Loading..

ব্লগ

রিসেট

২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২২ ০৭:২৮ অপরাহ্ণ

২৪ সেপ্টেম্বর মীনা দিবসে মীনা সর্ম্পকে জানি

২৪ সেপ্টেম্বর-মীনা দিবস মীনাকে তো আমরা সবাই চিনি। মীনা একটি প্রতিকী চরিত্র। এই চরিত্রের মাধ্যমে শিশুদের আধিকার, শিক্ষা, সাংস্কৃতি, বিনোদন, শারীরিক ও মানসিক ভাবে বেড়ে ওঠার চিত্র ফুটে উঠে।কার্টুনের মূল চরিত্র মীনা আট বছর বয়সের কন্যাশিশু। সে তার পরিবারের সঙ্গে একটি ছোট গ্রামে বাস করে। এ চরিত্রের মাধ্যমে শিশুদের অধিকার, শিক্ষা, সংস্কৃতি, বিনোদন এবং শারীরিক ও মানসিকভাবে বেড়ে ওঠার চিত্র ফুটে ওঠে। মীনা কার্টুনে একটি পরিবারের কাহিনী তুলে ধরা হয়েছে, যেখানে মীনা সময়মতো স্কুলে যায়, বন্ধুদের সঙ্গে খেলাধুলা করে এবং পরিবারের বিভিন্ন কাজে সহযোগিতা করে। মিনা চরিত্রটি বাংলাদেশ, পাকিস্তান, ভারত, নেপাল তথা দক্ষিণ এশিয়ার মেয়েশিশুদের প্রতিনিধিত্বকারী একটি বালিকা চরিত্র। ছোট ভাই রাজু ছাড়াও তার পরিবারে আছে বাবা-মা, বোন আর দাদী। আদরের টিয়া পাখি মিঠু সারাক্ষণ মিনার সঙ্গেই থাকে। কার্টুনটি আমাদের অনেকেরই প্রিয় কারণ এখানে মীনার অনেক বুদ্ধিমত্তা ও সাহসিকতা আমরা দেখেছি। সবার জন্য ভালো কিছু করতে মীনা সবার আগেই থাকে। সবসময়ই তার আগ্রহ, কিসে এলাকার মানুষের উপকার হয়। কিভাবে বুদ্ধি করে সে চোর ধরেছিলো তা তো আমরা দেখেছি। এতে অবশ্য এটাও বোঝানো হয়েছে যে শিক্ষা কতোটা গুরুত্বপূর্ণ। শুধু কি তাই, মীনা তার বাবাকে ঠকে যাবার হাত থেকেও বাঁচিয়েছিলো। এজন্যই মীনা কার্টুন সারা পৃথিবী জুড়েই ব্যাপক ভাবে জনপ্রিয়। উল্লেখ্য, জাতিসংঘের শিশু সুরক্ষা বিষয়ক অধিসংস্থা ইউনিসেফ-এর আহ্বানে প্রতি বছর ২৪ সেপ্টেম্বর মীনা দিবস পালিত হয়ে থাকে।

পৃথিবীর অন্যান্য অঞ্চলের মতো দক্ষিণ এশিয়ার আর্থসামাজিক অবস্থা খুবই নাজুক। দারিদ্র্য, অশিক্ষা, কুশিক্ষা, কুসংস্কারে আচ্ছন্ন এই সমাজে সবচেয়ে বেশি দুর্দশাগ্রস্থ মেয়েরা। কিছু কিছু দক্ষিণ এশীয় দেশে মেয়েদের স্কুলে ভর্তির হার ছেলেদের তুলনায় ৫০% বেশী কম। ছেলেদের তুলনায় মেয়েদের পুষ্টির মাত্রাও কম। মেয়েদের সমস্যার প্রতি মনোযোগের সঙ্গে গুরুত্ব প্রদান ও তাদের অধিকার প্রতিষ্ঠার উপলব্দি থেকে দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা পরিষদ ১৯৯০ দশককে কন্যা শিশু দশক হিসেবে ঘোষণা করেছিল। এই ঘোষণার আলোকে দক্ষিণ এশিয়ার ইউনিসেফ এবং তাঁর সহযোগীদের মিলিত উদ্যোগে মীনা কার্টুন, কমিক বই ও শিক্ষা উপকরণ তৈরি করা হয়। দক্ষিণ এশিয়ার দেশসমূহে মেয়ে শিশুর সম অধিকার প্রতিষ্ঠা ও মেয়ে শিশু ইস্যু আরও জোরদার করে তোলার প্রতীক হিসেবে মীনা চরিত্রটিকে বেছে নেয়া হয়। মীনা প্রতিকটা সমাজ সংস্কারক এক কন্যাশিশু। সমাজের নানা সব কাজে মীনার পদচারণা চোখে পড়ার মতো। গ্রামে সেনিটারী পায়খানা ব্যবহার, টয়লেটের পর সাবান ব্যবহার, বাল্যবিবাহ রোধ, শিশুদের সমান অধিকার, এবং সব শিশুদেও বাধ্যতামূলক শিক্ষা এসবের প্রকাশ এই মীনা কাটুন এ। উল্লেখ্য বাংলাদেশে প্রথম ১৯৯৫ সালে বিটিভিতে মিনা কার্টুন দেখানো শুরু হয়েছিলো। তারপর থেকে বাংলাদেশের ছেলেবুড়ো প্রত্যেকের কাছেই মিনা দারুণ জনপ্রিয়।

-সংগৃহীত


মন্তব্য করুন