Loading..

ব্লগ

রিসেট

২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২২ ১১:৫০ অপরাহ্ণ

"রুদালি" কান্নাই যাদের পেশা......
সমাজে সম্ভ্রান্ত পরিবারের এক বৃদ্ধের মৃত্যুর পর তার পাশে অজস্র্য কান্না করছে একদল কালো পোশাক পরিহীতা নারী। তাদের কান্নায় সমগ্র বাড়ীটাতে শোকের মাতম তৈরি করলেও বাস্তবতা এই যে কান্নারত নারীদের কেউই ঐ পরিবারের কিছু হন না। তাছাড়া শুধুমাত্র এই বাড়িতে এসেই তারা কান্না করছে বিষয়টি এমন নয়, বরং মৃতের বাড়িতে কাঁদতে তাদের ভাড়া করে আনা হয়। এরা সমাজে রুদালি নামে পরিচিত। শত শত বছর ধরে ভারতের রাজস্থানে এই পেশাদার কাঁদুনিরা মৃতের বাড়িতে কান্না করে জীবিকা নির্বাহ করে আসছে।
সমাজের উচ্চবৃত্ত কেউ মারা গেলে তাদের জন্য কান্নারত মানুষের যেন অভাব না হয় তার জন্য এ পেশাটি উদ্ভব হয়েছে, আর উচ্চশ্রেণীর পরিবারের কেউ মারা গেলে তার জন্য তো আর লোকসমাগমের সামনে তার পরিবারের নারীরা কান্না করতে পারবে না, কান্না করলেও পরিবারের সম্মান নস্ট হবে। তাই বলে ঐ উচ্চশ্রেনীর মৃতের শোকে বাড়িতে শোকের মাতম হবে সেটাও তো ভাল দেখায় না। তাই মৃত ব্যাক্তির বাড়িতে শোকাবহ করে তুলতেই মূলত রুদালি সম্প্রদায় তৈরি হয়েছে।
জীবনের তাগিদে একদম অপরিচিত একজন ব্যাক্তি যাকে কোনদিন দেখে নি বা নামও শুনেনি এমন ব্যাক্তির মৃত্যুতে অঝোরে কান্না করার মত কঠিন কাজের জন্য যে পরিমান পারিশ্রমিক তারা পান তা একেবারে নগন্য। কিছু কিছু পরিবার সামান্য টাকার সাথে তাদের বাড়ির পুরোনো কাপড় চোপড় দিয়ে থাকে। মৃত ব্যাক্তির প্রভাব প্রতিপত্যি যদি বেশি থাকে তাহলে তাদের সেখানে দীর্ঘদিন কান্না করতে হয়। সারাদিন কান্না করতে করতে যখন তাদের চোখের পানি শুকিয়ে যায় তখন তারা শোকের পরিবেশ ধরে রাখতে মাটিতে গড়াগড়ি, বুক চাপরানো, জোড়ে জোড়ে বিলাপ করে বাড়িটিকে আরো শোকাবহ করে তুলে রাখে।
অন্যের পরিবারের মানুষের জন্য লোকদেখানো কান্না করলেও প্রচন্ড অভাব অনটনে জীবন অতিবাহিত করা রুদালিদের অনেকেই সেই কান্নার মাঝে নিজের জীবনের কান্নাই করে নিয়মিত।


মন্তব্য করুন

ব্লগ