ভয় নেই এমন মানুষ পাওয়া যাবে না। তবে ভয় তখনই ক্ষতিকারক হতে পারে যদি তা অহেতুক, বিনা কারণে সৃষ্টি হয়। শিশুদের মধ্যে এমন প্রবনতা দেখা যায়। শিশুরা সাধারণত উচ্চ শব্দ, কুকুরের ডাক, অন্ধকার ইত্যাদি বিষয়ে ভয় পায়। একজন অভিভাবক হিসেবে এক্ষেত্রে আপনার করণীয় কী ? জেনে নিন ৫ টি গুরুত্বপূর্ণ টিপস --
(১) তাকে লক্ষ্য করুন প্রখরভাবে। কোন পরিস্থিতিতে, কী অবস্থায়, কাদের উপস্থিতিতে শিশু ভয় পায় তা সম্পর্কে অবগত হওয়া আবশ্যক। তার সাথে থাকুন, সে যা ভয় পাচ্ছে তার মুখোমুখি হতে সাহায্য করুন। ধরুন সে ফেরিওলাকে ভয় পাচ্ছে। সেক্ষেত্রে তাকে তার কাছে নিয়ে আসুন। পরিচিত করিয়ে দিন। বোঝান যে সে কোন ক্ষতি করবে না। সে কোন দৈত্য-দানব নয়, স্বাভাবিক একজন মানুষ।
(২) তাকে বোঝান, ভয় পাওয়াটা স্বাভাবিক ব্যাপার। সবাই ভয় পায়, সুতরাং সে আলাদা কিছু না। এই বলে সাহস যোগান যে ভয়ের মুহূর্তে সবসময় তার পাশে থাকবেন। দুজন একসাথে থাকলে কেউ কিচ্ছু করতে পারবে না।
(৩) অভিনয়ের মাধ্যমে শিশুকে ভয়ের জিনিসগুলো সম্পর্কে স্বাভাবিক ধারনা দিতে চেষ্টা করুন। খেলাচ্ছলে শিশুকে বুঝিয়ে দিন। যেমন অনেক শিশু ডাক্তারের কাছে যেতে ভয় পায়। এক্ষেত্রে আপনি খেলাচ্ছলে বোঝাতে পারেন যে চিকিৎসক আমাদের বন্ধু, আমাদের অসুখ হলে ডাক্তার আমাদের সাহায্য করে। তবে শিশুর ভয় আস্তে আস্তে কেটে যাবে।
(৪) নিজের ভীতির জায়গাগুলো শিশুর সাথে শেয়ার করতে যাবেন না, এতে শিশু নিজের ভয়ের ব্যাপারগুলোর পাশাপাশি আপনার ভীতি নিয়েও ভয় পাবে। তাই তাদের সামনে নিজের ভয়কে প্রশ্রয় দেওয়াটা উচিত হবে না।
(৫) তাকে সবসময় সৃজনশীল বিনোদনে আগ্রহী করে তুলুন। যেমন, ছবি আঁকা, ট্যানগ্রাম তৈরি করা, সায়েন্স কিট দিয়ে এক্সপেরিমেন্ট করা ইত্যাদি।
মনে রাখবেন, আপনার শিশুর সবচেয়ে বড় অবলম্বন আপনিই। আপনি পাশে থাকলে সে কিচ্ছুতেই ভয় পাবে না।
৭০
১৪৪ মন্তব্য