সহকারী শিক্ষক
১৮ মে, ২০২২ ১১:১০ অপরাহ্ণ
রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করুন, বাঁচুন দীর্ঘদিন।
রক্তচাপ আমাদের জীবন প্রক্রিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। নির্দিষ্ট চাপ সীমায় রক্তচাপ দেহের অভ্যন্তরে রক্তসঞ্চালন চালু রাখে। শুধু মৃত্যুতেই এই জীবন স্রোত থেমে যায়। উচ্চ রক্তচাপ নিজেই একটি রোগ, আবার একই সঙ্গে অন্য রোগের কারণ। আর নিম্ন রক্তচাপ সাধারণভাবে কোনো রোগ নয়, বরং নিরাপদ। কিন্তু কিছু জটিল মুহূর্তে (যেমন—কার্ডিওজেনিক শক ও অন্যান্য শক) নিম্ন রক্তচাপ জীবনসংহারী হতে পারে। আর তাই আমাদের জানতে হবে কিভাবে রক্তচাপ মাপতে হয়, কখন তাকে রোগ হিসেবে বিবেচনা করতে হবে, কখন কতটা গুরুত্ব দিতে হবে।
রক্তচাপ মাপা
বাসায় রক্তচাপ মাপা উচ্চ রক্তচাপের চিকিৎসার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ভালোভাবে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে এর ভূমিকা অনস্বীকার্য। কিন্তু এ ক্ষেত্রে ভালো মানের রক্তচাপ মাপার যন্ত্র ও সঠিকভাবে রক্তচাপ মাপতে জানা দরকার।
রক্তচাপ মাপার যন্ত্র
রক্তচাপ মাপার নানারকম যন্ত্র আছে। তবে পারদস্তম্ভসহ ব্লাড প্রেসার মেশিনকে আদর্শ বিবেচনা করা হয়। পারদ ম্যানোমিটারের সঙ্গে প্রপারলি কেলিব্রেটেড স্প্রিং বেইজড ডায়াল ম্যানোমিটারগুলো সহজে বহনযোগ্য। কিন্তু সময়ের সঙ্গে স্প্রিংয়ের কার্যকারিতা কমে যায়। তখন এ যন্ত্রের পরিমাপ নির্ভরযোগ্য থাকে না। অটোমেটিক ব্লাড প্রেসার মেশিনকে পারদ ম্যানোমিটারের সঙ্গে যাচাই করে নিতে হবে।
রক্তচাপ মাপার পদ্ধতি
♦ কমপক্ষে পাঁচ মিনিট শান্তভাবে চেয়ারে বসুন। পা মাটিতে আর হাত হার্টের সমান্তরালে টেবিল বা কিছুর ওপর সাপোর্টেড থাকবে।
♦ উপযুক্ত সাইজের কাফ। হাতের বাহুতে বাঁধার কাফের ভেতরের রাবার ব্যাগটি বাহুর কমপক্ষে ৮০ শতাংশ আবৃত করবে।
♦ রক্তচাপ মাপার সময় হাতের রেডিয়াল পালসে হাত রেখে কাফের ব্যাগের বাতাসের চাপ বাড়াতে হবে। যে মাত্রার প্রেসারে রেডিয়াল পালস আর পাওয়া যাবে না, তা থেকে ৪০ মিমি বেশি চাপ বাড়াতে হবে। তারপর ধীরে ধীরে চাপ কমিয়ে আনার সময় স্টেথোস্কোপ দিয়ে কনুইয়ের সামনে ব্রাকিয়াল আর্টারির শব্দ শুনতে হবে। যে মাত্রায় প্রথম শব্দ শোনা যাবে সেটি সিস্টোলিক প্রেসার আর যে মাত্রায় শব্দ বন্ধ হবে তা ডায়াস্টোলিক প্রেসার।
♦ কোনো অভিজ্ঞ ব্যক্তির কাছে রক্তচাপ মাপার পদ্ধতি শিখে নিতে হবে।
রক্তচাপ কখন মাপতে হবে?
♦ যেকোনো শারীরিক সমস্যায় রক্তচাপ মাপা একটি রুটিন পরীক্ষা।
♦ ডায়াবেটিস, কিডনি রোগ, গর্ভাবস্থা এবং অন্য রোগের রুটিন ফলোআপের সময়।
♦ প্রথমবার রক্তচাপ মাপার সময় দুই হাতে মাপতে হবে। দুই হাতে রক্তচাপের মাত্রা পার্থক্য থাকলে তা রক্তনালির রোগ নির্দেশ করবে।
রক্তচাপের মাত্রা
স্বাভাবিক রক্তচাপ: সিস্টোলিক প্রেসার ১০০-১৪০ মিমি মার্কারি, ডায়াস্টোলিক ৬০-৮৫ মিমি মার্কারি। এ রেঞ্জের ভেতর ওঠানামা করবে। এক মাত্রায় স্থির থাকবে না। হাঁটার পর বা সিঁড়ি দিয়ে ওঠা বা শারীরিক পরিশ্রমের পর সঙ্গে সঙ্গে রক্তচাপ মাপলে বেশি পাওয়া যাবে। কিন্তু তাকে উচ্চ রক্তচাপ বলা যাবে না। বিশ্রাম নেওয়ার পর আবার মাপতে হবে।
উচ্চ রক্তচাপ : সিস্টোলিক ১৪০ মিমি মার্কারি ,(+/-), ডায়াস্টোলিক ৯০ মিমি মার্কারি। তবে উত্তেজিত বা পরিশ্রান্ত অবস্থায় ব্লাড প্রেসার না মেপে সুস্থির হওয়ার পর মাপতে হবে।
উচ্চ রক্তচাপের হওয়ার কারণ?
♦ অধিক বয়স
♦ ঋতুস্রাব বন্ধ হওয়া মহিলা
♦ যাদের পরিবারে উচ্চ রক্তচাপ, হার্ট ডিজিজ, স্ট্রোকের ইতিহাস আছে
♦ উচ্চ মানসিক চাপ
♦ শারীরিক পরিশ্রমের অভাব
♦ ধূমপান
♦ অবেসিটি বা মুটিয়ে যাওয়া
♦ মদ্যপান
উচ্চ রক্তচাপের কারণ কী?
♦ শতকরা ৯৫ জনের ক্ষেত্রেই উচ্চ রক্তচাপের কারণ পাওয়া যায় না। উচ্চ রক্তচাপ একেবারে সেরে যায় না, বরং শুধু নিয়ন্ত্রণে রাখতে হয়। একে প্রাইমারি বা অ্যাসেনশিয়াল হাইপারটেনশন বলে।
♦ শতকরা ৫ জনের ক্ষেত্রে উচ্চ রক্তচাপ অন্য রোগের ফলে তৈরি হয়। প্রাথমিক রোগের চিকিৎসায় উচ্চ রক্তচাপ ভালো হয়ে যেতে পারে। যেমন—কিডনি রোগ, হরমোনজনিত রোগ (থাইরয়েড ডিজিজ, কুশিং ডিজিজ ইত্যাদি)। রক্তনালির রোগ (কো-আর্কটেশন, রেনাল আর্টারি স্টেনসিস), গর্ভাবস্থা প্রভৃতি। একে সেকেন্ডারি হাইপারটেনশন বলে।
৫৩
৯২ মন্তব্য