Loading..

ব্লগ

রিসেট

০১ আগস্ট, ২০২২ ০১:৪৫ অপরাহ্ণ

"সহকারী শিক্ষক"? না কি "শিক্ষক"?


২০১৯-২০২০ শিক্ষাবর্ষে Scotland এ MSc in Education কোর্সে অধ্যয়নের সুযোগ হয়েছিল আমার। কোর্সটির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অন্যান্য তথ্যের সঙ্গে সকলের পেশাগত পরিচয় জানতে চাওয়া হয়েছিল। সে সময় আমার পদের নাম  Assistant Teacher বলেছিলাম। উপস্থিত শিক্ষকগন দ্বিধান্বিত হয়ে পড়েছিল। একে অন্যের দিকে তাকিয়ে তারা সেটা বোঝার চেষ্টা করছিল। বোধহয় তারা এধরনের পদের কথা পূর্বে কখোনও শোনেননি। তারা সম্ভবত ভেবেছিল আমি Teaching Assistant বা সেরকম কোন পদে কর্মরত। তাদের এরকম বিচলিত হতে দেখে বলেছিলাম, ”আমাদের দেশে Teacher কে Assistant Teacher বলা হয়।"

বাংলাদেশের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের “সহকারী শিক্ষক” বলা হয়ে থাকে। কিন্তু “শিক্ষক” ও “সহকারী শিক্ষক” শব্দ দুটির আর্থিক ও ব্যবহারিক পার্থক্য বিদ্যমান। শিক্ষক হলেন তারা - যারা শিক্ষার্থীদের গুন, জ্ঞান ও পারদর্শিতা অর্জনে সহায়তা করেন। অপরপক্ষে, বিশ্বের অন্য সব দেশে সহকারী শিক্ষক বলতে যা বোঝায় তা হলো “পার্শ্ব শিক্ষক”, “Education assistant”, “Teacher's aide", "Teaching assistant” বা “Paraprofessional educator" (Wikipedia).

Wikipedia অনুসারে “সহকারী শিক্ষক" বলতে এমন শিক্ষকদের বোঝায় যারা শ্রেণিকক্ষে বা শ্রেণিকক্ষের বাইরে পাঠদানে একজন শিক্ষককে সহায়তা করে থাকেন। দুঃখজনকভাবে, শুধুমাত্র বাংলাদেশেই “সহকারী শিক্ষক” নামের পদটি একজন শিক্ষককে নির্দেশ করে। আমাদের দেশের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পদক্রম হল “প্রধান শিক্ষক" এবং তারপর “সহকারী শিক্ষক”। “শিক্ষক” পদটি এখানে অনুপস্থিত। বিদ্যালয়ে “শিক্ষক" পদ থাকবে না এটি কীভাবে বাঞ্ছনীয় হতে পারে? প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কর্মরত “সহকারী শিক্ষক” গন “শিক্ষক” এর দায়িত্ব পালন করে আসছেন এবং বিদ্যালয়ে “শিক্ষক” পদ না থাকায় “সহকারী শিক্ষক" পদ থাকার বিষয়টি অযৌক্তিক। বিদ্যালয়ে “শিক্ষক” পদ না থাকা বেমানানও বটে। দেশের মাধ্যমিক বিদ্যালয় ব্যতীত অন্য কোন সরকারি বা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে এরকম পদক্রমের নজির নেই। উদাহরণ স্বরূপ- জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার; সহকারী জেলা শিক্ষা অফিসার; উপজেলা শিক্ষা অফিসার, সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসার। তাই, “সহকারী শিক্ষক” হতে সামঞ্জস্যহীন “সহকারী” শব্দটি বাদ দিলে “শিক্ষক” শব্দটির সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা যাবে। পাশাপাশি, শিক্ষকগনের পেশার সঠিক মূল্যায়ন করে শিক্ষকগনকে প্রাপ্য সম্মান প্রদর্শন করার মাধ্যমে তাদেরকে কার্যকরভাবে অনুপ্রাণিত করা যাবে। সেকারণে বিশ্বায়নের যুগে বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে চলতে বেমানান ও অযৌক্তিক “সহকারী” শব্দের অপসারণ পূর্বক শিক্ষকগণের পদটি “শিক্ষক” করার মাধ্যমে এই বিভ্রান্তি দূর করা সময়ের দাবি।

ধন্যবাদান্তে,
মোঃ আলম আল পারভেজ
সহকারী শিক্ষক
সোনাতনপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়

ঝিনাইদহ সদর, ঝিনাইদহ।


মন্তব্য করুন