Loading..

ব্লগ

রিসেট

০৫ নভেম্বর, ২০২২ ০৯:১৩ অপরাহ্ণ

#কর্মসহায়ক গবেষণা ও শ্রেণি শিক্ষকের জন্য কর্মসহায়ক গবেষণার গুরুত্ব#

কর্মসহায়ক গবেষণা কী

কর্মসহায়ক গবেষণা বা Action research হলো এমন এক ধরনের গবেষণা যা তাৎক্ষণিক সমস্যা সমাধানের উদ্দেশ্যে করা হয়। কারো দক্ষতা বিষয়ক কোনো সমস্যার তুলনামূলকভাবে কার্যকরী সমাধানের জন্য উপযুক্ত পদক্ষেপ গ্রহণ করার জন্য যে গবেষণা পরিচালিত হয় তাকে কর্মসহায়ক গবেষণা বলে। কর্মসহায়ক গবেষণর মূল লক্ষ্য হলো ব্যক্তির বিদ্যমান অবস্থার বা কর্মদক্ষতার তুলনামূলক ইতিবাচক ও কার্যকর পরিবর্তন। এ ধরনের গবেষণা হয়ে থাকে পরিস্থিতি এবং প্রেক্ষাপট নির্ভর। পরিস্থিতি ও প্রেক্ষাপট বিচারে সমস্যা নির্ধারণের পর তা সমাধানের উদ্দেশ্যে কর্মসহায়ক গবেষণা পরিচালিত হয় যা পর্যবেক্ষণযোগ্য অভিজ্ঞতা ও পরীক্ষণের ওপর প্রতিষ্ঠিত। কর্মসহায়ক গবেষণা সর্বদা অংশগ্রহণকেন্দ্রিক ও চলমান প্রক্রিয়া।

শ্রেণি শিক্ষকের জন্য কর্মসহায়ক গবেষণার গুরুত্ব

পেশাদার ব্যক্তি এবং শ্রেণি শিক্ষকের জন্য কর্মসহায়ক গবেষণা কেন গুরুত্বপূর্ণ তা বুঝতে হলে এই গবেষণার প্রকৃতি সম্পর্কে জানা প্রয়োজন। অল্প কথায় নিচের এর গুরুত্ব সম্পর্কে উল্লেখ করা হলো:

  • কর্মসহায়ক গবেষণার মাধ্যমে কোনো সমস্যার স্বরূপ, কারণ ও সমাধান পাওয়া যায়।
  • পেশাগত চর্চার বিদ্যমান অবস্থায় পরিবর্তন এনে এর উন্নয়ন ঘটানো কর্মসহায়ক গবেষণার কাজ।
  • কর্মসহায়ক গবেষণায় নিয়োজিত থাকা প্রত্যেক শিক্ষক বা প্রশাসকের মনে আত্মসমালোচনার মনোভাব গড়ে ওঠে যা পেশাগত উন্নয়ন ঘটাতে সহায়ক।
  • কর্মসহায়ক গবেষণায় জড়িত শিক্ষক পেশাগত দায়িত্ব, শিক্ষার্থীর শিখনমান এবং শ্রেণিকক্ষ কার্যাবলির মান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারেন।
  • কর্মসহায়ক গবেষণার মাধ্যমে একজন শ্রেণি শিক্ষক গবেষকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হতে উৎসাহিত হন; ফলে শিক্ষক তাঁর শিখন-শেখানো কার্যাবলির মান যাচাই করতে উদ্যোগী হন।
  • কর্মসহায়ক গবেষণা শিক্ষক নিজের কর্মস্থলে সম্পন্ন করতে পারেন যে কারণে তিনি নিজস্ব সময় ও পরিকল্পনা অনুযায়ী গবেষণা পরিচালনা করতে পারেন।
  • স্থানীয়ভাবে স্থানীয় ব্যক্তির মাধ্যমে কর্মসহায়ক গবেষণা সম্পন্ন হয় বলে অন্যান্য গবেষণার মতো এই গবেষণার জন্য খুব বাড়তি খরচের প্রয়োজন হয় না।
  • কর্মসহায়ক গবেষণা ধারাবাহিক এবং বহুমুখী পদ্ধতিতে সম্পাদিত হয় বলে এর ফল দীর্ঘস্থায়ী হয়।
  • কর্মসহায়ক গবেষণা এতে অংশগ্রহণকারীদের আত্মপ্রত্যয়ী এবং প্রতিশ্রুতিশীল করে তোলে।
  • এই কর্মসহায়ক গবেষণা শিক্ষার্থীদেরকেও কার্যকর এবং মানসম্মত শিখনে সহযোগিতা করে।
  • গবেষক নিজেই নিজের সমস্যা নিয়ে গবেষণা করেন ফলে গবেষকের পক্ষে ঘটনা বুঝা এবং এর উন্নয়ন বা সমাধান করা সহজ হয়।
  • কর্মসহায়ক গবেষণা ধারাবাহিক বলে ততক্ষণ পর্যন্ত চলতে থাকে যতক্ষণ না সমস্যার সমাধান অর্জিত হয়।
  • গণতান্ত্রিক ও হৃদ্যতাপূর্ণ পরিবেশে স্থানীয় (বিদ্যালয়ের ক্ষেত্রে শ্রেণি শিক্ষক, শিক্ষার্থী, প্রশাসক, ব্যবস্থাপক ইত্যাদি) সকলের অংশগ্রহণে সহযোগিতার ভিত্তিতে কর্মসহায়ক গবেষণা পরিচালিত হয় বলে পারস্পরিক বোঝাপড়া ও সহমর্মিতার ভিত প্রতিষ্ঠিত হয়।
  • শ্রেণিকক্ষে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর মধ্যে সংঘটিত মিথষ্ক্রিয়ার মানোন্নয়নে কর্মসহায়ক গবেষণা কার্যকর ভূমিকা পালন করে।

কর্মসহায়ক গবেষণার কাজ হলো পেশাগত কর্মদক্ষতার বিদ্যমান অবস্থায় ইতিবাচক পরিবর্তন এনে তা আরও কার্যকরী করা। একজন শ্রেণি শিক্ষকের পেশাগত দক্ষতার উন্নয়নের জন্য কর্মসহায়ক গবেষণা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি মাধ্যম। যে শিক্ষক কর্মসহায়ক গবেষণায় নিজেকে নিয়োজিত থাকেন তাঁর মনে খুব সহজেই আত্মসমালোচনার মনোভাব গড়ে যা তাঁর নিজ পেশার উন্নয়ন ঘটাতে সহায়ক ভূমিকা রাখে। কর্মসহায়ক গবেষণার মাধ্যমে একজন শ্রেণি শিক্ষক বুঝতে পারেন বা সনাক্ত করতে পারেন তাঁর শিখন-শেখানোর দক্ষতার উন্নয়ন ঘটানোর জন্য কোন কোন প্রতিবন্ধকতা আছ, ফলে তাঁর পক্ষে পেশাগত উন্নয়ন ঘটানো সহজ হয়ে যায়। আর এ ধরনের গবেষণা যেহেতু কর্মস্থলেই সম্পন্ন হয় সেহেতু শিক্ষক তার নিজস্ব সময় ও পরিকল্পনা অনুসরণ করে গবেষণা পরিচালনা করতে পারেন। কর্মস্থলে পরিচালিত হয় বলে এই গবেষণার জন্য অতিরিক্ত খরচ খুব একটা প্রয়োজন হয় না। একটি গণতান্ত্রিক ও হৃদ্যতাপূর্ণ পরিবেশে স্থানীয় ব্যক্তিদের অংশগ্রহণে ও সহযোগিতার ভিত্তিতে পরিচালিত হয় বলে পারস্পরিক বোঝাপড়া বা সহমর্মিতার ভিত প্রতিষ্ঠিত হয় যা শিক্ষকের আত্মবিশ্বাস বাড়াতে সহায়ক ভূমিকা রাখে। প্রশ্ন উঠতে পারে যে, স্থানীয় ব্যক্তি কারা? এখানে বিদ্যালয়ের ক্ষেত্রে স্থানীয় ব্যক্তিরা হলো – শিক্ষক, শিক্ষার্থী, প্রশাসক বা নির্দিষ্ট কর্মের সাথে যুক্ত সংশ্লিষ্ট সকলে।

যে-কোনো ভাবেই হোক শ্রেণি শিক্ষকের জন্য কর্মসহায়ক গবেষণায় দক্ষতা অর্জন করা এবং এর চর্চা করা খুব জরুরি। যেখানে শ্রেণিশিক্ষণের মান কার্যকর শিখনের জন্য উপযুক্ত নয় সেখানে শিক্ষার্থীর মধ্যে শিখন দক্ষতার বিকাশ বাধাপ্রাপ্ত হয়। আর শ্রেণিকক্ষে শ্রেণি শিক্ষকের ভূমিকাই মূখ্য, সেহেতু শ্রেণি শিক্ষকের জন্য কর্মসহায়ক গবেষণা খুব গুরুত্বপূর্ণ।

মন্তব্য করুন