Loading..

ব্লগ

রিসেট

১৭ নভেম্বর, ২০২২ ০৭:০৮ অপরাহ্ণ

গ্রীন হাউস ও গ্রীন হাউস ইফেক্ট কি?

গ্রীন হাউজ কি?

শীতপ্রধান দেশগুলোর তাপমাত্রা বেশির ভাগ সময়েই শাক-সবজি উৎপাদনের অনুকূলে থাকে না৷ তাই এসব শীতপ্রধান দেশে বিশেষ ধরনের কাঁচের তৈরি ঘরে কৃত্রিম উষ্ণ পরিবেশে শাকসবজি ও বিভিন্ন ফুল-ফলের চাষাবাদ করা হয়ে থাকে। এই কাঁচের তৈরি ঘরগুলোই গ্রীন হাউজ নামে পরিচিত।

গ্রীন হাউজে সূর্যরশ্মির তাপ কাঁচ ভেদ করে ভেতরে প্রবেশ করতে পারে। কিন্তু সহজে তা বেরোতে পারেনা৷ ফলে, ঘরের ভেতরের তাপমাত্রা বৃদ্ধি পায় এবং শাক-সবজি বা গাছপালা জন্মানোর জন্য ঘরটির পরিবেশ উপযুক্ত হয়ে উঠে ।

গ্রীন হাউস ইফেক্ট কি?

আমাদের পৃথিবীর বায়ুমন্ডল ভেদ করে সূর্যের আলো পৃথিবীতে পৌঁছায়। এই আলো কিন্তু পৃথিবীর বাতাসকে উত্তপ্ত করতে পারে না, এটি উত্তপ্ত করে পৃথিবীর পৃষ্ঠদেশকে। পৃথিবীর পৃষ্ঠদেশ দৃশ্যমান আলো শোষণ করে, কিন্তু এটি বিকিরণ করে ইনফ্রায়েড আলো। আমাদের বায়ুমন্ডলে এমন কিছু গ্যাস আছে যারা কিনা এই ইনফ্রায়েড আলো শোষণ করতে পারে। তাই পৃথিবীর পৃষ্ঠদেশের বিকিরণ করে ছেড়ে দেয়া তাপশক্তি বায়ুমন্ডল ভেদ করে পৃথিবীর বাইরে চলে যেতে পারে না।

গ্রিন হাউজে যে রকম তাপমাত্রা ধরে রাখার ব্যবস্থা আছে, এই গ্যাসগুলো তেমনি পৃথিবীর পৃষ্ঠদেশের বিকিরণ করা তাপশক্তি ধরে রেখে পৃথিবীর তাপমাত্রা বাড়িয়ে দেয়। পৃথিবীর তাপমাত্রা বৃদ্ধির এই পুরো ব্যাপারটিকেই আমরা গ্রিন হাউজ ইফেক্ট নামে জানি। সুইডিস রসায়নবিদ সোভনটে আর হেনিয়াস ১৮৯৬ সালে সর্বপ্রথম ‘গ্রিন হাউজ ইফেক্ট’ কথাটি ব্যবহার করেন৷  আমরা জানি আমাদের বায়ুমন্ডলের ৯৯ ভাগই হচ্ছে নাইট্রোজেন (৭৮%) ও অক্সিজেন (২৩)। বাকি থাকে মাত্র ১% গ্যাস। প্রশ্ন হচ্ছে অবশিষ্ট এই গ্যাসগুলোর মধ্যে গ্রিন হাউজ গ্যাস কোনগুলো? বায়ুমণ্ডলে মূলত কার্বন-ডাই-অক্সাইড (CO2), মিথেন (CH4), ক্লোরো ফ্লোরো কার্বন  (CFC), নাইট্রাস অক্সাইড (N2O), ওজোন (O3), জলীয় বাষ্পের (H2O) তাপ শোষণ করার ক্ষমতা অনেক বেশি। এই গ্যাসগুলোই মূলত গ্রিন হাউজ গ্যাস নামে পরিচিত। পৃথিবীর বায়ুমন্ডলে গ্রিন হাউস গ্যাসগুলোর মধ্যে কার্বন-ডাই-অক্সাইড এর পরিমাণ সবচেয়ে বেশি।

মন্তব্য করুন