সহকারী শিক্ষক
১৯ মে, ২০২২ ০৭:৫৩ অপরাহ্ণ
সহকারী শিক্ষক
প্রযুক্তির উৎকর্ষতায় মোবাইল ফোন আবিষ্কারে জীবন যাত্রার মান যতটা বেড়েছে ঠিক ততটাই বেড়েছে অনাচার, মিথ্যাচার, অপরাধ । মোবাইল ফোনের যথাযোগ্য ব্যাবহারে যোগাযোগ যতটা সহজ হয়েছে তেমনি নানা অপকর্ম , কুকর্ম, জনজীবন দুর্বিষহ করে তুলেছে । ব্যবসায়ী, চাকরিজীবী , দিনমজুর সবার কাছেই মোবাইলের গ্রহণযোগ্যতা বেড়ে চলেছে । মোবাইল ফোন যোগাযোগের অন্যতম মাধ্যম হলেও , শখের বশবর্তী হয়ে শিক্ষার্থীরা যে সকল অপব্যবহার শুরু করেছে , এতে তারা শারীরিক,মানসিক ও সামাজিকভাবে মারাত্মক বিপর্যয় হচ্ছে । সমাজ, পরিবার থেকে তারা বিছিন্ন হচ্ছে। শিক্ষার্থী যেন আটকে পড়ছে এই ২-৩ ইঞ্চি ছোট্র মনিটরে। পড়ালেখা বাদ দিয়ে তাদের চিন্তা-চেতনা , ধ্যান-ধারণা শুধু এই মোবাইল ফোন । বর্তমানে শিক্ষার্থীরা আমাদের চেয়ে অনেক এগিয়ে। কিন্তু তারা তাদের ভালোমন্দ বুঝতে পারে না। তাদের ধারণা আমরা সেকেলে। এই ধরণের আধুনিক শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে পাঠিয়ে অভিভাবকগণ নিশ্চিন্তে বসে থাকেন । এই প্রবণতা দূর করার দায়িত্ব কি শুধুই বিদ্যালয় শিক্ষকদের ? এ থেকে তাদের ফেরানোর উপায় কি ? অভিভাবকদের কি কোন দায় নেই ? একজন শিক্ষার্থী ছুটির দিন বাদে সর্বোচ্চ ৬/৭ ঘন্টা সময় কাটে শিক্ষদের কাছে । বাকী ১৭/১৮ ঘন্টায় শিক্ষার্থী কি করে , কোথায় যায় ,কি খায় , কাদের সাথে মিশে এ বিষয়গুলো খুব ভালোভাবে লক্ষ্য রাখতে হবে অভিভাবকদের ।
সম্মানিত অভিভাবকবৃন্দ, আপনার সন্তান কি মোবাইল ফোন ব্যবহার করে ? ব্যবহার করলে ফোনটিকে কয়েকদিনের জন্যে ছিনিয়ে নিন, দেখবেন সে তা পাওয়ার জন্য পাগল হয়ে যাবে। আপনার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষনা করবে। , খাবে না কোন কিছু, লেখাপড়া করবে না ইত্যাদি । সে মোবাইল ফোনটির জন্য তার মৌলিক চাহিদাগুলো ও ছাড়তে রাজি হবে । মোবাইল তার কাছে পড়ালেখার চাইতেও বেশি গুরুত্বপূর্ণ । মোবাইল ফোন বিড়ম্বনায় মারাত্মকভাবে খতিগ্রতস্ত হচ্ছে দেশের ভবিষ্যৎ কর্ণধার ছাত্র-ছাত্রীরা । এভাবে চলতে থাকলে জাতি মেরুদণ্ডহীন এবং অলস হতে খুব বেশি সময় লাগবে না । শিক্ষা বোর্ড , শিক্ষামন্ত্রালয়ের নির্দেশে দেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্টানে , পরীক্ষার কক্ষে মোবাইল ব্যাবহার নিষেধ, এমন নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও স্কুল/কলেজ/ মাদরাসা কর্তৃপক্ষ কি পেরেছেন এই সকল ক্ষেত্রে মোবাইল ফোন ব্যবহার মুক্ত রাখতে ।
মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা , সন্ত্রাসমুক্ত দেশ গড়া, ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার আন্দোলনের মতোই শিক্ষাঙ্গ মোবাইলমুক্ত করার দাবি সক্ল অভিভাবক ও শিক্ষিত সতেচন সকল জনগণের । তাই শিক্ষামন্ত্রালয় , স্কুল/কলেজ/মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ, অভিভাবকসহ সকলকেই শিক্ষার্থীর সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়ার অভিপ্রায়ে মোবাইল ফোন ব্যবহার বন্ধ করে লেখাপড়ায় মনোনিবেশ করার যথাযোগ্য ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
লেখকঃ সহকারি শিক্ষক, গণিত; খাজুরা ইসলামিয়া আলিম মাদরাসা, নলডাঙা, নাটোর ।
৫৩
৯১ মন্তব্য