Loading..

ব্লগ

রিসেট

১৮ নভেম্বর, ২০২২ ০৫:৫৪ পূর্বাহ্ণ

শিশুর বিকাশের ধাপগুলো কি কি ? বিকাশের ধাপ অনুযায়ী শিশুর প্রতি যত্ন

শিশুর বৃদ্ধি একটা ধারাবাহিক প্রক্রিয়া। এক একটা বয়সে শিশুর এক একটা কাজ করা উচিত। একে বলে বিকাশের স্তর। তবে বয়স অনুযায়ী শিশু কাজকর্ম করছে কি না সেদিকে নিয়মিত নজর রাখা উচিত প্রত্যেক মা-বাবার।

কেননা কোনো দুটি বাচ্চার বিকাশ সমগতিতে হয় না।

শিশু অন্য রকম ব্যবহার করছে, তার কারণ হয়তো সে অসুস্থ বা কোনো কারণে বিপর্যস্ত। কখনো কখনো তার বিকাশ কোনো কোনো বিষয়ে সমবয়সের অন্য বাচ্চাদের তুলনায় ধীরে হতে পারে। কিন্তু অন্য বিষয়ে হয়তো অন্যদের থেকে অনেক আগে হতে পারে। শিশু নিজে প্রস্তুত না হলে তাকে হাঁটতে শেখার জন্য জোর করলে কোনো উপকার হয় না। তাই প্রত্যেক অভিভাবককে এ বিষয়ে সচেতন হওয়া উচিত।

 শিশুর বিকাশের লক্ষণ

শিশুর স্বাভাবিক বিকাশে বিলম্ব হচ্ছে কি না তা কিছু লক্ষণ দেখে বোঝা যায়। যেমন—

২ মাস : কথা বললে হাসি।

৩ মাস : মাকে চিনতে পারা।

৪ মাস : গলা জড়িয়ে ধরা, ঘুরে তাকানো।

৫ মাস : কোনো জিনিসের কাছে গিয়ে তা ধরতে শেখা।

৬ মাস : ‘মা’, ‘বা’, ‘দা’ শব্দ বলা।

৮ মাস : কারো সাহায্য ছাড়া বসতে শেখা।

৯ মাস : হামাগুড়ি দিতে শেখা।

১২ মাস : দাঁড়াতে শেখা।

১৩ মাস : কোনো সাহায্য নিয়ে হাঁটতে শেখা।

২৪ মাস : সিঁড়ি দিয়ে ওঠা এবং ছোট ছোট বাক্য বলা।

৩৬ মাস : তিন চাকার সাইকেলে চড়তে শেখা।

৪৮ মাস : হাত দিয়ে বল ছোড়া এবং সিঁড়ির একটা ধাপে একটা পা দিয়ে দিয়ে ওঠা।

৭২ মাস : দেখে দেখে জটিল আকৃতি আঁকতে শেখা।

শিশুর বিকাশের স্তর

►   জন্মের পর থেকে ছয় সপ্তাহ।

►   শিশুর মাথা একদিকে ফিরিয়ে চিত হয়ে শোয়া।

►   হঠাৎ আওয়াজে চমকে যায় বা শরীর স্থির হয়ে যায়।

►   হাতের মুঠো বন্ধ করে থাকে।

►   বাচ্চার হাতের তালুতে কিছু ছোঁয়ালে সেটা ধরার চেষ্টা করে।

 

৬ থেকে ১২ সপ্তাহ

►   নিজের মাথা স্থির করতে শিখে।

►   চোখের দৃষ্টি কোনো জিনিসের ওপর স্থির করতে পারে।

 

তিন মাস

►   চিত হয়ে শুয়ে বাচ্চা দুই হাত-পা সমানভাবে নাড়ে। তার নড়াচড়া ঝাঁকুনি দিয়ে বা অসংবদ্ধ হয় না। কান্নার আওয়াজ ছাড়াও বাচ্চা মুখ দিয়ে নানা রকম আওয়াজ করে।

►   শিশুটি তার মাকে চিনতে পারে এবং তার গলার আওয়াজে সাড়া দেয়।

►   হাত প্রায়ই খোলা থাকে।

►   যখন সোজা করে তোলা হয় সে বেশ কিছুক্ষণ মাথা সোজা রাখতে পারে।

 

ছয় মাস

►   দুই হাত জড়ো করে খেলে।

►   আশপাশে শব্দ শুনলে মাথা ঘোরায়।

►   চিত থেকে উপুড় বা উপুড় থেকে চিত হতে পারে।

►   ঠেকা দিয়ে অল্প সময়ের জন্য বসতে পারে।

►   শিশুকে উঁচু করে ধরলে পায়ে কিছু ভার নিতে পারে।

►   উপুড় হয়ে শুয়ে হাত-পা ছড়িয়ে নিজের শরীরের ভার নিতে পারে।

 

৯ মাস

►  কোনো অবলম্বন বা ঠেকা ছাড়া কিছু না ধরে বসতে পারে।

►   হাঁটু ও হাতের ওপর ভর করে হামাগুড়ি দিতে পারে।

 

১২ মাস

►   বাচ্চা ঠেলে উঠে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে।

►   ‘মামা’ বলতে শুরু করে।

►   আসবাব ধরে বাচ্চা হাঁটতে পারে।

 

১৮ মাস

►   সাহায্য ছাড়াই একটা গ্লাস ধরতে পারে এবং তার থেকে পানি পান করতে পারে।

►   বড় ঘরে না পড়ে গিয়ে সাহায্য ছাড়াই হাঁটতে পারে।

►   দু-একটা শব্দ বলতে পারে।

►   নিজে নিজে খেতে পারে।

 

দুই বছর

►   পায়জামা ধরনের কিছু জামাকাপড় খুলে ফেলতে পারে।

►   না পড়ে গিয়ে দৌড়াতে পারে

►   ছবির বইয়ের ছবিতে বাচ্চা আনন্দিত হয়।

►   বাচ্চা কী চায় বলতে পারে।

►   অন্যদের বলা কথা বাচ্চা নকল করতে শুরু করে।

►   তার শরীরের কিছু কিছু অংশ চেনাতে পারে।

 

তিন বছর

►   হাত তুলে কাঁধের ওপর থেকে বল ছুড়তে পারে (পাশের বা নিচের দিকে নয়)

►   সাধারণ কিছু প্রশ্নের উত্তর দিতে পারে, যেমন—‘তুমি ছেলে, না মেয়ে?’

►   কোনো জিনিস সরিয়ে রাখতে সাহায্য করে।

►   অন্তত একটা রঙের নাম বলতে পারে।

 

চার বছর

►   সাইকেল প্যাডেল করতে পারে

►   বইয়ে বা ম্যাগাজিনের ছবির নাম বলতে পারে।

 

পাঁচ বছর

►   তার জামাকাপড়ের বোতাম লাগাতে পারে।

►   অন্তত তিনটি রঙের নাম বলতে পারে।

►   পা বদল করে সিঁড়ি দিয়ে নামতে পারে।

►   পা ফাঁক করে লাফাতে পারে।

 

শিশুর বিকাশে বিলম্ব

আলোচিত বিকাশের স্তরগুলোর মধ্যে কয়েকটি যদি শিশুর মধ্যে প্রকাশ না পায়, তবে শিশুর বিকাশ নিয়ে সংশয় প্রকাশ করা যেতে পারে। সাধারণভাবে এই দক্ষতাগুলোর মধ্যে ২৫ শতাংশ না দেখা গেলে বলা যেতে পারে শিশুর বিকাশে বিলম্ব হচ্ছে।

তা ছাড়া কয়েক মাস পরও যদি শিশু বয়স অনুযায়ী স্বাভাবিক কাজ করতে না পারে, তবে শিশুরোগ বিশেষজ্ঞকে দেখানো দরকার।


মন্তব্য করুন

ব্লগ