Loading..

ব্লগ

রিসেট

০৫ এপ্রিল, ২০২২ ০৪:৩২ অপরাহ্ণ

বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নায়নে white gold এর ভূমিকা

বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নায়নে white gold এর ভূমিকা

 

 

চিংড়ি, এটাকে আমরা হোয়াইট গোল্ড বলে থাকি। চিংড়ি রপ্তানি করে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে আসছে। চিংড়ি এনিমালিয়া জগৎ, আর্থোপোডা পর্ব, মালাকস্ত্রাচা শ্রেণীর প্রানি

চিংড়ি চাষ পদ্ধতি বাংলাদেশে প্রথম ১৯২৯-৩০ সালে সুন্দরবন অঞ্চলে চিংড়ি চাষের সূচনা হয়েছিল বলে ধারণা করা হয়। 

পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃক উপকূলীয় বন্যা প্রতিরোধ ও পানি নিষ্কাশন বাঁধ তৈরীর পূর্বে ১৯৫০ সাল পর্যন্ত সাতক্ষীরা ও বাগেরহাট অঞ্চলে নদী সংলগ্ন এলাকার মাটির ঘের দিয়ে বা পাড় বেঁধে তৈরি পুকুরে প্রাকৃতিকভাবে প্রাপ্ত খাদ্য থেকে চিংড়ি কয়েক মাসের মধ্যে বড় হলে তা সংগ্রহ করে বাজারজাত করা হতো। উপকূলীয় বাঁধ তৈরীর পরপরই দেশের সনাতন চিংড়ি চাষ সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়।

সত্তর দশকের পর বিশ্ববাজারে চিংড়ির চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ায় বাঁধের অভ্যন্তরে পুনরায় চিংড়ি চাষের সূচনা হয়। অধিকাংশ ক্ষেত্রে প্রাকৃতিক উৎস থেকে পোনা সংগ্রহ করে ঘেরে লালন-পালন করা হয়। খুলনা, বাগেরহাট, পাইকগাছা ও সাতক্ষীরার উপকূলীয় অঞ্চল ছাড়াও বর্তমানে চট্টগ্রাম বিভাগের কক্সবাজার, মহেষখালীচকরিয়া, সুন্দরবন, কুতুবদিয়া ও টেকনাফে চিংড়ি চাষ সম্প্রসারিত হয়েছে।

পানির লবণাক্ততার ওপর ভিত্তি করে বাংলাদেশের চিংড়ি চাষকে দুভাগে ভাগ করা হয়। অল্পলোনা পানির চিংড়ি চাষ ও স্বাদুপানির চিংড়ি চাষ।

অল্পলোনা পানির চিংড়ি চাষ বাংলাদেশের চিংড়ি চাষ বলতে অল্পলোনা পানির চিংড়ি চাষকেই বোঝায়। দেশের দক্ষিণ-পশ্চিম এলাকায় খুলনা বিভাগের খুলনা, বাগেরহাট, সাতক্ষীরা জেলায় এবং দক্ষিণ-পূর্ব এলাকায় চট্টগ্রাম বিভাগের কক্সবাজার জেলায় দেশের প্রায় সব চিংড়ি খামার অবস্থিত। এ দুটি অঞ্চলে বর্তমানে প্রায় ১,৪৫,০০০ হেক্টর জমিতে চিংড়ি চাষ হচ্ছে

২০১৩-১৪ অর্থবছরে ৪৭ হাজার ৬৩৫ টন চিংড়ি রপ্তানির বিপরীতে ৫৫ কোটি ডলার আয় হয়। পরবর্তী বছরগুলোতে রপ্তানি কমতে থাকে। ২০১৪-১৫ অর্থবছরে ৪৪ হাজার ২৭৮ টন চিংড়ির বিপরীতে ৫১ কোটি ডলার, ২০১৫-১৬ অর্থবছরে ৪০ হাজার ২৭৬ হাজার টন চিংড়ি থেকে ৪৫ কোটি ডলার, ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ৩৯ হাজার ৭০৬ টন চিংড়ি রপ্তানি করে ৪৪ কোটি ৬০ লাখ ডলার আয় হয়েছে। সর্বশেষ অর্থবছরে এ খাতের আয় আরও ৪ কোটি ডলার কমে ৪০ কোটি ৪৭ লাখ ডলারে নেমে আসে। ইপিবির সর্বশেষ পরিসংখ্যানে দেখা যায়, শেষ হওয়া ২০১৭-১৮ অর্থবছরে এ আয় এ বছর ৪৫ কোটি ডলার।

দেশের চাহিদা মোতাবেক প্রানিজ আমিষের অন্যতম একটি উৎস মৎস্য । অন্যদিকে বাংলাদেশের অপ্রচলিত পন্য রপ্তানির ক্ষেত্রে শীর্ষে অবস্হান করছে চিংড়ি । চিংড়িকে বলা হয় white gold বা সাদা সোনা । চিংড়ি রপ্তানি থেকে সরকার প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা আয় করছে ।

মন্তব্য করুন

ব্লগ