সহকারী শিক্ষক
০৪ সেপ্টেম্বর, ২০২২ ০৯:৫৮ পূর্বাহ্ণ
সহকারী শিক্ষক
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের কাছে তুলসী গাছ অতিপবিত্র। প্রতিদিনের গৃহ দেবতার পূজোয় বা ভোগে তুলসী পাতা ব্যবহার করা হয়। তবে শুধু পুজার কাজেই নয় রোগ নিরাময়ে তুলসী পাতার জুড়ি নেই।
আধুনিক চিকিৎসা আসার আগে প্রাকৃতিক ওষুধ গুলোতেই নির্ভর করতে হয়েছে মানুষকে। যে কোন অসুখে প্রকৃতি থেকে নানা উপাদান নিয়ে ওষুধ তৈরি করে খেতে হতো। সে সময় এসব ওষুধের কার্যকারিতা কেমন ছিল তা নিয়ে প্রশ্ন তোলা বোকামি।
গবেষণায় দেখা গেছে, প্রকৃতি থেকে যে সব উপাদান নিয়ে ওষুধ খাওয়া হতো তা ব্রেন সেলের জন্মহার বাড়িয়ে তুলতে সহায়তা করতো।ফলে মস্তিষ্কের ক্ষমতা বৃদ্ধি পেতো খুব সহজেই। তাইতো সে সময়কার অনেক ওষুধই এখন আধুনিকতার ছোঁয়া পেয়েছে।
তুলসী গাছের পাতা, বীজ, বাকল ও শেকড় সবকিছুই অতি প্রয়োজনীয়। ঔষধিগুণের এই তুলসী বিভিন্ন রোগ সারাতে কাজ করে।
ফুসফুসের দুর্বলতা, কাশি, কুষ্ঠ, শ্বাসকষ্ট, সর্দিজ্বর, চর্মরোগ, বক্ষবেদনা ও হাঁপানি, হাম, বসন্ত, কৃমি, ঘামাচি, রক্তে চিনির পরিমাণ হ্রাস, কীটের দংশন, কানব্যথা, ব্রংকাইটিস, আমাশয় ও অজীর্ণে তুলসী দিয়ে তৈরি ওষুধ বিশেষভাবে কার্যকর।
এছাড়া মশার কামড় থেকে বাঁচতে হলে মশারি টানানো, অ্যারোসল স্প্রে করা অথবা তীব্র ধোঁয়াযুক্ত কয়েল জ্বালানোর প্রয়োজন পড়বে না। যদি তুলসী থাকে ঘরে।
তুলসী পাতার উপকারিতা-
মানসিক
চাপ
তুলসী পাতা আমাদের মানসিক চাপ
কমাতে সহায়তা করে। কারণ তুলসী পাতায় রয়েছে ভিটামিন-সি এবং অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট
সমৃদ্ধ, যা মানসিক চাপ কমাতে সাহায্য করে। আবার তুলসী পাতা খেলে আমাদের শরীরের কার্টিসেল
মাত্রা কমে যায় এবং মানসিক চাপ থেকে পুরোপুরি মুক্তি পাওয়া যায়। সুতরাং, মানসিক চাপ কমাতে তুলসী পাতা খেতে পারেন।
সর্দি, কাশি ও জ্বর নিরাময়
জ্বর, সর্দি ও কাশি হলে তুলসির পাতা খেলে রোগগুলো নিরাময় হয়ে থাকে। জ্বর নিরাময়ে তুলসী পাতা + এলাচ + পানি
ফুটিয়ে পান করলে জ্বর ভালো হয়ে যায়। আবার তুলসী পাতা খেলে কাশি নিরাময় করে থাকে। কাশি নিরাময়ের জন্য তুলসী পাতা + মধু + আদার রস মিশিয়ে খেলে
কাশি ভালো হয়। সর্দি থেকে রক্ষা পেতে তুলসী পাতার
রস অনেক উপকারী। তাই জ্বর, সর্দি-কাশি থাকলে তুলসী পাতার বা
তুলসী পাতার রস খেতে পারেন।
ওজন
কমাতে
ওজন কমাতে তুলসী পাতা হচ্ছে উত্তম একটি খাবার। কারণ রক্তে থাকা
কোলেস্টেরল ও সুগারের মাত্রা তুলসী পাতার মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়। তাই আপনি তুলসী পাতা খাওয়ার মাধ্যমেই ওজন কমাতে
পারবেন।
দাঁতের
স্বাস্থ্য
দাঁত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন ও সুস্থ-সবল রাখতে তুলসী পাতা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তুলসী পাতার মধ্যে রয়েছে মাইক্রোবিয়াল ও
এন্টি-ব্যাক্টিরিয়াল উপাদান, যা আমাদের দাঁতকে শক্ত রাখে
এবং দুর্গন্ধ মুক্ত করে।
ব্রণ
দূর করতে
ব্রণ ও ব্রণের দাগ দূর করতে তুলসী
পাতার উপকারিতা রয়েছে। তুলসী পাতার পেস্ট বানিয়ে সাথে চন্দন মিশিয়ে মুখে ৩০
মিনিট লাগিয়ে রাখবেন। এরপর জল দিয়ে ভালোভাবে মুখ পরিষ্কার করে নিন। এর ফলে ব্রণ
থেকে মুক্তি পুরোপুরি মুক্তি পেতে পারেন।
ত্বক
পরিষ্কার রাখতে
তুলসী পাতা ত্বকের সংক্রমণ ও পরিষ্কার রাখতে কার্যকর ভূমিকা পালন
করে থাকে। কারণ তুলসী পাতায় রয়েছে এন্টি-বায়োটিক উপাদান। যা ত্বকের ব্যাকটেরিয়া
এবং আর্থাসিস দূর করতে সহায়তা করে।
চোখের
সমস্যা সমাধানে
চোখের সমস্যা সমাধানে তুলসী পাতার
খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কারণ তুলসী পাতায় রয়েছে এন্টি-ইনফ্লেমেটরি উপাদান,
যা আমাদের চোখের সমস্যার সমাধানে কার্যকরী ভূমিকা পালন করে। তাই
চোখের কোনো সমস্যা থাকলে তুলসী পাতা বা রস খেতে পারেন।
মাথাব্যথা
কমাতে
মাথা ব্যথা দূর করতে দৈনিক ১-২ বার তুলসী পাতা খেতে পারেন। মাথা ব্যথা কমাতে তুলসী পাতার
উপকারিতা অনেকগুণ থাকায় আপনি চাইলে তুলসী পাতা খেয়ে মাথা ব্যথা পুরোপুরি দূর করতে পারেন।
কিডনি
পরিষ্কার রাখতে
কিডনি সুস্থ-সবল রাখতে তুলসী পাতা
খুবই উপকারী। কারণ তুলসী পাতায় রয়েছে অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল ও এন্টি-অক্সিডেন্ট
যা আমাদের শরীরের বিভিন্ন বিষাক্ত পদার্থ বের করে দিয়ে কিডনি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন
ও সচল রাখে। সুতরাং কিডনি সুরক্ষায় দৈনিক তুলসী
পাতা খেতে কখনোই ভুলবেন না।
হার্টের
সুরক্ষায়
হার্টের সমস্যা সমাধানে তুলসী পাতা খুবই গুরুত্বপূর্ণ উপাদান।
কারণ তুলসী পাতা রক্তের জমাট বাধা দূর করে পাশাপাশি উচ্চ রক্তচাপ কমাতে সহযোগিতা
করে। ফলে হার্ট সুস্থ ও সুরক্ষা মধ্যে থাকে।
ক্যান্সার
নিরাময়
তুলসী পাতায় রেডিও প্রটেক্টিভ জাতীয় উপাদান রয়েছে যা টিউমারের
কোষ ধ্বংস করতে সাহায্য করে। তুলসী পাতায় ফাইটো- কেমিক্যাল উপাদান রয়েছে যা ক্যান্সারের বিরুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ
ভূমিকা পালন করে।
ডায়াবেটিস
নিয়ন্ত্রণে
ডায়াবেটিস প্রতিরোধে তুলসী পাতা অনেক বেশিই উপকারিতা রয়েছে। কারণ তুলসী পাতার খেলে রক্তে সুগারের
মাত্রা কমে যায়। সেইসাথে তুলসী পাতা অ্যান্টি-ডায়াবেটিক ওষুধের মতো কাজ করে থাকে।
সুতরাং ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে তুলসী পাতা খেতে পারেন।
পেট
পরিষ্কারে
পেট পরিষ্কার রাখতে এবং পেটের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে তুলসী পাতা খুবই উপকারী। পেটে ব্যথা থাকলে তুলসী পাতা ভালোভাবে গরম
পানিতে ফুটিয়ে খেলে পেট ব্যাথা পুরোপুরি ভালো হয়ে যায়।
লিভার
ঠিক রাখতে
তুলসী পাতায় রয়েছে হেপাটো-প্রটেক্টিভ উপাদান যা লিভার ঠিক রাখতে
গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। লিভারে কোনো প্রকার বিষক্রিয়া থাকলে তুলসী পাতা
সেটা দূর করে দেয়। লিভারের সমস্যা সমাধানের জ১ন্য আগে চিকিৎসকের সাথে পরামর্শ করে, পরে তুলসী পাতা বা তুলসী পাতার রস
খেতে পারেন।
ব্যথা
ও ফোলা ভাব দূর করতে
তুলসী পাতা আমাদের শরীরের সকল ব্যথা দূর করতে সাহায্য করে। তুলসী
পাতায় ইউক্যালিপটাস নামক এক ধরণের উপাদান রয়েছে যা আমাদের শরীরের ফোলা ভাব দূর করে
অর্থাৎ তুলসী পাতাকে ‘পেইনকিলার’ ও বলা হয়।
রক্তনালী
পরিষ্কারে
রক্তনালী পরিষ্কারে তুলসী পাতার
ভূমিকা অপরিসীম। কারণ তুলসী পাতায় ইনফ্লেমেটরি নামক উপাদান রয়েছে যা রক্তনালী
পরিষ্কার ও রক্ত চলাচল সচল রাখতে সাহায্য করে।
তুলসী অর্থ যার তুলনা নেই। তুলসী একটি ভেষজ গাছ যার বৈজ্ঞানিক নাম Ocimum Sanctum। হিন্দু সম্প্রদায়ের কাছে এটি একটি পবিত্র উদ্ভিদ হিসাবে সমাদৃত। ভেষজ তুলসী পাতার সুগন্ধিযুক্ত, রুচিকর, কটু তিক্তরস। এটি সর্দি, কাশি, কৃমি ও মুত্রকর এবং বায়ুনাশক, এন্টিসেপটিক ও হজমকারক হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
তুলসী পাতার ব্যবহার: আমাদের দেশে ছেলেমেয়েদের সর্দি-কাশিতে তুলসী পাতার রস ব্যাপক ভাবে ব্যবহৃত হয়। এসব ক্ষেত্রে কয়েকটি তাজা তুলসী পাতার রসের সাথে একটু আদার রস ও মধুসহ খাওয়ানো হয়। বাচ্চাদের সর্দি-কাশিতে এটি বিশেষ ফলপ্রদ। তাজা তুলসী পাতার রস মধু, আদা ও পিঁয়াজের রসের সাথে এক সাথে পান করলে সর্দি বের হয়ে যায় এবং হাপানিতে আরাম হয়।
তুলসী পাতার অপকারিতা:
তুলসী পাতা যতই বেশি উপকারী হোক না কেন, কিছু ক্ষেত্রে এই পাতা এড়িয়ে চলাই ভাল। চলুন জেনে নেয়া যাক, তুলসী পাতার অপকারিতা সম্পর্কে।
গর্ভাবস্থা
বা স্তন্যপান করার সময়
গর্ভাবস্থার সময় বা মা হওয়ার পর স্তন্যপান করানোর সময় অল্প
পরিমাণে তুলসী পাতা খেলে কোনো রকম ক্ষতি হয় না, তবে
অতিরিক্ত পরিমাণ তুলসী পাতা খেলে নানা রকম সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই এই
সময়গুলোতে তুলসী পাতা না খাওয়াই ভাল। এছাড়াও অতিরিক্ত পরিমাণে তুলসী পাতা খাওয়ার
ফলে মহিলাদের বন্ধ্যাত্বের কারণ হতে পারে। সুতরাং নির্দিষ্ট পরিমাণে তুলসী পাতা
খাওয়া বা ব্যবহার করাই ভালো।
রক্তপাতের
সমস্যা
প্রয়োজনের চেয়ে বেশি তুলসী পাতা খেলে শরীরে রক্তের প্রবাহ বেড়ে
যায়। ফলে শরীরের স্বাভাবিক রক্ত জমাট হওয়ার প্রবণতা একেবারেই নষ্ট হয়ে যায়। ফলে অতিরিক্ত
রক্তপাতের সমস্যা দেখা দিতে পারে। আবার কোন রকম সার্জারি বা কাঁটা ছেঁড়া হলে ওই
সময় তুলসী পাতা এড়িয়ে চলবেন। এছাড়াও সার্জারির করার ২ সপ্তাহ আগে থেকে তুলসী পাতা
খাওয়া বন্ধ করা উচিত।
নিম্ন
রক্তচাপ
তুলসী পাতায় অতিরিক্ত পরিমাণে পটাসিয়াম থাকায় উচ্চ রক্তচাপ কমে
যেতে পারে। তাই আপনার যদি নিম্ন রক্তচাপের সমস্যা থাকে, তাহলে
তুলসী পাতা না খাওয়াই ভাল।
তুলসী গাছের ঔষধি গুণাগুণ:-
১. পেট কামড়ানো, কাশি: তুলসী পাতার রসে মধু মিশিয়ে খেলে বাচ্চাদের পেট কামড়ানো, কাশি ও লিভার দোষে উপকার পাওয়া যায়।
২. ম্যালেরিয়া: তুলসী পাতা ও শিকড়ের ক্বাথ ম্যালেরিয়া জ্বরের জন্য উপকারী। ম্যালেরিয়ার প্রতিষেধক হিসেবে প্রতিদিন সকালে গোল মরিচের সাথে তুলসী পাতার রস খেতে হয়। নিয়মিত কয়েকদিন খেলে ম্যালেরিয়া জ্বরের হাত থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।
৩. ঘামাচি, চুলকানি ও অন্যান্য চর্মরোগে: তুলসী গাছের পাতা ঘামাচি ও চুলকানি রোধ করতে সাহায্য করে। তুলসী পাতা ও দুর্বার ডগা বেটে গায়ে মাখলে ঘামাচি ও চুলকানি ভাল হয়। তুলসিপাতার রসে লবন মিশিয়ে দাদে লাগালে উপশম হয়।
৪. বসন্ত, হাম: তুলসী পাতা বসন্ত, হাম, ফোঁড়া ইত্যাদি দূর করতে মারাত্বক ভাবে কাজ করে । বসন্ত, হাম প্রভৃতির পুঁজ ঠিকমত বের না হলে তুলসী পাতার রস খেলে তাড়াতাড়ি বের হয়ে আসবে।
৫. পেট ব্যথা: অজীর্ণজনিত পেট ব্যথায় তুলসী পাতার উপকার তুলনা করা যায় না। এটি হজমকারক। প্রতিদিন সকালে ১৮০ গ্রাম পরিমান তুলসী পাতার রস খেলে পুরাতন জ্বর, রক্তক্ষয়, আমাশয়, রক্ত অর্শ এবং অজীর্ণ রোগ সেরে যায়।
৬. ক্রিমি: তুলসী পাতা ক্রিমি নিষ্কাশন করে। তুলসী পাতার রসের সাথে লেবুর রস মিশিয়ে খেলে ক্রিমি রোগে উপকার পাওয়া যায়।
৭. বাত ব্যথা: তুলসী পাতা বাত ব্যথা দূর করতে সাহায্য করে। বাত ব্যথায় আক্রান্ত স্থানে তুলসী পাতার রসে ন্যাকড়া ভিজিয়ে পট্টি দিলে ব্যথা সেরে যায়।
৮. কীট-পতঙ্গ কামড়ালে: মাঝে মধ্যেই আমরা দেখি কীট-পতঙ্গ কামড়ে দিয়েছে। বোলতা, ভীমরুল, বিছা প্রভৃতি বিষাক্ত কীট-পতঙ্গ কামড়ালে ঐ স্থানে তুলসী পাতার রস গরম করে লাগালে জ্বালা-যন্ত্রণা কম হয়।
৯. যৌনদূর্বলতা : তুলসী মূল শুক্র গাঢ়কারক এবং বাজীকারক। তুলসী পাতার ক্বাথ, এলাচ গুঁড়া এবং এক তোলা পরিমাণ মিছরী পান করলে ধাতুপুষ্টি সাধিত হয় যতদিন সম্ভব খাওয়া যায়। এটি অত্যন্ত ইন্দ্রিয় উত্তেজক। প্রতিদিন এক ইঞ্চি পরিমাণ তুলসী গাছের শিকড় পানের সাথে খেলে যৌনদূর্বলতা রোগ সেরে যায়।
১০. জ্বর-সর্দি নিরাময়ে (Fever-cold Remedies): তুলসী পাতা জ্বর-সর্দি নিরাময়ে প্রাকৃতিক উপায় পালন করে। যারা সহজেই সর্দিতে আক্রান্ত হয় (বিশেষ করে শিশুদের) তারা কিছুদিন ৫ ফোঁটা মধুর সাথে ১০ ফোঁটা রস(ছবি) খেলে সর্দি প্রবণতা দূর হয়। শুষ্ক তুলসী পাতার ক্বাথ সর্দি, স্বরভঙ্গ, বক্ষপ্রদাহ, উদারাময় প্রভৃতি রোগ নিরাময় করে থাকে। শ্লেষ্মার জন্য নাক বন্ধ হয়ে কোনো গন্ধ পাওয়া না গেলে সে সময় শুষ্ক পাতা চূর্ণের নস্যি নিলে সেরে যায়।
১১. হার্টের অসুখ: তুলসী পাতায় আছে ভিটামিন সি ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। এই উপাদান গুলো হার্টকে বিভিন্ন সমস্যা থেকে মুক্ত রাখতে সহায়তা করে। তুলসী পাতা হার্টের কর্মক্ষমতা বাড়ায় ও এর স্বাস্থ্য ভালো রাখে।
১২. ডায়াবেটিস থেকে মুক্তি (Get rid of Diabetes): ডায়াবেটিসের থেকে মুক্তিতে সাহায্য করে তুলসী পাতা। যেটা ডায়াবেটিসকে রোধে অনেকটাই সাহায্য করে। রক্তে অতিরিক্ত গ্লুকোজকে নিয়ন্ত্রণ করে। এটি কিডনি ও লিভারকে মেটাবলিক ড্যামেজের হাত থেকে বাঁচায়। যেটি রক্তে অতিরিক্ত গ্লুকোজের কারণে হয়।
১৩. মানসিক চাপ: তুলসী পাতা মানসিক চাপ থেকে রক্ষা করতে সাহায্য করে। তুলসীর ভিটামিন সি ও অন্যান্য অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট গুলো মানসিক চাপ কমাতে সহায়তা করে। এই উপাদান গুলো নার্ভকে শান্ত করে। এছাড়াও তুলসী পাতার রস শরীরের রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখে।
১৪. রক্ত দূষণ : তুলসী পাতা রক্ত দূষণ মুক্ত করে। কোন কারনে রক্ত দূষিত হলে কাল তুলসিপাতার রস কিছুদিন খেলে উপকার পাওয়া যায়।
১৫. ক্যান্সার থেকে মুক্তি (Freedom from cancer): তুলসী গাছের পাতায় আছে প্রচুর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট যা ক্যান্সার থেকে মুক্তির উপায় হয়। তুলসী শুধু শরীরকে ক্যান্সারে আক্রান্ত হবার হাত থেকেই বাঁচায় না বরং ক্যান্সার হলে সারিয়ে তুলতেও দারুন ভাবে সাহায্য করে। বিভিন্ন গবেষণায় থেকে জানা গেছে যে, “তুলসী যারা নিয়মিত খান তাদের ক্যান্সারে আক্রান্ত হবার সুযোগ অনেক কম। অন্যদিকে তুলসীর মধ্যে যে ফাইটোক্যামিকাল রয়েছে তা লাং , লিভার, এবং স্কিন ক্যান্সার রোধে সাহায্য করে। এটি তুলসীতে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের ক্ষমতাকে বাড়িয়ে দেয়। এবং কান্সারকে ছড়িয়ে পড়তে দেয় না। ক্যান্সারের সময় যে রেডিয়েশন দেওয়া হয় তার ফলে নানা সমস্যা হয়। কারোর চুল উঠে যায় একদম। তুলসী এই রেডিয়েশনের ফলে হওয়া এই ধরনের সমস্যাগুলিকে প্রতিরোধ করতেও সাহায্য করে।”
১৬. সুস্থ ও বয়স রোধ করা: তুলসী পাতা দিয়ে চায়ের মত করে খেলে দীর্ঘদিন সুস্থ থাকা যায়। তুলসী চা হিসাবে এটি বেশ জনপ্রিয়। ভিটামিন সি, ফাইটোনিউট্রিয়েন্টস ও এসেন্সিয়াল অয়েল গুলো চমতকার অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের হিসেবে কাজ করে যা বয়সজনিত সমস্যা গুলো সমাধান করে।
১৭. প্রস্রাবজনিত জ্বালা: তুলসীর বীজ পানিতে ভিজালে পিচ্ছিল হয়। এই পানিতে চিনি মিশিয়ে শরবতের মত করে খেলে প্রস্রাবজনিত জ্বালা যন্ত্রনায় বিশেষ উপকার হয়।
১৮. কালো দাগ: মুখে বসন্তের কাল দাগে তুলসীর রস মাখলে ঐ দাগ মিলিয়ে যায়। হামের পর যে সব শিশুর শরীরে কালো দাগ হয়ে যায় সে ক্ষেত্রে তুলসী পা্তার রস মাখলে গায়ে স্বাভাবিক রং ফিরে আসে।
তুলসী পাতার দুটি রেসিপি
বিভিন্নভাবে
খাদ্য তালিকায় তুলসী পাতার ব্যবহার করতে পারেন। এর মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয় দুটি
রেসিপি :
১. তুলসীর সালাদ (Tulsi salad):
১২-১৫টি তুলসী পাতা, এক কাপ শসা কুচি,
৫০ গ্রাম টুকরা পনির, একটি লেবুর রস,
এক টেবিল চামচ অলিভ অয়েল, সামান্য লবণ
এবং স্বাদের জন্য মরিচ। সব উপকরণ মিশিয়ে উপভোগ করুন তুলসীর সালাদ।
২.
তুলসীর চা (Tulsi tea):
আধা চামচ আদা কুচি, ১২-১৫টি তুলসী পাতা
এবং এক চামচের চার ভাগের এক ভাগ এলাচ গুঁড়ো তিন কাপ পানিতে ১০ মিনিট ধরে ফুটিয়ে
নিন। সামান্য মধু এবং লেবুর রস মিশিয়ে উপভোগ করুন তুলসীর চা।
বাসার বারান্দায় বা ফুলের টবে অন্তত একটি তুলসী গাছ লাগাতে পারেন।
৫৩
৯১ মন্তব্য