সহকারী শিক্ষক
১৪ নভেম্বর, ২০২২ ১১:০০ অপরাহ্ণ
সহকারী শিক্ষক
গুনগত রসায়ন
কোয়ান্টাম সংখ্যা
পরমাণুতে অবস্থিত ইলেকট্রনের শক্তিস্তরের আকার, আকৃতি,শক্তিস্তরের বিন্যাস প্রকরণ ও নিজ অক্ষের চতুর্দিকে ঘূর্ণনের দিক প্রকাশ সংখ্যা সমূহকে কোয়ান্টাম সংখ্যা বলে৷
কোয়ান্টাম সংখ্যা চার প্রকার।
1. প্রধান কোয়ান্টাম সংখ্যা
2. সহকারি কোয়ান্টাম সংখ্যা
3. ম্যাগনেটিক কোয়ান্টাম সংখ্যা
4. চুম্বকীয় কোয়ান্টাম সংখ্যা
প্রধান কোয়ান্টাম সংখ্যা
যে কোয়ান্টাম সংখ্যার সাহায্যে পরমাণুতে অবস্থিত ইলেকট্রনের শক্তিস্তরের আকার নির্ণয় করা যায় তাকে প্রধান কোয়ান্টাম সংখ্যা বলে। একে n দ্বারা প্রকাশ করা হয়,n এর মান যথাক্রমে 1,2,3,4..... প্রভৃতি পূর্ণ সংখ্যা।
· প্রধান কোয়ান্টাম সংখ্যা অরবিট বা শক্তিস্তরের আকার প্রকাশ করে৷
· বিজ্ঞানী বোর শক্তিস্তর সম্পর্কীয় প্রধান কোয়ান্টাম সংখ্যা (n) এর ধারণা প্রস্তাব করেন।
· যে কোনো প্রধান শক্তিস্তর সর্বোচ্চ 2n² ইলেকট্রন ধারণ করতে পারে
· n এর মান 1,2,3, 4.... হলে K,L,M,N শক্তিস্তর হবে৷
সহকারী কোয়ান্টাম সংখ্যা
একটি ইলেকট্রন প্রধান শক্তিস্তরের কোন উপস্তরে রয়েছে তা প্রকাশের জন্য যে কোয়ান্টাম সংখ্যা ব্যবহৃত হয় তাকে সহকারী কোয়ান্টাম সংখ্যা বলে।
· বিজ্ঞানী সমারফিল্ড সহকারী কোয়ান্টাম সংখ্যা (ɭ) সম্বন্ধে সর্বপ্রথম ব্যাখ্যা দেন
· সহকারী কোয়ান্টাম সংখ্যাকে ɭ দ্বারা প্রকাশ করা হয়
· l এর মান 0 থেকে ( পর্যন্ত হয়।
· ɭ এর মান দ্বারা উপশক্তিস্তরের আকৃতি নির্ধারিত হয়
· ɭ এর মান 0, 1, 2, 3 হলে উপশক্তিস্তরকে যথাক্রমে s, p, d, f দ্বারা চিহ্নিত করা হয়।
3f অরবিটাল অসম্ভব কেন
3f অরবিটাল অসম্ভব। কারণ 3f অরবিটালের ক্ষেত্রে প্রধান কোয়ান্টাম সংখ্যার মান n = 3 n = 3 এর জন্য সহকারী কোয়ান্টাম সংখ্যার মান l = 0, 1, 2 হবে। কিন্তু আমরা জানি, সহকারী কোয়ান্টাম সংখ্যা 0, 1, 2 এর জন্য s, p ও d অরবিটাল সম্ভব। তাই 3f অসম্ভব৷
চৌম্বকীয় কোয়ান্টাম সংখ্যা
যে কোয়ান্টাম সংখ্যা দ্বারা কোনো পরমাণুতে চুম্বক ক্ষেত্রের প্রভাবে অরবিটালের ত্রিমাত্রিক দিক বিন্যাস প্রকাশ করে তাকে চৌম্বকীয় কোয়ান্টাম সংখ্যা বলে।
· m এর মান শূন্যসহ (০) {\displaystyle -\ell }থেকে {\displaystyle +\ell } ( পর্যন্ত বিস্তৃত হয়
· এজন্য {\displaystyle s,p,d,f}উপস্তরগুলোর প্রত্যেকে যথাক্রমে ১, ৩, ৫ এবং ৭টি করে অরবিটাল ধারণ করে
· প্রত্যেকটি অরবিটাল সর্বোচ্চ দুইটি করে ইলেকট্রন ধারণ করতে পারে৷
যে কোয়ান্টাম সংখ্যার সাহায্যে নিজ অক্ষের চারপাশে ইলেকট্রনের ঘূর্ণন প্রকাশ করা হয় তাকে ঘূর্ণন কোয়ান্টাম সংখ্যা বলে।
প্রশ্নঃ ৪র্থ শক্তিস্তরের জন্য কোয়ান্টাম সংখ্যার সেট হিসাব করে মোট অরবিটাল ও মোট ইলেকট্রন গননা কর ??
প্রধান কোয়ান্টাম সহকারী কোয়ান্টাম ম্যাগনেটিক কোয়ান্টাম স্পিন কোয়ান্টাম মোট অরবিটাল মোট ইলেকঃ সংখ্যা
সংখ্যা (n) সংখ্যা ( l) সংখ্যা (m) সংখ্যা (s) (n2) (2n2)
0 0 1 1×2=2
1 -1,0,+1 3 3×2=6
4 2 -2,-1,0,+1,+2 5 5×2=10
3 -3,-2,-1,0,+1,+2,+3 7 7×2=14
মোট=16 মোট= 32
সঠিক নয় অথবা অনুমোদনযোগ্য নয়
পরমাণু ও পরমাণুর মূল কনিকা সমূহ
পরমাণুঃ- মৌলিক পদার্থের ক্ষুদ্রতম কণা যার স্বাধীন অস্তিত্ব নেই, কিন্তু ক্ষুদ্রতম একক হিসেবে রাসায়নিক বিক্রিয়ায় অংশ গ্রহণ করে তাকে পরমাণু বলে।
মূল কণিকাঃ- যে সকল নিরতিশয় ক্ষুদ্র কণিকা দ্বারা পরমাণু গঠিত তাদের কে পরমাণুর মূল কণিকা বলে।
মূল কণিকা ৩ প্রকার যথাঃ-
১) স্থায়ী মূল কণিকা,
২) অস্থায়ী মূল কণিকা,
৩) কম্পোজিট কণিকা।
স্থায়ী মূলকনিকা
স্থায়ী মূল কণিকাঃ- কত গুলো মূল কণিকা আছে যা সব মৌলের পরমাণুতেই থাকে, তাদের কে স্থায়ী মূল কণিকা বলে। স্থায়ী মূল কণিকা ৩ টি যথাঃ-
১) প্রোটন,
২) নিউট্রন,
৩) ইলেকট্রন ।"
অস্থায়ী মূলকনিকা
কত গুলো মূল কনিকা আছে যা কোন কোন মৌলের পরমাণুতে খুবই অল্প সময়ের জন্য অস্থায়ীভাবে থাকে। এদেরকে অস্থায়ী মূল কণিকা বলে। এ ধরনের কণিকার সংখ্যা প্রায় একশ, এদের মধ্যে কিছু হলো-
১) নিউট্রিনো, ২) অ্যান্টিনিউট্রিনো, ৩) পজিট্রন, ৪) মেসন ইত্যাদি
কম্পোজিট কণিকা
স্থায়ী ও অস্থায়ী মূল কণিকা ব্যতীত আর এক ধরনের ভারী কণিকা দেখা যায়। একে কম্পোজিট কণিকা বলে। যেমনঃ-
1. আলফা কণা
2. ডিউটেরন কণা
আলফা কণাঃ দ্বি-ধনাত্নক হিলিয়াম নিউক্লিয়াসকে আলফা কণা বলে৷
ইলেকট্রন
· 1897 সালে জেজে থমসন ইলেকট্রন আবিষ্কার করেন।
· পরমাণুর স্থায়ী মূল কণিকা সমূহের মধ্যে ক্ষুদ্রতম হলো ইলেকট্রন।
· এর ভর একটি হাইড্রোজেন পরমাণুর ভরের প্রায় 1/1836 অংশ।
· এর প্রকৃত ভর 9.1085×10-28 গ্রাম।
· ইলেকট্রন একটি একক ঋণাত্মক বিদ্যুৎধর্মী কণা।
· এর চার্জ -1.6×10-19 কুলম্ব
· তেজস্ক্রিয় মৌল থেকে নিঃসৃত বিটা- রশ্মিই ইলেকট্রন।
· ইহাকে ‘e‑‑‘ দ্বারা প্রকাশ করা হয়।
প্রোটন
· আর্নেস্ট রাদারফোর্ড 1920 সালে প্রোটন আবিষ্কার করেছিলেন
· প্রোটনের আপেক্ষিক ভর “1” একক, প্রায় হাইড্রোজেনের ভরের সমান (1.00575)
· প্রোটনের প্রকৃত ভর 1.672 x 10-24 গ্রাম এটি প্রায় (e– ) এর ভরের 1836 গুন বেশি।
· প্রোটন একক ধনাত্মক (+1) বিদ্যুৎ কণা এর প্রকৃত চার্জ +1.6 x 10-19 কুলম্ব বা (4.8029 x 10-10 esu)
· প্রোটন নিউক্লিয়াসের ভিতরে অবস্থান করে।
· প্রোটনকে P অথবা “H+” দ্বরা প্রকাশ করা হয়।
নিউট্রন
· 1932 সালে চ্যাডউইক নিউট্রন আবিষ্কার
· নিউট্রন এর ভর প্রায় প্রোটনের ভরের সমান 1.675 x 10-24 গ্রাম। এটি e– এর ভরের 1839 গুন বেশি।
· এটি কোন চার্জ বহন করে না।
· নিউট্রন নিউক্লিয়াসে অবস্থান করে।
· প্রোটন ও নিউট্রনের মোট ভরই
· পরমাণুর ভর হিসেবে ধরা হয়।
· এক n দ্বারা প্রকাশ করা হয়।
আইসোটোপ
বিভিন্ন ভরসংখ্যাবিশিষ্ট একই মৌলের পরমাণু সমূহকে পরস্পরের আইসোটোপ বলে।
·
যেসব
মৌলের পারমাণবিক সংখ্যা,অর্থাৎ প্রোটন সংখ্যা একই, কিন্তু এদের ভরসংখ্যা ভিন্ন
তাদেরকে পরস্পরের আইসোটোপ বলে।
আইসোটোপ শব্দটির শেষে "প" আছে
এখান থেকে আইসোটোপে "প্রোটন সংখ্যা" সমান সহজে মনে রাখা যায়।
যেমনঃ হাইড্রোজেনের আইসোটোপ H (ভর=1, 2, 3).
কার্বনের C(12,13,14)
অক্সিজেনের O(16,17,18)
আইসোবার
· যেসব মৌলের ভর সংখ্যা একই কিন্ত পারমাণবিক সংখ্যা ভিন্ন তাদেরকে পরস্পরের আইসোবার বলে।
· আইসোবার শব্দটির শেষে "বার" আছে, বার থেকে "ভর সংখ্যা
সমান" মনে রাখলে সহজ হবে ।
যেমন - Cu এর পারমানবিক সংখ্যা 29 ও Zn এর পারমানবিক সংখ্যা 30 কিন্তু উভয়ের ভরসংখ্যা 65।
কাজেই Cu ও Zn পরস্পরের আইসোবার।
আইসোটোন
যেসব মৌলের নিউট্রন সংখ্যা সমান কিন্তু পারমাণবিক সংখ্যা এবং ভরসংখ্যা ভিন্ন, তাদেরকে পরস্পরের আইসোটোন বলে।
· আইসোটোন শব্দটির শেষে "ন" আছে, এখান থেকে আইসোটোনে "নিউট্রন সংখ্যা" সমান, সহজে মনে রাখা যায়।
·
যেমনঃ Si- এর পারমাণবিক সংখ্যা - 14, ভরসংখ্যা - 30 এবং নিউট্রন সংখ্যা - 16.
আবার, P- এর পারমাণবিক সংখ্যা - 15, ভরসংখ্যা - 31 এবং নিউট্রন সংখ্যা - 16.
অতএব Si ও P পরস্পরের আইসোটোন।
আইসো-ইলেকট্রনিক
যে সকল পরমাণুর ইলেকট্রন সংখ্যা সমান থাকে তাদেরকে পরস্পরের আইসো-ইলেকট্রন বলে।
পারমাণবিক সংখ্যা
কোন মৌলের নিউক্লিয়াসে অবস্থিত মোট প্রোটন সংখ্যাকে ঐ
মৌলের পারমাণবিক সংখ্যা বলে।
যেমনঃ সোডিয়াম পরমাণুর নিউক্লিয়াসে প্রোটন আছে 11 টি।
কাজেই সোডিয়ামের পারমাণবিক সংখ্যা 11.
বিজ্ঞানী মোসলে পারমাণবিক সংখ্যা আবিষ্কার করেন। পারমানবিক সংখ্যাকে Z দ্বারা প্রকাশ করা হয়।
ভর সংখ্যা
কোন মৌলের নিউক্লিয়াসে অবস্থিত প্রোটন
সংখ্যা ও নিউট্রন সংখ্যার সমষ্টিকে ভরসংখ্যা বলা হয়।
ভর সংখ্যাকে A দ্বারা
প্রকাশ করা হয়। A = Z + n. Z = পারমাণবিক সংখ্যা, n = নিউট্রন
সংখ্যা। ভরসংখ্যাকে আবার নিউক্লিয়ন সংখ্যাও বলে।
অরবিট ও অরবিটাল
অরবিটঃ পরমাণুতে নিউক্লিয়াসের চতুর্দিকে ইলেকট্রন আবর্তনের জন্য কতগুলো নির্দিষ্ট শক্তি বিশিষ্ট কক্ষপথ রয়েছে। এদের প্রধান শক্তিস্তর বা শেল বা অরবিট বলে৷
অরবিটালঃ নিউক্লিয়াসের চারদিকে যে নির্দিষ্ট ত্রিমাত্রিক স্থানে কোন নির্দিষ্ট শক্তিস্তরে ইলেকট্রনের অবস্থানের সম্ভাবনা বেশি থাকে তাকে অরবিটাল বলে। অর্থাৎ নিউক্লিয়াসের চতুর্দিকে ইলেকট্রনের আবর্তনের সর্বাধিক সম্ভাব্য অঞ্চলকে অরবিটাল বলে।
অরবিট ও অরবিটালের মধ্যে পার্থক্য
অরবিটঃ
· অরবিটসমূহ বৃত্তাকার
· অরবিটকে K,L,M,N দ্বারা প্রকাশ করা হয়
· একটি অরবিটে সর্বাধিক সংখ্যাক ইলেকট্রন থাকতে পারে
অরবিটালঃ
· নিউক্লিয়াসের চারদিকে যে নির্দিষ্ট সম্ভাব্য স্থানে ইলেকট্রনের ঘনত্ব সর্বাধিক অর্থাৎ 90% - 95% হয় সেই সকল সম্ভাব্য স্থানকে অরবিটাল বলে।
· এটি দ্বারা ত্রিমাত্রিক স্থানে ইলেকট্রন আবর্তন বুঝায়।
অরবিটাল সমূহকে s, p, d, f দ্বারা প্রকাশ করা হয়।s অরবিটালের উপস্তর ১ টি, p, d এবং f এর ৩,৫ এবং ৭ টি।s অরবিটালের উপস্তর ১ টি, p, d এবং f এর ৩,৫ এবং ৭ টি।
· Sharp (s) – গোলাকার Principal (p) – ডাম্বেলাকৃতি
· Diffused (d) – ডাবল ডাম্বেল Fundamental (f) – অত্যন্ত জটিল
পলির বর্জন নীতি
"ইলেকট্রন বিন্যাস সম্পর্কে বিজ্ঞানী পলি 1925 সালে একটি নীতি বর্ণনা করেন। তাঁর নাম অনুসারে নীতিটিকে পলির বর্জন নীতি বলা হয়। নীতিটি নিম্নরূপ—
“একটি পরমাণুর যে কোনো দুটি ইলেকট্রনের চারটি কোয়ান্টাম সংখ্যার মান কখনও একই হতে পারে না।”
· অর্থাৎ একটি পরমাণুর দুইটি ইলেকট্রনের তিনটি কোয়ান্টাম সংখ্যার মান এক রকম হতে পারে। কিন্তু চতুর্থ কোয়ান্টাম সংখ্যার মান অবশ্য ভিন্ন হবে। যেমন–
দুই ইলেকট্রন বিশিষ্ট He এর,
১ম ইলেকট্রনের জন্য, n = 1, l = 0, m = 0, s = + ½
২য় ইলেকট্রনের জন্য, n = 1, l = 0, m = 0, s = - ½
· অতএব দেখা যাচ্ছে দুইটি ইলেকট্রনের প্রধান কোয়ান্টাম সংখ্যা, সহকারী কোয়ান্টাম সংখ্যা এবং চৌম্বকীয় কোয়ান্টাম সংখ্যার মান সমান হলেও ঘূর্ণন কোয়ান্টাম সংখ্যার মান ভিন্ন হয়।
আউফবাউ নীতি
আউফবাউ (aufbau) একটি জার্মান শব্দ, যার অর্থ নির্মাণ করা বা উপরে যাওয়া৷ নীতিটি-
ইলেকট্রনসমূহ প্রথমে নিম্ন শক্তির অরবিটালে এবং পরে ক্রমান্বয়ে উচ্চশক্তির অরবিটালে প্রবেশ করে৷
· এ নীতি অনুসারে সামগ্রিকভাবে ইলেকট্রনসমূহ বিভিন্ন অরবিটালে তাদের শক্তির উচ্চক্রম অনুসারে প্রবেশ করে। অর্থাৎ ইলেকট্রন প্রথমে নিম্ন শক্তির অরবিটালে এবং পরে ক্রমান্বয়ে উচ্চ শক্তির অরবিটালসমূহে প্রবেশ করে৷
· কারণ নিম্ন শক্তি স্তরে স্থিতিশীলতা বেশি।
· ধারাবাহিকভাবে ইলেকট্রন দ্বারা অরবিটাল পূর্ণ করার নীতিই হচ্ছে আউফবাউ নীতি ।
· কোন অরবিটালের শক্তি কত তা প্রধান কোয়ান্টাম সংখ্যা n এবং সহকারী কোয়ান্টাম সংখ্যা l এর মান থেকে হিসাব করা হয়।
· যে অরবিটালের জন্য (n+l) এর মান কম সেটিই হচ্ছে নিম্ন শক্তির অরবিটাল। আর ইলেকট্রন নিম্নশক্তির অরবিটালেই আগে প্রবেশ করে।
যেমনঃ
· 3d অরবিটালের জন্য, n = 3 এবং l = 2 ∴ (n + l) = 3 + 2 = 5
· 4s অরবিটালের জন্য, n = 4 এবং l = 0 ∴ (n + l) 4 + 0 = 4
যেহেতু এখানে 3d এর শক্তি 4s এর তুলনায় কম তাই ইলেকট্রন আগে 4s এ প্রবেশ করার পর 3d তে প্রবেশ করবে।
যদি দুটি অরবিটালের (n+l) এর মান সমান হইয়ে যায় সেক্ষেত্রে যে অরবিটালের n এর মান নিম্ন অর্থাৎ প্রধান শক্তিস্তরের মান ছোট সেটিতেই ইলেকট্রন আগে প্রবেশ করে।
· 3d অরবিটালের জন্য, n = 3 এবং l = 2 ∴ (n + l) = 3 + 2 = 5
· 4p অরবিটালের জন্য, n = 4 এবং l = 1 ∴ (n + l) 4 + 1 = 5
সুতরাং এ দুটি অরবিটালের (n + l) এর মান সমান। তবে 4p অপেক্ষা 3d অরবিটালের n-এর মান কম। তাই 4p অপেক্ষা 3d অরবিটালের শক্তিও কম। এজন্য ইলেকট্রন আগে 3d অরবিটালে ও তা পূর্ণ হলে পরে 4p অরবিটালে প্রবেশ করে।
পারমাণবিক বর্ণালী বিশ্লেষণ করে বিভিন্ন অরবিটালের আপেক্ষিক শক্তিক্রম নির্ণয় করা হয়। তারপর আউফবাউ এর নীতি অনুসারে ইলেকট্রন বিন্যাসের জন্য চূড়ান্তভাবে অরবিটালগুলোকে নিচের সাজানো হয়েছে।
1s < 2s < 2p < 3s < 3p < 4s < 3d < 4p < 5s < 4d < 5p < 6s < 4f < 5d < 6p < 7s
হুন্ডের নীতি
একই শক্তিসম্পন্ন বিভিন্ন অরবিটালে ইলেকট্রনগুলো এমনভাবে অবস্থান করবে যেন তারা সর্বাধিক অযুগ্ম বা বিজোড় অবস্থায় থাকতে পারে। এই সব অযুগ্ম ইলেকট্রনের স্পিন একমুখী হবে।
ব্যাখ্যা: হুন্ডের নিয়মটি N(7) পরমাণুর ইলেকট্রন বিন্যাসে দেখানো হল৷ নাইট্রোজেনের ইলেকট্রন বিন্যাস-
N (7) = 1s² 2s² 2p³
আবার 2p অরবিটালে সমশক্তিসম্পন্ন তিনটি অরবিটাল আছে, যেটি কোয়ান্টাম উপশক্তিস্তর আকার আকৃতি থেকে জানা যায় যে p অরবিটালের আকৃতি আসলে ত্রিমাত্রিক ডাম্বেল আকৃতির, 2p অরবিটালের তিনটি অরবিটাল আছে; এদেরকে px, py, pz অরবিটাল হিসেবে চিহ্নিত করা হয়৷ সুতরাং নাইট্রোজেনের বেলায় 2p³ এর তিনটি ইলেকট্রন তিনটি সমশক্তির অরবিটালে আলাদা আলাদাভাবে থাকবে এবং এদের স্পিনসমূহের দিক একইমুখী হবে।
তড়িৎ চুম্বকীয় বর্ণালী
তড়িৎ চুম্বকীয় বিকিরণের অন্তর্ভুক্ত রয়েছে দৃশ্যমান আলো (Visible-Light), অবলোহিত বিকিরণ (Infrared Radiation), বেতার তরঙ্গ (Radio Wave), অতিবেগুনী বিকিরণ (Ultraviolet Radiation), এক্স-রে (X-ray) ও গামা রশ্মি (Y-ray)। এসব বিকিরণ যে বর্ণালীর সৃষ্টি করে তাকে তড়িৎ চুম্বকীয় বর্ণালী বলে।
· তড়িৎচুম্বকীয় সকল বিকিরণের তরঙ্গের বেগ c, তরঙ্গদৈর্ঘ্য ও কম্পাস্ক -এর মধ্যে নিম্নোক্ত সম্পর্ক প্রযোজ্য :
· λ
Cosmic ray < X-ray < UV-Ray < IR < Micro-Wave < Radio Wave
দৃশ্যমান আলো ও বর্ণালী
সূর্য থেকে আগত আলোক বর্ণালীর যে অংশ মানবচক্ষুর দৃষ্টিগোচর হয়, তাকে দৃশ্যমান বর্ণালী (Visible Spectrum) বলে।"
· বেনীআসহকলা
বেগুনি = (380-424) nm
নীল = (380-424) nm
আসমানী == (380-424) nm
সবুজ == (380-424) nm
হলুদ = (380-424) nm
কমলা = (380-424) nm
লাল == (380-424) nm
শিখা পরীক্ষা
শিখা পরীক্ষায় অজৈব লবণকে গাঢ় HCl দ্বারা সিক্ত করে প্লাটিলাস তারে বুনসেন দ্বীপের দীপ্তিহীন শিখায় উত্তপ্ত করা হয়। ফলে উদ্বায়ী ধাতব ক্লোরাইড উত্পন্ন হয়,যা বৈশিষ্ট্যপূণ উজ্জ্বল শিখা উত্পন্ন করে। অন্য কোনো এসিড এরুপ উদ্বায়ী ধাতব ক্লোরাইড লবণ উত্পন্ন করে না। এজন্য শিখা পরীক্ষায় গাঢ় HCl ব্যবহার করা হয়।
Li- উজ্জ্বল লাল
Na- সোনালী হলুদ
K- বেগুনী
Rb- লালচে বেগুনী
Ba- কাঁচা আপেলের মতো
Ca- ইটের ন্যায় লাল
Cu- নীলাভ সবুজ
Note: শিখা পরীক্ষায় বর্ণ দেয় না,
H- রেখা বর্ণালী
· লাইমেন সিরিজ →অতিবেগুনী
· বামার সিরিজ → দৃশ্যমান
· প্যাশ্চেন সিরিজ →অবলোহিত (IR)
· ব্রাকেট সিরিজ → অবলোহিত (IR)
· ফুন্ড সিরিজ → অবলোহিত (IR)
· হ্যামফ্রিস সিরিজ → অবলোহিত (IR)
Note:
প্রশ্নঃ জাল পাসপোর্ট বা জাল টাকা শনাক্তকরণে UV রশ্মি ব্যবহার করা হয় কেন?
দৃশ্যমান বেগুনি রশ্মির চেয়ে শক্তিশালী বিকিরিত রশ্মিকে UV রশ্মি বলে। প্রকৃত ব্যাংক নোট ও পাসপোর্টে প্রতিপ্রভ পদার্থ দিয়ে তৈরি নিরাপত্তা সুতা, জলছাপ, নকশা লুকায়িত থাকে, যা জাল টাকা বা জাল পাসপোর্টে থাকে না। প্রকৃত নোট বা পাসপোর্টে UV রশ্মি আপতিত করলে প্রতিপ্রভ পদার্থ দ্বারা ক্ষুদ্র তরঙ্গদৈর্ঘ্যের UV রশ্মি শোষিত হয় এবং বড় তরঙ্গদৈর্ঘ্যের দৃশ্যমান আলো বিকিরিত হয়; কিন্তু জাল টাকা বা জাল পাসপোর্টে প্রতিপ্রভ পদার্থ দ্বারা তৈরি কোনো নকশা বা জলছাপ না থাকায় এটি কোনো দৃশ্যমান আলোকরশ্মি বিকিরণ করতে পারে না। এভাবে UV রশ্মি দিয়ে জাল টাকা বা জাল পাসপোর্ট শনাক্ত করা যায়।
চিকিৎসা ক্ষেত্রে IR রশ্মির ব্যবহার
রোগ নির্ণয়ে MRI
মস্তিষ্ক, মেরুদণ্ড, হৃৎপিণ্ডসহ দেহের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গের যেকোনো সমস্যা নির্ণয় করতে এমআরআই একটি নির্ভরযোগ্য পরীক্ষা। এর মাধ্যমে যেসব রোগ নির্ণয় করা যায়—
• টিউমার, স্ট্রোকসহ মস্তিষ্কের অন্যান্য রোগ।
• মেরুদণ্ডের রোগ বা আঘাত।
• হাঁটু, গোড়ালি, কবজি, কাঁধ ইত্যাদি অস্থিসন্ধি, হাড় ও মাংসপেশির সমস্যা।
• রক্তনালির রোগ।
• নাক, কান, গলা ও চোখের সমস্যা।
• প্রোস্টেটের সমস্যা।
• ক্যানসার।
• নারীদের তলপেট ও স্তনের অস্বাভাবিকতা।
• লিভার, কিডনি, পিত্তনালিসহ বিভিন্ন আন্ত্রিক রোগ
MRI = Magnetic Resonance Imaging
NMR = Nuclear Magnetic Resonance
দ্রাব্যতা
নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় ১০০ গ্রাম দ্রাবকে সর্বোচ্চ যে পরিমাণ দ্রব দ্রবীভূত হয়ে সম্পৃক্ত দ্রবণ তৈরি করে তাকে ঐ তাপমাত্রায় উক্ত দ্রবণের দ্রাব্যতা বলে।
দ্রাব্যতা নিমোক্ত বিষয়ের উপর নির্ভর করে। যেমন
১. দ্রবের প্রকৃতি
২. দ্রাবকের প্রকৃতি
৩. তাপমাত্রা
৪. চাপ
৫. সম-আয়ন প্রভাব
দ্রবণ তিন প্রকার
১.সম্পৃক্ত দ্রবণঃ যে দ্রবণে আর দ্রব দ্রবীভূত হয় না তাকে সম্পৃক্ত দ্রবণ হিসেবে চিহ্নিত করা যায়।
২.অসম্পৃক্ত দ্রবণঃ যে দ্রবণে আরো দ্রব দ্রবীভূত হয় তাকে অসম্পৃক্ত দ্রবণ বলে।
৩. অতিপৃক্ত দ্রবণঃ যে দ্রবণে কোন বিশেষ উপায়ে অতিরিক্ত দ্রব দ্রবীভূত থাকে তাকে অতিপৃক্ত দ্রবণ বলে।
হলে দ্রবণ থেকে লবণের অধঃক্ষেপণ বা কেলাসন ঘটবে।
দ্রাব্যতার গুনফল
নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় কোনো সল্প দ্রবণীয় লবণের সম্পৃক্ত দ্রবণে উপস্থিত উপাদান আয়নগুলোর মোলার ঘনমাত্রার গুণফলকে দ্রাব্যতার গুণফল বলে।
দ্রাব্যতার গুনফলকে দ্বারা প্রকাশ করা হয়
যেমনঃ
সুতরাং, দ্রাব্যতার গুনফল =[
= S
=
আয়নিক গুনফল
যেকোন দ্রবনের প্রতি মোল দ্রব থেকে উৎপন্ন আয়নসমূহের উপযুক্ত ঘাতসহ ঘনমাত্রার গুনফলকে আয়নিক গুনফল বলে।
আয়নিক গুনফলকে দ্বারা প্রকাশ করা হয়৷
· আয়নিক গুনফল যেকোন দ্রবনের জন্য প্রযোজ্য
· আয়নিক গুনফলের মান মোলার ঘনমাত্রার উপর নির্ভর করে।
আয়নিক গুনফলকে,
মিশ্রনে প্রথম ঘনমাত্রা
মিশ্রনে দ্বিতীয় ঘনমাত্রা
·
· ক্যালসিয়াম ফসফেটের দ্রাব্যতার গুনফলের সমীকরণ নির্ণয় কর ?
সম-আয়ন প্রভাব
সাধারণত কোন মৃদু তড়িৎ-বিশ্লেষ্যের দ্রবণে উহার যেকোন একটি আয়ন (সম- আয়ন ) বিশিষ্ট অন্য একটি তীব্র তড়িৎ-বিশ্লেষ্য যোগ করলে মৃদু তড়িৎ বিশ্লেষ্যটির বিয়োজন মাত্রা যথেষ্ট পরিমান হ্রাস পায় । একে সম-আয়ন প্রভাব বলে৷
ক্রোমাটোগ্রাফীতে কোনো যৌগের সবচেয়ে বেশি গাঢ়ত্ব বিশিষ্ট অংশ যত দূরত্ব অতিক্রম করে তাকে দ্রাবকের অতিক্রান্ত দূরত্ব দ্বারা ভাগ করলে যে সংখ্যা পাওয়া যায় তাকে ঐ যৌগের Rf মান বলে।
Note:
· Rf = Retention of Factor
· একই জাতীয় দুটি রাশির অনুপাত বিধায় Rf এর কোন একক নেই৷
· Rf এর মান সর্বদা 1 অপেক্ষা কম হয়
· Rf এর সর্বোচ্চ মান 1 হয় ৷
০
০ মন্তব্য