Loading..

ব্লগ

রিসেট

১৮ আগস্ট, ২০২২ ০৯:৩২ পূর্বাহ্ণ

বিদেশী হানাদারদের ভারত লুণ্ঠনের সবচেয়ে ভয়াবহ রূপ বলতে পারবে?

ভারতবর্ষে এখন পর্যন্ত যতবার বিদেশী শত্রুর হামলা হয়েছে তার মধ্যে চারটি হামলাকে সবচেয়ে ভয়াবহ রূপে আখ্যায়িত করা যায়। এই হামলা গুলো এতটাই ভয়াবহ ছিল যা পরবর্তীতে ভারতবর্ষের রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক চিত্রকে পাল্টে দিয়েছিল। এই চারটি হামলা হলো-

? গজনীর সুলতান মাহমুদ কর্তৃক।

? তৈমুর লং কর্তৃক।

?নাদির শাহ কর্তৃক।

? সমগ্র ইংরেজ শাসনামল।

?মহাবীর আলেকজান্ডারের ভারতবর্ষ আক্রমণের পর প্রায় এক হাজার বছর ভারতবর্ষ আর সেরকম বিদেশি হামলার শিকার হয়নি। প্রাক ইসলামিক যুগে ভারতবর্ষে প্রথম হামলা করেন তৎকালীন ইরাকের শাসনকর্তা হাজ্জাজ বিন ইউসুফ এর জামাতা মুহাম্মদ বিন কাসেম। মোহাম্মদ বিন কাসেম সিন্দুর শাসনকর্তা দাহিরকে পরাজিত করেন এবং সিন্ধু ও মুলতান বিজয় করেন। মোহাম্মদ বিন কাশেম শুধুমাত্র সিন্ধু জয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিলেন। ভারতবর্ষে রাজ্য বিস্তার করার কোন অভিলাষ সে সময় ছিল না। মোহাম্মদ বিন কাসেমের সিন্ধু জয়ের প্রায় ৩০০ বছর পর আফগান শাসক সুলতান মাহমুদ গজনভি ভারত আক্রমণ করেন।মাহমুদ গজনভি ১০০০-১০২৭ সালের মধ্যে মোট ১৭ বার ভারত আক্রমণ করেন। মাহমুদের ভারত আক্রমনের উদ্দেশ্য ছিল মূলত দুইটি। প্রথমত মাহমুদ চেয়েছিলেন উত্তর ভারত বিশেষ করে আফগান সীমান্তবর্তী ভারতীয় অঞ্চলগুলোতে নিজের কর্তৃত্ব শক্তপোক্ত ভাবে স্থাপন করতে। আর দ্বিতীয়তঃ এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কারণ যেটি ছিল সেটি ছিল ভারতবর্ষের বিপুল ধন-সম্পদ। সুলতান মাহমুদ চেয়েছিলেন গজনীকে মধ্য এশিয়ার সবচেয়ে প্রতাপশালী একটি সাম্রাজ্যে পরিণত করতে। আর সেজন্য তার বিপুল পরিমাণ অর্থের প্রয়োজন ছিল। তাই সুলতান মাহমুদ সে সময় ভারত অভিযানের জন্য প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হন। অপরদিকে সেসময় উত্তর ভারতে রাজপুত শক্তি দুর্বল হয়ে পড়েছিল। উত্তর ভারতের রাজ্যগুলির মধ্যে কোন সদ্ভাব ছিল না। একটার আরেকটার সাথে যুদ্ধ বিগ্রহ এবং সংঘাত লেগেই থাকতো। এ কারণে সুলতান মাহমুদের আক্রমণ প্রতিরোধ করা কারো পক্ষে সম্ভব হয়নি। তাই সুলতান মাহমুদ প্রতিবারই যখন ভারত আক্রমণ করেছে প্রতিটি যুদ্ধেই তিনি জয়লাভ করেছেন। যুদ্ধ শেষে মাহমুদ বিজিত অঞ্চলের রাজাদের কাছ থেকে মোটা অংকের মুক্তিপণ আদায় করতেন এবং আফগানিস্তানে ফিরে যেতেন। সুলতান মাহমুদের বারবার আক্রমণে ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক দুর্বলতা প্রবলভাবে প্রকাশ পায়। সেইসাথে বারবার ভারত আক্রমণের ফলে এবং ভারত থেকে বিপুল পরিমাণ সম্পদ লুণ্ঠনের ফলে ভারতের অর্থনীতিও ভয়াবহভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। একের পর এক গজনী কর্তৃক ভারতে ১৭টি আক্রমণ ভারতীয় শাসকদের সামরিক দুর্বলতা প্রকাশ করে। সুলতান মাহমুদের আক্রমণে পেশোয়ার,নগরকোট,আলোয়াড়,থানেশ্বর,কনৌজ, মথুরা ধ্বংসস্তুপে পরিণত হয়। এই শহরগুলোর মন্দির ধ্বংসের ফলে ভারতীয় শিল্পকলা, স্থাপত্য এবং ভাস্কর্যের জন্য একটি বিশাল ধাক্কা লেগেছিল। ১০২৬ সালের গুজরাটের কাথিয়াওয়াড়ের সোমনাথ আক্রমণকে সুলতান মাহমুদের সব থেকে ভয়ানক হামলা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। হিন্দু রাজপুতদের প্রবল প্রতিরোধের পরও সুলতান মাহমুদ অবশেষে সোমনাথ মন্দির অধিকার করতে সক্ষম হন। এই মন্দিরের মূর্তি ভেঙে বিপুল পরিমাণ ধন সম্পদ অর্জন করেন। যার পরিমাণ ছিল ২০০ মণ স্বর্ণ। তৎকালীন সময়ে যার মূল্য ছিল প্রায় বিশ মিলিয়ন দিনার। বিপুল পরিমাণ সম্পদ লুণ্ঠন এবং মন্দির ধ্বংস করার কারনে মাহামুদ গজনভিকে ইতিহাসের সবচেয়ে নিষ্ঠুর লুণ্ঠনকারী হিসেবে আখ্যা দেওয়া হয়।

? ভারতবর্ষে দ্বিতীয় সব থেকে ভয়াবহ যে আক্রমণটি ঘটেছিল সেটি ছিল তৈমুর লংয়ের নেতৃত্বে।

মন্তব্য করুন

ব্লগ