প্রাণের অস্তিত্বের জন্যই সবুজ বৃক্ষরাজি ও বনায়নের প্রয়োজন অপরিসীম। মানুষের অস্তিত্ব রক্ষার অনুকূল পরিবেশ তৈরিতে বনায়নের জুড়ি নেই। বনাঞ্চল একদিকে নিসর্গের শোভা বাড়ায়, অন্যদিকে প্রকৃতি ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় অসাধারণ ভূমিকা পালন করে। বনভূমি বায়ুমণ্ডলকে বিশুদ্ধ ও শীতল রাখতে সাহায্য করে। যেখানে গাছপালা ও বনভূমি বেশি, সেখানে ভালো বৃষ্টিপাত হয়। ফলে ভূমিতে পানির পরিমাণ বাড়ে, চাষাবাদ ও ফল-ফসল ভালো হয়। তাছাড়া গাছপালা মাটির উর্বরতা বাড়ায়, ভূমির ক্ষয়রোধ করে। ঝড়-বৃষ্টি ও বন্যা প্রতিরোধেও গাছপালা সহায়তা করে।
প্রাকৃতিক দুর্যোগপ্রবণ দেশের পরিবেশগত বিপর্যয় ঠেকাতেও প্রয়োজন ব্যাপক বনাঞ্চল। যাদের অবস্থান এর বিপরীতে, তারা জাতীয় শত্রু। তাদের মূলোৎপাটনে ঐক্যবদ্ধ প্রয়াস জরুরি। দেশের প্রায় সর্বত্র বনভূমি জবরদখলের খবর পত্রপত্রিকায় চোখে পড়ে। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অপূর্ব জলাভূমি সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্যসহ যেকোনো বনভূমি শুধু রক্ষণাবেক্ষণ নয়, সম্প্রসারণও করতে হবে। একই সঙ্গে সামাজিক বনায়ন কর্মসূচি জোরদার করা চাই। মহাবিপর্যয় ও দুর্যোগ থেকে পরিবেশ রক্ষার একমাত্র উপায়, দেশে পর্যাপ্ত পরিমাণে বনাঞ্চল সৃষ্টি করে প্রাকৃতিক ভারসাম্য অক্ষুণ্ন রাখা। এদিকে নজর না দিলে ভয়াবহ অবস্থার সৃষ্টি হবে। সমস্যাটি আরও প্রকট হয়ে ওঠার আগে যেখানে সম্ভব বনাঞ্চল তৈরি করতে হবে। অন্যথায় প্রাকৃতিক মহাবিপর্যয়ের সম্মুখীন হতে হবে। মোট কথা, প্রকৃতির ওপর যথেচ্ছাচার থেকে মানুষকে বিরত থাকতে হবে।
৫৩
৯২ মন্তব্য