Loading..

ব্লগ

রিসেট

২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২২ ০১:৪৮ অপরাহ্ণ

সেদিন কি সত্যি বাঁশি বাজিয়েছিলেন সম্রাট নিরো!
বাংলা প্রবাদ বাক্য কারো পৌষ মাস, কারো সর্বনাশ এই বাক্যটি ইংরেজি তে বলা হয় ‘নিরো, ফিডলড হোয়াইল রোম বার্নড’
অর্থাৎ রোম যখন আগুনে পুড়ে ভস্মীভূত হচ্ছিল তখন তাদের রাজা নিরো তার প্রাসাদে বসে বেহালা বাজাচ্ছিলেন। বাংলায় এখানে বেহালার জায়গায় বাঁশিকে বুজানো হয়। বাংলায় বলা হয় "রোম যখন পুড়ছিল, নিরো তখন বাঁশি বাজাচ্ছিল"। তবে কি সত্যিই রোমান সাম্রাজ্যের পঞ্চম সম্রাট, জুলিও-ক্লডিয়ান রাজতন্ত্রের সর্বশেষ সম্রাট নিরো তিনি রোমের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় অগ্নিকাণ্ডের সময় প্রাসাদে বসে বেহালা বাজিয়েছিলেন?
যে অগ্নিকাণ্ডের কথা বলা হচ্ছে সেটি ঘটেছিল ১৯ জুলাই, ৬৪ খ্রিস্ট পূর্বাব্দে। টানা ৬ দিন ধরে চলয়া অগ্নিকাণ্ডের ফলে রোমের ১৪ টি জেলার মধ্যে ১০ টি জেলা আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে যায়। অনেক রোমান অধিবাসী মনে করেন নিরো নিজেই এই অগ্নিকাণ্ডের জন্য দায়ী, কেননা তিনি আগুনে পুড়ে ধ্বংসস্তূপের জায়গায় "ডোমাস অরেয়া" স্বর্ণগৃহ বানাতে অগ্নিকাণ্ডের আদেশ দেন।
অপরদিকে নিরো তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ থেকে নিজেকে মুক্ত করার লক্ষ্যে তিনি খ্রিস্টানরা আগুন লাগিয়েছে বলে প্রচার করে। তাই শহরে আগুন দেয়ার শাস্তি স্বরূপ তিনি খ্রিস্টানদের হত্যায় মেতে উঠেন। তাদেরকে অত্যন্ত নিষ্টুরভাবে হত্যা করেন নিরো। তাদের গায়ে অগ্নিসংযোগ করে, বণ্যজন্তু দিয়ে আক্রমন করে, ক্রুশবিদ্ধ করে হত্যার সময় তিনি নগরের লোকজনকে আমন্ত্রন জানাতেন এ সমস্ত লোমহর্ষক দৃশ্য দেখার জন্য।
মাত্র ১৭ বছর বয়সে সিংহাসনে বসা কূটনৈতিক জ্ঞানে পারদর্শী সম্রাট নিরোর শাসনামলে ব্যবসা-বাণিজ্য, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড, অ্যাথলেটিক ক্রিয়ার ব্যাপক সম্পরসারণ হলেও তিনি ছিলেন অত্যন্ত অত্যাচারী, অমিতব্যয়ি, ক্ষমতার অপব্যবহারকারী সম্রাট। অসংখ্য হত্যাকাণ্ডের মূলে ছিলেন তিনি। ক্ষমতার জন্য তিনি তার মাকেও হত্যা করেছিলেন। হত্যা করেছিলেন তারই ভাই ব্রিটানিকাসকে। তিনি তার প্রথম স্ত্রীকে শাস্তিস্বরূপ নির্বাসনে পাঠানো পর তাকে হত্যা করার জন্য নির্দেশ দেন। পপ্পেয়া নামে এক তরুনীর প্রেমে পড়ে তিনি তাকে বিয়ে করেন এবং গর্ভবতী অবস্থায় তাকে লাথি মেরে হত্যা করেন। তাই রোমান সাম্রাজ্যের ইতিহাসের সবচাইতে অজনপ্রিয় এই শাসকের বিরুদ্ধে করা বেহালা বাজানোর অভিযোগ অনেকটা বিশ্বাসযোগ্যই বলে মনে হয়।

কিন্তু মুদ্রার বিপরীত পিঠ বলে যে সম্রাট নিরো যখন রোম শহর আগুনে পুড়ে ধ্বংসস্তূপে পরিনত হচ্ছিল তখন রোম শহর থেকে ৩০ কিলোমিটার দূরে অ্যান্টিয়ামে অবস্থান করছিলেন। আগুনের খবর পেয়ে তিনি দ্রুত সেখানে ফিরে যান। রোমে ফিরে এসে দুর্গতদের জন্য খাদ্য ও বাসস্থানের ব্যবস্থা করেন এবং অগ্নিকাণ্ড পরবর্তী তিনি রোমের অনেক সংস্কার করেন। এমনটাই দাবি করেন ট্যাসিটাস নামক এক ইতিহাসবিদ যিনি সম্রাট নিরোকে খুব একটা ভাল চোখে দেখতে পারতেন না।অন্যদিকে যে বেহালা বাজানোর কথা বলা হচ্ছে সে বেহালা সম্রাট নিরোর সময়কালে রোমে প্রচলনই ছিল না । তার মৃত্যুর প্রায় ১১০০ বছর পর বেহালা নামক বাদ্যযন্ত্রের প্রচলন হয়। তাই রোম পুড়ে যাওয়ার সময় নিরোর বেহালা বাজানোটা সম্পূর্ণ অসম্ভব।

সম্রাট নিরোর অত্যাচারী মনোভাব, ডোমাস অরেয়া তৈরির জন্য অধিক আগ্রহ দেখে এছাড়া তার বেহিসেবি জীবনযাপনের ফলে তার মৃত্যুর দুই শতাব্দি পর থেকে তার বিরুদ্ধে চর্চা হতে থাকা আগুনের এই গুজবটি বিশ্বাসযোগ্য বলেই মনে হয়।
মন্তব্য করুন

ব্লগ