সহকারী শিক্ষক
০৫ মার্চ, ২০২২ ০২:১১ অপরাহ্ণ
সহকারী শিক্ষক
ছদ্মশিক্ষণ ও অনুশিক্ষণ কী?
ছদ্মশিক্ষণ ও অণুশিক্ষণ আসলে শিক্ষার্থীদের শিখন-শেখানোর কোনো পদ্ধতি বা কৌশল নয়। ছদ্মশিক্ষণ ও অণুশিক্ষণ হলো শিক্ষকদের জন্য শিখন-শিক্ষণ দক্ষতাসমূহ অর্জনের দুইটি পদ্ধতি।
ছদ্মশিক্ষণে একজন শিক্ষার্থী (প্রশিক্ষণার্থী) শিক্ষকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হন আর কয়েক জন সহপাঠী শিক্ষক শিক্ষার্থীর ভূমিকা গ্রহণ করেন। প্রশিক্ষণার্থী-শিক্ষক নির্দিষ্ট পাঠটি কৃত্রিম শ্রেণি পরিবেশে উপস্থাপনের পর শিক্ষকের আচরণ সম্পর্কে আলোচনা করা হয়। এভাবে শিক্ষককের সুনির্দিষ্ট দক্ষতা ফলাবর্তন প্রদানের মাধ্যমে উন্নয়ন করা হয়। এ প্রক্রিয়ায় শিক্ষকের দক্ষতা উন্নয়নের ক্ষেত্রে কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে। এই সীমাবদ্ধতা দূরীকরণে শিক্ষকগণের দক্ষতার উন্নয়নে যে পদ্ধতিটির আশ্রয় নেওয়া হয় তা হল অণুশিক্ষণ।
ছদ্মশিক্ষণ হলো এমন একটি শিক্ষণ কৌশল যা বয়স্ক অংশগ্রহণকারীদের বাস্তব জীবনের পরিস্থিতি সৃষ্টির মাধ্যমে জ্ঞান, দক্ষতা, যোগ্যতা ও আচরণিক পরিবর্তন আনয়নে সহায়তা করে। “ছদ্মশিক্ষণ হলো বাস্তব পরিস্থিতির একটি সরলীকৃত মডেল।” (চ্যাপিন, ১৯৬৯)। “ছদ্মশিক্ষণ হলো বাস্তব বিশ্ব পরিস্থিতির অবিকল চিত্র যা শিখনে মূল্যবান।
ছদ্মশিক্ষণ ইংরেজি হলো সিমুলেশন (Simulation)। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর বিমান বাহিনীর পাইলটদের ট্রেনিংয়ের জন্য ছদ্মশিক্ষণের নিয়মতান্ত্রিক ব্যবহার শুরু হয়। তবে অনেকের মতে বিংশ শতাব্দীর শেষের দিকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে ছদ্মশিক্ষণ জ্ঞানগত ও আবেগিকভাবে শিক্ষার্থীদেরকে তৎপর করতে সক্ষম হয়েছে।
ছদ্মশিক্ষণের মাধ্যমে অংশগ্রহণকারী শিক্ষক পরিকল্পিতভাবে পাঠ উপস্থাপন করেন। তার পাঠ উপস্থাপনের দুর্বলতাগুলোকে তারই সহকর্মী প্রশিক্ষণার্থী শিক্ষক গঠনমূলক আলোচনা ও সমালোচনার মাধ্যমে শুধরিয়ে নিতে সাহায্য করেন।
একজন প্রশিক্ষণার্থী শিক্ষককে দিয়ে যদি একই বিষয়ে বা বিভিন্ন বিষয়ে ছদ্মশিক্ষণের মাধ্যমে কয়েকটি পাঠ উপস্থাপন করানো যায় এবং ফলাবর্তনের মাধ্যমে তাকে শুধরিয়ে নেওয়া যায় তাহলে শিক্ষক হিসেবে কার্যসম্পাদনের জন্য তার মধ্যে আত্মবিশ্বাস, ধৈর্য্য, ধীরস্থির ও গতিশীল মনোভাব সৃষ্টি হবে।
ছদ্মশিক্ষণের মাধ্যমে শিখন-শেখানোর বিভিন্ন কৌশল অর্জনের জন্য অংশগ্রহণকারীদের নিম্নোক্ত ধাপ অনুসরণ করতে হয়:
ছদ্মশিক্ষণে কখনো কখনো অন্যান্য শিক্ষণ পদ্ধতির প্রয়োগে গুরুত্ব কমে যায়মাইক্রো (Micro) শব্দের অর্থ হলো খুব ছোটো বা অণু এবং টিচিং (Teaching) শব্দের অর্থ হলো শিক্ষাদান। মাইক্রো টিচিং (Micro teaching) অর্থ হলো অণুশিক্ষণ।
এ পদ্ধতিতে একজন প্রশিক্ষণার্থী শিক্ষক ৫/৬ মিনিট সময়ে শিক্ষাদান অনুশীলনের মাধ্যমে শিক্ষণের একটি কৌশল আয়ত্ত করার চেষ্টা করেন। কোনো কোনো সময় একটি কৌশল আয়ত্ত করার জন্য প্রশিক্ষণার্থী শিক্ষককে বার বার চেষ্টা করতে হয়। শিক্ষক প্রশিক্ষক শিক্ষণ কৌশল প্রয়োগের ত্রুটিগুলো ধরিয়ে দিয়ে প্রশিক্ষণার্থীকে শুধরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন।
অনুশিক্ষণ হল শিক্ষণ দক্ষতা অনুশীলনের এক ধরনের প্রক্রিয়া যেখানে স্বল্প সময়, সীমিত পাঠ্যবিষয় ও অল্পসংখ্যক শিক্ষক ছাত্রের (Peer Students) সমন্বয়ে গঠিত পরিবেশে শিক্ষকদের শিক্ষণ দক্ষতার অনুশীলন করানো হয় ।
শিক্ষণের সবগুলো কৌশল একবারে আয়ত্ত না করে অনুশীলনের মাধ্যমে মাত্র একটি করে কৌশল একবারে আয়ত্ত করতে হয়।
সমগ্র শিক্ষাদানকে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অংশে বিভক্ত করে প্রত্যেকটিকে পৃথক পৃথকভাবে অনুশীলন করাই অণুশিক্ষণ। সুতরাং অণুশিক্ষণ এমন এক নিয়ন্ত্রিত ব্যবস্থা যার মাধ্যমে নির্দিষ্ট শিক্ষণ দক্ষতা বারবার অনুশীলন করা যায়।
মাইক্রোটিচ একটি শিক্ষাদান পদ্ধতি। এই পদ্ধতিতে অল্প সংখ্যক শিক্ষার্থী নিয়ে ছোট ছোট কোন বিষয়বস্তু সম্পর্কে স্বল্পসময়ে পাঠদান করা হয়। বাংলায় একে বলে অনুশিক্ষন পদ্ধতি। মাইক্রোটিচিং পদ্ধতির তিনটি অংশ- মাইক্রো লেসন, মাইক্রো ক্লাস এবং মাইক্রো টাইম। এই পদ্ধতিতে শিক্ষাদানের সব কৌশল একত্রে আয়ত্ত না করে সামগ্রিকভাবে শিক্ষার বিষয়বস্তুকে ছোট ছোট অংশে ভাগ করে অনুশীলনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের আয়ত্ত করানো হয়। মাইক্রোটিচিং মূলত নিয়ন্ত্রিত পরীক্ষাগারে বিকশিত হয়। এটি শিক্ষকদের শিখন দক্ষতা বৃদ্ধির কার্যকারী কৌশল হিসেবে বিবেচিত। এর লক্ষ্য শিক্ষাদান পদ্ধতিকে শক্তিশালী করা, ব্যক্তিগত সবল দিক ও উন্নয়নের ক্ষেত্র চিহ্নিত করা, শিক্ষার্থীর বোধগম্যতার উন্নয়ন সাধন, বিভিন্ন কার্যকর শিখন পদ্ধতির উন্নয়ন এবং কার্যকর ফলাফল প্রয়োগ ও গ্রহণ ক্ষমতার উন্নয়ন।
১৯৫০ সালের শেষ দিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটির ডুইট ডব্লিউ অ্যালেন, রবার্ট বুশ এবং কিম রোমনি প্রথম মাইক্রোটিচিংয়ের ধারণা উপস্থাপন করেন। ১৯৬০ সালের দিকে ডুইট ডব্লিউ অ্যালেন ও তাঁর সহকর্মীদের মাধ্যমে এই পদ্ধতি আরো বিকশিত হয়। তাদের উপস্থাপিত টিচিং পদ্ধতি হল টিচ, রিভিউ, রিফ্ল্যাক্ট এন্ড রিটিচিং। ১৯৭০ সালের কানাডার ব্রিটিশ কলাম্বিয়া এডুকেশন মিনিস্ট্রি তাদের প্রশিক্ষণ সহায়ক কার্যক্রম হিসেবে এই পদ্ধতি গ্রহন করে। ১৯৮০ ও ১৯৯০ এর দশকে এই পদ্ধতি আরো বাস্তবধর্মী ও কার্যকরী ভাবে দক্ষিণ আফ্রিকা ও চীনে বিকাশ লাভ করে। একবিংশ শতাব্দীর শুরু থেকে এই পদ্ধতি আধুনিক শিক্ষা পদ্ধতিতে সম্পৃক্ত হয়ে নতুন মাত্রা লাভ করে। বর্তমানে এই পদ্ধতি কানাডা আমেরিকা সহ বিশ্বব্যাপী অত্যন্ত জনপ্রিয় এবং কার্যকর একটি পদ্ধতি।
পরবর্তীকালে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার ফার ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয় আরও ৪টি দক্ষতাসহ মোট ১৮টি দক্ষতা তালিকাভুক্ত করে। সেগুলো হলো –
(সংগৃহীত)
ততথ্যসূত্রঃঃ বিশ্লেষণ ডটকম
৫৩
৯২ মন্তব্য