Loading..

ব্লগ

রিসেট

০৮ অক্টোবর, ২০২২ ০৫:১৮ অপরাহ্ণ

ফাইলেরিয়া বা গোদ রোগের লক্ষণ, প্রতিকার ও চিকিৎসা পদ্ধতি

গোদ রোগ বা ফাইলেরিয়া কি?
ফাইলেরিয়া বা গোদ রোগ একটি কৃমি জাতীয় রোগ যা ক্ষুদ্র পরজীবী জীবাণুর আক্রমণে মানুষের শরীরে সংক্রমিত হয়। এই পরজীবীর জীবাণু মানুষের শরীরে প্রবেশ করে মশার কামড়ে। মূলত কিউলেক্স মশার কামড়ে এই জীবাণু মানুষের শরীরে প্রবেশ করে তবে অ্যানোফেলিস ও এডিস মশার কামড়ে ও এই পরজীবীর জীবাণু মানুষের শরীরে প্রবেশ করতে পারে। আমরা জানি অ্যানোফেলিস মশার কামড়ে ম্যালেরিয়া ও এডিস মশার কামড়ে ডেঙ্গুজ্বর মানুষের শরীরে সংক্রমিত হয়। এই দুই রোগের মত গোদ রোগও মানুষের শরীরে প্রবেশ করে মশার কামড়ে। এই ফাইলেরিয়া বা গোদ রোগ একটি মারাত্মক রোগ। ফাইলেরিয়া একটি কৃমিজাতীয় রোগ কিন্তু এই রোগের পরজীবী আমাদের অন্ত্রে বাস করে না। ফাইলেরিয়া জীবাণু রোগীর লসিকানালীতে বৃদ্ধিপ্রাপ্ত হয়ে পূর্ণবয়স্ক হয় এবং লসিকানালীতে প্রদাহের সৃষ্টি করে। কালক্রমে লসিকানালী ফুলে যায় ও বন্ধ হয়ে লসিকা প্রবাহে ব্যাঘাত ঘটায়। ফলে নানা ধরনের লক্ষণ প্রকাশ পায়। বাংলাদেশের উত্তরাংশে এই রোগের প্রকোপ সবচেয়ে বেশি।

গোদ রোগ এর উপসর্গ বা লক্ষণ সমূহ কি?
শরীরের বিভিন্ন অংশ ফুলে যাওয়া, চামড়া ও এর নিচের টিস্যু মোটা হয়ে যাওয়া -এগুলোই প্রধান লক্ষণ যা মশার কামড় দ্বারা সংক্রমিত রোগ হিসেবে প্রথম চিহ্নিত করা হয়েছিল। এই ফুলে যাওয়াকে এলিফেনটায়াসিস বলা হয়। যখন পরজীবী কৃমিগুলো মানুষের লসিকা তন্ত্রে (lymphatic system) বাসা বাঁধে তখনই এলিফেনটায়াসিস হয়।

ফুলে যাওয়াটা পায়েই বেশি হয়। অবশ্য ভিন্ন ভিন্ন জাতের ফাইলেরিয়া-কৃমি ভিন্ন ভিন্ন অঙ্গে বাসা বাঁধে। Wuchereria bancrofti নামের প্রজাতির ক্ষেত্রে প্রধানতঃ ফুলে ওঠে পা, বাহু, নারী-যৌনাঙ্গ, স্তন, অন্ডকোষ ইত্যাদি। Brugia timori নামক প্রজাতির ক্ষেত্রে যৌনাঙ্গ আক্রান্ত হয় কমই।

লক্ষণ সমূহ

ফুলে যাওয়াটা পায়েই বেশি হয়। অবশ্য ভিন্ন ভিন্ন জাতের ফাইলেরিয়া-কৃমি ভিন্ন ভিন্ন অঙ্গে বাসা বাঁধে। Wuchereria bancrofti নামের প্রজাতির ক্ষেত্রে প্রধানতঃ ফুলে ওঠে পা, বাহু, নারী-যৌনাঙ্গ, স্তন, অন্ডকোষ ইত্যাদি। Brugia timori নামক প্রজাতির ক্ষেত্রে যৌনাঙ্গ আক্রান্ত হয় কমই।


গোদ রোগ নির্ণয়ঃ
রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে সরাসরি অথবা লিম্ফ নোড কালচার করে এর জীবাণু নিশ্চিত করা যায়।

 
গোদ রোগ এর চিকিৎসা কি?
চিকিৎসা

ফাইল্যারিয়াসিসের চূড়ান্ত উপসর্গের চিকিৎসা বেশিরভাগ সময়েই করা হয় অ্যান্টি-হিস্টামাইন, এবং যন্ত্রণা নিরোধক ওষুধের সাহায্যে। তবে এই ওষুধের সাহায্যে শুধুমাত্র উপসর্গ দূর করা যায়, রক্তে পরজীবীদের সংক্রমণ থেকে বাঁচার সর্বোত্তম উপায় হচ্ছে পরজীবী নিবারক বা অ্যান্টি প্যারাসাইটিক ওষুধ প্রয়োগ করা। এই ওষুধ পরজীবীগুলি যখন লার্ভা অবস্থায় থাকে তখনই তাদের মেরে ফেলতে সাহায্য করে এবং প্রাপ্তবয়স্ক পরজীবীদের বাড়তে দেয় না, এমনকি তাদের মেরে ফেলে। তবে যদিও এই ওষুধগুলি কার্যকরী, তাদের কিছু পার্শ্ব বা বিরূপ প্রতিক্রিয়া আছে, যা প্রদাহ নিরোধক বা অ্যান্টি ইনফ্লেমেটরি ওষুধের সাহায্যে প্রশমিত করা যায়। এই সব ওষুধ গ্রহণের সময় সতর্কতা প্রয়োজন কারণ লিম্ফ নোডে বা রক্তনালীতে একগুচ্ছ মৃত কীট জমা হলে শরীরে অ্যালার্জি দেখা যেতে পারে বা শরীরে ফোড়া হতে পারে। এলিফেন্টায়াসিস একবার হয়ে গেলে এর কোনো চিকিৎসা নেই। অনেক সময় অঙ্গ কেটে ফেলার প্রয়োজন হয়। তবে অন্ডকোষ আক্রান্ত হলে শল্য চিকিৎসায় ভাল ফল পাওয়া যায়।

অস্ত্রোপচার
জটিলতার সৃষ্টি হয়ে যে সব রোগীর অণ্ডকোষে অস্বাভাবিক ফ্লুইড বা তরল জমে যায়, লিম্ফ নোডে অতিরিক্ত ক্যালসিয়াম জমে শক্ত হয়ে যায়, বা লার্ভা অবস্থায় কীট রয়ে যায়, তাঁদের জন্য অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হয়ে পড়ে।

গোদ রোগ প্রতিরোধঃ
মশার বিস্তার ধ্বংসের মাধ্যমে এ রোগ প্রতিরোধ সম্ভব। ঘুমানোর সময় মশারি ব্যবহার করুন। বাড়ির চারপাশ পরিষ্কার রাখুন। মশা মারার ওষুধ ছিটাতে হবে। সন্ধ্যার পর দরজা-জানালা বন্ধ রাখুন। এক ধরনের মলম আছে, যেগুলো শরীরে মাখলে মশা কামড়ায় না। এগুলো ব্যবহার করুন। মোটকথা, মশা নিধন করা সম্ভব হলেই গোদ প্রতিরোধ সম্ভব।

জীবনশৈলী ব্যবস্থাপনাঃ
সংক্রমণের সময় ওষুধ প্রয়োগের সঙ্গে নিম্নলিখিত পদক্ষেপগুলি গ্রহণ করা প্রয়োজন:

  • হাত এবং পায়ের পাতা পরিষ্কার রাখা।
  • তারপর শুকনো করে মুছে, নরম রাখার ক্রিম লাগানো।
  • নখ কাটা এবং পরিষ্কার রাখা।
  • আঘাত এবং সংক্রমণ থেকে দূরে থাকা।
  • কোনও ক্ষত হয়েছে কিনা তা প্রতিদিন লক্ষ রাখা এবং প্রয়োজনে চিকিৎসার জন্য অ্যান্টি ফাঙ্গাল ক্রিম ব্যবহার করা।
  • দৈনিক শরীরের প্রতিটি অঙ্গ পরিষ্কার রাখুন যাতে ফাঙ্গাস বা ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ না হয়।
  • পা উঁচু করে রাখুন অথবা প্রতিদিন হাঁটুন যাতে না ফুলতে পারে।
  • প্রচুর বিশ্রাম নিন।
  • গোদ রোগ বা ফাইলেরিয়াসিস (Filariasis) এক প্রকার পরজীবী ঘটিত রোগ। এটি ক্রান্তীয় অঞ্চলের সংক্রামক রোগ যা সূতার মতো একজাতের (ফাইলেরিওয়ডিয়া Filarioidea পরিবারভুক্ত নিমাটোড) গোলকৃমি দ্বারা সংঘটিত হয়। [১]

    গোদ রোগ (ফাইলেরিয়াসিস)
    Filariasis 01.png
    পরজীবী গোলকৃমি Wuchereria bancrofti এর‍ জীবনচক্র যা গোদ রোগ সৃষ্টি করে থাকে ।
    বিশেষত্বসংক্রামক রোগ
  • ফাইলেরিয়া নামক গোল কৃমির জীবন চক্রকে পাঁচটি ধাপে ভাগ করা যায়। মানবদেহের ভেতর পুং ও স্ত্রী ফাইলেরিয়ার মিলনের পর হাজার হাজার মাইক্রোফাইলেরিয়ার জন্ম হয়। মশা যখন রক্ত পান করে তখন এগুলো মশার পেটে চলে যায়। মশার ভেতর এরা খোলস পালটায় এবং লার্ভায় পরিণত হয়। সেই মশা যখন আবার মানুষের রক্ত খেতে যায় তখন লার্ভাগুলো মানবদেহে প্রবেশ করে। পরবর্তী এক বছরে সেই লার্ভাগুলো আরো দুইবার খোলস পালটিয়ে দুটি ধাপ অতিক্রম করে এবং পূর্ণতা প্রাপ্ত হয়।

    রক্তে মাইক্রোফাইলেরিয়া W. bancrofti

    এরা লসিকা নালী ও গ্রন্থিতে বাসা বাঁধে এবং লসিকা প্রবাহ বাধাগ্রস্ত করে। ফলে শরীরের আক্রান্ত অংশে লসিকে জমে গিয়ে ফুলে যায়। এটাই গোদ রোগ। মাইক্রোফাইলেরিয়াগুলো মানুষের রক্তে ভেসে চলে।

    শরীরের বিভিন্ন অংশ ফুলে যাওয়া, চামড়া ও এর নিচের টিস্যু মোটা হয়ে যাওয়া -এগুলোই প্রধান লক্ষণ যা মশার কামড় দ্বারা সংক্রমিত রোগ হিসেবে প্রথম চিহ্নিত করা হয়েছিল। এই ফুলে যাওয়াকে এলিফেনটায়াসিস বলা হয়। [২] যখন পরজীবী কৃমিগুলো মানুষের লসিকা তন্ত্রে (lymphatic system) বাসা বাঁধে তখনই এলিফেনটায়াসিস হয়।

    এলিফেন্টায়াসিসে আক্রান্ত পা

    ফুলে যাওয়াটা পায়েই বেশি হয়। অবশ্য ভিন্ন ভিন্ন জাতের ফাইলেরিয়া-কৃমি ভিন্ন ভিন্ন অঙ্গে বাসা বাঁধে। Wuchereria bancrofti নামের প্রজাতির ক্ষেত্রে প্রধানতঃ ফুলে ওঠে পা, বাহু, নারী-যৌনাঙ্গ, স্তন, অন্ডকোষ ইত্যাদি। [২] Brugia timori নামক প্রজাতির ক্ষেত্রে যৌনাঙ্গ আক্রান্ত হয় কমই।

    যেহেতু ফাইলেরিয়া কৃমি মশার কামড় দ্বারা সংক্রমিত ও বিস্তৃত হয় তাই মশা দমন একটি কার্যকর প্রতিরোধের উপায়। এছাড়া ম্যাস ড্রাগ ট্রিটমেন্ট বা ব্যাপক জনগোষ্ঠীকে ওষুধ প্রয়োগ করেও রোগটির বিস্তার কমানো যায়। এজন্য ডাই ইথাইল কার্বামাজিন এবং এলবেন্ডাজোল একত্রে দড় করা হয়।[৩] এছাড়া এলবেন্ডাজোল ও ইনভারমেকটিন একত্রে প্রয়োগ করা যেতে পারে।[৩][৪] এসব চিকিৎসা শুধু মাইক্রো ফাইলেরিয়ার উপর কার্যকর। পূর্নবয়স্ক ফাইলেরিয়ার উপর এগুলো কাজ করেনা।

    এলিফেন্টায়াসিস একবার হয়ে গেলে এর কোনো চিকিৎসা নেই। অনেক সময় অঙ্গ কেটে ফেলার প্রয়োজন হয়। তবে অন্ডকোষ আক্রান্ত হলে শল্য চিকিৎসায় ভাল ফল পাওয়া যায়।



  • (সংগৃহীত) 
মন্তব্য করুন