Loading..

ব্লগ

রিসেট

২৩ জুন, ২০২২ ০৮:৩৬ অপরাহ্ণ

ইমাম আবু দাঊদ রহঃ এর সংক্ষিপ্ত জীবনী

 

ইমাম আবু দাঊদ রহঃ এর সংক্ষিপ্ত জীবনী

 

ইমাম আবু দাঊদ (রহঃ)-এর সংক্ষিপ্ত জীবনী ইমাম আবু দাউদ(রহঃ) ইলমে হাদীসের সুবিশাল পরিমণ্ডলের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র।হাদীসশাস্ত্রে অবদানের জন্য যে ক’জন মনীষী স্মরণীয় হয়ে আছেন তিনি তাঁদের অন্যতম। তিনি একজন ইমাম, শায়খুস সুন্নাহ, প্রথম সারির হাফিয ও উঁচ্চ মযাদা সম্পন্ন ব্যক্তি।
জন্ম ও বংশ :
নাম সুলায়মান, কুনিয়াত আবু দাউদ। পিতার নাম আশাআস।তাঁরপুরো নাম আবু দাউদ সুলায়মান ইবনুল আশ’আসইবনু শাদ্দাদ ইবনু আমর ইবনু
আমি। তাকে সুলায়মান ইবনুল আশ’আস ইবনু
ইসহাকু আল-আসাদী আল-সিজিস্তানীও বলা
হয়। ইমাম আবু দাউদ ২০২ হিজরী মোতাবেক  ৮১৭ খ্রিষ্টাব্দে কান্দাহার ও চিশতেরনিকটবর্তী সিজিস্তানে জন্ম গ্রহণ করেন।
শিক্ষা জীবন :
তাঁর প্রাথমিক শিক্ষা জীবন স্মপর্কে জানাযায় না। সম্ভবত তিনি নিজ গ্রামেই প্রাথমিক শিক্ষা লাভ করেন। ইমাম আবু দাউদের বয়স যখন দশ বছর তখন তিনি নিশাপুরের একটি মাদরাসায় ভর্তি হন এবং সেখানেই তিনি প্রখ্যাত মুহাদিস ইবনু  আসলামের নিকট হাদীসশাস্ত্র অধ্যয়ন করেন। অতঃপর তিনি হাদীসে উচ্চ শিক্ষা লাভের জন্য মিশর, সিরিয়া, হিজাজ, ইরাক, খুরাসান প্রভৃতি বিখ্যাত হাদীস গবেষণা কেন্দ্র সমূহে ভ্রমণ করেন এবং তদানিন্তন সুবিখ্যাত মুদাদ্দিসগণের নিকট হাদীস শ্রবণ ও সংগ্রহ করেন।

চরিত্র :
ইমাম আবু দাউদ ছিলেন ইবাদাতগুযার, পরহেযগার, যাহিদ ও ন্যায়পরায়ণ লোক। দুনিয়ার ভোগ বিলাসের প্রতি তাঁর কোন মোহ
ছিল না। ইমাম ইবনু দাসাহ উল্লেখ করেন যে, ইমাম আবু দাউদের জামার একটি হাতা প্রশস্ত ও একটি হাত সংকৃর্ণ ছিল। এর কারণ জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন, যে হাতাটি প্রশস্ত তার
মধ্যে আমি লিখিত হাদীসগুলো রেখে দেই এবং যে সংকৃর্ণ হাতার মধ্যে এ জাতীয় কিছুই নেই। ইমাম আবু দাউদ সম্পর্কে মন্তব্য :
১। মূসা ইবনু হারুন বলেনঃ ইমাম আবু দাউদ দুনিয়াতে হাদীসের খিদমাতের জন্য এবংঅখিরাতে জান্নাত লাভের জন্য সৃষ্টি হয়েছেন। আমি তাঁর থেকে উত্তম ব্যক্তি দেখিনি ।
২। ইমাম হাকিম বলেনঃ নিঃসন্দেহে ইমাম আবু দাউদ তাঁর সমসাময়িক মুহাদ্দিসগণের মধ্যে শ্রেষ্ঠ ছিলেন। তাঁর এই শ্রেষ্ঠত্ব ছিল নিরংকুশ ও অপ্রতিদ্বন্দ্বী

৩। ইমাম যাহাবী বলেনঃ ইমাম আবু দাউদ হাদীসের ইমাম হওয়ার পাশাপাশি একজন বড় মাপের ফাক্বীহ ছিলেন। তাঁর কিতাবই এর প্রমাণ বহণ করে।
৪। হাফিয আবু আবদুল্লাহ ইবনু মানদাহ বলেনযাঁরা হাদীস বর্ণনা করে তন্মধ্যকার দোষযুক্ত হাদীসগুলো থেকে প্রমাণযোগ্য  ইমাম
আবু দাউদের নিকট হতে তাঁর এ গ্রন্থখানি ধারাবাহিক সূত্র পরম্পরায় প্রায় নয়-দশজন বড় বড় মুহাদিস কর্তৃক বর্ণিত হয়েছে- (মুকুদ্দামাহ গায়াতুল মাক্বসুদ)। যেমনঃ
১। আবু ত্বাইয়্যিব আহমাদ ইবনু ইবরাহীম আশনানী বাগদাদী।
২। আবু আমর আহমাদ ইবনু আলী ইবনু হাসান বাসরী।
৩। আবু সাউদ ইবনুল আ’রাবী ।
৪। আরী ইবনুল হাসান ইবনুল আবদ আল- আনসারী।
৫। আবু আলী মুহাম্মাদ ইবনু আহমাদ লু’লুয়ী ।
৬ মুহাম্মাদ ইবনু বাকর দাসাহ।
৭। আবু উসামাহ মুহাম্মাদ ইবনু আবদুল মালিক। এছাড়াও অন্যরা।
ইমাম আবু দাউদের রচিত গ্রন্থাবলীঃ ইমাম আবু দাউদ বহু মূল্যবান গ্রন্থাবলী রচনা করেছেন।
মৃত্যঃ ইলমে হাদীসের এ মহান ব্যক্তি ২৭৫
হিজরী সালের ১৬ শাওয়াল ৭৩ বছর বয়সে
বাসরাহ নগরে ইন্তিকাল করেন। সুনান আবু দাউদের ব্যাখ্যা গ্রন্থাবলীঃ
সুনান আবু দাউদের অনেকগুলো ব্যাখ্যা গ্রন্থরচিত হয়েছে। তন্মধ্যে প্রসিদ্ধ কয়েকটি
গ্রন্থ হচ্ছেঃ
১। ইমাম খাত্তাবীর মা’আলিমুস সুনান।
২। শামসুল হাক্ব ‘আযীমাবাদীর ‘আওনুল মা’বুদ।
৩। বাজলুল মাজহুদ ফী হাল্লি আবু দাউদ।
এছাড়াও অন্যান্য।

সুনান আবু দাউদ গ্রন্থটির বৈশিষ্ট্য ও
গ্রহণযোগ্যতাঃ
ইমাম আবু দাউদ (রহঃ)-এর সুনান গ্রন্থ স্বীয় বৈশিষ্ট্যে সমুজ্জ্বল। গ্রন্থখানির উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য হচ্ছেঃ এটি একটি সুনান গ্রন্থ। এতে শারী’আতের হুকুম-আহকামএবং ব্যবহারিক জীবনের প্রয়োজনীয় নিয়ম- নীতি সম্পর্কিত হাদীস সমূহ রয়েছে এবং গ্রন্থটি ইমাম আবু দাউদ ফিক্বাহ কিতাবেরন্যায় অধ্যায় ও অনুচ্ছেদ সাজিয়েছেন এবংফিক্বাহর দৃষ্টিভঙ্গিতে হাদীসসমূহ চয়ন করেছেন। তাইতো ফিকাহবিদগণ বলেছেনঃ
একজন মুজতাহিদের পক্ষে ফিক্বাহর মাসআলাহ বের করার জন্যআল্লাহর কিতাব কুরআন মাজীদের পরে এই সুনানে আবু দাউদ গ্রন্থই যথেষ্ট”-(আল-হাদীসুল মুহাদিসুন, পৃঃ ৪১১)।
ইমাম আবু দাউদ পাঁচ লক্ষ হাদীস থেকে অত্যধিক যাচাই বাছাই করে মাত্র প্রায় পাঁচ হাজার হাদীস এতে স্থান দিয়েছেন। তিনি
নিজেই বলেছেন: “আমি রসূলুল্লাহ (সা.)-এর ৫ লক্ষ হাদীস লিপিবদ্ধ করেছিলাম। তার মধ্য থেকে যাচাই বাছাই করে মনোনীত হাদীস এ গ্রন্থে সন্নিবেশিত করেছি। এ গ্রন্থে সুলাসিয়ত অৰ্থাৎ
সাহাবীর স্তর থেকে তাঁর পযন্ত তিনজন বর্ণনাকারী বিশিষ্ট
অনেকগুলো হাদীস রয়েছে। ইমাম আবু দাউদ গ্রন্থটিতে সন্নিবেশিত হাদীসসমূহ ভিন্ন ভিন্ন শিরোনামে উপস্থাপন করেছেন এবং বর্ণিত হাদীস ও তার সানাদ সম্পর্কে আপত্তিকর কিছু দেখতে “ইমাম আবু দাউদ বলেছেন” বলে মন্তব্য পেশ করেছেন। এ গ্রন্থখানি সর্বজনগ্রাহ্য সংকলনের মর্যাদা
অর্জন করেছে। এ সম্পর্কে স্বয়ং ইমাম আবু দাউদ (রহঃ) বলেনঃ
“জনগন কর্তৃক সর্বসম্মতভাবে পরিত্যক্ত কোন হাদীসই আমি
এতে উদ্ধৃত করি নাই”- (দেখুন, খাত্তাবীর মুকাদ্দামাহ মা’আলিমুস সুনান, পৃঃ ১৭)। সর্বোপরি এটি বিজ্ঞ মুহাদিস ওমণীষীগণের নিকট সমধিক গ্রহণযোগ্য একটি গ্রন্থ। ইমাম আবু দাউদ গ্রন্থ সংকলন সমাপ্ত করার পর তাঁর উস্তাদ ইমাম আহমাদ ইবনু হাম্বালের সম্মুখে উপস্থাপিত করলে ইমাম আহমাদ গ্রন্থখানিকে খুবই পছন্দ করেন এবং একে একটি উত্তম হাদীস গ্রন্থ আখ্যায়িত
করে প্রশংসা করেন- (তাযকিরাতুল হুফফায, মুনযিরীর মুকাদ্দামাহ তালখীস, পৃঃ ৫)।ইমাম আবু দাউদে ছাত্র হাফিয মুহামআদ ইবনু মাখরাস দুয়ারী (মৃত ৩৩১হিঃ) বলেনঃ “ইমাম
আবু দাউদ যখন সুনান গ্রন্থখানি প্রণয়ন সম্পন্ন করলেন এবং তা লোকদের পাঠ করে শুনালেন, তখনি তা মুহাদিসগণের নিকট
(কুরআনের মতই) অনুসরণীয় গ্রন্থ হয়ে গেল”- (তাহযীবুত তাহযীব)।
হাফিয আবু জা’ফর ইবনু যুবাইর গরনাতী বলেনঃ ফিক্বাহ সম্পকিত হাদীসসমূহ সামগ্রিক ও নিরংকুশভাবে সংকলিত হওয়ার কারণে সুনান আবুদাউদের যে বিশেষত্ব, তা সিহাহ সিত্তার অপরকোন গ্রন্থেরই নেই”- (তাদরীবুর রাবী, পৃঃ ৫৬)।
ইমাম গাযযালী (রহঃ) বলেনঃ “হাদীসের মধ্যে এই একখানি গ্রন্থই মুজতাহিদের জন্য যথেষ্ট”- (সাখাবীর ফাতহুল মুগীস, পৃঃ ২৮)।মুহাদ্দিস যাকারিয়া সাজী বলেনঃ “ইসলামের মূল হচ্ছে আল্লাহর কিতাব, আর ইসলামের ফরমান হচ্ছে সুনানে আবু দাউদ”- (ইবনু ত্বাহিরের শুরুতুল আয়িম্মাহ, পৃঃ ১৭)। 

মন্তব্য করুন

ব্লগ