Loading..

ব্লগ

রিসেট

০২ মার্চ, ২০২২ ০৭:৩৭ অপরাহ্ণ

ম্যাজিকের মতো কাজ করে অ্যাপেল সাইডার ভিনিগার, গুনাগুণ জানলে চমকে যাবেন আপনিও!

ম্যাজিকের মতো কাজ করে অ্যাপেল সাইডার ভিনিগার, গুনাগুণ জানলে চমকে যাবেন আপনিও

 ফরাসিতে ভিনিগার শব্দের অর্থ 'সাওয়ার ওয়াইন'। সাধারণত ভিনিগার বলতে টক ওয়ানইকেই বোঝায়। বিভিন্ন ঘরগৃহস্থালীর কাজে যেমন এই আপেল সিডার ভিনিগার ব্যবহৃত হয়। আমরা জানি যে অ্যাপেল সিডার ভিনিগারের অনেক উপকারিতা রয়েছে। সেই কারণে অনেকেই নিয়মিত ভাবে অ্যাপেল সিডার ভিনিগার খেয়ে থাকেন। রান্নাবান্নায় এর অবাধ যাতায়াত। তবে শুধু রান্নার ক্ষেত্রেই নয়, আপেল সিডার ভিনিগারের উপকারিতার আরও নানা দিক রয়েছে। ফরাসিতে ভিনিগার শব্দের অর্থ ‘সাওয়ার ওয়াইন’। সাধারণত ভিনিগার বলতে টক ওয়ানইকেই বোঝায়। আপেল সিডার ভিনিগারের ক্ষেত্রে আপেলের রসে ইস্ট ও ব্যাকটিরিয়া মিশিয়ে তাকে প্রস্তুত করা হয়। স্বাস্থ্যকর নানা কারণে এই ভিনিগারকে ডায়েটে রাখার পরামর্শ দেন চিকিৎসকরাও। প্রথম দফায় আপেলের রসের সঙ্গে ইস্ট ফারমেন্টেড হয়ে আপেলের রসকে অ্যালকোহলে পরিণত করে পরের ধাপে তা অ্যাসিটিক অ্যাসিড দিয়ে ফের ফারমেন্টেড করা হয়। অবশেষে তা ভিনিগারে পরিণত হয়। বিভিন্ন ঘরগৃহস্থালীর কাজে যেমন এই আপেল সিডার ভিনিগার উপকারী, তেমনই শরীরের নানা অসুখবিসুখেও কাজে আসে এটি। এই ভিনিগার সৌন্দর্যরক্ষায়ও কাজে লাগে। কিন্তু ভিনিগার অ্যাসিডিক হওয়ার কারণে তা দৈনিক খাদ্যতালিকায় যোগ করার ক্ষেত্রে কিছু বিধিনিয়ম পালন করা জরুরি।

·        রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে থাকবে-

বেশ কিছু গবেষণায় দেখা গেছে অ্যাপেল সাইডার ভিনিগার খাওয়া শুরু করলে ইনসুলিনের কর্মক্ষমতা মারাত্মকভাবে বেড়ে যায়। ফলে স্বাভাবিকভাবেই রক্তে শর্করার মাত্রা প্রায় ৩১ শতাংশ কমে যায়। তবে এতসব উপকার পেতে এক মাস অন্তত এই পানীয়টি খেতে হবে। এখন প্রশ্ন হল, ডায়াবেটিসের মতো রোগকে দূরে রাখতে কীভাবে পান করতে হবে এই ভিনিগার? এক্ষেত্রে রাতে ঘুম যাওয়ার আগে ২৫০ এম.এল জলে ২ টেবিল চামচ অ্যাপেল সাইডার ভিনিগার মিশিয়ে পান করতে হবে। তাবেই মিলবে উপকার।

·        ওজন নিয়ন্ত্রণ-

ডাক্তারের পরামর্শ মতো অ্যাপেল সাইডার ভিনিগারকে যদি রোজের ডায়েটে অন্তর্ভুক্ত করা যায়, তাহলে কিন্তু বাস্তবিকই ওজন নিয়ন্ত্রণে চলে আসতে সময় লাগে না। আসলে এই পানীয়টিতে (apple cider vinegar weight loss drink)উপস্থিত নানাবিধ উপকারি উপাদান শরীরে প্রবেশ করা মাত্র এমন খেল দেখায় যে খিদে কমে যেতে শুরু করে। আর কম পরিমাণে খাওয়ার খারণে স্বাভাবিকভাবেই ওজন কমতে সময় লাগে না। তবে একটা জিনিস মাথায় রাখতে হবে যে শুধু এই পানীয়টি খেলে কিন্তু তেমন একটা উপকার মিলবে না। ফল তখনই পাবে, যখন শারীরিক পরিশ্রম করার পাশাপাশি এই পানীয়টি পান করা শুরু করবে। দিনে বড় চামচের দু’চামচ বেশি আপেল সিডার খাবেন না, খেলেও চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে নেবেন। এ ছাড়া যখনই এই ভিনিগার খাবেন, তা অবশ্যই জলের সঙ্গে মিশিয়ে পাতলা করে ফেলতে হবে।

·        ডায়াবেটিসের সমস্যায় উপকারী-

ডায়াবিটিসের সমস্যায় এই ভিনিগার উপকারী। মূলত ইনসুলিন তৈরি করতে না পারা বা ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্টের কারণেই রক্তে শর্করার পরিমাণ বাড়ে। খাওয়াদাওয়ার আধ ঘণ্টা আগে এক গ্লাস জলে এক চামচ আপেল সিডার মিশিয়ে খেলে রক্তে শর্করার পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে থাকে। মূলত শরীরচর্চার ক্ষেত্রে এই আপেল সিডারের কথা উঠলে অনেকেই কেবল ইউরিক অ্যাসিড নিয়ন্ত্রণের দিকটাই ভাবেন, তবে এই বিশেষ উপকার ছাড়াও আপেল সিডারের আরও নানা কার্যকর দিক রয়েছে। হজমের সমস্যাতে মেটাতেও এই ভিনিগার খুব কার্যকর। গরম জলে এক চামচ আপেল সিডার ভিনিগারে বদহজম থেকে মুক্তি মেলে সহজেই।

·        মুখের দুর্গন্ধ দূর হয়-

মুখগহ্বরে ক্ষতিকর ব্যাকটেরয়াদের মাত্রা বৃদ্ধি পেলেই মূলত দুর্গন্ধ বের শুরু করে। আর ঠিক এই কারণেই তো এমন সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে অ্যাপেল সাইডার ভিনিগার ব্যবহার করার প্রয়োজন রয়েছে। আসলে নিয়মিত এক গ্লাস জলে পরিমাণ মতো ভিনিগার মিশিয়ে গার্গেল করা শুরু করলে ক্ষতিকর জীবাণুরা সব মারা পরে (apple cider vinegar cures)। ফলে স্বাভাবিকভাবেই মুখ থেকে বদ গন্ধ বেরনোর আশঙ্কা আর থাকে না বললেই চলে! একথা জানা আছে কি সারা দিন নানাভাবে বিষাক্ত উপাদানেরা সব আমাদের শরীরে প্রবেশ করে। আর এই সব টক্সিক উপাদানদের যদি ঠিক সময় শরীর থেকে বের করে দেওয়া না যায়, তাহলে কিন্তু মহা বিপদ! কিন্তু প্রশ্ন হল এই কাজটি করবে কীভাবে? এক্ষেত্রে প্রতিদিন জল এবং অ্যাপেল সাইডার ভিনিগার মিশিয়ে পান করতে হবে। এমনটা করলে শরীরের ইতিউতি জমে থাকা ক্ষতিকর উপাদানেরা সব বেরিয়ে যাবে।

·        চুলের হারিয়ে যাওয়া আর্দ্রতা ফিরে আসে-

শীতকাল মানেই ত্বকের পাশাপাশি চুলের আর্দ্রতা যায় কমে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই হেয়ার ফলের মাত্রা তো বাড়বেই, সেই সঙ্গে চুলে জট এবং ড্রাই স্ক্যাল্পের মতো সমস্যাও লেজুড় হতে পারে। এমনকি বাড়তে পারে খুশকির প্রকোপও। কিন্তু যদি চাও তাহলে এই সব সমস্যা থেকে কিন্তু দূরে থাকতে পারো। তবে তার জন্য চুলের যত্নে কাজে লাগাতে হবে অ্যাপেল সাইডার ভিনিগারকে, তাহলেই দেখবে কেল্লা ফতে! আসলে এই বিশেষ ধরনের ভিনিগারটি চুল এবং স্ক্যাল্পের আদ্রতা যাতে কমে না যায়, সেদিকে খেয়াল রাখে। ফলে চুলের সৌন্দর্য কমে যাওয়ার আশঙ্কা যেমন কমে, তেমনি নানাবিধ স্ক্যাল্পের সমস্যাও দূরে থাকতে বাধ্য হয়। এত ঠাণ্ডাতেও চুলকে আদ্র রাখতে এক কাপ অ্যাপেল সাইডার ভিনিগারে ২ কাপ জল মিশিয়ে তৈরি করতে হবে একটি মিশ্রণ। তারপর সেই মিশ্রনের সাহায্যে ভালো করে ধুয়ে ফেলতে হবে চুল। প্রসঙ্গত, এমনভাবে প্রতিদিন চুলের পরিচর্যা করলেই দেখবে ফল মিলবে একেবারে হাতে-নাতে! শ্যাম্পু করার পর চুল ধুয়ে নিন আপেল সিডার ভিনিগার মেশানো জল দিয়ে। কন্ডিশনারের সমান উপকার পাবেন। চুল নরম হবে, ব্যাকটিরিয়ার উপস্থিতির জন্য খুশকির সমস্যাও কমবে দ্রুত।

সূত্র: ই-সময় অনলাইন ডেস্ক।

মন্তব্য করুন

ব্লগ