Loading..

ব্লগ

রিসেট

২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২২ ০৭:১৩ পূর্বাহ্ণ

মানুষের সাইকোলজি বোঝার উপায় ই হলো মনোবিজ্ঞান।

প্রথমেই আলোচনা করি, সাইকোলজি কী তা নিয়ে। সাইকোলজি (Psychology) শব্দের অর্থ হলো মনোবিজ্ঞান। Psychology শব্দটি দুটি গ্রিক শব্দ Psyche( মন বা আত্না) এবং Logos( বিজ্ঞান) থেকে এসছে। সুতরাং, এক কথায় বলতে গেলে মানুষের যে মানসিক অবস্থা, তা বুঝতে হলে যা যা প্রয়োজন, তা সবই সাইকোলজির অন্তর্ভুক্ত।

সাইকোলজি মূলত বিজ্ঞানের ভৌত ও ফলিত উভয় শাখায় আলোচনা করা হয়। মানুষের বিভিন্ন ধরনের মানসিক সমস্যা বা কোনো ধরনের কিছু ইমপ্যাক্ট বা প্রভাব থাকতেই পারে। কেৎ খুশি কি না, কেউ হতাশায় ভুগছে কি না, কেউ বা দুঃখে পতিত কি না, তা সাইকোলজির মাধ্যমে সহজেই বোঝা যায়।

এটাকে বলা হয় মন পড়া। এর সমাধানও সাইকোলজি নিয়ে পড়াশোনা করা বিভিন্ন মানুষেরা দিতে পারেন সহজেই। তবে. আপনি চাইলে এর সমাধান না দিতে পারলেও মানুষের মন কিন্তু ঠিকই পড়তে পারবেন। 

মানুষের সাইকোলজি বোঝার উপায়

মানুষের সাইকোলজি বোঝার উপায় হিসাবে যেমন তাদের কিছু কিছু অঙ্গভঙ্গ, চেহার, হাসি দিয়ে সবকিছু পর্যবেক্ষণ করা প্রয়োজন, তেমনি আপনারও কিছু কিছু জিনিসে নিজের দিকে লক্ষ রাখা প্রয়োজন অর্থাৎ যা ঘটাতে হবে আপনার ক্ষেত্রে। এটা একজন স্মার্ট হওয়ার ব্যক্তির লক্ষণ।

১. স্বাভাবিক থাকা ও খোলা মনের হওয়া

একজন মানুষের মন পড়তে হলে আপনাকে সর্ব প্রথমে যে কাজটি করতে হবে, সেটি হলো আপনাকে স্বাভাবিক থাকতে হবে। আপনি যদি স্বাভাবিক ভাবে না থাকেন তাহলে অন্য মানুষের মনে কখনো সহজে পড়তে পারবেন না। ধরুন, আপনি এখন আপনার মনের মধ্যে রাগ নিয়ে বসে আছেন।

এমন সময় আছে আপনি কোন মন পড়তে চান আপনার রাগের প্রভাব দিয়ে হয়তো তাকে আপনি বিচার করবেন। আপনি যদি রাগের মাথায় তাকে বিচার করেন তাহলে, দেখা যাবে যে আপনি এমন কিছু ভাবলেন, যেটা হয়তো তার ক্ষেত্রে ঘটছে না অথবা তার ক্ষেত্রে সেটা ঘটা অস্বাভাবিক। কারণ যেহেতু আপনার মনে রাগ তার মনে নয় । এসব ক্ষেত্রে আপনাকে হতে হবে স্বাভাবিক মনের।

. তার অঙ্গভঙ্গি লক্ষ করুন 

একজন মানুষের মন পড়ার সময় অবশ্যই তার অঙ্গভঙ্গি গুলো আপনাকে লক্ষ্য করতে হবে। মূলত তার হাত, চোখ, মুখ এবং ভ্রু ভালোভাবে লক্ষ্য করতে হবে। কারণ তার মানুষের চোখ যে কথা বলে। এদের হাত দিয়ে অনেক কিছু বোঝাতে পারে। কিংবা তার চোখের-মুখের ভাষার সংমিশ্রণে অনেক কিছু বোঝা যায়।

একটা মানুষ যদি একটি হাসি দেয়,।সে হাসির পিছে বিভিন্ন কারন থাকতে পারে। কেউবা হাসেন কৌতুক শুনে, কেউ ভাল কিছু মনে করে, কখনোবা সেই হাসি হাসেন শত্রুতার জেরে!

৩. চেহারার দিকে লক্ষ করুন

তার চেহারা অনেক কিছুই বলে দিতে পারে। কখনো যদি কারো চেহারায় বিরক্তি ফুটে ওঠে তার ভ্রু খানিকটা উপরে উঠবেভালো লাগলে ঠোঁট কিঞ্চিৎ পাশে সরে যাবে, এরকম। তাই তার চেহারর প্রতি লক্ষ করুন।

৪. তার আচরণগুলো লক্ষ করুন

একজন মানুষের সমস্ত আচরনটুকু লক্ষ করুন। তিনি ঠিক কী চান তা বোঝার চেষ্টা করুন। তার কথায় যদি অস্বাভাবিক কিছু লক্ষ করেম তার রতি মনোযোগ দিন। সে রাগ কি না, তার কারো প্রতি বিরক্ত লাগছে কি না তা বোঝর জন্য চেষ্টা করুন। 

৫. তার ছোট ছোট কথাগুলোকেও গুরুত্ব সহকারে দেখুন

তিনি যদি আপনার সাথে বা অন্য কারো সাথে কথা বলতে থাকেন তবে তার ছোট ছোট কথাগুলকেও বাদ দেবেন না। তার সমস্ত কথাগুলো বুঝতে চেষ্টা করুন। কারন অনেক সময় ছোট খাটো কথা গুলোই বিরাট সমস্যার সমাধান করে।

৬. হাসি পর্যবেক্ষণ করুন

কারো মন পড়তে হলে তার হাসি ভালোভাবে পর্যবেক্ষণ করুন। কারো হাসির ক্ষেত্রেও থাকে রহস্য। তার হাসিতে যদি চোখ সংকুচিত না হয়, ঠোঁট সামান্য প্রসারিত হয়, তাহলে তিনি ভালো কোনো কিছু মনে করে হাসছেন।

কারো চোখ যদি সংকুচিত হয়, ঠোঁট অনেক প্রসারিত হয়, তবে তিনি কৌতুক শুনে হাসছেন, আর কারো চোখ যদি সংকুচিত না হয়, ঠোঁট সামান্য প্রসারিত হয়, ভ্র হালকা উপরে উঠে আসে, তবে বুঝতে হবে তিনি হাসছেন শত্রুতার জেরে।

৭. চোখ লক্ষ করুন

আপনি যদি কারো সামনে কথা বলেন, এখন তিনি যদি তার চোখ আপনার চেকে রাখেন বুঝবেন তিনি আপনার কথায় অনপক মনোযোগী। তিনি যদি চোখ এদিক ওদিক করেন তবে তিনি আপনার কথা শুনতে আগ্রহী নন। তিনি যদি তার চোখে কিছু অভিব্যাক্তি প্রকাশ করেন যেমন- আপনি দুঃখজনক কিছু বললে তিনিও ভ্রু খানিকটা নিচে নামাবেন। তিনি আপনার কথায় বিস্ময় প্রকাশ করলে তার চোখ বড় বড় হয়ে যাবে।

মন্তব্য করুন

ব্লগ