Loading..

ব্লগ

রিসেট

১৮ জুলাই, ২০২২ ০৪:৫৭ অপরাহ্ণ

প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পরোক্ষ কারণসমূহ

দীর্ঘ চার বছরের বেশি সময় নিয়ে চলা যুদ্ধ, যে যুদ্ধে প্রায় প্রায় ৯০ লক্ষ যোদ্ধা ও ১ কোটি ২০ লক্ষ নিরীহ মানুষ নিহত হয়। প্রায় ১ কোটি সৈন্য এবং ২ কোটি ১০ লক্ষ সাধারণ মানুষ আহত হয়। সেই যুদ্ধটির কারণ হিসেবে শুধুমাত্র একজন যুবরাজের আততায়ীর হাতে হত্যাকে ধরতে পারিনা, কেননা প্রথম বিশ্বযুদ্ধ শুরুর আগে গোটা ইউরোপের দেশগুলোতে ছোট বড় মিলিয়ে কিছু কিছু ঘটনা বা কারণ এমন এমন পরিস্থিতিতে নিয়ে গিয়েছিল যে বড় ধরনের যুদ্ধ যেখানে অনিবার্য ছিল।

ইউরোপের তৎকালীন যে সাম্রাজ্যগুলো ছিল সেগুলো তাদের শক্তি ও সাম্রাজ্য রক্ষার জন্য যেকোন পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত ছিল। নিজেদের সাম্রাজ্য বৃদ্ধির জন্য তারা বিভিন্ন ছোট ছোট দেশে সংঘাত করতে থাকে। তাদের আধিপত্য এমন ছিল যে, সমগ্র পৃথিবীর প্রায় ২৫% ছিল বৃটেনের দখলে এছাড়া প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পূর্বে আফ্রিকা মহাদেশের অধিকাংশ অঞ্চল ব্রিটেন ও ফ্রান্সের নিয়ন্ত্রণে ছিল। কিন্তু উনবিংশ শতাব্দীর শেষের দিকে জার্মানির উত্থান হলে ব্রিটিশ ও ফরাসি সাম্রাজ্যের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়ায়। অন্যদিকে বলকান অঞ্চলে অটোমান সাম্রাজ্য, অস্ট্রো-হাঙ্গেরিয়ান সাম্রাজ্য, এবং রুশ সাম্রাজ্য আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ধীরে ধীরে পরিস্থিতি একটা অনিশ্চয়তার দিকে অগ্রসর হয়।

সাম্রাজ্যগুলো নিজেদের ক্ষমতা ধরে রাখতে নিয়মনীতিহীনভাবে অস্ত্র ও সেনাবাহিনী শক্তিশালী করতে শুরু করে। প্রায় বেশিরভাগ সাম্রাজ্য তাদের আয়ের সর্বোচ্চ অংশ সেনাবাহিনী শক্তিশালী করার লক্ষে ব্যয় করতে থাকে। প্রতিটি দেশই তাদের মাতৃভূমি রক্ষার জন্য প্রতিদ্বন্দ্বীদের প্রতিরোধ করতে একটি শক্তিশালী সেনা ও নৌবাহিনী তৈরিতে ব্যস্ত হয়ে পড়ে।
নিজেদের অন্যান্য সাম্রাজ্য ও জাতি থেকে শক্তিশালী করার প্রয়াসে সাম্রাজ্যবাদী দেশগুলো অস্ত্র প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হয়। ঠিক একইভাবে প্রতিযোগিতায় ফ্রান্স ও জার্মানি তাদের সৈন্য সংখ্যা কয়েক বছরের ব্যবধানে প্রায় দ্বিগুন করে ফেলে। এক দিকে নতুন নতুন প্রযুক্তি ব্যবহারে আগ্নেয়াস্ত্র প্রতিযোগিতা অন্যদিকে সৈন্যসংখ্যার প্রতিযোগিতা৷ সমগ্র ইউরোপ তৎকালীন একটা বড় গোলাবারুদে পরিনত হয়েছিল।

প্রথম বিশ্বযুদ্ধ হওয়ার পিছনে সবচাইতে বড় একটি কারণ হল এক দেশ অন্য দেশের সাথে জোটবদ্ধ হয়ে চুক্তি করা। যেই চুক্তিগুলো সমগ্র ইউরোপকে ধীরে ধীরে দুটি পক্ষে ভাগ করে দিয়েছিল যুদ্ধের জন্য। জার্মানি অস্ট্রিয়া-হাঙ্গেরি এবং ইতালি তিনটি দেশই ফ্রান্সের পার্শ্ববর্তী এবং তারা একটা চুক্তিতে আবদ্ধ হয় যে যদি কোন দেশ আক্রমণের শিকার হয় তবে তিন দেশ এক হয়ে মোকাবিলা করবে। ফ্রান্স তাদের নিজেদের নিরাপত্তা ও জার্মানি শক্তির পতনের জন্য ঠিক একইভাবে রাশিয়া ও বৃটেনের সাথে একটি চুক্তিবদ্ধ হয়। জার্মানি যখন বুজতে পারল ফ্রান্স,বৃটেন ও রাশিয়া জোটের উদ্দেশ্য ঠিক তখন তারা বৃহত্তর জোট গঠনের সিদ্ধান্ত নেয়। জার্মানি এবার অটোমান সাম্রাজ্য এবং অস্ট্রো-হাঙ্গেরিয়ান সাম্রাজ্যের সাথে জোট গঠনের সিদ্ধান্ত নেয়। অন্যদিকে ফ্রান্স ইত্যালির সাথে অনাক্রমন গোপন চুক্তি করে, আবার রাশিয়া সার্বিয়ার সাথে চুক্তি করে। ফলস্বরূপ ইউরোপ তখন দুটি দলে বিভক্ত হয়ে পরে মিত্রশক্তি ও অক্ষশক্তিতে।

সুতরাং প্রথম বিশ্বযুদ্ধের জন্য যুবরাজ ফ্রাঞ্জ ফার্দিনান্দ ও তার স্ত্রী সোফি হত্যাকে মূল কারণ হিসেবে ধরা যায় না, কেননা কয়েক দশক থেকে উতপ্ত হতে থাকা পরিস্থিতি এমন একদিকে ধাবিত হচ্ছিল যে যুদ্ধ অনিবার্য ছিল। যদি প্রিন্সিপ সেদিন যুবরাজ ফার্দিনান্দকে হত্যা নাও করতেন তবুও এই যুদ্ধ হত, হয়ত অন্য কোন উপলক্ষ্য দিয়ে শুরু হত রক্তক্ষয়ী এই মহাযুদ্ধ।






মন্তব্য করুন