সহকারী শিক্ষক
০৬ জুলাই, ২০২২ ০২:২১ অপরাহ্ণ
সহকারী শিক্ষক
১৫৫৬ সালের নভেম্বর মাসে উত্তর ভারতের হিন্দু সম্রাট হেমচন্দ্র বিক্রমাদিত্য (হেমু) ও মুঘল সম্রাট আকবরের মধ্যে সংগঠিত যুদ্ধটি হল পানিপথের দ্বিতীয় যুদ্ধ।
মুঘল শাসক হুমায়ূন এর মৃত্যুর পর তাঁর পুত্র আকবর মাত্র তের বছর বয়সে সিংহাসনে বসেন। অন্যদিকে হুমায়ূনের মৃত্যুর পর, হেমচন্দ্র বিক্রমাদিত্য হেমু উত্তর ভারত জয় করার পর তিনি দিল্লি জয়ের উদ্দেশ্যে রওনা দেন। তিনি যখন আগ্রা আক্রমণ করার উদ্দেশ্যে আগ্রায় আসেন, তখন আগ্রায় আকবরের বাহিনীর যিনি সেনাপতি ছিলেন, তিনি লড়াই না করেই পালিয়ে যান। যার ফলে আগ্রার প্রদেশগুলির বিশাল অঞ্চল হেমুর নিয়ন্ত্রণে চলে আসে এরপরেই হেমু দিল্লির দিকে অগ্রসর হন এবং ১৫৫৬ সালের ৬ অক্টোবর তারা মুঘল সেনাপতিদের প্রতিরোধের মুখোমুখি হন। প্রচন্ড লড়াইয়ের পরে আকবরের সেনাপতি ক্ষমতাচ্যুত হন এবং হেমু দিল্লী দখল করে নেয়। প্রায় তিন হাজার মুঘল নিহত হন সেই আক্রমণে এবং হেমু দিল্লির সিংহাসনে বসেন।
অন্যদিকে হেমুর দিল্লি ও তার পাশবর্তী অঞ্চলগুলোতে আধিপত্য বিস্তার এবং তার বাহিনীর হাতে প্রায় তিন হাজার সৈন্যের নিহত হওয়ার ঘটনা আকবর এবং বৈরাম খাঁ(বৈরাম খাঁ ছিলেন মোঘল সম্রাট হুমায়ুন এবং আকবরের সেনাপতি এবং উপদেষ্টা এবং হুমায়ুনের সবচেয়ে বিশ্বস্ত ও শ্রদ্ধেয় সভাসদ) মেনে নিতে পারে নি। তারা সকল বাধা বিপত্তি সত্ত্বেও তারা হেমুর বিপক্ষে যুদ্ধ ঘোষণা করেন। এরই ফলশ্রুতিতে আকবরের সেনাবাহিনী দিল্লির দিকে অগ্রসর হয়।
৫ নভেম্বর, উভয় সৈন্যদল নিয়ে হরিয়ানা প্রদেশের সেই ঐতিহাসিক গ্রাম পানিপথের রণক্ষেত্রে মিলিত হয়। গ্রামটি ঐতিহাসিক এ জন্য যে এখানেই মাত্র ত্রিশ বছর আগে আকবরের দাদা বাবর ইব্রাহিম লোদিকে পরাজিত করেন। যা পানিপথের প্রথম যুদ্ধ হিসাবে পরিচিত।
আকবর ও তার অভিভাবক বৈরাম খাঁ যুদ্ধে অংশ নেন নি এবং যুদ্ধক্ষেত্র থেকে আট মাইল দূরে অবস্থান নিয়েছিলেন। বৈরাম খাঁ ১৩ বছরের শিশু আকবরকে ব্যক্তিগতভাবে যুদ্ধের ময়দানে উপস্থিত হওয়ার অনুমতি দেননি। যুদ্ধ শুরু হলে হেমু হাতির পিঠে বসে যুদ্ধ পরিচালনা করছিলেন। সবকিছুই ছিল তার অনুকূলে। কিন্তু ভাগ্য তার সহায় ছিলনা। হঠাৎই কোথা থেকে একটা তীর এসে তার চোখে লাগে। অসম সাহসী হেমু চোখ থেকে তীর বের করে সেনাবাহিনীকে এগিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেন। কিন্তু বিপুল রক্ত ক্ষরণের জন্য দুর্বল হেমু কিছুক্ষণের মধ্যে অচৈতন্য হয়ে পড়েন। মুহুর্তের মধ্যে বদলে যায় দৃশ্যপট। সম্রাটকে এইভাবে লুটিয়ে পড়ছে দেখে সৈন্যরা কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে যায় এবং ভারসাম্য রাখতে না পারায় আকবরের এই বিশাল সৈন্যদলের নিকট পরাজিত হয়।
যুদ্ধ শেষ হওয়ার বেশ কয়েক ঘন্টা পরে, মৃত হেমচন্দ্র বিক্রমাদিত্য হেমুকে নিয়ে যাওয়া হয় পানিপথের একটি জায়গা সৌধাপুরে। বৈরাম খাঁ আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করেছিলেন যে আকবর হেমুকে নিজেই শিরচ্ছেদ করবেন। কিন্তু আকবর রক্তে ভিজা মৃত শত্রুকে আঘাত করতে অস্বীকৃতি জানালে বিরক্ত হয়ে বৈরাম খাঁ নিজেই হেমুর শিরচ্ছেদ করেন। যুদ্ধে উভয়পক্ষের প্রায় পাঁচ হাজার প্রাণহানি হয়। হেমুর বেশিরভাগ সেনা পলায়নরত অবস্থায় প্রাণ হারান। বৈরাম খাঁ যুদ্ধ জয়ের নিদর্শনস্বরূপ হেমুর মস্তক কাবুলে ফেরত পাঠান।
এই যুদ্ধের ফলে নিভু নিভু করতে থাকা মোঘল সাম্রাজ্য নতুন করে জেগে উঠলো। দিল্লীর সিংহাসন শক্তিশালী অবস্থান করলেন মোঘল সম্রাট আকবর। আর এরপরই শুরু হয় মহামতি আকবরের নেতৃত্বে ভারত জুড়ে মোঘল শাসন।
৪
৪ মন্তব্য