Loading..

ব্লগ

রিসেট

২২ নভেম্বর, ২০২২ ০৮:১০ অপরাহ্ণ

মুনাফিকদের চেনার উপায় কী কী? আর এরা সমাজের জন্য কতটা ক্ষতিকর? এদের থেকে দূরে থাকার উপায় কী?

কাফেরদের মধ্যে মুনাফিকের শাস্তি বেশী হবে (সূরা নিসা-আয়াত ১৪৫)। অর্থাৎ যাদেরকে আমরা মুসলিম বলে চিনি তারাই শাস্তি বেশী ভুগবে । মুনাফিকের সাথে আপনি সারাজীবন কাটিয়ে দিলেও আপনি বুঝবেন না সে ভন্ড মুসলিম কিনা ।


রাসুল্লাহ (সাঃ) ৪টি বৈশিষ্ট্য উল্লেখ্য করেছেনঃ-
১. আমানতের খেয়ানত করে
২. মিথ্যা কথা বলা
৩. অঙ্গীকার করলে ভঙ্গ করে
এবং ৪. বিবাদে লিপ্ত হলে অশ্লীলভাবে গালাগালি করে। ’’ (বুখারী-২২৫৯, মুসলিম ১/২৫)

এগুলো বাহ্যিকভাবে চিনার উপায় । এগুলো প্রত্যেক মুনাফিকের মধ্যে থাকবে ।(প্রধান বৈশিষ্ট্য) কেউ কেউ বলে এগুলো থাকলেই মুনাফিক হবে , হ্যাঁ এটাও ঠিক ।

তবে আরোও কতগুলো বৈশিষ্ট্য আছে যেগুলো দ্বারা মুনাফিক কারা স্পষ্ট বুঝতে পারবেন। নিজেরও বেঁচে থাকা উচিত।

  1. আল্লাহকে কম স্মরণ করাঃ আল্লাহ তায়ালাকে কম স্মরণ করলে তো মানুষ এমনি এমনি মুনাফিক হবে , নাস্তিক তো একারণেই হয়। উপরন্তু যে নামাজ পড়ে না তার কথাতো বাদ দিলাম । ‘যে ব্যক্তি দয়াময় আল্লাহর স্মরণ থেকে বিমুখ হয় আমি তার জন্যে এক শয়তান নিয়োজিত করি। অতপর সে তার সঙ্গী হয়।’ (সুরা যুখরুফ : আয়াত ৩৬)।
  2. ধর্মীয় কোনো আলাপ-চারিতাকে এড়িয়ে যাওয়াঃ- কেউ যখন কোনো ধর্মীয় বিষয় নিয়ে আলোচনা করে , তখন মুনাফিকের কাছে এটা অপ্রাসঙ্গিক মনে হয় । মনে করে এটা আলোচনা করা কি দরকার ছিল। অথবা কেউ আলোচনা করলে তাতে চুপ থাকে। ভিন্ন কোনো বিষয় আলোচনা না হওয়া পর্যন্ত কথা বলবে না।
  3. মুমিনদের বোকা মনে করাঃ মুনাফিকরা নিজেদের বুদ্ধিমান, ধূর্ত, চতুর ও চালাক মনে করে। আর মুমিন, মুত্তাকি ও নেককারদের নির্বোধ ও বোকা বলে মনে করে। অথচ আল্লাহ তাআলার কাছে তারাই বোকা ও নির্বোধ। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন, যখন তাদের বলা হয়, অন্য লোকদের ন্যায় তোমরাও ঈমান আনো, তখন তারা বলে, আমরা কি সেই নির্বোধ লোকদের মতো ঈমান আনব? আসলে তারাই তো নির্বোধ, কিন্তু তাদের সে জ্ঞান নেই।’ (সুরা : বাকারা, আয়াত : ১৩) । এরকম লোক আমি নিজেও অনেক দেখছি ।
  4. ধর্মীয় স্বাধীনতার দোহাই দেয়ঃ অর্থাৎ যখন সে অবাধ্যতায় লিপ্ত হয় তখন তার খুব ভালো লাগে কিন্তু যখন তাদের কোনো বিধান মানতে বলা হবে তাদের মন একেবারে কুঁকড়ে যায়। তখন সে স্বাধীনতার দোহাই দেয় , বলে প্রত্যেক ব্যক্তির ধর্মীয় স্বাধীনতা আছে । এটা ঠিক যে, ইসলামে কারোও উপর বিধান মানতে জোর করা মানা আছে যদি সে তার অধীনস্ত না হয়। কিন্তু এসব কথা তো কোনো মুমিন বলতেই পারে না। তাই এদেরকে পাক্কা মুনাফিক ধরে নিবেন (ঐচ্ছিক)
  5. আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের কটুক্তিকারীদেরকে পক্ষে অবস্থান করাঃ কিছুদিন আগে ফ্রান্সে রাসুলের যে অবমাননা করেছে , দেখলাম কিছু মুসলিম তাদের পক্ষে অবস্থান নিয়েছিল। তারা বলছিল আল্লাহ রাসুলের কোনো ছবি নাই তাই তার অবমাননা কীভাবে হলো? এরা নিজেরা যেমন পথভ্রষ্ট তেমনি সাধারণ মুসলিমদের ধোঁকা দিয়ে কটুক্তিকারীদের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে।
  6. যারা আলেম ওলামদের কোনো সিদ্ধান্তকে পছন্দ করে না বা তাদের বিরোধিতা করে।

বর্তমানে কাদের সাথে মেলামেশা করলে মুনাফিক হওয়ার চান্স বেশী

উপরে যা বললাম ্সেগুলো থেকে বাঁচবেন । আমার মতে, যারা নিজেদের প্রগতিবাদী , তথাকথিত মুক্তচিন্তক দাবীদার , সেক্যুলার (ধর্মহীন) আদর্শের ব্যাক্তি এসব লোকদের পাল্লায় পড়ে মুনাফিক হয়ে যেতে পারেন । মুনাফিকরা কিন্তু নিজেদেরকে মনে মনেও মুসলিম মনে করে কিন্তু সেটা নামমাত্র মুসলিম । তারা তাদের কুফরি কাজ গুলোকে তাদের ইমানের জন্য ক্ষতিকর মনে করে না , কিন্তু কখন যে ইমান অন্তর থেকে চলে যায় তারা তা নিজেরাও বুঝে না।

সমাজের জন্য কতটা ক্ষতিকর

আসলে এটা বলা দুস্কর কারণ পুরো ব্যাপারটাই লুক্কায়িত থাকে । ঝোঁপ বুঝে কোপ মারতে এরা এক্সপার্ট। এর সঠিক কোনো পরিসংখ্যান জানা যায় না কিন্তু এদের দ্বারা ক্ষতি হয় মারাত্মক।

আবদুল্লাহ ইবনে উবাই (মুনাফিক সেনাপতি) উহুদযুদ্ধে মুসলিমদের পরাজিত হতে দেখে যুদ্ধ হতে সৈন্য নিয়ে সরে পড়েছিল। মুনাফিকদের কারণে হযরত আলীর রাঃ এর সাথে উম্মুল মুমিনিন হযরত আয়েশা রাঃ এর মধ্যে সংঘটিত জঙ্গে জামাল মুনাফিকদের কারণে হয়েছিল। পলাশীর প্রান্তরে মীর জাফরের বিশ্বাসঘাতকতা তো সবাই জানেন।

মন্তব্য করুন

ব্লগ