সহকারী শিক্ষক
০২ জুন, ২০২২ ০৫:৩৯ পূর্বাহ্ণ
সহকারী শিক্ষক
প্রশ্ন : আমাদের পোশাকশিল্পের কিছু গুরুত্বপূর্ণ দিক বর্ণনা কর।
উত্তর : বর্তমানে বাংলাদেশের একটি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ শিল্প হলো পোশাকশিল্প। বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকায় পোশাক কারখানা গড়ে উঠেছে।
এসব কারখানায় পোশাক তৈরি হয়। এ পোশাকের বেশিরভাগ বিদেশে রফতানি হয়। বাংলাদেশের পোশাকশিল্পে কয়েক লাখ নারী ও পুরুষ কাজ করে। পোশাক রফতানি করে বাংলাদেশ প্রতি বছর অনেক বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করে। পোশাকশিল্পের বিকাশের ফলে এ দেশের তৃণমূল পর্যায়ের একেবারে নিুশ্রেণির নারী ও পুরুষরা ঘুরে দাঁড়িয়েছে। তাদের সেলাই মেশিনের চাকা ঘোরার সঙ্গে সঙ্গে ঘুরল বাংলাদেশের অর্থনীতির চাকা, উন্নয়নের চাকা ঘুরল তাদের ভাগ্যের, জাতীয় উন্নয়নের।
সুতরাং; পোশাকশিল্প বাংলাদেশের অর্থনীতির চাকাকে করেছে সচল ও বলবান।
প্রশ্ন : বৃহৎশিল্প ও ক্ষুদ্রশিল্পের মধ্যে পার্থক্য কী?
উত্তর : বাংলাদেশের অর্থনীতিতে বৃহৎ শিল্প ও কুটিরশিল্পের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। বৃহৎশিল্প ও ক্ষুদ্রশিল্পের মধ্যে পার্থক্য নিচে দেওয়া হলো।
জনসংখ্যা
প্রশ্ন : পরিবারের উপর অধিক জনসংখ্যার তিনটি প্রভাব উল্লেখ কর।
উত্তর : পরিবারের উপর অধিক জনসংখ্যার তিনটি প্রভাব নিচে দেওয়া হলো-
খাদ্য :
পরিবারের অধিক জনসংখ্যার চাপে খাদ্যের অভাব দেখা দেয়। খাদ্যের অভাবে পরিবারের লোকজন ক্ষুধার্ত থাকে ও পুষ্টিহীনতায় ভোগে অকালে প্রাণ হারায়।
বস্ত্র :
মানুষের মৌলিক চাহিদার অন্যতম হচ্ছে পরিধেয় বস্ত্র, পরিবারের লোকসংখ্যা বেশি হলে বাবা-মা অনেক সময় সব সন্তানের প্রয়োজনীয় কাপড় কিনতে পারেন না। উপযুক্ত পোশাক না থাকায় অনেক শিশু বিদ্যালয়ে আসতে চায় না।
বাসস্থান :
পরিবারের লোকসংখ্যা বেশি হলে অনেক লোক একত্রে ঠাসাঠাসি করে বাস করতে হয়। জাতিসংঘের মতে, বাংলাদেশে প্রায় ১০ লাখ মানুষ গৃহহীন। প্রতি বছর প্রায় ৩০ লাখ মানুষ মোট জনসংখ্যার সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে।
সুতরাং, অধিক জনসংখ্যার ফলে খাদ্য, বস্ত্র ও বাসস্থান চাহিদা পূরণে পরিবারের উপর চাপ সৃষ্টি হচ্ছে এবং প্রায়ই পরিবারের সদস্যরা এসব মৌলিক চাহিদা থেকে বঞ্চিত হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে। জীবনযাত্রার মান নিু হচ্ছে।
প্রশ্ন : সমাজের উপর অধিক জনসংখ্যার
তিনটি প্রভাব উল্লেখ কর।
উত্তর : সমাজের উপর অধিক জনসংখ্যার তিনটি প্রভাব নিচে দেওয়া হলো-
শিক্ষা : আমাদের সমাজের অগ্রগতিতে শিক্ষা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের মোট জনসংখ্যার ৩৫ শতাংশ এখনোঅক্ষরজ্ঞানহীন। এর একটি কারণ হলো দরিদ্র মা-বাবা তাদের সন্তানদের বিদ্যালয়ে পাঠাতে পারেন না। এমনকি বিদ্যালয়ে ভর্তি হলেও অনেক শিশু পরিবারকে কাজে সাহায্য করতে গিয়ে লেখাপড়া শেষ না করে ঝরে পড়ে।
স্বাস্থ্য : আমাদের দেশে প্রতি ৪০৪৩ জনের জন্য একজন প্রশিক্ষিত চিকিৎসক থাকার কথা। সঠিক চিকিৎসার অভাবে স্বাস্থ্যহীন হয়ে পড়ার কারণে উপার্জন করে জাতীয় অর্থনীতিতে কোনো অবদান রাখতে পারছে না ও তারা সমাজের বোঝায় পরিণত হয়।
পরিবেশ : অধিক জনসংখ্যার সবচেয়ে মারাত্মক প্রভাব পড়েছে পরিবেশের ওপর। মানুষজন বন, গাছপালা কেটে প্রাকৃতিক পরিবেশ নষ্ট করছে। অধিক ফসল ফলাতে গিয়ে জমিতে প্রচুর রাসায়নিক সার ও কীটনাশক ব্যবহার করা হচ্ছে। এতে, বায়ু, মাটি, পুকুর ও নদীর পানি দূষিত হচ্ছে। ভূ-গর্ভের পানি উত্তোলনের কারণে সামগ্রিকভাবে আমাদের পরিবেশ ও জলবায়ুর ওপর ক্ষতিকর প্রভাব পড়ছে।
সুতরাং, সমাজে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও পরিবেশের ওপর অধিক সংখ্যার প্রভাব ব্যাপক।
প্রশ্ন : জনসংখ্যা সমস্যার তিনটি সমাধান লেখ।
উত্তর : জনসংখ্যা সমস্যার তিনটি সমাধান নিচে দেওয়া হলো-
* কারিগরি শিক্ষার উন্নয়নের মাধ্যমে খাদ্যের উৎপাদন বাড়াতে হবে ও দক্ষ জনগোষ্ঠী তৈরির মাধ্যমে শিল্পের প্রসার বাড়াতে হবে।
* সাক্ষরতা এবং শিক্ষার মান বাড়াতে শিশুদের উৎসাহিত করতে হবে। ফলে দক্ষ জনশক্তি হিসাবে কর্মসংস্থান হবে।
* গৃহ নির্মাণে সরকারি সাহায্য বাড়াতে হবে ও পরিবেশ দূষণ রোধ করতে হবে।
সুতরাং, উপরের পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে জনসংখ্যা সমস্যার সমাধান করা যেতে পারে।
৭১
১৪৫ মন্তব্য