Loading..

ব্লগ

রিসেট

২৯ আগস্ট, ২০২২ ০৮:৫০ অপরাহ্ণ

@@@@ মধু খাওয়ার নিয়ম , উপকারিতা ও অপকারিতা। @@@@

বাঙালি মধু প্রিয় মানুষ। তাই বাংলাদেশের বেশিরভাগ মানুষ মধু খেতে ভালোবাসে।  

মধুর উপকারিতা

* মধুর মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন ভিটামিন। তাই এটা আমাদের শরীর গঠনে ভূমিকা রাখে। তাই আমাদের মাঝে অনেকেই আছে যারা সব সময় মধু খেতে ভালোবাসে।

  • * মধু রক্তশূন্যতায় বেশ ফলদায়ক।

  • * শ্বাসকষ্ট ও ফুসফুসের রোগে মধু উপকারী।

  • * মধু কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে।

  • * মধু হজম শক্তি বৃদ্ধি করে।

  • * যৌন দুর্বলতা কাটাতে মধু উপকারী।

  • * মধু পানিশূন্যতা রোধ করে।

  • * তারুণ্য বজায় রাখতে মধুর ভূমিকা অপরিহার্য

  • * মধু হাঁপানি রোধে সহায়তা করে।

  • * এক চামচ মৌরি গুঁড়োর সঙ্গে এক বা দুই চামচ মধুর মিশ্রণ হৃদ্‌রোগের টনিক হিসেবে কাজ করে

  • * মধু উচ্চ রক্তচাপ কমাতে সাহায্য করে।

  • * মধু পেট পরিষ্কার করে, চর্বি কমায়, ফলে ওজন কমে

  • * মধু দাঁত, হাড়, চুলের গোড়া শক্ত রাখে, নখের ঔজ্জ্বল্য বৃদ্ধি করে, ভঙ্গুরতা রোধ করে।

  • * শীতের ঠান্ডায় মধু শরীরকে গরম রাখে

মধু খাওয়ার নিয়ম

সঠিক পদ্ধতিতে মধু খেলে আপনি যেমন ভীষণ উপকার পাবেন তেমনি ভুল পদ্ধতিতে এটি সেবন করলে দেখা দিতে পারে নানান জটিলতা।

  • * মধু খাওয়ার সব থেকে ভালো সময় সকালে খালি পেটে মধু খাওয়া

  • * নতুন সংগ্রহ করা মধু থেকে ও পুরাতন মধু বেশি কার্যকরী। 

  • * লেবুর রসের সঙ্গে কাঁচা মধু মিশ্রিত করে খেলে অ্যাসিডিটি কমে।

  • * হজমের সমস্যা দূর করতে প্রতিবার ভারি খাবার খাওয়ার আগে এক চামচ মধু খেয়ে নিন।

  • * রক্তনালীর সমস্যা দূর করতে মধুর সঙ্গে দারুচিনির গুঁড়ো মিশিয়ে খেলে ভাল ফল পাওয়া  যায়। এছাড়াও মধু ও দারুচিনির  এই মিশ্রণ নিয়মিত খেলে হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি কমে।

  • * লেবুর রস ও মধু মিশিয়ে খেলে তা ওজন কমাতে সাহায্য করে ও লিভার পরিস্কার থাকে।

  • * যৌন দুর্বলতা কাটাতে প্রতিদিন ছোলার সঙ্গে মধু সেবনে ভালো ফল পাওয়া যায়।   

  • * দুই চা চামচের সমপরিমাণ মধু ও বাসকপাতার রস মিশিয়ে খেলে সর্দি ও কাশি সেরে যায়।  

  • * তুলসী পাতার এক চা চামচ রস ও সমপরিমাণ মধু মিশিয়ে খেলে অল্প সময়ের মধ্যেই কাশি দূর হয়। 

  • * কচি বেল ও আমগাছের কচি চামড়া বাটার সঙ্গে গুড় ও মধু মিশিয়ে খেলে আমাশয় ভালো হয়ে যায়।   

  • * মধুর সঙ্গে গুড়ের  রস মিশিয়ে খেলে বমি বন্ধ হয়ে যায়।

  • * এক চা চামচ আদার রস এবং এক চা চামচ মধু একসঙ্গে মিশিয়ে সকালে ও সন্ধ্যাবেলা খেলে সর্দি সেরে যায় ও খিদে  বৃদ্ধিপায়

মধুর পুষ্টিগুণ

* পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ মধুতে প্রায় ৪৫টি খাদ্য উপাদান থাকে। ফুলের পরাগের মধুতে থাকে ২৫ থেকে ৩৭ শতাংশ গ্লুকোজ, ৩৪ থেকে ৪৩  শতাংশ ফ্রুক্টোজ, ০.৫ থেকে ৩.০ শতাংশ সুক্রোজ এবং ৫-১২ শতাংশ মন্টোজ থাকে। ১০০ গ্রাম মধুতে থাকে ২৮৮ ক্যালরি। আরো থাকে ২২ শতাংশ অ্যামাইনো এসিড, ২৮ শতাংশ খনিজ লবণ এবং ১১ ভাগ এনকাইম। এতে চর্বি ও প্রোটিন নেই। মধুর মধ্যে রয়েছে  ভিটামিন বি১, বি২, বি৩, বি৫, বি৬, আয়োডিন, জিংক ও কপার সহ অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল ও অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল উপাদান যা আমাদের শুধুমাত্র দেহের বাহ্যিক দিকের জন্যই নয়, দেহের অভ্যন্তরীণ অঙ্গ প্রত্যঙ্গের সুরক্ষায় কাজ করে।

ত্বকের যত্নে মধু

* মধু ত্বকের প্রাকৃতিক ময়েশ্চারাইজার হিসেবে কাজ করে। মধুতে রয়েছে অ্যান্টি-ফাঙ্গাল, অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল ও অ্যান্টি-ভাইরাল উপাদান। নিয়মিত মধু ব্যবহার করলে ত্বক উজ্জ্বল ও সুন্দর হয়। এছাড়া ব্রণ, বলিরেখা ও রোদে পোড়া দাগ দূর করতে পারে এ প্রাকৃতিক উপাদান।

মধু
* ১ চা চামচ মধু সরাসরি মুখে লাগান। ১৫ মিনিট অপেক্ষা করুন। হালকা গরম পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন ত্বক। প্রতিদিন ২ বার লাগালে ত্বকে আসবে প্রাকৃতিক উজ্জ্বলতা।

দইওমধু
* দই ও মধু একসঙ্গে মিশিয়ে তৈরি করুন ফেসপ্যাক। হাত-পা ও মুখের ত্বকে লাগান। শুকিয়ে গেলে পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। নিয়মিত করলে কোমল হবে ত্বক।

বেকিং,সোডাওমধু
* মধু ও বেকিং সোডা একসঙ্গে মিশিয়ে ত্বকে লাগান। ২ মিনিট ম্যাসাজ করুন। ঠাণ্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন মুখ। সপ্তাহে ২/৩ বার ফেসপ্যাকটি মুখে লাগালে ব্রণ দূর হবে

মধুওদুধ   
* মধু ও দুধের মিশ্রণ মুখসহ পুরো শরীরে লাগান। ১৫ মিনিট পর ধুয়ে ফেলুন। ত্বকের কালচে দাগ দূর করবে এটি।

চন্দন,মধুওপেঁপে    
* মধুর সঙ্গে চন্দনের গুঁড়া ও পাকা পেঁপে মেশান। এই ফেসপ্যাকটি নিয়মিত ত্বকে লাগালে রোদে পোড়া দাগ দূর হবে।

মধুওডিম 
* ত্বকের বলিরেখা দূর করার জন্য অত্যন্ত কার্যকরী এ ফেসপ্যাকটি। ডিমের সঙ্গে এক চা চামচ মধু মিশিয়ে ত্বকে লাগান। শুকিয়ে গেলে ধুয়ে ফেলুন। ত্বক টানটান করতেও সাহায্য করবে এটি।

মধুর অপকারিতা

* মধুর তেমন কোন অপকারিতা নেই। কিন্তু মধু বেশি খাওয়া উচিৎ না, কারন অতিরিক্ত মধু খেলে গাঁয়ের মধ্যে অস্থিরতা বা জ্বালা ভাব হতে পারে। সুতরাং মধু পরিমিত খাওয়া উচিত।

 

মন্তব্য করুন