সিনিয়র শিক্ষক
২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২২ ০৭:৪৫ পূর্বাহ্ণ
সিনিয়র শিক্ষক
বরই এমন একটি ফল যা শিশু থেকে শুরু করে বৃদ্ধ পর্যন্ত কম বেশি সব বয়সি মানুষের কাছেই অত্যন্ত প্রিয় ফল। তবে খেতে টক হওয়ার দরুন, বিশেষত মেয়েরা বরই বলতেই পাগল। ভাবুন তো একটা বরই এবং তার সাথে সামান্য লবণ এবং মরিচের গুড়া, একসাথে খাচ্ছেন, আপনার জিভে জল চলে এসেছে, তাই না? এ বিষয়ে আমি না দেখেই নিশ্চিত ভাবে বলে দিতে পারি।
এই মুখরোচক ফলটি শীতকালে আমাদের দেশের প্রায় সর্বত্রই পাওয়া যায়। খেতে সুস্বাদু হওয়ার পাশাপাশি নানান রকম গুণাগুণ সম্পন্ন ফল এই বড়ই।
আপনি মজা করে বরই খেলেন আর সাথে মুক্তিও পেয়ে গেলেন বিভিন্ন রোগের হাত থেকে, আপনাকে নতুন করে ঔষধ খেতে হল না, তাহলে কেমন হয়?
আজ আলোচনা করব বরই এর এমন সকল গুণাগুণ নিয়ে, যেগুলো হয়ত আপনি জানেনই না।
বরই এর সাথে কাউকে নতুন করে পরিচয় করে দেয়ার কি প্রয়োজন আছে? আমাদের দেশের ছোট্ট শিশুরাও এই ফলটির সাথে পরিচিত। বড়ই অবশ্য বিভিন্ন জায়গায় কুল নামেও পরিচিত। এটি কাচা এবং পাকা উভয় অবস্থাতেই খাওয়া যায়।
এটি সাধারনত একটি শীতকালীন ফল, তবে এর কিছু জাত বর্তমানে বারো মাসই পাওয়া যায়। আমাদের দেশের প্রায় সব ধরনের মাটিতেই বরই জন্মায়।
বরই এর বিভিন্ন জাতের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলঃ
১) দেশি টক বরই
২) নারকেল বরই
৩) আপেল কুল
৪) বাউ কুল
৫) থাই কুল ইত্যাদি।
পতিত জায়গায়, ছাদ কিংবা বেলকুনিতে বরই এর গাছ লাগানো যায়। আবার বড়ই এর বাগান করাও অত্যন্ত লাভজনক। টক মিষ্টি স্বাদের এই ফলটিতে আছে প্রচুর পরিমাণ ভিটামিন সি। এছাড়াও বরই নানান রকম ভেষজ ও পুষ্টি গুণাগুণে ভরপুর।
এসকল গুণাগুণ নিয়ে বিস্তারিত বর্ণনা থাকবে এই পোস্টটিতে।
বড়ই কেন খাবেন, না বলে বলা উচিৎ কেনো খাবেন না বরই? বরই খেতে ভীষণ সুস্বাদু। বড়ই অনেকটাই সহজল্ভ্য শহর এবং গ্রাম জুড়ে। আমাদের দেশের প্রায় সর্বত্রই পাওয়া যায় বরই।
সিজনাল টাইমে মানে শীতকালে বেশ অল্প দামেই বিক্রি হয় বরই। একটু লবণ ছিটিয়ে দেশি টক বরই খেতে বড়ই মজা। আর বিভিন্ন ধরনের বরইয়ের আচার খেতে অতুলনীয়। এছাড়া বরইয়ে রয়েছে নানান রকমের ভিটামিন, পুষ্টি গুণাগুণ, ভেষজ উপকারিতা। বড়ই খেলে দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়।
আর বাসার সামনে পড়ে থাকা জায়গায়, বেলকুনিতে কিংবা বাসার ছাদে সহজেই বরইয়ের গাছ লাগানো যায়। এছাড়াও বরইয়ের উপকারিতা আরো নানাবিধ। তাই দেহের পুষ্টি গুণাগুণ এর অভাব পূরনের জন্য, ভিটামিনের চাহিদা পূরনের জন্য বরই খাওয়া উচিৎ।
বরইয়ে রয়েছে প্রচুর পরিমাণ ভিটামিন সি, খনিজ লবণ, ক্যালসিয়াম, ফসফরাস, আয়রন ইত্যাদি। এছাড়াও বরইয়ে আছে আরো অনেক পুষ্টি গুণাগুন।
৮০ গ্রাম কুল বরই এ যে সকল খাদ্য উপাদান বিদ্যমান তার একটি তালিকা নিচে দেওয়া হলঃ
| উপাদানের নাম | পরিমান |
| ক্যালরি | ২৯ কিলো ক্যালরি |
| আমিষ | ০.০৫ গ্রাম |
| চর্বি | ০.১০ গ্রাম |
| কার্বহাইড্রেট | ৭.০০ গ্রাম |
| ফাইবার | ১.৭০ গ্রাম |
| পটাশিয়াম | ১৯২ মিলিগ্রাম |
বরই এর নানাবিধ উপকারিতা রয়েছে। বরই এর কিছু উপকারিতা সম্পর্কে নিচে আলোচনা করছি।
বরই এন্টি অক্সিডেন্ট এর খুব ভালো উৎস। যার উপস্থিতে অক্সিজেন অন্য কোন উপাদানের সাথে বিক্রিয়া করে দেহকোষের ক্ষতিসাধন করতে পারে না।
এতে এন্থোসায়ানিন রয়েছে প্রচুর পরিমাণে। বরই এবং কুল এই রক্ষাকারী উপাদানে ভরপুর।
বরই এ ভিটামিন ও এন্টিঅক্সিডেন্ট থাকার ফলে এটি দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। মৌসুমি অসুখ যেমনঃ জ্বর, সর্দি, কাশি থেকেও দেহকে সুরক্ষা প্রদান করে।
এছাড়া এতে থাকা ভিটামিন সি সংক্রামক রোগ এবং বিভিন্ন ঘা হওয়া থেকে শরীরকে রক্ষা করে।
বরই হার্টকে ভালো রাখে। কারন এতে রয়েছে পলিফেনোলস যা কার্ডিও ভাস্কুলার ঝুঁকি এড়াতে সাহায্য করে। আর বরই রক্ত চলাচল স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করে, যার ফলে হার্ট সচল থাকে।
বরইয়ে ক্লোরোজেনিক এসিড থাকে। এই এসিড রক্তের শর্করা এর ভারসাম্য রক্ষা করতে সাহায্য করে এবং ক্ষুধা নিয়ন্ত্রন করে।
আর এতে থাকা ফাইবার উপাদান রক্তের সুগার বাড়তে দেয় না এবং নিয়ন্ত্রনে রাখে।
বরইয়ে ফাইটোকেমিকেল থাকার দরুন শরীর এর প্রদাহ কমে যায়। এর ফলে হৃদ রোগের ঝুকি কমে যায়। এবং বরই হার্ট এর অন্যান্য অসুখ হওয়ার থেকেও আমাদের রক্ষা করে।
বরইয়ে রয়েছে ক্যান্সার কোষ, টিউমার কোষ এবং লিউকোমিয়ার বিরুদ্ধে লড়াই করার ক্ষমতা। এটিকে এন্টি-ক্যান্সার ফল বলা হয়।
বরই রক্তকে বিশুদ্ধ করতে সাহায্য করে। উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি কমিয়ে এবং রক্ত থেকে দূষিত পদার্থ পরিশোধিত করে রক্তকে বিশুদ্ধ করে।
এটি ডায়ারিয়া, রক্তশূন্যতা, স্থুলতা ইত্যাদি থেকে শরীরকে রক্ষা করে।
বরইযকৃতের নানান ধরনের রোগ প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে। যকৃতকে পরিশুদ্ধ রাখে, এবং এর কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি করে।
বরই খাবার হজম করতে সাহায্য করে। বরইয়ে খাবার পরিপাকে সহায়ক এনজাইমের উপস্থিতি রয়েছে।
তাই ভরপেটে বরই খেলে তা খাদ্য হজমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
বরইয়ে এমন উপাদান আছে যা মানসিক দুশ্চিন্তা ও অবসাদ কে দূরে রাখতে সাহায্য করে। দেহ ও মনকে রিফ্রেশ করার ক্ষমতা রয়েছে বরইয়ে।
বড়ইয়ের অধিকতর পলিফেনোল পদার্থ ব্রেইনকে কার্যকর করতে সাহায্য করে। এবং এর ফলে দেহের কগনিটিভ ফাংশন এর উন্নতি সাধন হয়।
বরইয়ের আচার এবং চাটনি অত্যন্ত মুখরোচক খাবার। এগুলো দৈনন্দিন খাবারের সাথে খাওয়া যায়। এর ফলে খাবারের স্বাদ বৃদ্ধি করে।
বরইয়ে ক্যালসিয়াম থাকাই তা হাড়ের ক্ষয় রোধ করতে সাহায্য করে। শুকনা বড়ই ক্ষয়ে যাওয়া হাড়কে রিকভার করতেও সাহায্য করে।
বরই খেলে ইনসোমনিয়া এবং অনিদ্রা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। এর মধ্যে থাকা শক্তিশালী ক্যামিক্যাল ব্রেইনকে শান্তি প্রদান করে, যার ফলে ভালো ঘুম হয়।
বরই পেটকে পরিষ্কার করে। কারও যদি কোষ্ঠকাঠিন্য থাকে, তার বেশি করে বরই খাওয়া উচিৎ। বড়ই খেলে কোষ্ঠকাঠিন্য দূর হয়ে যায়।
বরইয়ের বাগান করে কর্মসংস্থান গড়া যায়। এছাড়া বরইয়ের ব্যাবসা করে স্বাবলম্বী হওয়া যায়।
বরইয়ের আচার, জ্যাম, জেলি ইত্যাদি প্রক্রিয়াজাত করে অর্থ উপার্জন করা যায়। এসকল পণ্যের বাজারে বেশ ভালো চাহিদা রয়েছে।
সূত্র: https://bdbasics.com/benefits-of-plum/
৭০
১৪৪ মন্তব্য