সহকারী শিক্ষক
৩০ জুলাই, ২০২২ ১১:২৮ অপরাহ্ণ
হিজরী নববর্ষের গুরুত্ব ও ইতিহাস। মুসলমানদের জন্য আরবি ক্যালেন্ডারের গুরুত্ত্ব অত্যধীক।
হিজরি সন (আরবি: سَنة هِجْريّة) হল ইসলামী চন্দ্র পঞ্জিকায় ব্যবহৃত পঞ্জিকা সাল যার প্রথম বছর শুরু হয় ৬২২ খ্রিস্টাব্দের ইসলামি নববর্ষের দিন থেকে। হিজরি সালের এই প্রথম বছরে মুহাম্মদ ও তার সাহাবীরা মক্কা থেকে ইয়াসরিবে (বর্তমানে মদিনা) দেশান্তরিত হন। এই ঘটনাটি ইসলামি পরিভাষায় হিজরত নামে পরিচিত যা ইসলামে প্রথম মুসলিম সম্প্রদায় (উম্মাহ) সৃষ্টির পেছনে ভূমিকা রাখার জন্য স্মরণীয়।
পশ্চিমা বিশ্বে, এই পঞ্জিকা সালকে সাধারণত বলা হয় এএইচ (লাতিন: Anno Hegirae /ˈænoʊ ˈhɛdʒɪriː/, 'হিজরতের বছর') যা খ্রিস্টীয় (এডি), সাধারণ (সিই) ও ইহুদি সাল (এএম) এর সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং সাদৃশ্যপূর্ণভাবে তারিখের আগে বা পরে বসানো সম্ভব। মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশে এই সালকে সংক্ষেপে ইংরেজিতে এইচ ("হিজরি") দ্বারা লেখা হয় যা এসেছে এর আরবি আদ্যাক্ষর হা (هـ) থেকে। ১ হিজরির (ইংরেজি: 1 AH) আগের বর্ষকে বলা হয় ১ হিজরিপূর্ব (ইংরেজি: 1 BH)।
ইসলামি চন্দ্র পঞ্জিকায় শুধু ৩৫৪ বা ৩৫৫ দিন থাকার কারণে হিজরি বছর খুব ধীরে গ্রেগরীয় বর্ষপঞ্জিতে দশ দিন করে পেছাতে থাকে। যেমন ২০২২ খ্রিস্টাব্দ ইসলামি সন হিজরিতে ১৪৪৩ – ১৪৪৪। হিজরি ১৪৪৩ গ্রেগরীয় বর্ষপঞ্জিতে ২০২১ – ২০২২ খ্রিস্টাব্দে পড়ে।
হিজরি সন ইসলামী চন্দ্র পঞ্জিকা অনুসারে গণনা করা হয়, জুলীয় কিংবা গ্রেগরীয় সৌর পঞ্জিকা অনুসারে নয়। এই পঞ্জিকা সাল ১ জানুয়ারি, ১ খ্রিস্টাব্দ তারিখে শুরু না হয়ে ১ মুহররম, ১ হিজরি তারিখে শুরু হয় যা জুলীয় বর্ষপঞ্জিতে ১৬ জুলাই, ৬২২ খ্রিস্টাব্দ তারিখে পড়ে।
হিজরতের তারিখ নববর্ষের তারিখ নয়। এই পঞ্জিকা সাল ব্যবস্থা সনাতনী মাসের ক্রম মেনে চলে যেখানে প্রথম বর্ষের ইসলামি নববর্ষের ৬৬ দিন পরে (৬ রবিউল আউয়াল) হিজরতের ঘটনা ঘটেছিলো। মুহাম্মদের সময়ে ইতোমধ্যে নামকৃত মাস সহ একটি আরবীয় চন্দ্র পঞ্জিকা ছিলো। সেই সময় পঞ্জিকার বছর সংখ্যা দ্বারা চিহ্নিত না করে নাম দ্বারা চিহ্নিত করা হত: উদাহরণস্বরূপ, মুহাম্মদ এবং আম্মার ইবনে ইয়াসির (৫৭০ খ্রিস্টাব্দ) এর জন্ম সালকে প্রাক-ইসলামি মক্কায় বলা হত "হস্তিবর্ষ"। হিজরতের প্রথম বর্ষ (৬২২-২৩ খ্রিস্টাব্দ) পঞ্জিকায় পরিচিত ছিলো "ভ্রমণের অনুমতি" হিসেবে।
হিজরতের ১৭ বছর পরে, বসরার গভর্নর আবু মুসা আশয়ারী পত্রযোগে খলিফা উমরকে জানান “হে আমীরুল মু’মিনীন, আমাদের কাছে বহু পত্র আসে, যাতে তারিখ লেখা থাকে, কিন্তু তাতে সাল লেখা থাকে না। সুতরাং সময়ক্রম নির্ধারণের জন্য সাল গণনার ব্যবস্থা করুন।" অভিযোগটি পাওয়ার পর খলিফা নামভিত্তিক বছর গণনা ব্যবস্থা বিলুপ্ত করে একটি নতুন সংখ্যাভিত্তিক বছর গণনা ব্যবস্থা প্রচলন করার পদক্ষেপ নেন। এক হাদিস অনুসারে উমর পরামর্শ সভা আহবান করেন। সভায় সাদ ইবনে আবি ওয়াক্কাস মুহাম্মদের মৃত্যুবরণের বছর, তালহা ইবনে উবাইদিল্লাহ নবুয়তের বছর এবং আলী ইবনে আবী তালিব হিজরতের বছর থেকে বর্ষ গণনার প্রস্তাব দেন। অতঃপর সভার সকলে আলীর প্রস্তাবে ঐকমত্য পোষণ করেন। উমর নতুন পঞ্জিকা সালের প্রথম বর্ষ হিসেবে মুহাম্মদ ও তার ৭০ জন সাহাবির মক্কা থেকে মদিনায় হিজরত করার বছরকে গ্রহণ করেন। আরেক হাদিস অনুসারে উসমান ও আলী প্রচলিত মাসের ক্রম ঠিক রেখে পঞ্জিকা সাল অব্যাহত রাখার প্রস্তাব দেন যা গৃহীত হয়। এরপর উমর কর্তৃক এই পঞ্জিকা সাল ব্যবহার মুসলিম সাম্রাজ্যে বাধ্যতামূলক করা হয়।
৭০
১৪৪ মন্তব্য