Loading..

ব্লগ

রিসেট

১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২২ ০৫:২৮ অপরাহ্ণ

প্রতিটি বৈধ কাজ শুরু করতে আল্লাহর নাম নেওয়া ইসলামি সভ্যতা ও সংস্কৃতির রীতি।

জগতের সব বিশ্বাসী মানুষের প্রিয় নাম আল্লাহ। আল্লাহর নামের তরী করে জীবন নদী বয়ে চলেন মুমিন মুসলমানরা।

প্রতিটি বৈধ কাজ শুরু করতে আল্লাহর নাম নেওয়া ইসলামি সভ্যতা ও সংস্কৃতির রীতি। সচেতনতা ও আন্তরিকতার সঙ্গে এ রীতি অনুসরণ করলে অনিবার্যভাবে তিনটি সুফল পাওয়া যায়। ১. অনেক খারাপ কাজ থেকে নিষ্কৃতি পাওয়া যায়। ২. প্রতিটি বৈধ ও সৎ কাজে উৎসাহ সৃষ্টি হয়। ৩. আল্লাহর সাহায্য-সহযোগিতা আসে।

বিসমিল্লাহ-এর ফজিলত

হজরত জাবের (রা.) থেকে বর্ণিত-আল্লাহতায়ালা তার উচ্চ মর্যাদার শপথ করে বলেন, যে কাজের শুরুতে ‘বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম’ পড়া হবে, অবশ্যই আল্লাহ তাতে বরকত দান করবেন। (তাফসিরে ইবনে কাসির : পৃষ্ঠা-২৮)।

হজরত আলী (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, বিসমিল্লহির রহমানির রহিম কালিমাটি শক্ত বাঁধন খুলে দেয়, কঠিনকে সহজ করে, যাবতীয় অনিষ্ট থেকে রক্ষা করে, অভ্যন্তরীণ ব্যাধি থেকে নিরাময় করে এবং পুনরুত্থান দিবসের নিরাপত্তা বিধানকারী। হজরত বুরায়দা (রা.) হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, আমার ওপর এমন একটি আয়াত নাজিল হয়েছে, যা আমার ও সোলাইমান (আ.) ছাড়া আর কারও ওপর নাজিল হয়নি। তা হলো, বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম। (তাফসিরে ইবনে কাসির : পৃষ্ঠা-২৮)।

হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূল (সা.) বলেন, যে ব্যক্তি বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম পাঠ করে, আল্লাহতায়ালা তার নামে ১০ হাজার নেকি লিপিবদ্ধ করেন, ১০ হাজার গুনাহ মাফ করেন এবং ১০ হাজার মর্যাদা উন্নীত করেন। হজরত আবুবকর সিদ্দীক (রা.) বলেন, যে ব্যক্তি বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম পাঠ করে, তার জন্য বড়ই সুসংবাদ। পরকালীন জীবনে সে বেহেশতের অফুরন্ত নেয়ামতরাজির মধ্যে কতই না আনন্দের মাঝে ডুবে থাকবে।

বিসমিল্লাহর বিধান

ফরজ : হালাল পশু জবাইকালে, শিকারের উদ্দেশ্যে তীর নিক্ষেপকালে এবং প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত শিকারি কুকুর ছাড়ার সময় বিসমিল্লাহ পাঠ করা ফরজ।

সুন্নত : ওজু করার সময়, খানা খাওয়ার সময়, নামাজে প্রত্যেক রাকাতে সূরা ফাতিহা পাঠ করার আগে এবং প্রত্যেক বৈধ কাজ আরম্ভ করার সময় বিসমিল্লাহ পাঠ করা সুন্নত।

মুস্তাহাব : নামাজে সূরা ফাতিহার পর অন্য সূরা মিলানোর আগে এবং ওঠবস, চলাফেরার সময় বিসমিল্লাহ পাঠ করা মুস্তাহাব।

হারাম : হারাম কাজ করার সময়, চুরি ইত্যাদি নাজায়েজ কাজ করার সময় বিসমিল্লাহ পড়া হারাম। অনুরূপ জুনুবি ব্যক্তির (যার ওপর গোসল করা ফরজ) তেলাওয়াতের উদ্দেশ্যে বিসমিল্লাহ পাঠ করা হারাম। একই ভাবে ঋতুবতী তেলাওয়াতের উদ্দেশ্যে বিসমিল্লাহ পাঠ করা হারাম।

মাকরুহ : সূরা বারাআত তেলাওয়াত করার সময় বিসমিল্লাহ পাঠ করা মাকরুহ; যদি আগের সূরার সঙ্গে মিলিয়ে তেলাওয়াত করা হয়। আর যদি সূরা বারাআত থেকেই শুরু করা হয়, তাহলে মাকরুহ নয়। অপবিত্র স্থানে, লজ্জাস্থান অনাবৃত করার সময়, হুক্কা, বিড়ি-সিগারেট পান করার সময়, রসুন-পেঁয়াজ বা অন্য কোনো দুর্গন্ধযুক্ত জিনিস খাওয়া বা ব্যবহার করার সময় বিসমিল্লাহ পাঠ করা মাকরুহ।

মন্তব্য করুন