্যে কোথাও কোথাও শুরু হয়েছে। এমন কী আমাদের কিছু স্কুলেও ডিজিটাল স্মার্ট বোর্ডের সীমিত ব্যবহার আছে।সেদিন বেশি দুরে নয় যেদিন ল্যাপ্টপ,ওএইচপি এর মত স্মার্ট বোর্ড প্রত্যেক প্রাথমিক বিদ্যালয়ে থাকবে । আর ব্লাকবোর্ড আগামী প্রজন্ম জাদুঘরে দেখে বলবে এটা দিয়ে কীভাবে পড়াশুনোয় কাজে লাগত।
আমাদের প্রাথমিক-মাধ্যমিক শিক্ষা জীবনে আয়তকার কাঠের ব্লাকবোর্ড দেয়ালে দুই পাশে দুইটা রিং এর মধ্যে দড়ি দিয়ে শ্রেণিকক্ষের দেয়ালে ঝুলিয়ে দিত।ওটায় লিখতে গেলে নড়াচাড়া করত।লম্বায় এক মিটার আর প্রস্থে পৌণে এক মিটার ছিল।বড় গণিতের সমাধান বিশেষ করে ঐকিক নিয়মের গণিত বোর্ডের সীমিত স্থানে হত না।তখন মনে মনে ভাবতাম এটাকে আরও বড় করা যায় না।পরে কলেজে-ভার্সিটিতে যেয়ে দেখি দেয়াল জুড়ে বড় আকারের ব্লাকবোর্ড । আর চাকরিতে প্রবেশের পর দেশে-বিদেশে উচ্চ শিক্ষা,সেমিনার-সিম্পোজিয়াম,ওয়াকশপে অংশগ্রহণের সুযোগে বিভিন্ন ডিজাইনের বোর্ডের দেখা পাই।এখন ব্লাক বোর্ডের ব্লাকের স্থানে হোয়াইট বা ব্লু বা গ্রিন কালারের চকবোর্ডের আধিপত্য দিন দিন বেড়ে যাচ্ছে।পাশাপাশি সাদা চকের স্থলে বিভিন্ন কালারের স্টিক বা পেনের ব্যবহার বাড়ছে।বোর্ডের লেখা মুছার জন্য ডাস্টারের পাশে আধুনিক প্রযুক্তির ছোঁয়া লেগেছে।এই রকম একটা গুরুত্বপূর্ণ উপকরণের ব্যবহার বিধি না জানার কারণে ছাত্র-শিক্ষক সকলেই এর সুফল থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।এটা ছাড়া কোন শ্রেণিকক্ষে অনেকক্ষেত্রেই এর কাঠামো দায়সারাগোছের। এখনো অধিকাংশ ইবতেদায়ী মাদ্রাসা এবং কিছু সদ্য জাতীয়করণকৃত প্রাথমিক বিদ্যালয়েছোট্ট একটা বোর্ড দড়ি দিয়ে কোন রকমে ঝুলিয়ে রাখছে। এতে লেখার সময় বৃদ্ধের দাঁতের মত নড়চড়ে।তাদের ধারণা ছোট ক্লাশের শিশুদের জন্য ছোট বোর্ড। এ ধারণা সম্পূর্ণ ভুল।শিশুদের জন্য বড় বোর্ড দরকার।তাই, আমাদের প্রাকপ্রাথমিকের শ্রেণির প্রায় চারদিকের দেয়াল জুড়েই শিশুর নাগালের মধ্যে প্রশস্ত বোর্ড তৈরি করছি, যাতে শিশুরা মনের মত করা লিখতে,আঁকতে পারে।তাই এই নিবন্ধে ব্লাকবোর্ড/চকবোর্ডের কিছু তথ্য দেওয়ার চেষ্টা করা হলো, যদি কোন কাজে আসে।
একটি চকবোর্ড বা ব্ল্যাকবোর্ড হল একটি পুনঃব্যবহারযোগ্য লেখার পৃষ্ঠ যার উপর ক্যালসিয়াম সালফেট বা ক্যালসিয়াম কার্বনেটের লাঠি দিয়ে পাঠ্য বা অঙ্কন তৈরি করা হয়, যখন এই উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হয়, চক হিসাবে পরিচিত। আধুনিক সংস্করণগুলি সবুজ কারণ রঙটি চোখের উপর সহজ বলে মনে করা হয়।
শ্রেণির মেঝে থেকে চকবোর্ডের গোড়া পর্যন্ত উচ্চতা # প্রাথমিক শ্রেণীকক্ষ ০.৫৪ মি: # মাধ্যমিক শ্রেণীকক্ষ ০.৬৪ মি: # উচ্চ শ্রেণিকক্ষ ০.৭৬ মি:। একটি ভাল চকবোর্ড শিক্ষার্থীদের নাগালের মধ্যে থাকা উচিত। আবার প্রাথমিকে গ্রেড 1-2 এর জন্য 28 ইঞ্চি' 3-4 গ্রেডের জন্য 32 ইঞ্চি এবং 5-6 গ্রেডের জন্য 36 ইঞ্চি থাকা উচিত ।
একটি ভাল চকবোর্ডের বৈশিষ্ট্য:
# একটি চকবোর্ডের জন্য প্রস্তাবিত আকার হল 5m*6m। # চকবোর্ডের পৃষ্ঠটি বোর্ডে লেখা ধরে রাখার জন্য যথেষ্ট খসখসে হওয়া উচিত। # লেখা সহজেই কাপড় বা ফোম দিয়ে অপসারণযোগ্য হবে। চকবোর্ডটি শিক্ষকের নাগালের মধ্যে এবং শিক্ষার্থীদের দৃশ্যমান উপযুক্ত উচ্চতায় করা উচিত।
চকবোর্ড/ব্লাকবোর্ড ব্যবহারের কিছু টিপস:
# আপনার বোর্ডের কাজ সংগঠিত করুন।# শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ত করুন # আপনি যা লিখেছেন তা আপনার শিক্ষার্থীদের দেখতে এবং পড়তে দিন। # আপনি যা লিখেছেন তা লিখে নেওয়ার জন্য শিক্ষার্থীদের সময় দিন। # শিক্ষার্থীরা কী লিখেছেন তা পরীক্ষা করুন # অপ্রাসঙ্গিক উপাদান মুছে ফেলুন # আপনি যদি ভুল করে থাকেন তা ব্যাখ্যা করে তবে তা মুছে ফেলুন# কিছু বাদ গেলে তা লিখুন।# শ্রেণি ত্যাগ করার আগে বোর্ডের লেখা মুছতে ভুলবেন না।(চলবে)
মোঃ দেলোয়ার হোসেন
প্রাক্তন উপ- পরিচালক
ডিপিই,ঢাকা।
৭১
১৪৫ মন্তব্য