Loading..

ব্লগ

রিসেট

০১ ডিসেম্বর, ২০২২ ০৯:৫৬ পূর্বাহ্ণ

আর্জেন্টিনার ফুটবলার মেসির জীবন বৃত্তান্ত


এক নজরে মেসি বৃত্তান্ত

লিওনেল মেসি। আর্জেন্টিনার ফুটবল আকাশে এক নক্ষত্র হিসেবে উদয় হয়েছিলেন। খেলার মাঠে একাই সব আলো ছড়িয়েছিলেন। কিন্তু অপূর্ণতার মধ্য থেকেই আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে বিদায় নিলেন। ক্যারিয়ারে চারটি বড় কোনো টুর্নামেন্টের ফাইনালে খেললেন। তিনটি কোপা আমেরিকা। একটি বিশ্বকাপ। একটিতেও শিরোপা জিততে পারলেন না। 

ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোল স্কোরার হলেও কোনো ফাইনাল ম্যাচে গোল করতে পারলেন না। জাতীয় দলের জার্সি গায়ে বড় কিছু অর্জন করতে না পারায় সমালোচনার তীরে বিদ্ধ তিনি। তার জবাব দেয়া হলো না। তার আগেই বুট জোড়া তুলে নিলেন। সাদা-নীল জার্সিতে আর মাঠে দেখা যাবে না এই তারকাকে। তাই এক নজরে দেখে নেয়া যাক এই ফুটবলারকে।

নাম: লিওনেল আন্দ্রেস মেসি

জন্ম: আর্জেন্টিনার রোজারিও, ২৪ জুন, ১৯৮৭

পিতা-মাতা: বাবা হোর্হে হোরাসিও মেসি এবং মা সেলিয়া মারিয়া কুচ্চিত্তিনি

প্রাথমিক জীবন: পাঁচ বছর বয়সে মেসি স্থানীয় ক্লাব গ্রান্দোলির হয়ে ফুটবল খেলা শুরু করেন, যার কোচ ছিলেন তার বাবা হোর্হে। ১১ বছর বয়সে মেসির গ্রোথ হরমোনের (growth hormone) সমস্যা ধরা পড়ে। স্থানীয় ক্লাব রিভার প্লেট মেসির প্রতি তাদের আগ্রহ দেখালেও সেসময় তারা মেসির চিকিৎসা খরচ বহন করতে অপারগ ছিল। এ চিকিৎসার জন্যে প্রতিমাসে প্রয়োজন ছিল ৯০০ মার্কিন ডলার। বার্সেলোনার তৎকালীন ক্রীড়া পরিচালক কার্লেস রেক্সাচ মেসির প্রতিভা সম্পর্কে জানতে পারেন। তিনি মেসির খেলা দেখে মুগ্ধ হন। হাতের কাছে কোন কাগজ না পেয়ে একটি ন্যাপকিন পেপারে তিনি মেসির বাবার সাথে চুক্তি সাক্ষর করেন।

প্রথম ক্লাব: নিউওয়েলস ওল্ড বয়েজ ১৯৯৪-২০০০

যুব খেলোয়াড়ী জীবন: বার্সেলোনা ২০০০-২০০৩

সিনিয়র খেলোয়াড়ী জীবন:

বার্সেলোনার ‘সি’ দলের হয়ে ১০ ম্যাচে পাঁচ গোল করেন। ‘বি’ দলের হয়ে ২২ ম্যাচে ছয় গোল করেন।  ২০০৪ সালের ১৬ অক্টোবর, ইস্পানিওলের বিপক্ষে বার্সেলোনার তৃতীয় কনিষ্ঠতম খেলোয়াড় হিসেবে মেসির লা লিগায় অভিষেক হয় (১৭ বছর এবং ১১৪ দিন বয়সে)।

২০০৫ সালের ১ মে, আলবাকেতে বালোম্পাইয়ের বিপক্ষে বার্সেলোনার সর্বকনিষ্ঠ খেলোয়াড় হিসেবে লা লিগায় গোল করার রেকর্ড গড়েন মেসি (১৭ বছর ১০ মাস এবং ৭ দিন বয়সে)।

বার্সেলোনার সিনিয়র দলে অভিষেক হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত স্প্যানিশ ক্লাবটির হয়ে মোট ৩৪৮ ম্যাচ খেলে ৩১৪ গোল করেছেন।

আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার:

অনূর্ধ্ব-২০ দল: আর্জেন্টাইন-স্পেনীয় নাগরিক হিসেবে ২০০৪ সালে মেসিকে স্পেনের জাতীয় অনূর্ধ্ব ২০ ফুটবল দলে খেলার জন্য আমন্ত্রন জানানো হয়। কিন্তু মেসি তা প্রত্যাখ্যান করেন। তিনি ২০০৪ সালের জুনে, আর্জেন্টিনার অনূর্ধ্ব ২০ দলের হয়ে প্যারাগুয়ের বিপক্ষে প্রথম প্রীতি খেলায় মাঠে নামেন। অনূর্ধ্ব-২০ দলের হয়ে মোট ১৮ ম্যাচ খেলে ১৪ গোল করেছেন।

অনূর্ধ্ব-২৩ দল: ৫ ম্যাচে করেছেন ২ গোল।

জাতীয় দল: ২০০৫ সালের ১৭ আগস্ট, ১৮ বছর বয়সে হাঙ্গেরির বিপক্ষে সিনিয়র দলে মেসির অভিষেক হয়। খেলার ৬৩তম মিনিটে বদলি হিসেবে খেলতে নেমে ৬৫তম মিনিটেই তাকে লাল কার্ড দেখে মাঠের বাহিরে চলে যেতে হয়। ২০০৬ সালের ১ মার্চ, আর্জেন্টিনার হয়ে ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে একটি প্রীতি খেলায় মেসি প্রথম গোল করেন। জাতীয় দলের হয়ে মোট ১১৩ ম্যাচ খেলে ৫৫ গোল করেছেন তিনি।

অর্জন:

ক্লাব বার্সেলোনা:

লা লিগা (৭), কোপা দেল রে (৩), স্পেনীয় সুপার কাপ (৬), উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগ (৪), উয়েফা সুপার কাপ (২), ফিফা ক্লাব বিশ্বকাপ (২)।

আর্জেন্টিনা:

চ্যাম্পিয়ন:

ফিফা বিশ্ব যুব চ্যাম্পিয়নশীপ: ২০০৫

অলিম্পিক স্বর্ণপদক: ২০০৮

রানার আপ:

বিশ্বকাপ: ২০১৪

কোপা আমেরিকা: ২০০৭, ২০১৫ ও ২০১৬

ব্যক্তিগত পুরস্কার:

ব্যালন ডি’অর ও ফিফা বর্ষসেরা ফুটবলার: ২০০৯

ফিফা ব্যালন ডি’অর: ২০১০, ২০১১, ২০১২ ও ২০১৫

২০০৫ সালে যুব চ্যাম্পিয়নশিপে গোল্ডেন বুট ও গোল্ডেন বল।

২০১৪ বিশ্বকাপের গোল্ডেন বল।

রেকর্ড:

* ২০১২ সালে এক বছরে সর্বোচ্চ গোলের জন্য গিনেস বিশ্ব রেকর্ড পুরস্কার: ৯১ গোল

* টানা সবচেয়ে বেশিবার (৩) ও সবচেয়ে বেশিবার (৪) ফিফা ব্যালন ডি’অর বিজয়ী

 * আর্জেন্টিনার সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা

মন্তব্য করুন