Loading..

ব্লগ

রিসেট

২০ নভেম্বর, ২০২২ ০৮:৩২ অপরাহ্ণ

মেস্তা পাটঃ প্রধানত তিন প্রকার, দেশি পাট, তোষা পাট এবং মেস্তা পাট। দেশি পাটের আঁশ সাদা, তোষা পাটের আঁশ লাল এবং মেস্তা পাটের আঁশ সাদা কিন্তু মোটা।

★মেস্তা পাট বা চুকুর★


পাট প্রধানত তিন প্রকার, দেশি পাট, তোষা পাট এবং মেস্তা পাট।  দেশি পাটের আঁশ সাদা, তোষা পাটের আঁশ লাল এবং মেস্তা পাটের আঁশ সাদা কিন্তু মোটা। স্বাদেও তিনটি পাট আলাদা। দেশি পাট শাঁক হিসেবে বেশ উপাদেয়।  তোষা পাট এক কথায় অখাদ্য,  খুবই তিতা।  আর মেস্তা পাটের শাঁক এবং ফল সবই উপাদেয়,  এক কথায় সঞ্জিবনী সুধা। মেস্তা পাটের নাম চুকুর হবার অন্যতম কারন হচ্ছে এর ফলের টক স্বাদ। আর টক স্বাদকে দেশের বিভিন্ন স্থানে চুকা ডাকার কারনেই মেস্তা পাটের অন্য নাম চুকুর। পৃথিবীর অনেক দেশেই মেস্তা পাটের ফল শুকিয়ে চা হিসেবে পান করা হয়ে থাকে। এই চা পান করলে নিমিষেই ক্লান্তি দূর হয়।


আমাদের দেশের অনেক এলাকায় মেস্তা পাটের ফল দিয়ে আচার তৈরি করা হয়। এই ফল ডাল রান্নায় ব্যবহার করে ডাল মুখরোচক করা হয়। নিত্যদিনের রান্নার ব্যঞ্জন তৈরিতেও মেস্তা পাটের ফল বা চুকুরের ব্যবহার হয়ে থাকে। তাইতো আগেকার দিনে পল্লী গাঁয়ের বসতবাড়ির আঙ্গিনায় বেগুন কিংবা মরিচ গাছের সাথে দু'একটি মেস্তা পাট বা চুকুর গাছের দেখা মিলতো।


আগে তো গ্রাম গঞ্জের মানুষজন মুড়ি মুড়কির মত ট্যাবলেট ক্যাপসুল কিংবা ওষুধ খেতোনা, তখন মানুষ পেটের পীড়ায়ও মেস্তা ফল বা চুকুরের ক্বাথ খেতো। 


আমরা জলবায়ুগত কারনে ষড়ঋতুর অঞ্চলের পরিবর্তনশীল আবহাওয়ার মানুষ। আমাদের কি খেলে মুশকিলে আছান হবে কিংবা শরীর ভালো থাকবে  তা আমাদের অঞ্চলের উদ্ভিদ,  ফুল ও ফল, সর্বোপরি মহান আল্লাহ তায়ালা কর্তৃক বরাদ্দকৃত আমাদের আঞ্চলিক খাদ্যের মধ্যেই নিহিত করে রেখেছেন। তাই আসুন, আমরা আমাদের ঋড়ঋতুর পরিবর্তন ভেদে প্রাপ্ত উদ্ভিদ, ফুল ও ফল তালাশ করি এবং তা সংগ্রহের মাধ্যমে কিংবা চাষাবাদ করে  ভক্ষণের মাধ্যমে মহান আল্লাহর করুণায় আরোগ্য লাভ করি এবং বিদেশি ফলমূল খাওয়া পরিত্যাগ করি।

মন্তব্য করুন