সহকারী শিক্ষক
০৭ মে, ২০২২ ০৭:৫১ অপরাহ্ণ
সহকারী শিক্ষক
ইসলামী পরিভাষায় শরীয়তের নিয়ম মোতাবেক এক বিশেষ পদ্ধতিতে আল্লাহর গুনগান করা, রুকু-সিজদাসহ আল্লাহর ইবাদত করাকে সালাত বলা হয় । ইসলামের মৌলিক ইবাদতের মধ্যে সালাত হচ্ছে সর্বোত্তম ইবাদত ।
সালাত শব্দের আভিধানিক অর্থ হলো :
যদিও নামাজ শব্দটি আমরা বাংলায় ব্যবহার করি কিন্তু এটি বাংলা নয় বরং এটি ফার্সি শব্দ, নামাজকে কোরআনের ভাষায় সালাত বলে। সালাত শব্দের আভিধানিক অর্থঃ
কর্তাভেদে ও স্থান কাল পাত্রভেদে সালাতের বিভিন্ন অর্থ হয়।
সালাতের কর্তা যদি মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওতা’লা হন, তাহলে সালাতের অর্থ হয় দয়ামায়া বা ভালোবাসা, কেননা সারা প্রথিবী মহান আল্লাহর দয়ামায়ায় ব্যষ্টিত ।
সালাতের কর্তা যদি ফেরেশতা হন, তাহলে এর অর্থ হয় রহমত বা দয়া কামনা অথবা কারও জন্য ক্ষমাপ্রার্থনা, আমারা জানি রহমতের ফেরেস্তারা মহান আল্লাহর দরবার সব সময় আমাদের জন্য রহমত দয়া ও ক্ষমাপ্রার্থনা করেন ।
আর সালাতের কর্তা যদি ইনসান বা মানুষ হয়, তাহলে এর অর্থ হয় ক্ষমাভিক্ষা, রহমত প্রার্থনা ও শুভকামনা। আমরা মানষ হিসেবে মুখাপেক্ষী, তাই আমাদের চাওয়া পাওয়া সবকিছুই মহান আল্লাহর দরবারে পেশ করতে হয় ।
সালাত শব্দের পারিভাষিক অর্থ হলো :
যথা সময়ে নির্ধারিত নিয়মে ইবাদত সম্পাদন করা। আর পাঁচ ওয়াক্ত সালাত হলো ফরজ যা যথা সময় আদায় করতে হয় :
সালাতের নির্দেশ ও পরিপ্রেক্ষিত:
সালাতের নির্দেশ মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওতা’আলা থেকে মিরাজের সময় বিশ্বনবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর মাধ্যমে। সালাত (নামাজ) মুসলিম জীবনের অপরিহার্য একটি বিষয়,
সকল জীবনের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত এবং মহান সৃষ্টিকর্তার সাথে সম্পর্কের সেতুবন্ধবিশেষ।
আল্লাহ সুবহানাহু ওতা’আলা বলেন, নিঃসন্দেহে সালাত (নামাজ) বিশ্বাসীদের উপর সময়ের সঙ্গে সম্পৃক্ত করে আবশ্যকীয় করা হয়েছে। (৪-সূরা নিসা, আয়াত-১০৩)।
এই সালাত কি সুধু আমাদের জন্য ফরজ করেছেন ? নাকি সকল নবীদের জন্য?
(১)আল্লাহ সুবহানাহু ওতা‘আলা তার খলিল ইবরাহীম আলাইহিস সালাম সম্পর্কে বলেন,
“হে আমার প্রতিপালক! আমাকে সালাত (নামাজ) কায়েমকারী বানাও এবং আমার সন্তানদেরকেও।” [১৪- সূরা ইব্রাহিম, আয়াত: ৪০]
(২) এবং ঈসা আলাইহিস সালাম সম্পর্কে বলেন,
“আমি যেখানেই থাকি না কেন, তিনি আমাকে (আল্লাহ তা’আলা) নির্দেশ দিয়েছেন যে, যতদিন প্রথিবীতে আমি জীবিত থাকি ততদিন যেন নামায ও যাকাতের হুকুম আদায় করি ।” [১৯- সূরা মারইয়াম, আয়াত: ৩১]
(৩) এবং ইসমাঈল আলাইহিস সালাম সম্পর্কে বলেন,
“সে তার পরিবার পরিজনদেরকে সালাত (নামাজ) ও যাকাতের নির্দেশ দিত এবং সে ছিল তার মহান সৃষ্টিকর্তার সন্তোষভাজন ব্যক্তি ।” [১৯-সূরা মারইয়াম, আয়াত: ৫৫]
৫৩
৯১ মন্তব্য