সহকারী শিক্ষক
৩১ মে, ২০২২ ০৯:০৬ অপরাহ্ণ
স্বপ্নের পদ্মা সেতুর উদ্বোধন ২৫ জুন সকাল ১০.০০ ঘটিকায়।
স্বপ্নের পদ্মা সেতু ২৫ জুন উদ্বোধন করা হবে। এদিন সকাল ১০টায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সেতুর উদ্বোধন করবেন। এ উপলক্ষ্যে সেতু বিভাগ বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের আয়োজন করতে যাচ্ছে। এদিকে, আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী ও বিভিন্ন মহলের দাবি ছিল-সেতুটির নাম ‘শেখ হাসিনা সেতু’ করার। কিন্তু এতে শেখ হাসিনা সাড়া দেননি। ফলে সেতুটির নাম ‘পদ্মা সেতু’ই থাকছে। ২৫ জুন বহুল কাঙ্ক্ষিত পদ্মা সেতু দিয়ে সাধারণ জনগণ গাড়ি চালাতে পারবেন কিনা তা নিশ্চিত নয়। উদ্বোধনের দিন অথবা পরের দিন থেকে জনসাধারণের জন্য সেতু খুলে দেওয়া হতে পারে। তবে উদ্বোধনের দিন পদ্মা সেতুতে ট্রেন চলাচল শুরু হচ্ছে না তা প্রায় নিশ্চিত। ট্রেন চলাচলের জন্য আরও অপেক্ষা করতে হবে।
পদ্মা সেতুর উদ্বোধন ও নামকরণের বিষয়ে সারসংক্ষেপ নিয়ে মঙ্গলবার গণভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে দেখা করেন সড়ক পরিবহণ ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। সেখান থেকে বেরিয়ে অপেক্ষমাণ সাংবাদিকদের সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, বহু প্রতীক্ষিত পদ্মা সেতু উদ্বোধনের দিন-তারিখ জানার আগ্রহ সবার। সেই সুসংবাদ আপনাদের দিচ্ছি। ২৫ জুন (শনিবার) সকাল ১০টায় বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদ্মা সেতুর উদ্বোধন ঘোষণা করবেন। আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের আরও বলেন, আমরা প্রধানমন্ত্রীর কাছে পদ্মা সেতুর দুটো সামারি (সার সংক্ষেপ) দিয়েছিলাম। একটা পদ্মা সেতু উদ্বোধনের সামারি, যেখানে তিনি ২৫ জুন লিখে সই করেছেন। আরেকটি ছিল পদ্মা সেতুর নাম ‘শেখ হাসিনা সেতু’ করার। সেটিতে তিনি সই করেননি। তিনি (প্রধানমন্ত্রী) বলেছেন, ‘পদ্মা সেতু পদ্মা নদীর নামেই হবে। এটা আমি অন্য কারও নামে দেব না। বঙ্গবন্ধু পরিবারের কারও নামেও হবে না।’
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে কাদের আমন্ত্রণ জানানো হবে-সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের উত্তরে ওবায়দুল কাদের বলেন, সবাইকে আমন্ত্রণ জানানো হবে। যারা বেশি বিরুদ্ধে কথা বলছেন তাদের আগে আমন্ত্রণ জানানো হবে।
সেতু বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ২৫ জুন মাওয়া ও জাজিরা প্রান্তে দুটি ফলক উন্মোচনের মধ্যদিয়ে সেতুর উদ্বোধন করা হবে। উদ্বোধনের পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গাড়িতে পদ্মা সেতু পাড়ি দেবেন। মাওয়া প্রান্তে সুধী সমাবেশ এবং জাজিরা প্রান্তে জনসভার আয়োজন করা হবে। দুটি অনুষ্ঠানেই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে। এসব অনুষ্ঠানে মন্ত্রিপরিষদ সদস্য, বিভিন্ন দেশের কূটনৈতিক ও সরকারের ঊর্র্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যক্তিদের আমন্ত্রণ জানানো হবে।
জানতে চাইলে সেতু বিভাগের সচিব মনজুর হোসেন যুগান্তরকে বলেন, পদ্মা সেতুর উদ্বোধন উপলক্ষ্যে ওইদিন কিছু আনুষ্ঠানিকতা রয়েছে। এ কারণে ২৫ নাকি ২৬ জুন জনসাধারণের গাড়ি চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হবে-সে সিদ্ধান্ত এখনও হয়নি।
সূত্র জানায়, উদ্বোধন উপলক্ষ্যে শেষ সময়ের প্রস্তুতিমূলক কাজ জোরশোরে চলছে। একইসঙ্গে ঢাকা-মাওয়া-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ের বিভিন্ন অংশে সংস্কার ও রঙ করার কাজ চলছে। চলছে শোভাবর্ধনের কাজ। টোলকেন্দ্র প্রস্তুত করাসহ অন্যসব প্রস্তুতিও এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
পদ্মা সেতু খুলে দেওয়ার খবরে গণপরিবহণ মালিক ও শ্রমিকরা প্রস্তুতি শুরু করেছেন। এতদিন যেসব গাড়ি পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া ফেরি পার হয়ে চলাচল করত সেগুলো একটি অংশের রুট পরিবর্তন করে পদ্মা সেতু দিয়ে পারাপারের প্রস্তুতি চলছে। একইসঙ্গে সায়েদাবাদ ও যাত্রাবাড়ীসহ বিভিন্ন স্থান থেকে যেসব কোম্পানির বাস শিমুলিয়া-বাংলাবাজার ফেরি রুট ব্যবহার করে চলাচল করত সেসব রুটের গাড়ি বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন মালিকরা।
সেতু বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, পদ্মা সেতুর (মূল সেতু) দৈর্ঘ্য ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার। দুই প্রান্তের উড়ালপথ (ভায়াডাক্ট) ৩ দশমিক ৬৮ কিলোমিটার। সব মিলিয়ে সেতুর দৈর্ঘ্য ৯ দশমিক ৮৩ কিলোমিটার। কর্মপরিকল্পনা অনুযায়ী-২০১৪ সালের ডিসেম্বরে পদ্মা সেতুর নির্মাণ কাজ শুরু হয়। ২০১৫ সালের ১২ ডিসেম্বর মূল সেতু ও নদীশাসন কাজের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ৩০ হাজার ১৯৩ কোটি টাকা।
সংশ্লিষ্টরা জানান, আরও আগেই পদ্মা সেতু নির্মাণ হতো। ২০০৮ সালের নির্বাচনে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় আসে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকার। দায়িত্ব নেওয়ার পর পদ্মা সেতুর নকশা প্রণয়নে পরামর্শক নিয়োগের অনুমোদন দেয়। ক্ষমতা গ্রহণের দুই বছরের মাথায় পদ্মা সেতুতে রেলপথ সংযুক্ত করে প্রকল্পের ব্যয় সংশোধন করে সরকার।
তখন ব্যয় ধরা হয়েছিল ২০ হাজার ৫০৭ কোটি টাকা। ২০১১ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি বিশ্বব্যাংকের বোর্ড সভায় পদ্মা সেতু প্রকল্পে ১২০ কোটি ডলারের ঋণ সহায়তা অনুমোদন দেওয়া হয়। ২৮ এপ্রিল বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে ঋণচুক্তি হয়। একই বছরের ১৮ মে জাইকার সঙ্গে, ২৪ মে আইডিবির সঙ্গে এবং ৬ জুন এডিবির সঙ্গে ঋণচুক্তি সই হয়। সবকিছুই গুছিয়ে যখন কাজ শুরুর অপেক্ষা তখনই পদ্মা সেতু প্রকল্পে দুর্নীতিচেষ্টার অভিযোগ আনে অর্থের মূল জোগানদাতা বিশ্বব্যাংক। পদ্মা সেতু প্রকল্প তদারকির জন্য প্রাক-নির্বাচনি তালিকায় থাকা কানাডীয় প্রতিষ্ঠান এসএনসি-লাভালিনের ‘দুর্নীতি’ তদন্তে বিশ্বব্যাংক কানাডা পুলিশকে অনুরোধ করলে বিষয়টি প্রকাশ পায়। ওই ঘটনায় ২০১২ সালের ২৯ জুন ১২০ কোটি ডলারের ঋণচুক্তি বাতিল করে বিশ্বব্যাংক। একে একে সরে দাঁড়ায় অন্য দাতা সংস্থাগুলোও। পরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণের ঘোষণা দেন। সমীক্ষা অনুযায়ী-পদ্মা সেতু প্রকল্প বাস্তবায়নের ফলে ১ দশমিক ২৩ শতাংশ হারে মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) বৃদ্ধি পাবে। দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জিডিপি বাড়বে ২ দশমিক ৩ শতাংশ। প্রতিদিন সেতুতে আট হাজারের বেশি গাড়ি চলাচল করবে বলে সমীক্ষায় বলা হয়েছে।
৫৩
৯১ মন্তব্য