Loading..

ব্লগ

রিসেট

২২ মার্চ, ২০২২ ১১:৫৯ পূর্বাহ্ণ

এক নজরে দেশের বিভিন্ন সরকারি টিচার্স ট্রেনিং কলেজসমূহ

এক নজরেঃ

সরকারি টিচার্স ট্রেনিং কলেজ ঢাকা

সরকারি টিচার্স ট্রেনিং কলেজ ঢাকা বাংলাদেশে মাধ্যমিক স্তরে শিক্ষক প্রশিক্ষণ ও শিক্ষা ক্ষেত্রে মানবসম্পদ তৈরিতে বাংলাদেশ সরকারের শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর বাংলাদেশ, ঢাকা’য় অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান।

শ্রেণিকক্ষে প্রতিফল উপযোগী প্রয়োজনীয় শিক্ষণ দক্ষতায় বিদ্যালয় শিক্ষকদের প্রশিক্ষিত ও সমৃদ্ধ করার লক্ষ্য নিয়ে ঢাকার আর্মানিটোলায় ১৯০৯ সালে তৎকালীন ব্রিটিশ আমলে সরকারিভাবে প্রতিষ্ঠিত হয় উপমহাদেশের শিক্ষক প্রশিক্ষণের পথিকৃৎ প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান ‘টিচার্স ট্রেনিং কলেজ, ঢাকা’ এবং ১৯০৯-১০ শিক্ষাবর্ষে এটি মাত্র ১২ জন প্রশিক্ষণার্থী নিয়ে এক বছরব্যাপী প্রশিক্ষণ ‘ব্যাচেলর অব টিচিং’ এবং ছয়মাসব্যাপী প্রশিক্ষণ ‘লাইসেন্সিয়েট অব ট্রেনিং’ কোর্স শুরু করে। ১৯৫৬ সাল থেকে দশ মাসব্যাপী প্রশিক্ষণ ‘ব্যাচেলর অব এডুকেশন (বিএড)’ কোর্স প্রবর্তিত হয়। এবং প্রতিষ্ঠানটি ধানমণ্ডির নিউমার্কেট এলাকায় স্থানান্তরিত হয়।

১৯৮৮-৮৯ শিক্ষাবর্ষে দশমাস ব্যাপী এম.এড প্রশিক্ষণ এবং ১৯৯৫-৯৬ শিক্ষাবর্ষে দেশে মধ্যম সারির শিক্ষা বিশেষজ্ঞ তৈরির লক্ষ্য নিয়ে চার বছরব্যাপী ‘শিক্ষা (সম্মান)’ কোর্স চালু করা হয়। পরবর্তীতে ২০০৫-০৬ শিক্ষাবর্ষ থেকে ‘ব্যাচেলর অব এডুকেশন’ (বি.এড) একবছর ব্যাপী কোর্সে রূপান্তরিত হয়।

জাতীয় প্রেক্ষাপট ও সময়ের প্রয়োজনে সরকারি টিচার্স ট্রেনিং কলেজ, ঢাকা’র বর্তমান প্রশাসনিক, একাডেমিক কাঠামো এবং ভৌত  অবকাঠামো গড়ে উঠেছে। সময়ের সাথে সাথে শিক্ষকদের প্রশিক্ষণে নতুন নতুন বিষয়ে কর্মকালীন সংক্ষিপ্ত প্রশিক্ষণও ঐ প্রতিষ্ঠানটি বর্তমানে পরিচালনা করছে।

অত্র কলেজটি প্রশাসনিকভাবে বাংলাদেশ সরকারের শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর বাংলাদেশ, ঢাকা’র নিয়ন্ত্রণাধীন একটি শিক্ষক প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান। একাডেমিক দিক থেকে কলেজটি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে অধিভূক্ত। কলেজটি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে শিক্ষায় বিএড, এমএড ও শিক্ষায় সম্মান কোর্স পরিচালনা করে।
এক নজরের এ কলেজের তথ্যসমূহ নিম্নে তুলে ধরা হলো।

স্থাপিত: ০৬ জানুয়ারি ১৯০৯

অনুমোদিত পদ: ৬৪ টি

কর্মরত:  ৫৯ জন

হোস্টেল: ০৪ টি

কম্পিউটার ল্যাব: ০৫ টি

ভবন: ১০টি

আয়তন: ৮.২৫ একর

কোর্সসমূহ: ব্যাচেলর অফ এডুকেশন, মাস্টার্স অফ এডুকেশন, বিএড অনার্স

ইনসার্ভিস প্রশিক্ষণসমূহ: ধারাবাহিক পেশাগত উন্নয়ন প্রশিক্ষণ, জীবন দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষার উপর প্রশিক্ষণ, শিক্ষকদের জন্য মৌলিক আইসিটি ট্রেনিং, উচ্চতর আইসিটি ট্রেনিং (প্রোগ্রামিং, ওয়েব ডেভলাপমেন্ট, গ্রাফিক্স ডিজাইন), অটিজম সচেতনতা প্রশিক্ষণ


কলেজের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস

এক নজরে কলেজ পরিচিতি

 সরকারি টিচার্স ট্রেনিং কলেজ, রাজশাহী

অবস্থান ও ঠিকানা
মহল্লা সিপাইপাড়া
থানা রাজপাড়া
জেলা রাজপাড়া
মৌজা দরগাপাড়া
খতিয়ান নং ৩২৩
জমির পরিমাণ ১৪ একর

 

একাডেমিক  ভবন ও অন্যান্য

 

বিবরণ সংখ্যা
প্রশাসনিক ভবন ০১
তিনতলা ভবন ০২
দুইতলা ভবন ০১
একতলা ভবন ০১
টিনসেড ভবন ০১
অডিটোরিয়াম ০১
অধ্যক্ষের বাসভবন ০১
কর্মকর্তাগণের বাসভবন ০৬
গ্যারেজ ০২
মসজিদ ০১
খেলার মাঠ ০১
পুকুর ০১
বাগান ০২

 

এক নজরেঃ

 সরকারি টিচার্স ট্রেনিং কলেজ, খুলনা

শিক্ষা বিস্তারের মাপকাঠি হিসেবে মানুষকেই প্রথম উপাদান মনে করেছেন অনেক মনীষীগণ। Man is measure of all things. শিক্ষাই সমস্ত গুণের আধার এবং শিক্ষাই মানুষকে জ্ঞানার্জনে সাহায্য করে। শিক্ষার দ্বারাই মানুষের অন্তর্নিহিত গুণাবলির বিকাশ ও উৎকর্ষ সাধিত হয়। আমাদের দেশে শিক্ষার উদ্দেশ্য চারটি-জ্ঞান, দক্ষতা, দৃষ্টিভংগির পরিবর্তন এবং তথ্য-প্রযুক্তির জ্ঞান। উপযুক্ত জ্ঞানার্জনের জন্য চাই উপযুক্ত শিক্ষাদান। শিক্ষাদানের প্রধান লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হল শিক্ষার্থীদের পরিপূর্ণ বিকাশে সহায়তা করা। আর এই লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য অর্জনের পূর্বশর্ত হল যথোপযুক্ত শিক্ষক-প্রশিক্ষণ। শিক্ষকদের পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধি, জ্ঞানের সমন্বয় সাধন, উন্নতি ও সঠিক পন্থায় তা বিতরণের জন্য প্রশিক্ষণ অপরিহার্য। শিক্ষক প্রশিক্ষণের এই গুরু দায়িত্ব নিতে ১৯৭০ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় সরকারি টিচার্স ট্রেনিং কলেজ, খুলনা।

মোট ৭.২৫ একর জায়গা নিয়ে খুলনা জেলার আড়ংঘাটা থানার অন্তর্গত খুলনা প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন কুয়েট রোডের পশ্চিম পাশে মনোরম পরিবেশে অবস্থিত। ক্যাম্পাসে রয়েছে একটা বিশাল বড় খেলার মাঠ, তিন তলা একাডেমিক ও প্রশাসনিক ভবন, একটি দোতলা মসজিদ, বঙ্গবন্ধু নামে ছেলেদের একটি দোতলা এক্সটেনশনসহ তিনতলা হোস্টেল, শেখ রাসেল নামে আরও একটি তিন তলা হোস্টেল এবং বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুননেছা নামে মেয়েদের জন্য একটি তিন তলা হোস্টেল। ছেলে ও মেয়েদের হোস্টেলে একই সাথে প্রায় ৪৫০ জন শিক্ষার্থী অবস্থান করতে পারে। এখানে আরও রয়েছে “সুন্দরবন” নামে একটি সুন্দর গেস্ট হাউজ। এই গেস্ট হাউজে আধুনিক কিছু সুযোগ-সুবিধা রয়েছে।

প্রতিষ্ঠা লগ্ন থেকেই এই কলেজে বি. এড. কোর্স চালু ছিল। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে বি. এড. ডিগ্রী প্রত্যাশি শিক্ষকগণ এক বছরের জন্য এখানে প্রশিক্ষণে আসেন। বি. এড. শ্রেণিতে প্রতি বছর মোট ৬০০ শিক্ষার্থী ভর্তি হওয়ার সুযোগ পায়। উচ্চ শিক্ষার জন্য এই কলেজে এক বছর মেয়াদী মাস্টার্স (এম. এড.) কোর্স চালু আছে। এই কোর্সের আসন সংখ্যা ১০০। এই মাস্টার্স (এম. এড.) কোর্সটি বাংলাদেশের যে কোন বিশ্ববিদ্যালয়ের যে কোন বিষয়ের মাস্টার্স কোর্সের সমমানের। ২০১৬ শিক্ষাবর্ষ থেকে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন চার বছর মেয়াদী অনার্স কোর্স চালু করা হয়েছে। এতে আসন সংখ্যা ৫০। ভর্তির যোগ্যতা যে কোন ডিসিপ্লিন থেকে ইন্টারমিডিয়েট পাশ। এখান থেকে অনার্স বা/ও মাস্টার্স পাশ করলে শিক্ষার্থীরা বিসিএসসহ, স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা, শিক্ষা অফিস, ব্যাংক, বীমায় চাকুরি করার যোগ্যতা অর্জন করে। আবার সরাসরি এমফিল, পিএইচডি ডিগ্রী করারও পথ উন্মুক্ত থাকে। বিদেশি যে কোন শিক্ষা সম্পর্কিত প্রতিষ্ঠানে বা বিদেশেও রয়েছে অপার সুযোগ। গত কয়েক বছরের পরিসংখ্যান বলছে- বিএড অনার্স শিক্ষার্থীরা বিসিএস পরীক্ষায় মেধা তালিকার শীর্ষে রয়েছে। এই কলেজে মোট ৩১ জন দেশ-বিদেশের উচ্চ শিক্ষিত এবং প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত শিক্ষক ও অধ্যাপক রয়েছে। এদের শ্রেণি পাঠদান শিক্ষার্থীদের অনেক সমৃদ্ধ করে তুলছে। এই উচ্চ শিক্ষিত ও প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত শিক্ষক-অধ্যাপকগণ সেরা প্রযুক্তি এবং সর্বোচ্চ মানের নিশ্চয়তা দিয়ে শ্রেণি পাঠদান কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকেন।

এরপর এই কলেজ দেশের বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা, কারিগরি শিক্ষকদের স্বল্প কালীন যেমন: সিপিডি, আইসিটি, অটিজম, এসটিসি প্রভৃতি প্রশিক্ষণদানে অনন্য ভূমিকা পালন করছে। প্রশিক্ষণদানে তথা শ্রেণি পাঠদানের জন্য কলেজের প্রত্যেকটি কক্ষই মাল্টিমিডিয়া যুক্ত। এছাড়াও পুরো কলেজ রয়েছে সিসি ক্যামেরার আওতাভুক্ত।

ছবি

219c7fe6283dfc8d2323af3430e2e319

এক নজরে

সরকারি টিচার্স ট্রেনিং কলেজ, সিলেট

শিক্ষণ ও শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়নের জন্য প্রয়োজন উপযুক্ত ও দক্ষ শিক্ষক। এ জন্যে প্রয়োজন শিক্ষকদের পেশাগত প্রশিক্ষণ। অবস্থার গুরুত্ব বিবেচনা করে এ অঞ্চলে একটি সরকারি টিচার্স ট্রেনিং কলেজ প্রতিষ্ঠার দাবী জোরালো হয়ে ঊঠে। এ ক্ষেত্রে মাধ্যমিক শিক্ষকবৃন্দের সমর্থনে সিলেট বিভাগের সচেতন নাগরিকবৃন্দও এগিয়ে আসেন। বহু আবেদন-নিবেদনে কোন ফল না হওয়ায় মাধ্যমিক শিক্ষক সংগঠনগুলো এ দাবীকে কেন্দ্র করে বহু কর্মসূচি পালন করে। এমতাবস্থায় মাধ্যমিক শিক্ষক নেতৃবৃন্দ সিলেট বিভাগের কৃতি সন্তান জনাব হুমায়ূন রশীদ চৌধুরী (তৎকালীন স্পিকার, বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ) মহোদয়ের সাথে সাক্ষাৎ করেন এবং সিলেটে একটি সরকারি টিচার্স ট্রেনিং কলেজ প্রতিষ্ঠায় তাঁর ব্যক্তিগত উদ্যোগ গ্রহণের প্রতিশ্রুতি আদায় করেন। এভাবে ১৯৯৯-২০০০ অর্থ বছরে বৃহত্তর সিলেট, ফরিদপুর ও পাবনা জেলায় একটি করে তিনটি শিক্ষক প্রশিক্ষণ মহাবিদ্যালয় স্থাপন ও উচ্চ শিক্ষায় নিয়োজিত শিক্ষকগণের প্রশিক্ষণ শীর্ষক প্রকল্প গৃহীত হয়। এ প্রকল্পের আওতায় ২০০১ সালের মার্চ মাসে সিলেট শহরের পূর্ব শাহী ঈদগাহ্‌ এলাকায় অবস্থিত টিবি হাসপাতাল সংলগ্ন পূর্বদিকে ৩ (তিন) একর ভূমি অধিগ্রহণ করা হয়। বাস্তবায়নের কার্যকরী পদক্ষেপ হিসেবে ২০০১ সালের ২৯ এপ্রিল কলেজের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করেন জনাব হুমায়ূন রশীদ চৌধুরী (তৎকালীন মাননীয় স্পিকার, বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ)। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি মোতাবেক  ০২ জুলাই, ২০০৫ তারিখ পাঠদান কার্যক্রম শুরু হলেও আনুষ্ঠানিকভাবে কলেজ উদ্বোধন করা হয় ২৩ জুলাই, ২০০৫ খ্রি (১০ শ্রাবণ, ১৪১২ বাংলা), শনিবার। সময়ের পরিক্রমায় সরকারি টিচার্স ট্রেনিং কলেজ, সিলেট অনেক এগিয়েছে। বর্তমানে ১ (এক)  বছর মেয়াদী বিএড কোর্সের পাশাপাশি ৪ (চার) বছর মেয়াদী শিক্ষায় সম্মান কোর্স ও  ১ (এক) বছর মেয়াদী এমএড কোর্স চালু রয়েছে। এখানে দীর্ঘ মেয়াদী কোর্সের পাশাপাশি স্বল্প মেয়াদী বিভিন্ন কোর্সও চলমান রয়েছে। শিক্ষকদের পেশাগত মান উন্নয়ন এবং আধুনিক ও বিশ্বমানের শিক্ষক তৈরিতে সরকারি টিচার্স ট্রেনিং কলেজ, সিলেট কাজ করে চলেছে।

সরকারি টিচার্স ট্রেনিং কলেজ,চট্টগ্রাম

কলেজের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস

দেশের মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষকদের পেশাগত প্রশিক্ষণ প্রদানে ১৪টি সরকারি টিচার্স ট্রেনিং কলেজের মধ্যে টিচার্স ট্রেনিং কলেজ চট্টগ্রাম অন্যতম। পুঁথিগত জ্ঞানার্জনের সাথে সাথে কর্মক্ষেত্রে প্রকৃত অর্থে কর্মদক্ষতা অর্জনের জন্য পেশাগত প্রশিক্ষণ অন্যতম শর্ত। টিচার্স ট্রেনিং কলেজসমূহে বি.এড (প্রফেশনাল) ও এম.এড (প্রফেশনাল) প্রোগ্রামের মাধ্যমে মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষকদের জন্য জ্ঞান, দক্ষতা, প্রজ্ঞা অর্জনের পাশাপাশি শ্রেণিকক্ষে পাঠদানে তাঁদেরকে আত্মপ্রত্যয়ী ও দক্ষ শিক্ষক হিসাবে গড়ে তোলার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। 
এ প্রতিষ্ঠানটি ১৯৫৮ সালে নর্মাল স্কুল হিসাবে যাত্রা শুরু করে সর্বপ্রথম পর্তুগীজ পাহাড়ে তথা বর্তমান চট্টগ্রাম কলেজের পশ্চিম পাশের পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থিত চট্টগ্রাম সরকারি স্কুলের স্থলে। ১৯৫৮ সালের ১ জুলাইয়ে এ’টি জুনিয়র ট্রেনিং কলেজ-এ রূপান্তরিত হয়। পরবর্তীতে কুমিল্লা বোর্ড আই.এড. কোর্সে শিক্ষার্থী ভর্তির অনুমতি দেয়। ১৯৭২ সালের ২০ আগস্টে ৩ বছর মেয়াদী বিএ-ইন-এডুকেশন চালু হয়। ১৯৭৭ সালটি ছিল এ কলেজের এক স্মরণীয় বর্ষ। সে বছরের ১ জুলাই থেকে ১০ মাস মেয়াদী বি.এড. প্রোগ্রাম চালুর মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি কলেজ হিসাবে পূর্ণতা পায়। এটি ছিল অত্র এলাকা তথা বৃহত্তর চট্টগ্রামের জনগণের প্রাণের আকাংখা। তখন থেকেই এটি পূর্ণাঙ্গ টিচার্স ট্রেনিং কলেজের মর্যাদা লাভ করে এবং বাকলিয়ায় বর্তমান অবস্থানে স্থানান্তরিত হয়। ১৯৯৪ সালে অন্যান্য ট্রেনিং কলেজগুলির সাথে সাথে এ কলেজেও ডাবল শিফ্ট-এর কার্যক্রম শুরু হলে বি.এড.-এ প্রায় দ্বিগুণ প্রশিক্ষণার্থী ভর্তি হওয়ার সুযোগ পায়। ১৯৯৬ সালটি ছিল এ কলেজের জন্য বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। এ বছরের জুলাই থেকে এম.এড. প্রোগ্রাম-এ প্রশিক্ষণার্থী ভর্তির অনুমতি দেয় জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়। কলেজ সংলগ্ন মাধ্যমিক শিক্ষা ও বিজ্ঞান উন্নয়ন কেন্দ্রে ১৯৮৭ সাল থেকে মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষকদের পেশাগত দক্ষতা উন্নয়নের লক্ষ্যে বিভিন্ন বিষয়ে স্বল্প মেয়াদী কোর্স পরিচালিত হয়ে আসত।
প্রতি বছর জুলাই থেকে ১০ মাস মেয়াদী বি.এড. ও এম.এড. কোর্সে প্রশিক্ষণার্থীরা ভর্তি হতো। ২০০৬ শিক্ষাবর্ষ থেকে বি.এড. কোর্স এর মেয়াদ এক বৎসরে উন্নীত করা হয় এবং কারিকুলামে ব্যাপক পরিবর্তন আনা হয়। বর্তমানে বি.এড. ও এম.এড. উভয় কোর্সই ১ বছর মেয়াদি এবং প্রতি বছর জানুয়ারিতে প্রশিক্ষণার্থীরা ভর্তি হন।

বর্তমানে বি.এড (প্রফেশনাল) ও এম.এড (প্রফেশনাল) প্রোগ্রাম ৬ মাস মেয়াদি সেমিস্টার ভিত্তিক পরিচালিত হচ্ছে।  বি.এড (প্রফেশনাল)-এর ১ম সেমিস্টারে ৪টি আবশ্যিক ও ২টি ২টি নৈর্বাচনিক কোর্স নিতে হয়। দ্বিতীয় সেমিস্টারে ২টি আবশ্যিক ও ১টি ঐচ্ছিক কোর্স থাকে। প্রতি সেমিস্টারে বিদ্যালয় পর্যায়ে 'পাঠদান অনুশীলন' কার্যক্রম থাকে।

এম.এড (প্রফেশনাল)-এ প্রতি সেমিস্টারে ৩টি আবশ্যিক ও ২টি গুচ্ছ থেকে ২টি  করে নৈর্বাচনিক কোর্স নিতে হয়। সে সাথে গবেষণা বিষয়টি নেওয়ার সুযোগ আছে।

নিয়মিত শিক্ষক্রমের পাশাপাশি বিভিন্ন সহপাঠক্রমিক কার্যক্রমেরও ব্যবস্থা আছে।এগুলির মধ্যে বার্ষিক ক্রীড়া, অভ্যন্তরীণ ক্রীড়া, বার্ষিকী প্রকাশ, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা, নাটক মঞ্চায়ন, বৃক্ষরোপন, শিক্ষা সফর, বিতর্ক, মিলাদ মাহফিল, রক্তদান কর্মসূচি অন্যতম। ক্রীড়া প্রতিযোগিতাসমূহ পরিচালনার জন্য হাউস গঠন করা হয়। এছাড়া শিক্ষাবর্ষের শুরুতে নির্দলীয় ও প্যানেলবিহীন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।

কলেজের প্রশাসনিক ও একাডেমিক কার্যক্রমের জন্য রয়েছে ৩টি ভবন। ১টি পুরুষ হোস্টেল, ১টি মহিলা হোস্টেল ও বিজ্ঞান উন্নয়ন কেন্দ্রের ১টি হোস্টেল রয়েছে। কলেজের ২টি মাইক্রোকার আছে। ওয়াই-ফাই সুবিধাসহ আইসিটি ল্যাব আছে। ক্ষুদ্র পরিসরে একটি লাইব্রেরিতে আছে। প্রশিক্ষণার্থীদের জন্য ক্ষুদ্র পরিসরের একটি ক্যাফেটেরিয়াও আছে। নিরাপত্তার স্বার্থে কলেজে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। কোন অডিটোরিয়াম না থাকায় সহপাঠক্রমিক কার্যাবলী সম্পাদনে বেশ অসুবিধা হয়। তাছাড়া বর্তমান প্রশাসনিক ভবনটি অনেক পুরোনো ও জরাজীর্ণ হয়ে পড়ায় বহূমখী ব্যবহারে জন্য একটি নতুন বহূতল ভবন নির্মাণ করা দরকার। তেমনি ক্লাসরুমগুলোরও আধুনিকায়ন প্রয়োজন। কলেজটি নিচু এলাকায় অবস্থিত হওয়ায় পুরো কলেজ ক্যাম্পাস উঁচু করা দরকার। 

সাম্প্রতিককালে TQI, ELTIP, SESIP, SEQAEP, ICT Project, LSBE, Disaster Management, Autism ইত্যাদি প্রকল্পের মাধ্যমে কলেজের প্রশিক্ষণের মান নানাভাবে সমৃদ্ধ করার প্রয়াস অব্যাহত আছে।

কলেজে বর্তমানে সুদক্ষ অধ্যক্ষের নেতৃত্বে ৩২ জন অধ্যাপকমন্ডলী ও কর্মকর্তা প্রশাসনিক ও পাঠদান কার্যক্রমে ব্যাপৃত আছেন। ২৩ জন ৩য় ও ৪র্থ শ্রেণির কর্মচারীও কর্মরত আছেন।

বিভিন্ন অসুবিধা, জনবল ও ভৌত কাঠামোর অপ্রতুলতা সত্ত্বেও সংশ্লিষ্ট সকলের সহযোগিতা ও আন্তরিক প্রয়াসের ফলে এতদঞ্চলের মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষক গড়ার কাজে তথা দেশ ও জাতির জন্য আদর্শ শিক্ষক গড়ে তুলতে স্বত: নিয়োজিত থেকে শিক্ষার গুণগত মানোন্নয়ন ও বিকাশ সাধনে এ প্রতিষ্ঠানটি বদ্ধ পরিকর।

সাইটটি শেষ হাল-নাগাদ করা হয়েছে: ২০২২-০৩-


এক নজরেঃ সরকারি টিচার্স ট্রেনিং কলেজ,ময়মনসিংহ

কলেজের ইতিহাস ও ঐতিহ্য সম্পর্কের বিস্তারিত 

এক নজরে

সরকারি টিচার্স ট্রেনিং কলেজ, পাবনা

সরকারি টিচার্স ট্রেনিং কলেজ, পাবনা ২০০৩ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়ে এর মূল কার্যক্রম শুরু করে ২০০৫ সাল থেকে। সরকারিভাবে নতুন স্থাপিত ৩টি প্রশিক্ষণ কলেজ সরকারি টিচার্স ট্রেনিং কলেজ, পাবনা,সরকারি টিচার্স ট্রেনিং কলেজ,  সিলেট, এবং সরকারি টিচার্স ট্রেনিং কলেজ,  ফরিদপুর-রে মধ্যে এটি অন্যতম। ৩ একর জায়গার উপর প্রতিষ্ঠিত এ কলেজে রয়েছে একটি একাডেমিক ভবন,২টি হোস্টেল, অধ্যক্ষ মহোদয়ের বাসভবন এবং একটি হোস্টেল সুপারের জন্য বাসভবন। ২০০৫ সালে বিএড প্রশিক্ষণের জন্য এর আসন ছিল ৩৫০টি এবং এখনও এটি বিদ্যমান রয়েছে। পাশাপাশি ২০০৬ সাল থেকে প্রতিষ্ঠানটি বিভিন্ন ধরনের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চালিয়ে আসছে। এর মধ্যে FSSAP, TQI, LSBE, WASH in School, Autism and Neuro Developmental Disability, ICT ইত্যাদি প্রযেক্টের মাধ্যমে বিভিন্ন ধরণের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম এ কলেজে পরিচালিত হয়ে আসছে। গত অর্থ বছরে এ প্রকল্পের আওতায় প্রায় ৩০০০ প্রশিক্ষণার্থী প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। বর্তমানে এ কলেজে বিসিএস( সাধারণ শিক্ষার ) ২৮টি পদ আছে। ২০১৭ শিক্ষা বর্ষে  এ কলেজে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে বি এড( অনার্স) এবং এম এড প্রোগ্রাম  চালু রয়েছে। এছাড়াও উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে বি.এড. এবং এম.এড. প্রোগ্রাম চলমান আছে। অত্র কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ড. মো. সানাউল্লাহ মহোদয়ের নেতৃত্বে এ কলেজর উন্নয়ন কার্যক্রম গতিশীল রয়েছে।

 

এক নজরে

সরকারি টিচার্স ট্রেনিং কলেজ,কুমিল্লা

Government Teachers' Training College

কোটবাড়ি, কুমিল্লা

 

ফোন: ০১৫৭৫-০৬০৭৯৯

ইমেইল: [email protected]

ওয়েবসাইট: ttc.comilla.gov.bd

কলেজ কোড: মাউশি-১৩৩৩১৫, ব্যানবেইজ: ০৬০৩

১। প্রতিষ্ঠাকাল: ০৯ জানুযারি, ১৯৬২

২। প্রতিষ্ঠানের স্তর: বি.এড (অনার্স), বি.এড (প্রফেশনাল), এম.এড (প্রফেশনাল)

৩। শ্রেণিভিত্তিক আসন সংখ্যা:

                 বি.এড (অনার্স) : ১০০

                 বি.এড (প্রফেশনাল): ৬০০

                 এম.এড (প্রফেশনাল): ১০০

৪। মোট জমির : ১০.১৬ একর

৫। শিক্ষক পদের সংখ্যা:

অধ্যক্ষ প্রফেসর ০১
উপাধ্যক্ষ সহযোগী অধ্যাপক ০১
শিক্ষা সহযোগী অধ্যাপক ০১
সহকারী অধ্যাপক ০১
প্রভাষক ০২
গাইডেন্স এন্ড কাউন্সিলিং সহযোগী অধ্যাপক ০১
সহকারী অধ্যাপক ০১
প্রভাষক ০১
গ্রন্থাগার বিজ্ঞান সহযোগী অধ্যাপক ০১
সহকারী অধ্যাপক ০১
প্রভাষক ০১
বাংলা সহকারী অধ্যাপক ০১
প্রভাষক ০১
ইংরেজি সহকারী অধ্যাপক ০১
প্রভাষক ০১
 ইতিহাস সহকারী অধ্যাপক ০১
প্রভাষক ০১
রাষ্ট্রবিজ্ঞান সহকারী অধ্যাপক ০১
প্রভাষক ০১
ভূগোল সহকারী অধ্যাপক ০১
প্রভাষক ০১
গণিত সহকারী অধ্যাপক ০১
প্রভাষক ০১
বিজ্ঞান সহকারী অধ্যাপক ০১
প্রভাষক ০১
ইসলামিক আইডিওলজি সহকারী অধ্যাপক ০১
প্রভাষক ০১
চারু ও কারুকলা সহকারী অধ্যাপক ০১
প্রভাষক ০১
প্রফেশনাল ইথিক্স সহকারী অধ্যাপক ০১
প্রভাষক ০১

 


মন্তব্য করুন